¦
বিদ্রোহীদের বশে আনতে দু’দলের নাভিশ্বাস

আবদুল্লাহ আল মামুন ও হাবিবুর রহমান খান | প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৫

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের বশে আনতে নাভিশ্বাস উঠেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির। আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন হলেও শনিবার রাত পর্যন্ত বেশ সক্রিয় ছিলেন দু’দলের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রায় অর্ধশত এবং বিএনপির ১৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দল দুটির সংশ্লিষ্ট সূত্র।    
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্র্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থী সবাইকে পুরোপুরি বাগে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের। প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে আজীবন বহিষ্কার করা হবে- কেন্দ্রের এমন হুশিয়ারির পরও শনিবার রাত পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন ৭৯ বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী। বিভিন্ন পৌরসভায় শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হয়। প্রায় ২০ জন কেন্দ্রের নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। বাকি অর্ধশত বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সংগঠন থেকে তাদের আজীবন বহিষ্কার করা হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই আজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।  
অন্যদিকে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ৪০টি পৌরসভায় বিএনপির অর্ধশত ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। বিদ্রোহীদের সঙ্গে যে কোনো উপায়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেন দলটির নেতারা। সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তারা। অনেক পৌরসভায় সমঝোতা হওয়ায় বিদ্রোহীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে আশাবাদী  দলের হাইকমান্ড। তবে কেন্দ্র এবং জেলা নেতারা বারবার বৈঠক করেও শনিবার রাত পর্যন্ত বেশকিছু বিদ্রোহীকে বাগে আনতে পারেননি। তারা নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫ পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেয় সূত্রটি।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলেও বহিষ্কার করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত আপাতত নেই দলটির। তবে দলের একটি অংশ বিদ্রোহীদের ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে চেয়ারপারসনকে পরামর্শ দিচ্ছেন। যদিও চেয়ারপারসন তৃণমূল নেতাদের বহিষ্কারের ব্যাপারে ততটা সিরিয়াস নন। কারণ, বহিষ্কার করেও এর সমাধান করা যাবে না। যেসব পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থীর অবস্থান ভালো তাদের শেষ মুহূর্তে দলের পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়ারও চিন্তাভাবনা রয়েছে দলের একটি অংশের।
সূত্র জানায়, বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমঝোতা করতে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তারা বিদ্রোহীদের সঙ্গে কথা বলেন। যেসব জায়গায় তারা ব্যর্থ হয়েছেন তা কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচনের যাবতীয় কর্যক্রম দেখভাল করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন। তাদের অভিযোগ শুনছেন। ভবিষ্যতে দল তাদের পাশে থাকবে- এমন আশ্বাস দেয়ার পর অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
জানতে চাইলে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করি আজ (রোববার) তারা দল ও চেয়ারপারসনের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন।
যুগান্তরের ব্যুরো অফিস, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে উল্লিখিত সব তথ্য। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির যেসব বিদ্রোহী প্রার্থী এখনও সক্রিয় আছেন, তাদের মধ্যে উল্লেযোগ্য প্রার্থীর নাম নিচে দেয়া হল-  
আওয়ামী লীগ : জানা গেছে, খুলনার চালনায় বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ সমর্থক বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. অচিন্ত কুমার মণ্ডল এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত সনত কুমার বিশ্বাস। সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আওয়ামী লীগের আমিনুল ইসলাম লাল্টু ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র আরাফাত হোসেন। বাগেরহাট সদরে আওয়ামী লীগ মনোনীত খান হাবিবুর রহমান এবং বিদ্রোহী মিনা হাসিবুল হাসান শিপন। মাগুরা সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খুরশিদ হায়দার টুটুল এবং বিদ্রোহী মো. মাহবুবুল আকবর কল্লোল। নড়াইল সদরে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস, বিদ্রোহী সর্দার আলমগীর হোসেন আলম, সোহরাব হোসেন বিশ্বাস ও আঞ্জুমান আরা। কালিয়ায় আওয়ামী লীগের মো. ওয়াহিদুজ্জামান হীরা, বিদ্রোহী শেখ লায়েক হোসেন, সোহেলী পারভীন নিরী, এমদাদুল হক টুলু ও মুসফিকুর রহমান লিটন।
গোপালগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন কাজী লিয়াকত আলী লেকু, বিদ্রোহী শেখ মুশফিকুর রহমান  লিটন। যশোর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত জহিরুল ইসলাম চাকলাদার এবং বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম কামরুজ্জামান চুন্নু। চৌগাছা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম সাইফুর রহমান বাবুল। মনিরামপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মাহামুদুল হাসান, বিদোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জিএম মজিদ। অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সুশান্ত কুমার দাস শান্ত, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র ফারুক হোসেন ও সর্দার ওলিয়ার রহমান।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আওয়ামী লীগের মো. নজরুল ইসলাম ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র ফয়সাল কাদের রুমী। শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের হালিমুল হক মিরু, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র আবদুর রহিম। বগুড়ার ধুনট পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আল আমিন তরফদার এবং বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এজিএম বাদশাহ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মঈন খান, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র কারিবুল হক রাজিন। পাবনা সদরে আওয়ামী লীগের রাকিব হাসান টিপু, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কামিল হোসেন। চাটমোহরে আওয়ামী লীগের সাখাওয়াত হোসেন, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মির্জা রেজাউল করিম দুলাল। ভাঙ্গুড়ায় আওয়ামী লীগের গোলাম হাসনাইন রাসেল, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র আজাদ খান। ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের খন্দকার কামরুজ্জামান মাজেদ, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র জাহাঙ্গীর আলম ও আসাদুজ্জামান মিয়া। সাথিয়ায় আওয়ামী লীগের মিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র নফিজ উদ্দিন। সুজানগরে আওয়ামী লীগের আবদুল ওহাব, বিদ্রোহী তোফাজ্জল হোসেন তোফা ও আফসার আলী।
টাঙ্গাইলের সখিপুর পৌরসভায় বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের আবু হানিফ আজাদ ও বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর তালুকদার। কালিহাতী পৌরসভায় বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের আনসার আলী (বিকম) এবং বিদ্রোহী হুমায়ুন খালিদ। ভুঞাপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মাসুদুল হক মাসুদ ও বিদ্রোহী প্রার্থী তারেকুল ইসলাম চঞ্চল। গোপালপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের রকিবুল হক সানা ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র বেলায়েত হোসেন। নীলফামারীর জলঢাকায় আওয়ামী লীগের আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুর ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জাপা থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদানকারী বর্তমান মেয়র ইলিয়াছ হোসেন বাবলু। লালমনিরহাট সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের রিয়াজুল ইসলাম রিন্ট, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র এসএম ওয়াহেদুল হাসান পারভেজ। পাটগ্রাম পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বর্তমান শমশের আলী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ওয়াজেদুল ইসলাম শাহিন। কুড়িগ্রাম সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবদুল জলিল ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র সাবেক মেয়র কাজিউল ইসলাম। উলিপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবদুল হামিদ ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র সাজেদুল ইসলাম। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র আবদুল আল আমিন ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী দেবাশীষ সাহা। গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আতাউর রহমান ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র খন্দকার মোহাম্মদ জাহাঙ্গির আলম এবং মোহাম্মদ মুকিতুর রহমান রাফি। ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের তহমিনা আকতার মোল্লা ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র সাবেক মেয়র এসএম সোলায়ামান আলী সরকার। দিনাজপুর ফুলবাড়ী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহজাহান আলী সরকার পুটু ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী খাজা মঈনুদ্দিন।
জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী খন্দকার হালিমুল আলম জন ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র সাজ্জাদুর রহমান কাজল। রাজশাহীর মুণ্ডুমালা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র গোলাম রাব্বানী, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আহসানুল হক স্বপন ও অধ্যাপক লুৎফর রহমান। পুঠিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী রবিউল ইসলাম রবি, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জিএম হীরা বাচ্চু ও আবদুল মালেক। দুর্গাপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের তোফাজ্জল হোসেন, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র হাসানুজ্জামান সান্টু। কাটাখালী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনীত আব্বাস আলী, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র আবু সামা, মনজুর রহমান, জহুরুল ইসলাম ও মোতাহার হোসেন। চারঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নার্গিস বেগম, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র গোলাম কিবরিয়া বিপ্লব। নওহাটা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত আবদুর রহমান খান, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র আফজাল হোসেন ও হাফিজুর রহমান হাফিজ। চুয়াডাঙ্গা সদরে আওয়ামী লীগের রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র ওবায়দুর রহমান জীপু। জীবননগর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মুন্সী নাছিরউদ্দিন, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র জাহাঙ্গীর আলম।
ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন রিপন। ফুলপুরে আওয়ামী লীগের শশধর সেন ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র সাবেক মেয়র শাহজাহান আলী। গৌরীপুরে আওয়ামী লীগের সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র শফিকুল ইসলাম ছবি ও আবু কাউসার চৌধুরী। ত্রিশালে আওয়ামী লীগের জায়দুল ইসলাম এবং বিদ্রোহী স্বতন্ত্র এবিএম আনিসুজ্জামান এবং মুক্তাগাছায় আওয়ামী লীগের অবদুল হাই আকন্দ ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র দেবাশীষ ঘোষ বাপ্পী। মানিকগঞ্জ সদরে আওয়ামী লীগের রমজান আলী, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র গাজী কামরুল হুদা সেলিম।
হবিগঞ্জ সদরে আওয়ামী লীগের আতাউর রহমান সেলিম, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মিজানুর রহমান মিজান। শায়েস্তাগঞ্জে আওয়ামী লীগের ছালেক মিয়া, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র আতাউর রহমান মাসুম। মৌলভীবাজার বড়লেখায় আওয়ামী লীগের আবুল ইমাম কামরান চৌধুরী, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র আবদুল নূর। কুষ্টিয়ার খোকসায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র আল মাসুম মোর্শেদ শান্ত ও আলাউদ্দিন পিন্টু।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহনেয়াজ শাহান শাহ, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র শেখ নুরুন্নবী অপু। ফরিদপুর নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের রায়হান উদ্দিন মিয়া, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মুরাদ হোসেন বিকুল। চাঁদপুর কচুয়ায় আওয়ামী লীগের নাজমুল করিম স্বপন, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র ইকবাল আজিজ শাহীন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের তাকজিল খালিফা, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র শেখ বোরহানউদ্দিন আহমেদ। ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী তছলিম উদ্দীন চৌধুরী, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র কেএম মাছুদ, মো. মাসুম হোসেন ও আবু সাঈদ মোস্তফা কামাল। রাঙ্গামাটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আকবর হোসেন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র বিদ্রোহী হাবিবুর রহমান এবং তপন কুমার দে।
বিএনপি : জানা গেছে, রাজশাহী জেলায় ১১টি পৌরসভায় বিএনপির ১৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। কাকনহাট ও কেশরহাটে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। ১৩ বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে কাটাখালীতে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, তানোরে ফিরোজ সরকার ও আড়ানীতে নজরুল ইসলাম তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। বাকি পৌরসভায় দু’একজন বাদে সবাই আজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে আতাউর রহমানকে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। সদরের বর্তমান মেয়র আবদুল মতিন ও  শাহনেওয়াজ খান বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন। শাহনেওয়াজের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। মতিন নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার কারণেই তিনি নির্বাচনের মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নাটোরের গুরুদাসপুরে মো. মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন, গোপালপুরে নজরুল ইসলাম মুলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে বর্তমান মেয়র মঞ্জুরুল ইসলাম বিমল। বিমল নির্বাচন করবেন বলে এখনও অনড়। জয়পুরহাটের কালাইয়ে সাজ্জাদুর রহমানের বিরুদ্ধে পৌর বিএনপির সহসভাপতি আনিসুর রহমান তালুকদার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। আলমগীর হোসেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করার ঘোষণা দিয়েছেন।
বগুড়ার শিবগঞ্জে মতিয়ার রহমানের বিপক্ষে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম ও নন্দীগ্রামে একেএম ফজলুল হক কাশেম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন। তবে দু’জনের সঙ্গেই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কথা বলেন। আজকের মধ্যে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। পাবনা সদরে নূর মোহাম্মদের বিপক্ষে বর্তমান মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তিনি নির্বাচন করবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া চাটমোহরে প্রফেসর আবদুল মান্নান বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকার ঘোষণা দেন।
