jugantor
মার্কেন্টাইল ব্যাংককে খাদে ফেলছেন এমডি
বৈদেশিক বাণিজ্য বোঝেন না এমন ব্যক্তিকে ম্যানেজার পদে নিয়োগ * একের পর এক অনিয়ম, ঋণ কেলেংকারি

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

বেসরকারি মার্কেন্টাইল ব্যাংককে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়ে চলে যাচ্ছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এহসানুল হক। বিতর্কিত এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও আনন্দ শিপইয়ার্ডের ঋণ কেলেংকারিসহ বেশ কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ কেলেংকারির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণও মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের (সিএসআর) টাকা আত্মসাতেরও। বৈদেশিক বাণিজ্যই বোঝেন না এমন এক কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ শাখার ম্যানেজারের দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। তার ও অনুগত কর্মকর্তাদের একের পর এক অনিয়মে ব্যাংকের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন গ্রাহকরা। আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক।

বেসরকারি একটি ব্যাংকে ডিএমডি থাকাকালীন এহসানুল হক বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে ৩০ ব্যাংক কর্মকর্তা জালিয়াতিতে সহায়তা করেন। বিসমিল্লাহ গ্রুপ জালিয়াতি করে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঋণ কেলেংকারির ঘটনায় সেই সময় ওই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে ব্যাংক থেকে বের করে দেয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করে।

এহসানুল হকের সহযোগিতায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন শাখা থেকে ২২১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আনন্দ শিপইয়ার্ড। জাহাজ রফতানির নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আনন্দ শিপইয়ার্ড দেশের ১২ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে এসব জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে। এর বাইরে সিএসআর তহবিলের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তবে অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করেনি দুদক।

এ প্রসঙ্গে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তার মোবাইলে এসএমএস দেয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। ২২ ডিসেম্বর মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে তার বিদায় নেয়ার কথা রয়েছে।

মেইন (লোকাল) শাখার ম্যানেজারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এমন এক কর্মকর্তাকে যিনি বৈদেশিক বাণিজ্যই বোঝেন না। ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্ব পালন করা মাহমুদ আলম চৌধুরী (এসইভিপি) ব্যাংকের এ শাখার ম্যানেজার। তিনি এখানে আসার পর থেকে এ শাখা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকটির বৈদেশিক বাণিজ্য চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে একদিকে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কমে গেছে। অন্যদিকে ব্যাংক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মাহমুদ আলম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, তিনি এখন মেইন (লোকাল) শাখার ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন। এ শাখায় কোনো বৈদেশিক বাণিজ্যের কাজ হয় না। তবে তিনি স্বীকার করেন, ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ ছেড়ে তিনি এ শাখায় ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, ব্যাংকের এমডি এম এহসানুল হকের তল্পিবাহক হয়ে মাহমুদ আলম চৌধুরী নানা ধরনের অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। তার মতো আরও কিছু অসাধু কর্মকর্তাও নতুন নতুন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন।

এহসানুল হক মার্কেন্টাইল ব্যাংকে যোগ দেয়ার পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম শুরু হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের অভাব, আর্থিক সবগুলো সূচকের নিুগতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। ব্যাংকটির আর্থিক অনিয়ম এবং সুশাসনের ঘাটতি বিষয়ে জানতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ অনুসন্ধান চালায়। এ সময় বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে- নীতিমালা না মেনে কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রদান, সিএসআর তহবিলের টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যয় ইত্যাদি। এছাড়াও ব্যাংকটিতে সংঘটিত কতিপয় অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এমন অবস্থায় অনিয়ম ঠেকাতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ গ্রহণ ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে শতাধিক কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংকটির আগ্রাবাদ ও মাদামবিবির হাট শাখা পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অনুসন্ধানে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তদন্তেও নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে ‘ফৌজদারি অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদামবিবির হাট শাখা ‘মেসার্স রিজেন্ট কর্পোরেশন’র নামে ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গুলশান শাখার গ্রাহক ‘মেসার্স ফ্রেন্ডস ট্রের্ডাস’-এর অনুকূলে টিএসপি সার কেনার নামে ২ কোটি টাকা করে মোট ১০ কোটি টাকার ৫টি স্থানীয় ঋণপত্র খোলা হয়। বিধি মোতাবেক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামানতের বিপরীতে ১০ শতাংশ মার্জিন রেখে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকার লোকাল এলসি খোলার অনুমোদন দিতে পারেন। কিন্তু রিজেন্টের ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হয়নি।

