¦
বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জে আলীগ

মাহবুব হাসান | প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৫

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আওয়ামী লীগ। দলীয়ভাবে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও তিন সিটির ১৩২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১৭টিতে রয়েছে ২৫৮ বিদ্রোহী প্রার্থী। কোনো কোনো ওয়ার্ডে রয়েছেন একাধিক বিদ্রোহী। আর বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী না থাকায় ঢাকা দক্ষিণে উন্মুক্ত রয়েছে দুটি ওয়ার্ড। এখানেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ক্ষমতাসীনদের একাধিক প্রার্থী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দলের ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাদ দিয়ে কনিষ্ঠ ও সুযোগসন্ধানীদের সমর্থন দেয়ার কারণেই মূলত এ বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) সঙ্গে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং দলের নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কমিটি ও মহানগর কমিটির প্রভাবশালী সদস্যদের আশীর্বাদ না পাওয়ায় সমর্থন মেলেনি বিদ্রোহী নেতাদের। এক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করে কনিষ্ঠরা দলীয় সমর্থন আদায় করেছেন বলে অভিযোগ বিদ্রোহী নেতাদের। আবার এমন অভিযোগও রয়েছে, দলীয় সমর্থন পাওয়ার পরও বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন স্থানীয় এমপিসহ প্রভাবশালী নেতারা। ক্ষমতাসীনদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে বেশ ভালোভাইে কাজে লাগাচ্ছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। এ দ্বন্দ্বকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না সাধারণ ভোটাররা। ফলে এ মুহূর্তে অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তিন সিটিতেই কাউন্সিলর পদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশংকা দলীয় নেতাকর্মীদের।
ক্ষমতাসীন দলের তিন সিটির প্রার্থিতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তরে ৩৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৪টিতে ৭৯ বিদ্রোহী প্রার্থী, দক্ষিণে ৫৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৭টিতে ৯৭ এবং চট্টগ্রামে ৪১টি ওয়ার্ডের ৩৬টিতে ৮২ বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, সব বিদ্রোহী প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে দল সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে বলা হয়েছে। আমরা বুধবার রাতে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যদি দু’দিনের মধ্যে বিদ্রোহীরা নির্বাচন থেকে সরে না আসে, তাহলে তাদের বহিষ্কার করা হবে। তবে, যেসব ওয়ার্ডে বিএনপি প্রার্থী নেই এমন ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থীরা ছাড় পেতে পারেন। আর যে ওয়ার্ডে বিএনপিসহ অন্য দলের শক্তিশালী প্রার্থী আছেন সেখানে বিদ্রোহীদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। দলের নির্দেশনা পেয়ে ইতিমধ্যে অনেকেই নিজেকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
প্রার্থী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা উত্তরে এক নম্বর ওয়ার্ডে দল সমর্থিত প্রার্থীর বাইরে আওয়ামী পরিবার থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও ছয়জন। ৩ নম্বরে দল সমর্থিত প্রার্থী কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন মামুন মজুমদার, মুজিবুর রহমান, আয়নাল হক, বাহাউদ্দিন বাহার ও রফিকুল ইসলাম জামিম। ৪ নম্বরে দল সমর্থিত জামাল মোস্তফার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন কাজী আবুল হোসেন, মতিউর রহমান মাইকেল ও সামসুদ্দিন শেখ। দক্ষিণের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে রঞ্জন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জামাল উদ্দিন মো. আকবর বাবলা, মঞ্জুর হাসান রিন্টু ও মোল্লা জাহাঙ্গীর ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন। এমনকি মাত্র দু’জন নারী সাধারণ ওয়ার্ডে দলের সমর্থন পেলেও তাদের দু’জনের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- ঢাকা উত্তরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে শিরিন রোকসানা এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে মাহমুদা বেগম কৃক। শিরিন রোকসানার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন তিতু আর মাহমুদা বেগম কৃকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে প্রার্থী হয়েছেন রফিকুল ইসলাম, মতিউর রহমান মোল্লা ও মোহাম্মদ আজিজুর রহমান স্বপন।
