¦
অভিবাসীদের সামনে আরও কঠিন সময়

মাসুদ করিম | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

ডেভিড ক্যামেরনের রক্ষণশীল দল (কনজারভেটিভ পার্টি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাওয়ার কারণে ব্রিটেনের অভিবাসী নীতি কঠোর হওয়ার আশংকা রয়েছে। এটা বাংলাদেশীদের জন্য একটা দুঃসংবাদই। কেননা রক্ষণশীলদের কট্টর মনোভাবের কারণে বাংলাদেশীদের পরিচালিত রেস্তোরাঁগুলো লোকবল সংকটে পড়তে পারে।
যদিও তিনজন বাংলাদেশী এবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিুকক্ষ কমন্সসভায় সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তবে তারা সবাই বিরোধী লেবার দলের হওয়ায় অভিবাসী ইস্যুতে কতটা কি করতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। অবশ্য বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক, রূপা হক ও রুশনারা আলী নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ ইস্যুতে তারা পার্লামেন্টে কথা বলতে পারবেন- এটাই বড় প্রাপ্তি। ব্রিটেনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন মোফাজ্জল করিম। তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে শুক্রবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তিনজন নির্বাচিত হওয়ায় আমি খুবই খুশি হয়েছি। ব্রিটেনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রায় ১০-১২ লাখ মানুষ রয়েছেন। তাদের পক্ষে এক রুশনারা আলী ছাড়া পার্লামেন্টে কথা বলার কেউ ছিলেন না। রুশনারা আলীও নির্বাচিত হয়েছেন ২০১০ সালে। তার আগে কেউই ছিলেন না। এবার তিনটি আসন পাওয়ায় ব্রিটিশ মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশীরা একটি অবস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।
ব্রিটেনের রাজনীতিতে অনেক বছর ধরেই ভারত ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতরা পাকাপোক্ত অবস্থান সৃষ্টি করে রেখেছেন। বাংলাদেশীরা সেখানে কেন অবস্থান সৃষ্টি করতে পারেনি সে বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের অন্তর্কলহের কারণে সেখানে কোনো প্রার্থীর ব্যাপারে একমত হতে পারেনি। ২০০০ সালে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পলা মঞ্জিলা উদ্দিনকে বেথনাল গ্রিন ও বো আসনে মনোনয়ন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ অন্তর্কলহের কারণে বাংলাদেশী অধ্যুষিত আসনটিতে উনা কিং নামের একজন অবাঙালিকে প্রার্থী করে লেবার দল। পলাকে তখন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ লর্ডসভায় সদস্য তথা ব্যারনেস পদ দিয়ে তা পুষিয়ে দেয়া হয়। তারপর ২০১০ সালে সেখানে রুশনারা আলী এমপি নির্বাচিত হন।
মোফাজ্জল করিম আরও বলেন, ক্যামেরনের রক্ষণশীল দল অভিবাসীদের বিষয়ে বিরূপ মনোভাব পোষণ করে। ২০১০ সালের নির্বাচনের আগে তারা বলেছিল, অভিবাসীর সংখ্যা বছরে এক লাখে নামিয়ে আনবে। সেটা অবশ্য তারা পারেনি। এবার নির্বাচনের আগে তারা বলেছে, সংখ্যাটা লাখের নিচে তথা হাজারের কোটায় নামিয়ে আনবে। এ কট্টর দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই অভিবাসীদের জন্য রক্ষণশীল দল অনুকূল হবে না।
তিনি বলেন, গোটা যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী রেস্তোরাঁ রয়েছে প্রায় ১২-১৪ হাজার। এসব রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া হয়। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রেস্তোরাঁ মালিকরা তাদের পরিচিত পরিমণ্ডল থেকেই কর্মী নেন এবং বাংলাদেশী কর্মীরা সহজেই ব্রিটিশ খাবার রান্নায় অভিজ্ঞ হয়ে উঠতে পারেন। এবার তারা বাংলাদেশী কর্মী নিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
মোফাজ্জল করিম বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বৃদ্ধ ভাতা প্রভৃতি ক্ষেত্রে রক্ষণশীলরা ব্যয় সংকোচন নীতি নিয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাত তারা বেসরকারি করেছে। ফলে এটাও বাংলাদেশের মতো দেশের অভিবাসীদের জন্য দুঃসংবাদ। বাংলাদেশীরা বেসরকারি খাতের ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাতে পারবেন না অনেক ক্ষেত্রেই। শিক্ষা থেকেও অতিরিক্ত টিউশন ফি দেয়ার সামর্থ্য খুব কম বাংলাদেশীরই রয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মহিউদ্দিন আহমেদও অভিবাসী ইস্যুতে রক্ষণশীলদের কঠোর মনোভাবের বিষয়ে একমত। তিনি মনে করেন, অভিবাসী ইস্যুতে কঠোর মনোভাবের কারণে ডেভিড ক্যামেরনের রক্ষণশীল দল এত বেশি আসন পেয়েছে।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডেভিড ক্যামেরনের রক্ষণশীল দল নির্বাচনের আগে অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এখন গোটা ইউরোপেই অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় রক্ষণশীল টরি পার্টি এতটা কঠোরতা দেখিয়েছে।
এ সাবেক রাষ্ট্রদূত বলেন, লেবার দল অভিবাসী ইস্যুতে খানিকটা নমনীয় হওয়ার কারণে তারা এত খারাপ ফল করেছে। তাদের আসন অনেক কম হয়েছে। ব্রিটেনে রক্ষণশীল দল ছাড়াও সবচেয়ে কট্টর দলও অনেক বেশি ভোট পেয়েছে। রক্ষণশীল দল আগে থেকেই অভিবাসীদের বিষয়ে কঠোর ছিল, এবার কঠোরতম হতে পারে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close