¦
প্রধানমন্ত্রীর কাছে যমুনা গ্রুপ চেয়ারম্যানের খোলা চিঠি

| প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৫

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
‘যমুনা গ্রুপ’ দেশের অন্যতম একটি শিল্প গ্রুপ। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ এখানে উপনীত হয়েছে। আর এ বিশাল অর্জনের পেছনে আপনার অবদানও অনস্বীকার্য। আপনি সব সময় যমুনা গ্রুপের পাশে ছিলেন এবং এখনও আছেন। ভবিষ্যতেও আপনার অকুণ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আজ আপনার কাছে খোলা চিঠি লিখতে হচ্ছে। যেখানে যমুনা গ্রুপ দেশের মূল অর্থনীতির উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে, প্রতি বছর সরকারকে বিপুল অংকের রাজস্ব দিচ্ছে, সেখানে সম্প্রতি যমুনা গ্রুপ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বাস্তবতা-বিবর্জিত ও অসত্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুরো গ্রুপকে সমাজের সামনে হেয় করাসহ নানাভাবে হয়রানি করার ফাঁদ পাতা হচ্ছে। এমনকি গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে নিয়েও মানহানিকর কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে। আর এমনটি করছেন খোদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, যা শুধু বিস্ময়কর বললেও কম বলা হবে। সংবাদ সম্মেলনে যুগান্তর সাংবাদিকের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে তিনি যমুনা গ্রুপের বিরুদ্ধে একের পর এক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন।
যার সর্বশেষ নজির হিসেবে গতকাল বুধবার তিনি রমনা থানায় বেশ কিছু অসত্য, অবান্তর ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। একই সঙ্গে এই জিডির বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে সংবাদমাধ্যমগুলোতে পাঠিয়ে আমাদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। যাতে যমুনা গ্রুপের প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যানের অনাকাঙ্ক্ষিত তীব্র আক্রোশ ও প্রতিহিংসামূলক মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে। তিনি যমুনা গ্রুপের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয় এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি-বিচ্যুতি যমুনা গ্রুপের বলে চালিয়ে দিয়েছেন। যমুনা গ্রুপ শত শত কোটি টাকার রাজস্ব জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত- এমন কাল্পনিক অভিযোগ করেছেন। যা এনবিআর চেয়ারম্যানের মতো একজন উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে অপ্রত্যাশিত ও হতবাক হওয়ার মতো বিষয়। আমরা মনে করি, এসব মিথ্যার বেসাতি করতে গিয়ে তিনি শুধু নিজেকে নন, প্রকারান্তরে সরকারকেও খাটো করেছেন। এনবিআরকেও বিতর্কিত করে চলেছেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যমুনা গ্রুপের নামে যত শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে তা ‘যমুনা’ নাম দিয়েই করা হয়েছে। শামীম স্পিনিং মিলস ছাড়া যমুনা নামের বাইরে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান নেই। অথচ জিডিতে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা যমুনা গ্রুপের কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়।
আজ থেকে ১৮ বছর আগে যমুনা গ্রুপের পণ্য অ্যারোমেটিকের বিষয়ে এনবিআর কর ফাঁকির একটি মামলা করে। কিন্তু যা ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মামলা। বিষয়টি আপনিও জানেন। বিগত বিএনপি সরকারের সময়েও এ মামলা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। কিন্তু মামলার কোনো ভিত্তি না থাকায় সেটি নিয়ে তারা পিছু হটে আসে। মামলাটি হাইকোর্টে বিচারাধীন আছে। আর এনবিআর চেয়ারম্যান উচ্চ আদালতে বিচারাধীন এমন একটি বিষয়ও তার জিডিতে উল্লেখ করেছেন, যা আইনের দৃষ্টিতেও অগ্রাহ্য বলে বিবেচিত হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার সরকার রাজস্ব আদায়ে যাতে সময়মতো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে সে উদ্দেশ্যে সাম্প্রতিক সময়ে দৈনিক যুগান্তরে কয়েকটি তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। যুগান্তর কর্তৃপক্ষ যে ক’টি সংবাদ প্রকাশ করেছে তা শতভাগ সত্য ও দেশের স্বার্থে করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও আপনি সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারেন। আর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যদি যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদের কোনো তথ্য অসত্য হয়, তাহলে আপনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা আমরা মেনে নেব। একই সঙ্গে যদি আমাদের প্রকাশিত সংবাদ সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ হয় তাহলে আপনার কাছে সুবিচারও প্রত্যাশা করি। আশা করব, যারা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এসব করছেন তাদের বিষয়েও আপনি শক্ত ব্যবস্থা নেবেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে। আপনি বিশাল বড় বাজেটের টার্গেট পূরণের জন্য যখন রাতদিন কাজ করছেন, আপনার সরকারের বড় বড় উন্নয়নমূলক প্রকল্পও সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক সে সময় এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করেছেন। তিনি অহেতুক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর পেছনে ছুটছেন। এতে করে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন তো দূরের কথা, সামগ্রিকভাবে দেশের শিল্পোন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যমুনা গ্রুপের অবদান অনস্বীকার্য ও সর্বজনস্বীকৃত। স্বাধীনতার পর থেকে এই গ্রুপ একের পর এক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। আর এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। যমুনা গ্রুপ দেশের টাকা দেশে রেখে শুধু দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। অনেকে দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে গেলেও যমুনা গ্রুপ কোনো অর্থকড়ি বিদেশে নিয়ে যায়নি। এর বিনিময়ে যমুনা গ্রুপ সরকার ও প্রশাসনের কাছ থেকে নিশ্চয় সহযোগিতা আশা করে। কিন্তু এনবিআর চেয়ারম্যান যা করছেন প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড ছাড়া সহযোগিতার নজির হতে পারে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলছি, যমুনা গ্রুপ কোনো ধরনের রাজস্ব জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নয়। সম্পূর্ণ বানোয়াট, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ এনে যমুনা গ্রুপের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ধ্বংস করার অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। মূলত যমুনা গ্রুপকে হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। বুধবার রমনা থানায় দায়ের করা এনবিআরের জিডিতে দাবি করা হয়েছে, যমুনা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জারা এক্সেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ লি., এমকাবা লি. এবং বন্ডেড প্রতিষ্ঠান হংকং গার্মেন্টস লি. বিপুল অংকের রাজস্ব ফাঁকি ও জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যমুনা গ্রুপ বা তার পরিচালকদের কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। এভাবে ভিন্ন মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব অনিয়মকে যমুনা গ্রুপের রাজস্ব জালিয়াতি দাবি করে জিডি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ অভিযোগ প্রমাণ করে, এনবিআর চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদন খণ্ডন করতে না পেরে হীন উদ্দেশ্যে যমুনা গ্রুপকে কলংকিত করার প্রয়াস নিয়েছেন। সরকারের একজন দায়িত্বশীল সচিব হয়ে নজিবুর রহমান নিজ স্বার্থ চরিতার্থে এ ধরনের মিথ্যাচার করছেন, যা সরকারি চাকরির শৃংখলা পরিপন্থী। একই সঙ্গে প্রায় ১৮ বছর ধরে আদালতে বিচারাধীন যমুনা গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠানের কথিত রাজস্ব ফাঁকির কথা এ জিডিতে বলা হয়েছে। