jugantor
ডিসেম্বর বয়ে এনেছে অশেষ তাৎপর্য

  মফিদুল হক  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চার দশকেরও অধিককাল আগের ঘটনা হিসেবে কি হারিয়ে যাবে বিশ্ববাসীর স্মৃতি থেকে? বাংলাদেশের গণহত্যা কি বাইরের দুনিয়ার কাছে হয়ে যাবে বিস্মৃত ঘটনা? এই দুই প্রশ্ন আসলে একটি জিজ্ঞাসারই এপিঠ ওপিঠ। প্রবল বাধার বিরুদ্ধে লড়াই করে যে বাংলাদেশের অভ্যুদয়, সেটা তো গণহত্যার রক্তসমুদ্র পেরিয়ে মুক্তির জয় পতাকা উত্তোলনের কাহিনী। চার দশকেরও পরে বাংলাদেশের মানুষের কাছে যে একাত্তরের সংগ্রামের মহিমা ক্ষুণ্ণ হয়নি সেটা তো জাতীয় নানা ঘটনাধারা থেকে সুস্পষ্ট। ডিসেম্বর সেই সম্মিলিত স্মৃতি আবার উসকে দেয়, স্মৃতির যে উদ্ভাসন চলে ডিসেম্বর মাসজুড়ে তাতে নতুন প্রজন্মের সম্পৃক্তি ও সক্রিয়তা প্রসারিত হচ্ছে, সেটাও আনন্দবহ ঘটনা। ডিসেম্বরে বাংলাদেশের প্রত্যেক জনপদের রয়েছে আলাদা স্মৃতি, টুকরো টুকরো সেসব স্মৃতি মিলে আবার গড়ে ওঠে যৌথ স্মৃতি- এটাও বাংলাদেশের এক বৈশিষ্ট্য। ডিসেম্বরের এমত স্মৃতি-উদ্ভাসনে দুটি দিন আবার বিশেষভাবে স্মরণীয়, বেদনা ও আনন্দের যুগল সাধনা ১৪ এবং ১৬ ডিসেম্বর।

কিন্তু বাইরের বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাধারা ধূসর হয়ে আসা সেটা তো বাস্তব সত্য। কিন্তু ধূসর হয়ে এলেও ভুলে যাওয়ার মতো ঘটনা যে তা নয় সেটাও তো এক বাস্তবতা। কেননা, বাংলাদেশের লড়াই ছিল সাম্প্রদায়িক আদর্শে প্রতিষ্ঠিত সামরিক রাষ্ট্রের বিপরীতে সম্প্রীতির আদর্শবহ মানবিক অধিকার কায়েমের লড়াই। ধর্মকে ব্যবহার করে যে নৃশংসতা তার বিপরীতে ইতিহাস-নির্ধারিত ভাষা-সংস্কৃতি-ভূখণ্ডভিত্তিক জাতীয়তার জাগরণ, যেখানে ধর্মের মহৎ আদর্শ সুরক্ষিত হবে এবং বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মিলন হবে জাতিসত্তার মোহনায়- এর তাৎপর্য তো অপরিসীম। তো বাংলাদেশের গণহত্যা ও মুক্তি সংগ্রাম তার অসাধারণ তাৎপর্য সত্ত্বেও কি মুছে যাবে বিশ্ববাসীর স্মৃতি ও বিবেচনা থেকে?

মুছে যে যাবে না সেক্ষেত্রে আশীর্বাদস্বরূপ একটি ঘটনা আমরা পেয়েছি, যখন জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বর দিনটিকে ঘোষণা করল গণহত্যার শিকার মানুষদের স্মরণ দিবস হিসেবে। কেবল স্মরণ নয়, সেই সঙ্গে গণহত্যার শিকার হয়েছেন যারা তাদের মর্যাদাদানের কথাও বলা হয়েছে এই ঘোষণায়। আলাদাভাবে এমন দিবস পালনের গুরুত্ব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অনুভব করল, কেননা আজকের বিশ্বে গণহত্যার মতো নৃশংসতার উৎসাদন অতীব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে জাতিসংঘ এটাও বলেছে, গণহত্যাকারীরা যেন বিচারের হাত থেকে পার পেয়ে না যায়।

ডিসেম্বরের ৯ তারিখ তাই দেশে দেশে অগণিত মানুষের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশ স্মরণ করে থাকে গণহত্যার শিকার মানুষদের, তাদের মর্যাদা দিতে সচেষ্ট হবে এবং চলমান বিচার প্রক্রিয়া জোরদার করার প্রত্যয় খুঁজে পাবে- এটা আমাদের জন্য প্রেরণাদায়ক। এই দিনে বাংলাদেশের গণহত্যার স্মৃতিও আবার ঝলসে উঠবে বিশ্ববাসীর চেতনায়, তেমন আশাবাদও তো করা যায়। ডিসেম্বর তাই যথার্থ অর্থেই আমাদের বিজয়ের মাস।


 