এছাড়া আগ্রাবাদ শাখা থেকেই ‘মেশমার্ক লিমিটেড’ নামে আরেকটি শিপ ব্রেকার্স প্রতিষ্ঠানের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই ঋণ মঞ্জুর করান। মঞ্জুরকৃত ঋণের ওই অর্থ আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ও পুনরায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে ধরা পড়ে। এ খাতে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

আগ্রাবাদ শাখার দুর্নীতি : মেসার্স তিতাস এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের অনুকূলে ফান্ডেড ঋণ সুবিধার অনুমোদন বা মঞ্জুরি না থাকা সত্ত্বেও একই দিনে ৫টি প্যাড অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকার এলসি মূল্য পরিশোধ করা হয়। কিন্তু গুদামে ওই পরিমাণ মাল পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উল্লিখিত দুই কোম্পানির কাছে ব্যাংকের পাওনা অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অনুমোদনের আগেই প্রধান শাখার ক্রেডিট অ্যাডমিন বিভাগের ডেবিট ইনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক মিশম্যাক শিপ ব্রেকিংয়ের অনুকূলে প্রেফার্মা ইনভয়েসের বিপরীতে ২০ কোটি টাকার টাইম লোন দেয়া হয়, যা বর্তমানে ২১ কোটি ৮২ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। এটিও আদায়ের কোনো সম্ভাবনা নেই।


 

সাবমিট

মার্কেন্টাইল ব্যাংককে খাদে ফেলছেন এমডি

বৈদেশিক বাণিজ্য বোঝেন না এমন ব্যক্তিকে ম্যানেজার পদে নিয়োগ * একের পর এক অনিয়ম, ঋণ কেলেংকারি
 যুগান্তর রিপোর্ট 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

বেসরকারি মার্কেন্টাইল ব্যাংককে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়ে চলে যাচ্ছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এহসানুল হক। বিতর্কিত এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও আনন্দ শিপইয়ার্ডের ঋণ কেলেংকারিসহ বেশ কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ কেলেংকারির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণও মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের (সিএসআর) টাকা আত্মসাতেরও। বৈদেশিক বাণিজ্যই বোঝেন না এমন এক কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ শাখার ম্যানেজারের দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। তার ও অনুগত কর্মকর্তাদের একের পর এক অনিয়মে ব্যাংকের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন গ্রাহকরা। আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক।

বেসরকারি একটি ব্যাংকে ডিএমডি থাকাকালীন এহসানুল হক বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে ৩০ ব্যাংক কর্মকর্তা জালিয়াতিতে সহায়তা করেন। বিসমিল্লাহ গ্রুপ জালিয়াতি করে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঋণ কেলেংকারির ঘটনায় সেই সময় ওই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে ব্যাংক থেকে বের করে দেয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করে।

এহসানুল হকের সহযোগিতায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন শাখা থেকে ২২১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আনন্দ শিপইয়ার্ড। জাহাজ রফতানির নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আনন্দ শিপইয়ার্ড দেশের ১২ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে এসব জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে। এর বাইরে সিএসআর তহবিলের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তবে অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করেনি দুদক।

এ প্রসঙ্গে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তার মোবাইলে এসএমএস দেয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। ২২ ডিসেম্বর মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে তার বিদায় নেয়ার কথা রয়েছে।