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয় নিয়ে থানায় জিডি করা এবং ভুয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব অনিয়মকে যমুনা গ্রুপের রাজস্ব অনিয়ম দাবি করা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। এনবিআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এ ধরনের কাল্পনিক অভিযোগ এনে প্রকারান্তরে নিজের প্রতিহিংসার চেহারাকে উন্মোচন করেছেন। যুগান্তরের সত্য সংবাদকে সঠিকপথে মোকাবেলা না করে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বানোয়াট ও কাল্পনিক অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে করে যমুনা গ্রুপের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া তিনি তার নিয়ন্ত্রণাধীন সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ স্বার্থ চরিতার্থে ব্যবহার করে চলেছেন। তিনি আমার স্ত্রী যিনি একজন সংসদ সদস্য, পুত্র-কন্যা, জামাতাসহ ইতিমধ্যেই যমুনা গ্রুপের সব পরিচালকের ব্যাংক হিসাব তলব করে প্রতিটি ব্যাংকে চিঠি দিয়েছেন। একই সঙ্গে যমুনা গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠান ও পরিচালকের আয়কর নথি তলব করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ ছাড়াই একটি বড় শিল্প গ্রুপের বিরুদ্ধে এই হীন অপচেষ্টায় নজিবুর রহমান অনৈতিকভাবে রাজস্ব প্রশাসনকে ব্যবহার করছেন। এসব ঘটনাই প্রমাণ করে নজিবুর রহমান অন্যায় আক্রোশপরায়ণ হয়ে কোনো কারণ ছাড়াই যমুনা গ্রুপের ক্ষতি করার আগে থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যা আমার কাম্য ছিল না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
যুগান্তরে প্রকাশিত যে রিপোর্টের কারণে এনবিআর চেয়ারম্যান সবচেয়ে বেশি ক্ষিপ্ত হয়েছেন তা হচ্ছে ৭ ডিসেম্বর ‘সুপ্রিমকোর্টের রায় লংঘন : এনবিআর চেয়ারম্যানের বেআইনি সিদ্ধান্ত, ২ শতাধিক কোটি টাকার বকেয়া রাজস্ব আদায় বন্ধ’। এটি ছিল একটি অনুসন্ধানী তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। এছাড়া ৯ ডিসেম্বর ‘দুদক, টিআইবি, আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত, রাজস্বখেলাপিদের বকেয়া মাফ করার এখতিয়ার এনবিআরের নেই’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অত্যন্ত তথ্যবহুল এসব প্রতিবেদনে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় উপেক্ষা করে কিভাবে শত শত কোটি টাকার বকেয়া রাজস্ব আদায় কার্যক্রম থামিয়ে দেয়া হয়েছে তা সবিস্তারে উল্লেখ করা হয়। রাজস্বখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দিয়ে কিভাবে আদালতের রায় উপেক্ষা করা হয়েছে। আর এ সুযোগে শত শত কোটি টাকার বকেয়া কর মওকুফ করে দেয়ার অপচেষ্টায় বেআইনি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাই তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। যুগান্তর সরকারের রাজস্ব আদায়ে জনস্বার্থেই চাঞ্চল্যকর রিপোর্টটি প্রকাশ করে। এছাড়া যুগান্তরে প্রকাশিত অন্যান্য রিপোর্টে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কয়েক মাস ধরে বিরাজমান অস্থিরতা, অসন্তোষ, হয়রানি এবং ব্যাপক রাজস্ব ঘাটতি ও এর কারণগুলো অনুপুঙ্খভাবে উঠে আসে। এসব প্রতিবেদনে রাজস্ব প্রশাসনের বাস্তব চিত্র প্রকাশ পেয়েছে, যা আপনি নিজেও অবগত। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত তাদের মধ্যে যদি অযাচিত ক্ষোভ, অসন্তোষ আর অস্থিরতা থাকে- তা যে রাজস্ব আদায়ের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে সে বিষয়ে নিশ্চয়ই আপনি দ্বিমত পোষণ করবেন না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
সংবাদপত্রে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্টরা নাখোশ হবেন, অনেকে দ্বিমত পোষণ করবেন এটাই স্বাভাবিক। কোনো বিষয়ে কারও দ্বিমত থাকলে, ভুল তথ্য পরিবেশিত হলে প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে মামলা করারও সুযোগ আছে। কিন্তু তা না করে নিজ প্রশাসনকে ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানের এসব অনৈতিক কাজকে নিশ্চয় আপনি সমর্থন করবেন না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। যমুনা গ্রুপের আরেকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান শতভাগ রফতানিমুখী যমুনা ডেনিমস উইভিং লিমিটেডের নামে সব নীতিমালা অনুসরণ করে ৯ জুন আমরা বন্ড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করি। এরপর সংশ্লিষ্ট বন্ড কমিশনারেট সরেজমিন তদন্ত করে সবকিছু সঠিক পেয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু যমুনা গ্রুপেরই অপর একটি প্রতিষ্ঠানের নামে মাত্র ২১ লাখ ১১ হাজার ৮২২ টাকার অনিষ্পন্ন দাবিনামা এবং এ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট