¦
যুবলীগ নেতার অবৈধ টিনের ঘরই মৃত্যুকূপ

আলাউদ্দিন আরিফ/বকুল আহমেদ | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

সাভারের রানা প্লাজার ভয়াবহ ট্রাজেডির সেই এপ্রিল মাসেই এবার রামপুরার চৌধুরীপাড়ায় আরেক যুবলীগ নেতার অবৈধভাবে নির্মিত ঘরে প্রাণ গেল অন্তত ১১ জনের। মনিরুজ্জামান ওরফে মনির চৌধুরী রামপুরা এলাকার প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক। চৌধুরীপাড়া মাটির মসজিদ ও বউবাজারের মধ্যবর্তী বিশাল সরকারি খাস ঝিলের মাঝখানে পানির ওপর তিনি লোহার এঙ্গেল, সিমেন্টের খুঁটি, বাঁশ, কাঠের পাটাতন আর উপরে টিন দিয়ে বিশাল টিনের দোতলা ঘর তৈরি করেন। তাতে কক্ষ ছিল ২৪টি। ঘরগুলোতে যাওয়ার জন্য ছিল ৩০ ফুট লম্বা বাঁশের বড় সাঁকো। আর নিচতলা থেকে উপরে যাওয়ার জন্য মই জাতীয় বিশেষ সিঁড়ি। রাজউক, জেলা প্রশাসন বা সিটি কর্পোরেশনসহ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই প্রায় আড়াই বছর আগে নিজ উদ্যোগে ঘরগুলো তৈরি করেন যুবলীগ নেতা মনির চৌধুরী। তার দেখাদেখি ওই ঝিলের ওপর আরও ৫-৬টি বাড়ি একইভাবে নির্মাণ করেছে প্রভাবশালীরা।
ক্ষমতাসীন দলের নেতা হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মনির এ অবৈধভাবে নির্মিত ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগও নিয়েছেন। মাসিক সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা ভাড়ায় এসব ঘরে থাকতেন দেড় শতাধিক নিু আয়ের মানুষ। বিশেষ করে রিকশাচালক, গার্মেন্ট কর্মী, ঠেলাওয়ালা, নির্মাণ শ্রমিক ও দিনমজুর পরিবার বসবাস করত এসব ঘরে। বাড়ির ম্যানেজার ছিলেন আরাফাত আলী নামের একজন। তিনি মনিরুজ্জামানের পক্ষে ভাড়া তুলতেন আর পাহারা দিতেন।
ম্যানেজার আরাফাত আলীর ছেলে হাসান যুগান্তরকে জানান, তারা ওই বাড়ির নিচতলায় থাততেন। তার বাবা বউবাজারের ভাঙ্গারি ব্যবসা করেন। তার বাবা, মা হাসিনা বেগম, দাদি রূপসী বেগম ও বোন ফারজানা একটি কক্ষে থাকতেন। ঘটনার সময় হাসান বাঁশের সাঁকো বেয়ে ঘরে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বাড়িটি পানিতে ডুবে যায়। আল্লাগো বাঁচাও বলে চিৎকার ও হৈচৈ শুরু হয়। তার মা, দাদি ও বোন ঘরে আটকা পড়েন। মা হাসিনাকে উদ্ধার করতে পারলেও দাদি রূপসী ও বোন ফারজানাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা তাদের মৃত অবস্থায় ঘরের নিচে পানির তল থেকে উদ্ধার করেছে। পরে দাদি ও বোনের লাশ রাখা হয় বউবাজারসংলগ্ন মাঠে।
২০১৩ সালের ১২ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসে সরকারি হিসেবে নিহত হয়েছিল ১১৭৫ জন। যাদের প্রায় সবাই ছিল ওই ভবনে থাকা ৫টি কারখানার শ্রমিক। এবারও যারা মারা গেছে তাদের প্রায় সবাই নিু আয়ের মানুষ ও শ্রমিক।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল দাবি করেন, আড়াই বছর আগে বাড়িটি অবৈধভাবে তৈরি করেন মনিরুজ্জামান চৌধুরী। তারা স্থানীয়। কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। তাদের এক ভাই বিএনপি, আরকে ভাই যুবলীগ করে। এলাকায় তারা প্রচণ্ড প্রভাবশালী। কারও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস নেই। তারা সব সরকারের সময়ই প্রভাবশালী। দুর্ঘটনার পর অনেক চেষ্টা করেও মনির চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
রামপুরা থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, অবৈধ স্থাপনার জন্য যারাই দায়ী হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সে যত প্রভাবশালীই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
ঢাকা জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া যুগান্তরকে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ঝিলের জমিটি সরকারি খাস জমি কিনা তা তার এই মুহূর্তে জানা নেই। তবে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ধারণা এটি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের জমি। এক্ষেত্রে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে চিঠি দেয়া হলে তিনি ব্যবস্থা নিতেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো চিঠি তিনি পাননি। এছাড়া তিনি জানান, ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত আছে। নিহত ও আহতদের তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা ছাড়াও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত স্থানীয় একশ যুবক এবং ক্ষতিগ্রস্তদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকালেও খাবারও দেয়া হবে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close