সাবমিট

ডিসেম্বর বয়ে এনেছে অশেষ তাৎপর্য

 মফিদুল হক 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চার দশকেরও অধিককাল আগের ঘটনা হিসেবে কি হারিয়ে যাবে বিশ্ববাসীর স্মৃতি থেকে? বাংলাদেশের গণহত্যা কি বাইরের দুনিয়ার কাছে হয়ে যাবে বিস্মৃত ঘটনা? এই দুই প্রশ্ন আসলে একটি জিজ্ঞাসারই এপিঠ ওপিঠ। প্রবল বাধার বিরুদ্ধে লড়াই করে যে বাংলাদেশের অভ্যুদয়, সেটা তো গণহত্যার রক্তসমুদ্র পেরিয়ে মুক্তির জয় পতাকা উত্তোলনের কাহিনী। চার দশকেরও পরে বাংলাদেশের মানুষের কাছে যে একাত্তরের সংগ্রামের মহিমা ক্ষুণ্ণ হয়নি সেটা তো জাতীয় নানা ঘটনাধারা থেকে সুস্পষ্ট। ডিসেম্বর সেই সম্মিলিত স্মৃতি আবার উসকে দেয়, স্মৃতির যে উদ্ভাসন চলে ডিসেম্বর মাসজুড়ে তাতে নতুন প্রজন্মের সম্পৃক্তি ও সক্রিয়তা প্রসারিত হচ্ছে, সেটাও আনন্দবহ ঘটনা। ডিসেম্বরে বাংলাদেশের প্রত্যেক জনপদের রয়েছে আলাদা স্মৃতি, টুকরো টুকরো সেসব স্মৃতি মিলে আবার গড়ে ওঠে যৌথ স্মৃতি- এটাও বাংলাদেশের এক বৈশিষ্ট্য। ডিসেম্বরের এমত স্মৃতি-উদ্ভাসনে দুটি দিন আবার বিশেষভাবে স্মরণীয়, বেদনা ও আনন্দের যুগল সাধনা ১৪ এবং ১৬ ডিসেম্বর।

কিন্তু বাইরের বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাধারা ধূসর হয়ে আসা সেটা তো বাস্তব সত্য। কিন্তু ধূসর হয়ে এলেও ভুলে যাওয়ার মতো ঘটনা যে তা নয় সেটাও তো এক বাস্তবতা। কেননা, বাংলাদেশের লড়াই ছিল সাম্প্রদায়িক আদর্শে প্রতিষ্ঠিত সামরিক রাষ্ট্রের বিপরীতে সম্প্রীতির আদর্শবহ মানবিক অধিকার কায়েমের লড়াই। ধর্মকে ব্যবহার করে যে নৃশংসতা তার বিপরীতে ইতিহাস-নির্ধারিত ভাষা-সংস্কৃতি-ভূখণ্ডভিত্তিক জাতীয়তার জাগরণ, যেখানে ধর্মের মহৎ আদর্শ সুরক্ষিত হবে এবং বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মিলন হবে জাতিসত্তার মোহনায়- এর তাৎপর্য তো অপরিসীম। তো বাংলাদেশের গণহত্যা ও মুক্তি সংগ্রাম তার অসাধারণ তাৎপর্য সত্ত্বেও কি মুছে যাবে বিশ্ববাসীর স্মৃতি ও বিবেচনা থেকে?

মুছে যে যাবে না সেক্ষেত্রে আশীর্বাদস্বরূপ একটি ঘটনা আমরা পেয়েছি, যখন জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বর দিনটিকে ঘোষণা করল গণহত্যার শিকার মানুষদের স্মরণ দিবস হিসেবে। কেবল স্মরণ নয়, সেই সঙ্গে গণহত্যার শিকার হয়েছেন যারা তাদের মর্যাদাদানের কথাও বলা হয়েছে এই ঘোষণায়। আলাদাভাবে এমন দিবস পালনের গুরুত্ব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অনুভব করল, কেননা আজকের বিশ্বে গণহত্যার মতো নৃশংসতার উৎসাদন অতীব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে জাতিসংঘ এটাও বলেছে, গণহত্যাকারীরা যেন বিচারের হাত থেকে পার পেয়ে না যায়।

ডিসেম্বরের ৯ তারিখ তাই দেশে দেশে অগণিত মানুষের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশ স্মরণ করে থাকে গণহত্যার শিকার মানুষদের, তাদের মর্যাদা দিতে সচেষ্ট হবে এবং চলমান বিচার প্রক্রিয়া জোরদার করার প্রত্যয় খুঁজে পাবে- এটা আমাদের জন্য প্রেরণাদায়ক। এই দিনে বাংলাদেশের গণহত্যার স্মৃতিও আবার ঝলসে উঠবে বিশ্ববাসীর চেতনায়, তেমন আশাবাদও তো করা যায়। ডিসেম্বর তাই যথার্থ অর্থেই আমাদের বিজয়ের মাস।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র