মামলা বিচারাধীন থাকায় বন্ড কমিশনার ১ অক্টোবর এনবিআরের দিকনির্দেশনা চেয়ে পত্র দেন। এরপর রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব, প্রথম সচিব এবং সদস্য (শুল্ক রফতানি ও বন্ড) প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে বন্ড কমিশনারেটের সুপারিশ গ্রহণ করে প্রয়োজনে ব্যাংক গ্যারান্টি জমা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে বন্ড লাইসেন্স দেয়ার সুপারিশ করে চেয়ারম্যান বরাবর নথি উপস্থাপন করেন। কিন্তু রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এসব মতামত উপেক্ষা করে বন্ড লাইসেন্সের অনুমতি বা এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই উল্টো যমুনা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নজরদারিসহ সামগ্রিক কমপ্লায়েন্স প্রোফাইল নিবিড় অনুসন্ধানের জন্য বিভিন্ন শুল্ক স্টেশন, সব কাস্টম হাউস, সব মূসক কমিশনারেট এবং আয়কর কমিশনারেটগুলোতে পত্র দেয়ার নির্দেশ দেন। সব নিয়মকানুন ও নীতিমালা উপেক্ষা করে এনবিআর চেয়ারম্যানের এ অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রোশ ও বৈষম্যমূলক নির্দেশে আমরা হতবাক হয়ে পড়ি। উৎপাদনের অপেক্ষায় থাকা রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠানটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। আমরা বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হই। এরপর দ্রুত এনবিআর থেকে দেশের সব আয়কর, মূসক কমিশনারেট এবং কাস্টম হাউসগুলোতে যমুনা গ্রুপের ওপর নজরদারিসহ বিভিন্ন তথ্য চেয়ে জরুরি পত্র দেয়া হয়। এতে আমাদের আমদানি-রফতানি, কারখানার উৎপাদন এবং পণ্য খালাস বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা দেখা দেয়। আমাদের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামও হুমকির মুখে পড়ে।
যমুনা গ্রুপের প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যানের ন্যায়বিচারবহির্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত নেতিবাচক ভূমিকায় আমরা শংকিত হয়ে পড়ি এবং আরও ক্ষতির আশংকায় সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা দাবিনামার সমুদয় অর্থ ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিই। এ পর্যায়ে সরকারের কোনো দাবিনামা বা পাওনা না থাকায় বন্ড লাইসেন্স দিতে বন্ড কমিশনারেটের আইনগত কোনো বাধা ছিল না। আমরা আশা করেছিলাম, লাইসেন্স নীতিমালার সব শর্ত পূরণ করায় কমিশনার দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে লাইসেন্স ইস্যু করবেন। কিন্তু তারপরও অজ্ঞাত কারণে লাইসেন্স না দিয়ে বন্ড কমিশনার এ বিষয়ে এনবিআরের নির্দেশনা চেয়ে চিঠি দেন। এরপর এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব, প্রথম সচিব ও সদস্য (শুল্ক রফতানি ও বন্ড) প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বন্ড লাইসেন্স দেয়ার জোর সুপারিশ করে গত ১৫ অক্টোবর চেয়ারম্যান বরাবর নথি উপস্থাপন করেন। কিন্তু এবারও চেয়ারম্যান মহোদয় এসব সুপারিশ সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করেন। তিনি নথির প্রস্তাব অনুমোদন না করে বিভিন্ন শুল্ক স্টেশন, মূসক কমিশনারেট এবং আয়কর দফতরগুলো হতে যমুনা গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত বন্ড লাইসেন্স ইস্যু করার সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যমুনা গ্রুপের প্রতি চেয়ারম্যানের অহেতুক নেতিবাচক মনোভাবে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। আমরা বুঝতে পারি, পূর্ব আক্রোশবশত প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে হয়রানি করা শুরু করেছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমরা সব পাওনা পরিশোধ করা সত্ত্বেও অর্থাৎ যমুনা গ্রুপের কোনো বন্ড প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের কোনো পাওনা না থাকা সত্ত্বেও এনবিআর চেয়ারম্যান লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত না দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত আক্রোশবশত অনাকাঙ্ক্ষিত বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করেছেন। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় যমুনা গ্রুপের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম নষ্ট হতে চলেছে। চেয়ারম্যানের অহেতুক নেতিবাচক মনোভাব বুঝতে পেরে তার নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন কমিশনারেট, শুল্ক স্টেশন এবং আয়কর দফতরগুলোও আমাদের হয়রানি করা শুরু করেছে। একটি প্রতিষ্ঠিত শিল্প গ্রুপের বিরুদ্ধে এনবিআর চেয়ারম্যানের এই বৈষম্যমূলক অন্যায় আচরণ দেশের প্রচলিত আইন ও নিয়মনীতি বহির্ভূত এবং ন্যায়বিচারপরিপন্থী। এতে আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