রংপুর বিভাগে ১৮টি পৌরসভার মধ্যে একটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। ঠাকুরগাঁও সদরে মির্জা ফয়সাল আমিনের বিপক্ষে চৌধুরী মোহাম্মদ গোলাম সরোয়ার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তবে আজ তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেন।
খুলনা বিভাগে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, মাগুরা ও নড়াইল জেলায় বিএনপির কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। যশোরের অভয়নগরের নোয়াপাড়া মশিয়ার রহমান রবিউল হোসেনের বিপক্ষে জেলা বিএনপির সদস্য মশিয়ার রহমান, বাঘারপাড়ায় আবদুল হাইয়ের বিপক্ষে আবু তাহের সিদ্দিকী। কুষ্টিয়া সদরে কুতুব উদ্দিন আহমদের বিপক্ষে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বশিরুল আলম ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামীম উল হাসান, মিরপুরে আবদুল আজিজ খানের বিরুদ্ধে উপজেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম ফারুক চৌধুরী, তার স্ত্রী নাসরিন ফেরদৌস ও ওয়ার্ড সভাপতি মিজানুর রহমান, ভেড়ামারায় জোট প্রার্থী (জাতীয় পার্টি, কাজী জাফর) মহিউদ্দিন বানাতের বিপক্ষে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ও যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম রেজা, খোকসায় রাজু আহমদের বিপক্ষে আনিসুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা সদরে খন্দকার আবদুল জব্বারের বিরুদ্ধে জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুল হক মানিক, দর্শনায় মহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাহারুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে নানা মাধ্যমে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করি, আজকের মধ্যে সবাই প্রত্যাহার করে নেবেন।
সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বিএনপির কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। হবিগঞ্জ সদরে জি কে গউছের বিরুদ্ধে পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুর রশীদ ও জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এম ইসলাম তরফদার ও শায়েস্তগঞ্জে হাজী আবদুল মজিদ বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে জেলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতারাও দফায় দফায় বৈঠক করছেন। জেলা বিএনপির এক নেতা জানান, শেষ পর্যন্ত তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেন।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব ও হাসিন আফরোজ চৌধুরী বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের একজনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার সম্ভাবনা থাকলেও অন্যজন শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। বড়লেখায় বিদ্রোহী প্রার্থী মতিউর রহমানের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকা বিভাগে টাঙ্গাইল জেলার আট পৌরসভার মধ্যে সদরে মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে জাফর আহমেদ, ভূয়াপুরে আবদুল খালেক মণ্ডলের বিপক্ষে জাহাঙ্গীর হোসেন, এছাড়া কালিহাতিতে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন আবদুল জব্বার। গোপালপুরেও বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। তবে কালিহাতি ছাড়া সব পৌরসভায় বিদ্রোহীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে জানা গেছে। ময়মনসিংহের ৯টি পৌরসভার মধ্যে ফুলবাড়ীয়ায় বিএনপির মো. চান মাহমুদ ও ভালুকায় মফিজউদ্দিন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন। মুক্তাগাছায় বিদ্রোহী প্রার্থী তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। বাকি দুই পৌরসভায়ও আজকের মধ্যে বিদ্রোহীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভার আটটিতেই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। রাঙ্গুনিয়ায় হেলালউদ্দিনের বিরুদ্ধে নুরুল আমিন তালুকদার ও পটিয়ায় দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল আলমের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা ইবরাাহীম সওদাগর বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে আজকের মধ্যে দু’জনই তাদের প্রার্র্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আসলাম চৌধুরী যুগান্তরকে জানান।
রাঙামাটিতে বিএনপির সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রবিউল আলম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। নানা চেষ্টা করেও নির্বাচন থেকে তাকে সরানো যায়নি। যুগান্তরকে রবিউল আলম বলেন, তাকে মেরে ফেলা ছাড়া নির্বাচন থেকে সরানো সম্ভব হবে না। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরেই বিএনপির প্রার্থী পৌর সভাপতি বর্তমান মেয়র এবিএম জিলানী, বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলাম লিটন। তিনি আজ তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন বলে যুগান্তরকে জানান।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close