মিরপুরের স্থানীয় এমপি কামাল আহমেদ মজুমদার এবং যুবলীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে যুগান্তরের কাছে অভিযোগ করেন দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মাহমুদা বেগম। তিনি বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়টি আমি কেন্দ্রে জানিয়েছি। এমন অবস্থা চললে আমার ভোটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে দল থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’
শুধু সাধারণ ওয়ার্ডে নয়, একই অবস্থা সংরক্ষিত মহিলা আসনেও। ঢাকা উত্তরের সংরক্ষিত মহিলা ৪ (সাধারণ ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত) নম্বর ওয়ার্ডে রাশিদা আক্তার ঝরনা দলের সমর্থন পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যুব মহিলা লীগের নেত্রী নিলুফার ইয়াসমিন। দক্ষিণের সংরক্ষিত মহিলা ৮ নম্বর ওয়ার্ডে (সাধারণ ২২, ২৩ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত) আয়শা মোককরম দলের সমর্থন পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, লালবাগ থানার সভাপতি নূরজাহান খান।
যদিও একক প্রার্থিতা নিশ্চিতে করণীয় সবকিছুই করেছেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সিটি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতারা এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। দলীয় সভানেত্রী নগরের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি থানা, ওয়ার্ড ও প্রার্থীদের নিয়ে একবার অনানুষ্ঠানিক এবং আরেকবার আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দফায় দফায় এ নিয়ে বর্ধিত সভা করে নেতাকর্মীদের একক প্রার্থী নিশ্চিতে দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশ জানিয়ে দেন। নগরের শীর্ষ নেতারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন বারবার। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট নেতারা এবং ঢাকা মহানগরের শীর্ষ নেতারাও এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে বারবার বৈঠক করেন। তারা ওয়ার্ড, থানার নেতা এবং প্রার্থীদের সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক করেন। সর্বশেষ উত্তর ও দক্ষিণ দুই অংশের কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারসংক্রান্ত নির্ধারিত আবেদন ফর্মে স্বাক্ষর নেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং ধানমণ্ডিতে দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দুটি আলাদা বৈঠকে একই দিন একই সময়ে প্রার্থীদের ডেকে এ স্বাক্ষর নেয়া হয়। তবে অনেকে আগেই বুঝতে পেরে এ দুটি বৈঠকে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকেন এবং অনেকে উপস্থিত হয়েও স্বাক্ষর না করেই চলে যান। এতকিছুর পরও ঢাকায় প্রতি ওয়ার্ডে দু’জন ও চট্টগ্রামে প্রতি ওয়ার্ডে গড়ে তিনজন করে প্রার্থী হয়েছেন বলে অনানুষ্ঠানিক আলাপে আওয়ামী লীগের তিনজন কেন্দ্রীয় নেতা এ প্রতিবেদককে জানান। তবে অতীতের চেয়ে এই পরিস্থিতিকেও ভালো বলছেন তারা। কেননা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে সমর্থিত ও বিদ্রোহী মিলে গড়ে পাঁচজন করে প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও এবার চট্টগ্রামে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সমর্থন নিয়ে চার ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ।
বিষয়টি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছে। নেতাকর্মীদের আশংকাকে অনুধাবন করে গত বুধবার রাতে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক শেষে নির্বাচিনসম্পর্কিত জরুরি বৈঠকে বসেন সিটি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নেতারা। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বাসায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের নানাভাবে ম্যানেজ করার। যদি থানা পর্যায়ের শীর্ষ পদের কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী থাকেন তবে তা কেন্দ্রীয় নেতা, ওয়ার্ড পর্যায়ের শীর্ষ নেতা হলে থানার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট এমপি এবং সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে থাকলে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক এবং ওই সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মাধ্যমে সেই প্রার্থীকে ম্যানেজের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তের আলোকে বৃহস্পতিবার