যমুনা গ্রুপের সঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যানের কোনো বিরোধ আগেও ছিল না, এখনও নেই। আমরা সব সময়ই প্রচলিত সব নীতিমালা ও আইনকানুন মেনে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু দৈনিক যুগান্তরের একজন সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলনে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তিনিই বিরোধের সূচনা করেন। চেয়ারম্যান হিসেবে নজিবুর রহমান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে যোগ দেয়ার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যমুনা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান দৈনিক যুগান্তরের একজন সিনিয়র সাংবাদিকের প্রশ্ন করাকে কেন্দ্র করে পূর্ব আক্রোশবশত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। এরপর থেকে আমরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকারসহ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।
এই ঘটনার পর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান আমাকে এনবিআরে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন। আমি সেখানে গেলে সিআইসির মহাপরিচালক, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তিনি আমার এবং আমার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একপর্যায়ে আমাকে জানান, যুগান্তরের ইকোনমিক এডিটর হেলাল উদ্দিন তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ করে প্রশ্ন করেছেন। আমি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করি। কিন্তু তারপরও তিনি অতিসত্বর দৈনিক যুগান্তর থেকে হেলাল উদ্দিনকে অপসারণের জন্য আমাকে অনৈতিক অনুরোধ করেন। আমি বলি, একজন সিনিয়র সাংবাদিককে কারণ ছাড়া এভাবে চাকরিচ্যুত করলে সাংবাদিক সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে। এরপর তার অনুরোধে প্রতিবেদকের বক্তব্য ছাড়াই দৈনিক যুগান্তরে এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতিবাদপত্র হুবহু প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এরপরও তার নিয়ন্ত্রণাধীন সিআইসি থেকে একাধিকবার চাপ সৃষ্টি করা হয় যে, হেলাল উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত না করলে যমুনা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তদন্ত শুরু করা হবে। আমি চেয়ারম্যানের এসব অন্যায় চাপ আমলে না নেয়ায় সম্ভবত তিনি আমার ওপর রুষ্ট হন। বর্তমান হয়রানিমূলক পরিস্থিতি তারই বহিঃপ্রকাশ বলে আমি মনে করি। দেশের অন্যতম করদাতা হিসেবে রাজস্ব বোর্ডের কাছে আমি ব্যবসা ও করবান্ধব সম্পর্কই আশা করেছিলাম। কিন্তু তিনি তা না করে অন্যায়ভাবে পূর্ব আক্রোশবশত ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থে গত ফেব্রুয়ারি মাসের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মনে রেখে এখনও ন্যায়বিচারপরিপন্থী হয়রানি অব্যাহত রেখেছেন এবং নজিরবিহীনভাবে যমুনা গ্রুপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
সার্বিক বিবেচনায় দেশের অর্থনীতির অভিভাবক হিসেবে আমরা আপনার কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের অহেতুক ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্যায় হয়রানিমূলক আচরণ ও প্রতিহিংসার হাত থেকে যমুনা গ্রুপকে রক্ষা করবেন। একই সঙ্গে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, বড় শিল্প গ্রুপ হিসেবে আমরা সব সময় আপনার পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব। আর আপনি চাইলে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণসহ আমি আপনার সঙ্গে সরাসরি কথাও বলতে পারি।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close