¦
রংপুর মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্টকাল বন্ধ ঘোষণা

রংপুর ব্যুরো | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বুধবার ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজের ডা. মুক্তা ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শহীদুজ্জামান শহীদসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৩ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মুক্তা ছাত্রাবাসের ৪টি কক্ষ ভাংচুর ও ল্যাপটপসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারী সন্ত্রাসীরা। এ অবস্থায় কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও কলেজ সূত্র জানায়, কলেজ কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপের মাঝে বিরোধ চলে আসছে। এ অবস্থায় গত ১০ বছরে বিবদমান গ্রুপের মধ্যে অন্তত ২০ বার সংঘর্ষ হয়েছে। ফলে ছাত্রলীগের কলেজ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে নতুন করে আর কমিটি গঠন করা হয়নি। পূর্বের গঠিত কমিটির ছাত্রলীগের সভাপতি শহিদুজ্জামান শহীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা সরোয়ার ও ফারহান গ্র“পের বিবাদ চলে আসছিল। এ অবস্থায় ক্যাম্পাসে ১ বৈশাখ পালন উপলক্ষে দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান করার প্রস্তুতি নেয়া হয়। এ নিয়ে তাদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে সোমবার কলেজ অধ্যক্ষসহ সিনিয়র শিক্ষকরা তাদের দুপক্ষের মাঝে আলোচনা করে একটি সমঝোতা করে দেন। ১ বৈশাখ পালন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের মাঝে তাদের মধ্যে আবারও বিরোধ দেখা দেয়। সর্বশেষ এ নিয়ে বুধবার ভোর ৪টার সময় ছাত্রলীগ নেতা সরোয়ার ও ফারহান গ্র“পের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা শহীদ ডাক্তার মুক্তা ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগ নেতাদের নামে বরাদ্দকৃত ৩৭, ৩৮, ৩৯ ও ৪০ নম্বর কক্ষে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় হামলাকারীরা কক্ষে রক্ষিত সব মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তাদের হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন ছাত্রলীগের নেতা আশিক ফেরদৌস এবং বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান শহীদ ও তার ছোট ভাই আসাদুজ্জামান। সে ভাইয়ের কাছে বেড়াতে এসেছিল। হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে উভয় পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ বাধলে আরও ৭ জন আহত হন। এ সময় কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসজুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়লে কলেজ অধ্যক্ষ সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওই সংঘর্ষের জের ধরে বুধবার সকালে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিবদমান গ্রুপের নেতাকর্মীরা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করে কলেজের সব ক্লাস বন্ধ করে দেয়। ফলে ক্যাম্পাসে নতুন করে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় দুপুরে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবার সংঘর্ষের আশংকায় কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিকাল ৩টার মধ্যে সব ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস ত্যাগের জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেয়া হয়। বিকাল ৩টার মধ্যে সব ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস ছেড়ে শিক্ষার্থীরা চলে যায়। ছাত্রলীগের নেতা শহীদুজ্জামান শহীদ যুগান্তরকে জানান, ছাত্রলীগ নেতা সরোয়ার ও ফারহান গ্রুপের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের দুজনকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই প্রতিশোধ নিতে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কাদের জিলানী জানান, ক্যাম্পাসে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close