দলীয় সভানেত্রীর ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থীকে ডেকে কথাও বলা হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, উত্তর ও দক্ষিণের অনেক ওয়ার্ডেই সমর্থিত প্রার্থীদের ছেড়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষেই নেমেছেন সংশ্লিষ্ট থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা। রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে দল সমর্থিত প্রার্থী এমএ হামিদ খানের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক আসাদুজ্জামান। তার পক্ষে তার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমূল আলমসহ প্রায় সব নেতা মাঠে নেমেছেন। রীতিমতো সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ জায়গা এবং পরিবাগ নিয়ে গঠিত ওই ওয়ার্ডে । এমনকি নাজমুল ও যুগ্ম সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি ফেসবুকেও স্ট্যাটাস দেন। পাশাপাশি বুধবার দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন ছাত্রলীগের সঙ্গে মতবিনিময় করতে গেলে ২১ নম্বর ওয়ার্ডে কাউকে সমর্থন না নিতে খোকনের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রার্থিতার বিষয়ে আসাদুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার সন্তান। ঢাবির ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাই চান এমন একজন এ এলাকার কমিশনার হোন, যিনি তাদের নিজেদের কেউ, যাকে তারা যে কোনো কথা অবলীলায় বলতে পারবেন আর সেটা বোঝার সামর্থও থাকবে সেই কমিশনারের। আর সে কারণেই তারা আমাকে নির্বাচন করতে বলেছেন, আমি নির্বাচন করছি। এছাড়া পাশ্ববর্তী শাহবাগ ও পরিবাগ এলাকার মানুষের কাছে আসাদুজ্জামান পরিচিত মুখ বলে উল্লেখ করেন। সরেজমিন দেখা যায়, ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দৃশ্যত সমর্থিত প্রার্থী এমএ হামিদ খানের পাশে থাকলেও যারা প্রার্থী হতে চেয়েও পারেননি, তাদের অনেকেই রয়েছেন আসাদুজ্জামানের পক্ষে, কেউ দৃশ্যত, কেউ আড়ালে থেকে। এ অবস্থা দক্ষিণের আরও অনেক ওয়ার্ডে। কোথাও থানা-ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা সমর্থিত প্রার্থীকে দৃশ্যত সমর্থন করলে তারা আড়ালে কাজ করছেন বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষেই, আর কোথাও তারা প্রকাশ্যেই বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে মাঠে আছেন।
উত্তরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে দলের সমর্থন পেয়েছেন সলিম উল্লাহ সলু। এখানে বিদ্রোহী তার আপন বড় বোনের স্বামী নুরুল ইসলাম রতন। তারা দু’জনই এর আগে একবার করে কমিশনার ছিলেন। রতন ১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকারের সময় দলের সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জেতেন আর পরেরবার আওয়ামী লীগ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বর্জন করলে স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জেতেন সলিম উল্লাহ সলু। ওই ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি হলেও সলুর ওয়ার্ড বা থানা পর্যায়ে কোনো পদ নেই। তিনি দলের প্রাথমিক সদস্য। তার পক্ষে থানা ও ওয়ার্ড নেতারা কাজ করছেন। সলু যুগান্তরকে বলেন, দল তার অবস্থান ও অবদানকে মূল্যায়ন করে তাকে সমর্থন দিয়েছে। তিনি বলেন, তার পক্ষে থানা-ওয়ার্ডের নেতারা রয়েছেন। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ড ৩০-এ সমর্থন পেয়েছেন আরিফুর রহমান তুহিন। যেখানে বিদ্রোহ করে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার হাজী আবুল হাসেম হাসু ও সালাহ উদ্দিন। এ দু’জনের মধ্যে হাসু অনেক প্রবীণ আওয়ামী লীগার। তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের অনুসারী।
এদিকে চট্টগ্রামে সিনিয়র নেতারা মেয়র পদে নিজেদের মধ্যে ‘সমঝোতা’ করলেও ওয়ার্ড পর্যায়ে ছাড় দেননি। মূলত সাবেক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন এমপি, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং সংসদ সদস্য এমএ লতিফ সবাই যার যার মতো প্রার্থী দিয়েছেন। জানা যায়, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের ৪১টিতেই কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা। অনেক ওয়ার্ডে তার একাধিক অনুসারী প্রার্থীও রয়েছেন। আ জ ম নাছির অনুসারী প্রার্থী রয়েছেন ২৫টি ওয়ার্ডে। এমপি লতিফ অনুসারী কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছে ১০ ওয়ার্ডে। আর ডা. আফছারুল আমীনের অনুসারী প্রার্থী রয়েছেন পাঁচ থেকে ছয়জন।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close