¦
অনেক প্রাপ্তির পর হতাশায় সমাপ্তি

জ্যোতির্ময় মণ্ডল | প্রকাশ : ১০ মে ২০১৫

মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের লড়াই ছিল ইতিহাসের বিপক্ষে। ৫৫০ তাড়া করে জিততে হলে টেস্ট ইতিহাসের অনেক রেকর্ডই নতুন করে গড়তে হতো। হতাশাজনক ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ২২১ রানে অলআউট হয়ে সাড়ে তিন দিনে ৩২৮ রানে হারল স্বাগতিকরা। পাকিস্তান প্রথম ইনিংস ডিক্লেয়ার করেছিল ৫৫৭/৮-এ। বাংলাদেশ দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছে (২০৩ ও ২২১) ৪২৪ রান। পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ১৯৫/৬-এ। প্রায় এক মাসের সফরে তারা এই একটাই সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরছে।
মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টে ৩২৮ রানের বড় ব্যবধানে বাংলাদেশ হেরেছে বটে। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে পুরো সিরিজেই স্বপ্নের মতো কেটেছে স্বাগতিকদের। তাই ‘শেষ ভালো যার সব ভালো তার’ কথাটা সব সময় প্রযোজ্য নয়। ওয়ানডে সিরিজে ৩-০, একমাত্র টি ২০-তে ১-০-র পর খুলনায় প্রথম টেস্ট ড্র। কাল সাড়ে তিন দিনে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে হেরে ১-০তে দুই ম্যাচের সিরিজ হার। শেষটা আরও একটু ভালো হতে পারত। কিন্তু টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীন ব্যাটিং, একাদশ ঘোষণার আগে জুবায়ের হোসেনের ইনজুরি, ম্যাচ শুরুর পর শাহাদাতের ছিটকে যাওয়া, টস জিতে ফিল্ডিং নেয়া এবং ‘নো বল’ ফ্যাক্টর পিছিয়ে দিয়েছে মুশফিকদের। তারপরও ফর্মে থাকা বাংলাদেশের শেষ টেস্টের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠল। ম্যাচ শেষে অধিনায়কও জানালেন, ‘শেষটা সবাই মনে রাখে। কিন্তু সব মিলিয়ে এই সিরিজটা আমাদের দারুণ কেটেছে। এই সিরিজে আমরা ইতিবাচক অনেক কিছু পেয়েছি। পরের সিরিজে সেগুলো কাজে লাগাতে পারব।’
শেষ ম্যাচে হারের পরও এটাই বাংলাদেশের সেরা সিরিজ বলে মনে করছেন অনেকে। পূর্ণাঙ্গ শক্তির কোনো বড় দলের বিপক্ষে সিরিজে এটাই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। খুলনা টেস্টে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের জুটিতে ৩১২ রানের বিশ্বরেকর্ডের পর অনেকেই দ্বিতীয় ম্যাচ নিয়েও স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে লড়াই করার কথা বলেছিলেন সাকিব আল হাসান। চতুর্থ দিনে রানের পাহাড়ের নিচে থাকা বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে তা মোটেও লক্ষ্য করা গেল না। আগের দিনের এক উইকেটে ৬৩ রান নিয়ে খেলতে নামা তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হকের জুটি ভাঙে ৮৬ রানে। খুলনা টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করে ম্যাচ বাঁচানো তামিম ইকবাল ইমরান খানের অফ-স্টাম্পের অনেক বাইরের বল মারতে গিয়ে সরফরাজের হাতে ক্যাচ দেন ৪২ রানে। এরপর মাহমুদউল্লাহ, সাকিব, মুশফিক, সৌম্য কেউই উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করেননি। ১৩৯ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর অলআউটের ক্ষণগণনা শুরু হয়। তবে এরই মধ্যে ক্যারিয়ারে নবম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মুমিনুল হক। এ নিয়ে টানা ১১ টেস্টে ৫০ বা তার চেয়ে বেশি রান করে ভিভ রিচার্ডসকে ধরে ফেললেন মুমিনুল। তার সামনে এখন শুধু এবি ডি ভিলিয়ার্স। দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান টানা ১২টি ম্যাচে ৫০ বা তার বেশি রান করেছেন। মুমিনুল আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের রান ১৪৩। শুভাগত হোমের ৩৯ রান বাংলাদেশকে নিয়ে যায় ২২১-এ। চতুর্থ দিন বাংলাদেশ শুরু করেছিল মূলত আট উইকেট হাতে নিয়ে। শাহাদাত হোসেন ব্যাট করার অবস্থায় ছিলেন না। পঞ্চম দিনে ম্যাচটা নিয়ে যেতে পারলে সেটাই হতো মুশফিকুরদের জন্য বড় অর্জন। কিন্তু চতুর্থ দিন লাঞ্চের আগে ও পরে ৫৭ রানে ছয় উইকেট হারালে সেই সম্ভাবনা উড়ে যায়। ইয়াসির শাহ’র চার উইকেটও অবদান রাখে ম্যাচটা একদিন আগেই শেষ করে দিতে। ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরা হন আজহার আলী। (স্কোর কার্ড খেলার পাতায়)
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close