¦
ভোটযুদ্ধে মরিয়া দুই দল

আবদুল্লাহ আল মামুন/হাবিবুর রহমান খান ও নজরুল ইসলাম | প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১৫

সাফল্য প্রচার করে ভোট টানতে চায় আ’লীগ
পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ড। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি চান না নেতারা। সরকারের সাফল্য প্রচার করে তারা ভোটার টানতে চান। এছাড়া বিজয়ের লক্ষ্য পূরণে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনাসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। চলছে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ। দলের গবেষণা সেলগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে। সরকারি কাজে মনোযোগী আওয়ামী লীগ নেতারাও সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় হয়েছেন। দলটির উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছে।
বেশির ভাগ পৌরসভায় বিজয় সম্ভব হলে দলীয় প্রতীকের এ নির্বাচনকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরবে আওয়ামী লীগ। ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিএনপিবিহীন নির্বাচনের কলঙ্কমোচনে এ নির্বাচনকে একটি মাধ্যম হিসেবেও বিবেচনা করছেন তারা। তাই ২৩৫ পৌরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সারা দেশে স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়ন দাখিলকারী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতাদের বশে আনার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিরসন করে তৃণমূল আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছেন স্বয়ং দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আমাদের জয় শতভাগ হওয়া উচিত। কিন্তু দ্রুততার সঙ্গে প্রস্তুতি নেয়ায় কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে। সাত বছরের সফলতা তুলে ধরলে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে বলে তিনি দাবি করেন।
নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সংশয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, তাদের (বিএনপি) এ বক্তব্য অন্তঃসারশূন্য ও হাস্যকর। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে বিষয়টি কিভাবে দেখবেন এমন প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, জনগণের ভোটাধিকারে বিশ্বাসী। তাই জনরায় মেনে নেবে। যদিও বিএনপিকে ভোট দেয়ার কোনো কারণ আছে বলে তিনি মনে করেন না। এদিকে পৌরসভা নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা আওয়ামী লীগের জেলা কমিটিগুলো অনুমোদন দেয়া শুরু হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে পরামর্শ দেয়ার পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখভাল করছেন। তিনি বিভিন্ন জেলায় বিদ্যমান দ্বন্দ্ব নিরসনে আলাদা আলাদা গ্রুপের পাঠানো কমিটি একসঙ্গে করছেন। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের পর ঝুলে থাকা বেশ কয়েকটি জেলা কমিটি অনুমোদনের জন্য চূড়ান্ত করেছেন বলে জানা গেছে।
স্বতন্ত্রভাবে মেয়র নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেয়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বশে আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় ৭০ বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর মধ্যে কমপক্ষে ১৫ জনকে এরই মধ্যে বশে আনা সম্ভব হয়েছে। তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যেই বাকিদের বেশির ভাগই নির্বাচন থেকে সরে আসবেন বলে আশা করছেন শাসক দলের নেতারা। এজন্য দলের বিদ্রোহী নেতাদের সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রদানের আশ্বাস দেয়া হচ্ছে।
সংসদ সদস্য ছাড়া দলের কেন্দ্রীয় নেতারা খুব শিগগিরই সারা দেশে প্রচারণায় নামবেন। তারা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি সাংগঠনিক ঐক্যের ওপর জোর দেবেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় নির্বাচনে নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত আগ্রহ কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিরসন, নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে মাঠে নামানো হবে।
এ নির্বাচনকে ৫ জানুয়ারির কলঙ্কমোচনের পথ হিসেবে নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচন পরিচালনার জন্য সিনিয়র নেতাদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে মনিটরিং সেল। সাংগঠনিক সম্পাদকদেরও দেয়া হয়েছে বিশেষ দায়িত্ব।
আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র স্বীকার করেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন। এজন্য প্রতি ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে পা ফেলছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। ভোট কেন্দ্র দখল বা প্রতিপক্ষের বিবেচনায় ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়ার ঘটনাগুলো যাতে কোনোভাবেই না ঘটে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্য কেউ এসব কাজ করে এর দায় যাতে ক্ষমতাসীনদের ওপর চাপাতে না পারে সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলা হয়। মোট কথা বিএনপি এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ইস্যু তৈরি করতে না পারে সে দিকটিও বিবেচনায় রাখছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।
ধানের শীষের জোয়ার দেখাতে চায় বিএনপি
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের জোয়ার দেখাতে চায় বিএনপি। এ লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে দলের হাইকমান্ড। তারা প্রত্যেক পৌরসভায় একক প্রার্থী রাখতে চাচ্ছেন। জামায়াতের সঙ্গেও সমঝোতায় আগ্রহী নেতারা। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে দু’একদিনের মধ্যেই নেয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এদিকে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে নেতাদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আগামী সপ্তাহে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হবে। এসব বৈঠকে নেতাদের দেয়া পরামর্শ পর্যালোচনা করে তৈরি করা হবে চূড়ান্ত পরিকল্পনা।