মেইন (লোকাল) শাখার ম্যানেজারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এমন এক কর্মকর্তাকে যিনি বৈদেশিক বাণিজ্যই বোঝেন না। ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্ব পালন করা মাহমুদ আলম চৌধুরী (এসইভিপি) ব্যাংকের এ শাখার ম্যানেজার। তিনি এখানে আসার পর থেকে এ শাখা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকটির বৈদেশিক বাণিজ্য চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে একদিকে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কমে গেছে। অন্যদিকে ব্যাংক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মাহমুদ আলম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, তিনি এখন মেইন (লোকাল) শাখার ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন। এ শাখায় কোনো বৈদেশিক বাণিজ্যের কাজ হয় না। তবে তিনি স্বীকার করেন, ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ ছেড়ে তিনি এ শাখায় ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, ব্যাংকের এমডি এম এহসানুল হকের তল্পিবাহক হয়ে মাহমুদ আলম চৌধুরী নানা ধরনের অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। তার মতো আরও কিছু অসাধু কর্মকর্তাও নতুন নতুন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন।

এহসানুল হক মার্কেন্টাইল ব্যাংকে যোগ দেয়ার পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম শুরু হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের অভাব, আর্থিক সবগুলো সূচকের নিুগতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। ব্যাংকটির আর্থিক অনিয়ম এবং সুশাসনের ঘাটতি বিষয়ে জানতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ অনুসন্ধান চালায়। এ সময় বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে- নীতিমালা না মেনে কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রদান, সিএসআর তহবিলের টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যয় ইত্যাদি। এছাড়াও ব্যাংকটিতে সংঘটিত কতিপয় অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এমন অবস্থায় অনিয়ম ঠেকাতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ গ্রহণ ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে শতাধিক কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংকটির আগ্রাবাদ ও মাদামবিবির হাট শাখা পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অনুসন্ধানে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তদন্তেও নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে ‘ফৌজদারি অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদামবিবির হাট শাখা ‘মেসার্স রিজেন্ট কর্পোরেশন’র নামে ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গুলশান শাখার গ্রাহক ‘মেসার্স ফ্রেন্ডস ট্রের্ডাস’-এর অনুকূলে টিএসপি সার কেনার নামে ২ কোটি টাকা করে মোট ১০ কোটি টাকার ৫টি স্থানীয় ঋণপত্র খোলা হয়। বিধি মোতাবেক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামানতের বিপরীতে ১০ শতাংশ মার্জিন রেখে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকার লোকাল এলসি খোলার অনুমোদন দিতে পারেন। কিন্তু রিজেন্টের ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হয়নি।

এছাড়া আগ্রাবাদ শাখা থেকেই ‘মেশমার্ক লিমিটেড’ নামে আরেকটি শিপ ব্রেকার্স প্রতিষ্ঠানের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই ঋণ মঞ্জুর করান। মঞ্জুরকৃত ঋণের ওই অর্থ আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ও পুনরায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে ধরা পড়ে। এ খাতে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

আগ্রাবাদ শাখার দুর্নীতি : মেসার্স তিতাস এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের অনুকূলে ফান্ডেড ঋণ সুবিধার অনুমোদন বা মঞ্জুরি না থাকা সত্ত্বেও একই দিনে ৫টি প্যাড অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকার এলসি মূল্য পরিশোধ করা হয়। কিন্তু গুদামে ওই পরিমাণ মাল পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উল্লিখিত দুই কোম্পানির কাছে ব্যাংকের পাওনা অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অনুমোদনের আগেই প্রধান শাখার ক্রেডিট অ্যাডমিন বিভাগের ডেবিট ইনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক মিশম্যাক শিপ ব্রেকিংয়ের অনুকূলে প্রেফার্মা ইনভয়েসের বিপরীতে ২০ কোটি টাকার টাইম লোন দেয়া হয়, যা বর্তমানে ২১ কোটি ৮২ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। এটিও আদায়ের কোনো সম্ভাবনা নেই।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র