¦
জিডিপির আকার ১৭ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা

মিজান চৌধুরী | প্রকাশ : ১০ মে ২০১৫

আগামী বাজেটে ১৭ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আকার, যা শতকরা হিসাবে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বাজেটের তুলনায় এটি দুই লাখ কোটি টাকার বেশি। চলতি অর্থবছরে জিডিপির আকার ধরা হয় ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৯শ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া গেছে এ তথ্য।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, নতুন বাজেটে জিডিপির আকার ৭ শতাংশের ওপরে থাকবে। তবে চলতি বাজেটে তা ৭ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, অগ্নিসংযোগের কারণে গত তিন মাসে খুব বেশি অর্থনীতির ক্ষতি হয়নি। তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত ধারণা ছিল চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু বর্তমান সে প্রত্যাশা করছি না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আসন্ন বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে আগামী অর্থবছরে বিশ্ব অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে এমন আভাস তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের রফতানি, বিনিয়োগ ও রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ানোর আভাস থাকছে। বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য হ্রাস অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস থাকছে। এছাড়া ওই রূপরেখায় বলা হয়েছে উৎপাদনশীল খাতে ঋণ প্রবাহ নির্বিঘ্নে রাখা এবং বিনিয়োগ সহায়ক মুদ্রানীতি অনুসরণ করার কথা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বন্দর ও যোগাযোগ খাতে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হবে। রাজস্ব, আর্থিক ও পুঁজিবাজারের সংস্কার কাজ চলবে। এর ফলে জিডিপি অর্জন হবে বলে প্রতিশ্র“তি দেয়া হবে বাজেটে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেষ পর্যন্ত কোনো কারণে কাটছাঁট করা না হলে আগামী বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জিডিপির আকার ধরা হয় ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। এর আগের বছরে ধরা হয়েছিল ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা।
দাতা সংস্থাগুলো আভাস অনুযায়ী মনে করছে, বাংলাদেশের আগামী অর্থবছরের জিডিপি অর্জনের জন্য ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৩ শতাংশে, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৮ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশে এবং সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি দেশের ভেতর স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে, ভোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে হবে। টেকসই প্রকল্প বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নিতে হবে। তাহলে এ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে।
গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এ তিন মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করে। বিশেষ করে টানা অবরোধ, হরতাল ও রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে এ বছর সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হচ্ছে না। রাজস্ব আয় কমেছে। আঘাত করেছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ওপর। মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক সহিংসতায় সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ায় কৃষি খাতে বড় ধরনের আঘাত করেছে। যে কারণে ভালো উৎপাদন হলেও এ খাতের প্রবৃদ্ধি কমবে। ২০১৪ সালে কৃষি খাতে যেখানে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের প্রত্যাশার চেয়েও কম। সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ায় প্রবৃদ্ধি এ বছরও এর কাছাকাছি থাকবে। যা বড় ধরনের নেতিবাচক। কারণ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের পেছনে কৃষি খাতের একটি বড় অবদান রয়েছে।
এদিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিও কমবে। ৯ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এ খাতে হবে এমন আশা করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৮ শতাংশ অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসে। ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ধারণা করা হচ্ছে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি কমে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হবে। এ প্রবৃদ্ধি গত বছরে হয়েছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ট্রান্সপোর্ট, ব্যবসা, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায় বড় ধরনের আঘাত এনে রাজনৈকি পরিস্থিতিতে। ফলে আগামী বছরও সরকারকে এক্ষেত্রে বড় ধরনের জোর দিতে হবে।
চলতি বছরের হিসাব অনুযায়ী জিডিপিতে কৃষি ও বনজ খাতের অবদান ১২ দশমিক ৬৪, মৎস্য খাতের অবদান ৩ দশমিক ৬৯, শিল্প খাতের ১৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসম্পদ খাতে ১ দশমিক ৪৬, নির্মাণ খাতের ৭ দশমিক ০৬, পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্যের ১৪ দশমিক ০৮ শতাংশ, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ১১ দশমিক ৫৪, আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেবা খাতের ৩ দশমিক ৩৯, রিয়েল এস্টেট খাতের ৬ দশমিক ৯৫, লোক প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা খাতের ৩ দশমিক ৩৯, শিক্ষা খাতে ২ দশমিক ২৮, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতের ১ দশমিক ৮৬ ও কমিউনিটি, সামাজিক ও ব্যক্তি খাতের অবদান হচ্ছে ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close