নির্বাচনে করণীয়, বিদ্রোহী প্রার্থী ও জামায়াতসহ জোটের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার সার্বিক বিষয় নিয়ে বুধবার দুপুরে সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাছে দল মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা দেয়া হয়। জামায়াতের প্রার্থীদের অবস্থান ও বিদ্রোহীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে আজ-কালের মধ্যে কেন্দ্রে জানাতে বলা হয় বৈঠকে। তাদের দেয়া মাঠ পর্যায়ের চিত্র নিয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠকে বিভাগের পাশাপাশি বৃহত্তর জেলায় একটি করে মনিটরিং টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। নির্বাচনের যাবতীয় অনিয়ম জেলা নেতারা বিভাগীয় টিমকে অবহিত করবেন। বিভাগের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে তা কেন্দ্রে জানাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে নির্বাচন কমিশনকে চাপে রাখতে নানা ধরনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হচ্ছে একাধিক মনিটরিং টিম। ওই টিমে রাজনৈতিক দলের সদস্য ও পেশাজীবীরা থাকবেন। দেশের জনগণ ও বিদেশীদের কাছে নির্বাচনের অনিয়ম তুলে ধরবে কেন্দ্রীয়ভাবে গঠিত মনিটরিং টিম।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যুগান্তরকে বলেন, ভোটাররা এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে উন্মুখ হয়ে আছেন। তারা সুযোগের অপেক্ষায় আছেন। সুযোগ পেলে ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের জবাব দেবেন। পৌর নির্বাচনে ৮০ ভাগ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করবে বলে আশাবাদী বিএনিপর এই নেতা।
মামলা-হামলাসহ বিভিন্ন ধরনের বাধার আশংকা থাকার পরও জয়ের ব্যাপারে এতটা আশাবাদী কিভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিন নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে পুলিশ হানা দিচ্ছে। নানা আশংকার কারণেই ৮০ ভাগ পৌরসভায় জয়ের প্রত্যাশা করছি। এসব বাধা না থাকলে এবং নির্বাচন যদি পুরোপুরি অবাধ ও সুষ্ঠু হয় তাহলে শতভাগ পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করবে।
তিনি বলেন, দলের নেতাদের মধ্যে কিছুটা মনোমালিন্য থাকলেও ধানের শীষ প্রতীক দেখলে তারা সব ভুলে যান। যেহেতু নির্বাচনটা ধানের শীষ প্রতীকে হচ্ছে, তাই নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। কোথাও কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
সূত্র জানায়, দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে শিগগিরই খালেদা জিয়া তৃণমূলে একটি নির্দেশনা পাঠাবেন। সারা দেশে নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে ও সরকারের নানা অনিয়ম তুলে ধরে একটি সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন খালেদা জিয়া। দলের সিনিয়র নেতারা এ ব্যাপারে তাকে পরামর্শ দেন।
সূত্র জানায়, দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের ইতিমধ্যে মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতাদেরও একই ধরনের নির্দেশ দেয়া হয়। ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে নিজ নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে মাঠে নামতে বলা হয়। এছাড়া যুবদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দলও পৃথকভাবে কাজ করছে। সারা দেশের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, নির্বাচনে অনিয়ম ঠেকাতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে অব্যাহত চাপে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আচরণবিধি লংঘনসহ প্রশাসনের যে কোনো হস্তক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে ইসিকে অবহিত করা হবে। মঙ্গলবার বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে যান। দলের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়। মঙ্গলবার বিজয় ও বুদ্ধিজীবী দিবসের কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে অনুষ্ঠিত যৌথসভায় নির্বাচনের প্রসঙ্গটিও উঠে আসে। দলের নেতারা নির্বাচনে করণীয় নিয়ে তাদের পরামর্শ দেন।
বৈঠক শেষে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের আচরণে মনে হচ্ছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তারপরও গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, সারা দেশে নির্বাচনী কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি কমিটি গঠন করা হবে।
সূত্র জানায়, প্রত্যেকটি পৌরসভায় একক প্রার্থী রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেসব পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে তাদের সঙ্গে আজ-কালের মধ্যেই বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রথমে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হবে। সামনে দল পুনর্গঠনে যোগ্যতা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়ার আশ্বাস দেয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদদাতা নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা যেসব পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামাল দিতে পারবেন না তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন খালেদা জিয়া। তিনি বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন। এমনকি তার কার্যালয়ে ডেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাবেন। এসব উদ্যোগের ফলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বাগে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, বিদ্রোহী বলতে কিছু নেই। যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তারা আমাদের দলেরই নিবেদিত নেতা। দলে তাদের অনেক ত্যাগ রয়েছে। হয়তো কিছুটা অভিমান করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। আশা করি দল ও চেয়ারপারসনের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন।
তিনি বলেন, ভোটাররা ভোট দিতে পারলে ধানের শীষের প্রার্থীই জয়লাভ করবে। আমাদের প্রার্থীকে জয়লাভ করাতে সব ধরনের প্রস্তুতিই নিয়েছি। কিন্তু ধানের শীষের জোয়ার দেখে সরকার ইতিমধ্যেই নির্বাচনের নীলনকশা আঁটছে। প্রশাসন, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে তারা বিএনপির জয় ছিনিয়ে নিতে পারে বলে আমাদের আশংকা রয়েছে।
সূত্র জানায়, দলের পাশাপাশি জোটের নেতাকর্মীদেরও ভোটের মাঠে নামানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জোটের শরিকদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে কিছু পৌরসভায় ছাড় দেয়া হতে পারে। জামায়াতের ব্যাপারে দ্রুতই সিদ্ধান্ত হবে। সর্বশেষ জামায়াত ৩৫টি পৌরসভায় মেয়র পদের তালিকা বিএনপির কাছে জমা দিয়েছে। জামায়াত যেসব পৌরসভায় প্রার্থী দিয়েছে তার একটি তালিকা সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দু’একদিনের মধ্যেই জামায়াতের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জোটের আরেক শরিক ইসলামী ঐক্যজোটকেও শেষ মুহূর্তে একটি পৌরসভায় ছাড় দেয়া হতে পারে।
জানা গেছে, প্রার্থী যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচারে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন। দু’একদিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামবেন তারা। নানা প্রতিকূলতার পরও নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ধানের শীষের প্রার্থীরা।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close