¦
কর্মী নিয়োগে সৌদি ভিসা ইস্যু শুরু ২০ এপ্রিল

মাসুদ করিম | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে অবশেষে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে ২০ এপ্রিল থেকে ভিসা ইস্যু শুরু করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। ফলে প্রায় ছয় বছর বন্ধ থাকার পর বিদেশে বাংলাদেশের বৃহত্তম শ্রমবাজার ফের চালু হচ্ছে। সৌদি আরব কী প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগ করবে সে বিষয়ে বাংলাদেশকে বিশদ জানাবে আজ। এ লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের শ্রম কর্মকর্তাদের সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সৌদি আরবের শ্রমবাজার বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য বন্ধ হয় ২০০৮ সালের শেষ দিকে। তারপর এ বাজার খুলতে নানামুখী তৎপরতা চালিয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের এপ্রিলে নিজে সৌদি আরব সফরে গিয়ে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য এই শ্রমবাজার চালু করতে সৌদি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। তারপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীও সৌদি আরব সফর করেন। সৌদি আরব অবশ্য গত ১ ফেব্র“য়ারি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে জানায়, সৌদি আরব বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য তাদের শ্রমবাজার ফের উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
শ্রমবাজার ফের চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরও তা বাস্তবায়নে খানিকটা সময় চলে যাওয়ায় কিছুটা হতাশা ছড়িয়েছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযানের প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন ঘোষণা করে।
জানতে চাইলে রিয়াদে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বুধবার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, সৌদি আরব ঘোষণা করেছে যে, তারা ২০ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগে ভিসা ইস্যু শুরু করতে যাচ্ছে। সৌদি সরকার কী প্রক্রিয়া অবলম্বন করে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর লক্ষ্যে রিয়াদ ও জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশের শ্রম কর্মকর্তাদের সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (আজ) তারা সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছেন। সেখানে পুরো প্রক্রিয়া তারা অবহিত করবেন। এই প্রক্রিয়া অবলম্বনেই শুরু হবে কর্মী নিয়োগ।
সৌদি আরব কোন কোন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ করবে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, সৌদি আরব গৃহকর্মী, গাড়িচালক, বাগান পরিচর্যাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ করবে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এক লাখ কর্মী নিয়োগের চাহিদা জানিয়েছে সৌদি আরব। তবে এ চাহিদা আরও বাড়তে পারে। রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ মনে করেন, বাংলাদেশ সরকার ন্যূনতম ৮০০ রিয়াল (১৬ হাজার টাকা) বেতনে কর্মী পাঠাতে সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
তিনি বলেন, এতদিন পর্যন্ত কর্মীদের বেতন কত হবে সেটা নির্ধারণের দায়িত্ব সৌদি আরবের ওপর ছেড়ে দেয়া হতো। এখন নিুতম বেতন নির্ধারণ হলেও অনেক কর্মীর বেতন ১১শ থেকে ১৩শ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে। কর্মীকে কোনো অভিবাসন ব্যয় বহন করতে হবে না। বিমান টিকিটসহ সব খরচ সৌদি আরবই বহন করবে।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পূর্ব পর্যন্ত বছরে প্রায় দেড় লাখ কর্মী নিয়োগ করত সৌদি আরব। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটিতে ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশী কর্মী রয়েছেন।
সৌদি আরবের শ্রমবাজার ফের চালুসংক্রান্ত বিষয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি মোতাবেক, সরকারি নজরদারি ও তদারকিতে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি সৌদি আরবে কর্মী পাঠাবে। এ চুক্তি সই করতে সৌদি আরবের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে।
এ চুক্তি সই করার পর বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল ডাটা ব্যাংকে নাম অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে সৌদি আরবে কর্মী হিসেবে গমনেচ্ছুদের নিবন্ধনের হিড়িক পড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে নিবন্ধন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। সৌদি আরবে গৃহকর্মীর ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়ায় সরকার নারী কর্মীদের আলাদাভাবে বিশেষ নিবন্ধন ঘোষণা করে। বিদেশী নারী কর্মী পাঠানোর জন্য সরকারের ২০টি বিশেষ রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। তবে সৌদি প্রতিনিধিরা বলেছেন, তাদের দেশে যে পরিমাণ নারী কর্মীর চাহিদা রয়েছে তাতে কমপক্ষে ২০০টি রিক্রুটিং এজেন্সি প্রয়োজন।
নারী কর্মীদের সুরক্ষায় সতর্কতার আহ্বান : বিদেশে নারী কর্মীদের যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের বঞ্চনার শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক নারী কর্মী পাঠানোর পূর্বে এ বিষয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার ও পরিবেশ আন্দোলনের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার ফারজানা বেগম যুগান্তরকে বলেন, নারী কর্মীদের বিদেশী ভাষার মৌলিক কিছু বিষয় শিক্ষা দিয়ে পাঠানো উচিত। এটা না হলে গৃহকর্মীরা নানা রকমের সমস্যার পড়ার আশংকা থাকে। নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণের কিছু কিছু কেন্দ্র বাংলাদেশে আছে। কিন্তু এগুলোতে ওভেন চালানোসহ সামান্য কিছু শিক্ষা দেয়া হয় বটে, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে তাদের প্রশিক্ষণের বিষয় অনেক বেশি মনিটরিং করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কোনো সমস্যা হলে কোথায় অভিযোগ করতে হবে সে বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা নারী কর্মীদের দিয়ে দিতে হবে। তাদের বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ওই দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের টেলিফোন নম্বর দিয়ে দেয়া যেতে পারে। পাশাপাশি, প্রতি ছয় মাস পরপর প্রত্যেক নারী কর্মীকে তার মালিকসহ বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। এতে করে কর্মীদের সমস্যা দূর হবে। বাহরাইনে অবস্থানের কারণে নারী কর্মীদের সমস্যা কাছে থেকে দেখেছেন ব্যারিস্টার ফারজানা বেগম। সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস নারী কর্মীদের তেমন সহযোগিতা করে না। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে লোকবলও খুবই কম। প্রায়ই ভাড়া করা লোকবল দিয়ে সহযোগিতার কাজ করা হয়। আমাকেও বিভিন্ন সময়ে বলেছে সহযোগিতা করার জন্য। প্রকৃতপক্ষে ইনসেনটিভ না দিলে কেউ সময় নিয়ে সহায়তা করতে চান না।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close