¦
তারেককে ওয়ান্টেড ঘোষণা ইন্টারপোলের

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ওয়ান্টেড ঘোষণা করে তার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশি সংস্থা ইন্টারপোল। সোমবার সিঙ্গাপুরে ইন্টারপোল গ্লোবাল কমপ্লেক্স ফর ইনোভেশন (আইজিআইসি), ইন্টারপোল ওয়ার্ল্ড-২০১৫ ও ২২তম এশিয়ান রিজিওনাল কনফারেন্স শুরুর রাতেই এ নোটিশ জারি করা হল। এসব কনফারেন্সে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে অংশ নিয়েছেন আইজিপি একেএম শহীদুল হক। এদিকে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আছাদুজ্জামান রিপন নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী বলেছেন ইন্টারপোলের মাধ্যমে তারেককে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে। এই রেড অ্যালার্ট জারি মন্ত্রীদের বক্তব্যের বহিঃপ্রকাশ। এ ঘটনাকে সরকারের সাজানো নাটক বলেও অভিহিত করেন এই বিএনপি নেতা।
ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড হিসেবে তারেক রহমানের নাম প্রকাশের অনুরোধ কবে পাঠানো হয়েছে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (ইন্টারপোল) মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বুধবার যুগান্তরকে বলেন, সঠিক তারিখ এ মুহূর্তে বলতে পারব না। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার চার্জশিটভুক্ত পালাতক আসামি হিসেবে আনুমানিক ৬ মাস আগে তারেক রহমানকে ওয়ান্টেড হিসেবে নাম প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়। এটা গ্রেফতারি পরোয়ানা কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইট দেখেন। সেখানে তাকে ওয়ান্টেড হিসেবে এবং তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে জানাতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতরের অপর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পালাতক আসামি হিসেবে তারেক রহমানকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানায় সিআইডি। পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি (ইন্টারপোল) শাখা থেকে ওই আবেদন ইন্টারপোল সদর দফতরে পাঠানো হয়। এরপর তারা ওয়ান্টেড হিসেবে তারেক রহমানের নাম প্রকাশ করে।
এদিকে একটি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে ই-মেইলে ইন্টারপোলের ফ্রান্সে অবস্থিত সদর দফতরে যোগাযোগ করা হয়। ওই ই-মেইেলের জবাবে ইন্টারপোল জানিয়েছে রেড অ্যালার্ট জারি কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা নয়। আসামিকে গ্রেফতারে সংস্থাটি কোনো বাহিনী পাঠায় না বা কোনো দেশকে চাপও দিতে পারে না। এ ছাড়া তারাও বলেছে- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কারও কাছে তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে না।
ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে ওয়ান্টেড বাংলাদেশী সন্ত্রাসীদের তালিকায় সর্বশেষ নামটি তারেক রহমানের। তার সম্পর্কে বলা হয়েছে তারেক রহমান, তারেক জিয়া। ওয়ান্টেড বাই দ্য জুডিশিয়াল অথরিটি অব বাংলাদেশ ফর প্রসিকিউশন/টু সার্ভ এ সেন্টেন্স।
সুনির্দিষ্ট পরিচিতি অংশে বলা হয়েছে, বর্তমান পারিবারিক নাম : তারেক রহমান; ডাক নাম : তারেক জিয়া; লিঙ্গ : পুরুষ; জন্ম তারিখ : ১০-১১-১৯৬৭ (বয়স ৪৭ বছর)। জন্মস্থান : ঢাকা, বাংলাদেশ। কথা বলার ভাষা : বাংলা, ইংরেজি ও উর্দু। জাতীয়তা : বাংলাদেশী। শারীরিক বর্ণনা অংশে বলা হয়েছে উচ্চতা : ১ দশমিক ৬৮ মিটার; চুলের রং : কালো এবং চোখের রং : কালো। অভিযোগ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগের সমাবেশে হ্যান্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত। তার সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন অথবা ইন্টারপোলের সচিবালয়ে যোগাযোগ করে খবর দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওয়েবসাইটে তারেক রহমানের স্যুট-টাই পরিহিত হাস্যোজ্জ্বল ছবি দেয়া হয়েছে। সেখানে কোন তারিখ থেকে তাকে রেড অ্যালার্টভুক্ত করা হয়েছে তার উল্লেখ নেই।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। এতে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হয়েছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকশ আহত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের ১১ জুন এ মামলায় ২২ জনকে আসামি করে সিআইডি প্রথম চার্জশিট দিয়েছিল। ওই চার্জশিট বহুল আলোচিত জজ মিয়া নাটক বলে পরিচিতি পায়। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ মামলার অধিকতর তদন্ত করে সিআইডি। ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দেয় সিআইডি। সম্পূরক চার্জশিটভুক্ত ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৯ জন পলাতক আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রেড অ্যালার্টের মাধ্যমে ইন্টারপোলের ১৯০টি সদস্য দেশকে জানানো হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করতে কোনো সদস্য রাষ্ট্র বা ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। ইন্টারপোল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে সদস্য দেশের পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করে। যাতে এক দেশের সরকার অন্য দেশের সরকারের কাছে অপরাধীকে গ্রেফতার ও ফিরিয়ে নিতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট জারির ফলে যুক্তরাজ্য থেকে কোনো আসামি দেশে ফিরিয়ে আনার নজির নেই। আবার যুক্তরাজ্য সরকার চাইলেই কাউকে দিয়ে দিতে পারে না। বন্দি বিনিময় চুক্তি থাকলেও না। কারণ সংশ্লিষ্ট আসামি ওই দেশে আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ আছে। বন্দি বিনিময়ের ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট-২০০৩ অনুযায়ী, আসামি ফেরত আনতে দূতাবাস বা সরকারের বিশেষ প্রতিনিধির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বা সাজাপ্রাপ্ত হলে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি এবং যুক্তরাজ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির উপযুক্ত তথ্যসহ আদালতের আদেশের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নিশ্চয়তা দিতে হবে ফিরিয়ে দেয়ার পর ওই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগ ব্যতীত অন্য মামলায় সাজা দেয়া যাবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সর্বোচ্চ সুযোগ দিতে হবে। এসব বিষয় নিশ্চিত হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবেদন আমলে নিয়ে একটি সার্টিফিকেট ইস্যু করবেন। একই সঙ্গে আবেদনটি আদালতের বিবেচনার জন্য পাঠাবেন। নিয়মানুযায়ী ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে আদালতে হাজির করা হয়। একটি প্রাথমিক শুনানির পর আদালত পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন ধার্য করেন। তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট-২০০৩ এবং ইউরোপীয় হিউম্যান রাইটস অ্যাক্ট-১৯৯৮ বিবেচনায় নিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেন। এ সিদ্ধান্ত আসামির বিপক্ষে গেলে তিনি উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ পান। এ প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই।
২০০৮ সালে ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী জরুরি সরকারের সময় গ্রেফতার করার পর জামিনে ছাড়া পেয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক। সে দেশে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তিনি এখন রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close