¦
ম্যাচ বাঁচানোই কঠিন এখন

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

মিসবাহ-উল-হক কাল দুটি চমক উপহার দিলেন। এক, এমন আক্রমণাত্মক মেজাজে টেস্টে ব্যাটিং করলেন, যা তার স্টাইলের সঙ্গে অসাঞ্জস্যপূর্ণ। ৭২ বলে ৮২ আর যাই হোক, টেস্ট-ব্যাটিং নয়। দুই, বাংলাদেশকে ফলো-অনে পাঠালেন না। আজকাল বেশিরভাগ অধিনায়ক এটা করেন। নিজের বোলাদের বিশ্রাম দিতে এবং চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করার ঝুঁকিমুক্ত হতেই মিসবাহর এই সিদ্ধান্ত। তাই ৫০ ওভারেরও কম সময়ে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ২০৩ রানে থামিয়ে পাকিস্তান ফের ব্যাট করতে নামল। ৪২ ওভারের মধ্যে ছয় উইকেটে ১৯৫ রান তুলে সফরকারীরা তাদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ১৯৫ রানে। তার মানে, দ্বিতীয় টেস্ট জিততে স্বাগতিকদের প্রয়োজন ৫৫০ রান। টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে যেখানে ৪৫০ তাড়া করেও জেতার নজির নেই, সেখানে ৫৫০ করার স্বপ্ন দেখাটাই তো কল্পনা বিলাস! সর্বোচ্চ ৪১৮ তাড়া করে জেতার রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২০০৩ সালে। বাংলাদেশের তাই অগ্নিপরীক্ষা।
৫৪৯ রানের লিড নেয়ার পর মিসবাহ দান ছেড়ে দিলেন তৃতীয় দিনের খেলার শেষ সেশনের এক ঘণ্টা বাকি থাকতে। চা-বিরতির পর পাকিস্তান দুটি উইকেট হারায়। মিসবাহ রান করার মুডে ছিলেন। তাইজুলের এক ওভারে ২১ রান নিয়েছেন তিনি। তাতে দুটি করে চার ও ছয়। সবমিলিয়ে ৯টি চার ও ৩টি ছয় তার ইনিংসের শোভা বাড়ায়। সেঞ্চুরির জন্য হয়তো অপেক্ষা করছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তা থেকে ১৮ রান দূরে থাকতে মাহমুদউল্লাহর শিকারে পরিণত হওয়ার পর ইনিংস ঘোষণা করেন মিসবাহ। তৃতীয় দিনের শেষ ১৪ ওভারে বাংলাদেশ ৬৩ রান করেছে ইমরুল কায়েসের (১৬) উইকেট হারিয়ে। তামিম ইকবাল ৩২ ও মুমিনুল হক ১৫ রান নিয়ে আজ চতুর্থ দিন শুরু করবেন। জেতার জন্য আরও ৪৮৭ রান করতে হবে, কথাটা হাস্যকর শোনায়। লড়াই করে দুদিন টিকে থাকাও দুষ্কর। উইকেট আসলে নয়টি নয়, আটটি অবশিষ্ট। শাহাদাত হোসেন ব্যাট করতে পারবেন না। সবদিক থেকে মিরপুরে মুশফিকুররা ধূসর-ধুলিময় পথে আটকা পড়েছেন! আসন্ন দুর্যোগ আঁচ করতে পেরে কাল দিনের খেলা শেষে সাকিব আল হাসানও শংকার কথা জানিয়ে গেলেন। যিনি প্রথম ইনিংসে ৮৯ রান করার পথে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। এর আগে পাঁচ উইকেটে ১০৭ রানে দ্বিতীয় দিন শুরু করা বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ২০৩-এ। আর ১৪ রান নিয়ে শুরু করা সাকিব অপরাজিত থাকেন ৮৯ রানে। সঙ্গীর অভাবে শতকবঞ্চিত সাকিব মিরপুরে ১০৪৫ টেস্ট রানের মালিক হওয়ার গর্ব নিয়ে সাজঘরে ফেরেন। পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে লিড পায় ৩৫৪ রানের। স্বাগতিকদের ফলো-অনে না পাঠিয়ে নিজেরা ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান তিন উইকেট হারিয়েছিল ৪৯ রানে। ইউনুস খান ও মিসবাহর মধ্যে ৪৩ রানের জুটিতে ধাক্কাটা সামলে ওঠে তারা। চা-বিরতির পর পাকিস্তান ১০৩ রান তোলে ১৫.১ ওভারে। ভিভ রিচার্ডসের ৮৫৪০ টেস্ট রান টপকানোর পর ইউনুস খান (৩৯) তাইজুলের কট অ্যান্ড বলে সাজঘরে ফেরেন। মোহাম্মদ শহীদ দুটি উইকেট নিয়ে আবারও মনে করিয়ে দেন যে, আরেকজন পেসারকে না নিয়ে কী ভুলটাই করেছে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে যাকে ঘিরে আশা ছিল সবচেয়ে বেশি, সেই সাকিব সেঞ্চুরি থেকে ১১ রান দূরে থাকতে দেখেন, শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মোহাম্মদ শহীদ সিলি পয়েন্টে আজহারকে ক্যাচ দিলেন ইয়াসির শাহর বলে। ৪৮ ওভারও টিকে থাকতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। (স্কোর কার্ড খেলার পাতায়)
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close