¦
ভোটযুদ্ধে উৎসবের আমেজ

আবদুল্লাহ আল মামুন | প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫

উৎসবের আমেজে সারা দেশে শুরু হয়েছে পৌর নির্বাচনে ভোটের লড়াই। সোমবার ছিল প্রতীক বরাদ্দের নির্ধারিত দিন। এদিন প্রতীকসহ নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্র্থীরা। এর মধ্যদিয়েই শুরু হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ভোটযুদ্ধের মূলপর্ব। গত পাঁচদিন প্রার্থীরা প্রতীক ছাড়াই গণসংযোগ করে তাদের প্রচার চালিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় দলীয় প্রার্র্থী প্রতীক নিয়ে প্রচার চালাতে পারেননি।
স্থানীয় সরকারের এ পৌরসভা নির্বাচনে সৃষ্টি হয়েছে নতুন আমেজের। কারণ সাত বছর পর কোনো নির্বাচনে নৌকা ও ধানের শীষ সরাসরি ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছে। এবারই প্রথম দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচন। এতে দলীয় প্রতীকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ২০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ের ভোট হলেও এ নির্বাচন নিয়ে দুই প্রধান দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপির নেতাকর্মীরা আবার রাজপথে নেমেছেন। প্রধান দুই প্রতিপক্ষের সহাবস্থানে এখন পর্যন্ত সারা দেশে কোথাও বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ আসেনি। বরং শুধুমাত্র দলীয় প্রতীকের জন্যই ২৩৪ পৌরসভায় বইছে জাতীয় নির্বাচনের আমেজ।
সোমবার প্রতীক বরাদ্দের পর মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী এবং তাদের কর্মী ও সমর্থকদের পদচারণায় উৎসবের পালে হাওয়া লেগেছে। অনুকূল পরিবেশে নির্বিঘ্নে ছুটে চলেছে পৌরসভা নির্বাচনের তরী। ভোটগ্রহণের ২১ আগ থেকে নির্বাচনী প্রচারণার বিধান থাকায় ৯ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক ছাড়া প্রচার শুরু করেন প্রার্থীরা। অবশ্য ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে লড়াইয়ের মাঠ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন ৬ মেয়র প্রার্থী। তারা প্রত্যেকেই শাসক দল আওয়ামী লীগ মনোনীত।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঐতিহাসিক এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে সরকার ও নির্বাচন কমিশন সতর্ক। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধ পরিকর। অন্যদিকে নিজেদের পক্ষে জনমত আনতে মরিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী রাজনৈতিক দল বিএনপি। ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা বিএনপি এবার বেশ সতর্ক। সহজে হাল না ছাড়ার পক্ষে দলটির নেতাকর্মীরা। আর শাসক দল আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে কলঙ্কমোচনে মরিয়া। দুই দলই কোমর বেঁধে নেমেছে। তাদের লক্ষ্য ২৩৪ পৌরসভায় মেয়র পদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন।
এ নির্বাচনের শুরুতে আওয়ামী লীগের ২৩৪ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন। ৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এখন ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন ২২৮ জন। অন্যদিকে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন ২২০ জন মেয়র প্রার্থী। জাপার মেয়র প্রার্থী রয়েছেন ৭৩, জাসদের ২০, এনপিপি ১৭, ইসলামী আন্দোলন ৫৬ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থী রয়েছেন আরও ৩২ জন। স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর মোট সংখ্যা ২৭১। তবে ৭৬ পৌরসভায় শুধু রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীরা লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন, এসব পৌরসভায় কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই।
যুগান্তরের ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের পৌর এলাকায় মানুষ আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠেছে। প্রার্থীরা ভোর থেকে গভীর রাত অবধি গণসংযোগ করছেন। পথেঘাটে, হাটবাজারে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি কোলাকুলি করে সমর্থন ও সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন। চা-মিষ্টির দোকানগুলোতে চলছে রমরমা বেচাকেনা। সব প্রার্থীই তার অনুসারি, সমর্থক ও ভোটারদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা রেখেছেন। এখন পান, সিগারেটের দোকানগুলোর প্রধান আলোচনার বিষয় পৌর নির্বাচন। কোন প্রার্থী কেমন, প্রচারে কে কি কৌশল নিচ্ছেন, তারা কাদের সমর্থন পাচ্ছেন অথবা পাচ্ছেন না- সে আলোচনায় কেটে যাচ্ছে ভোটের দিনরাত।
নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন বাতিল করায় স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর মেয়র প্রার্থীরা দলীয় পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। তারা মিশে গেছেন স্বতন্ত্রদের দলে। সেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহীরাও রয়েছেন। জানা গেছে, স্বতন্ত্র পরিচয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী রয়েছেন কমপক্ষে অর্ধশতাধিক পৌরসভায়। এ সংখ্যা বিএনপিতে প্রায় ৩০ এর কাছাকাছি। এসব পৌরসভায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের প্রধান প্রতিপক্ষ তাদের নিজ দলের বিদ্রোহীরা। দুই দলের হাইকমান্ডের হুমকি-ধমকিতে দমেননি তারা।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছাড়াও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি, জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, সরকারের শরিক জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় পার্টি জেপি (মঞ্জু), বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এনপিপি, পিডিপি, খেলাফত মজলিশ, এলডিপি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), তরিকত ফেডারেশন, জাকের পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সরকার সমর্থক ১৪ দল এবং বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট বিদ্যমান থাকলেও দলীয় প্রতীকের প্রথম এ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা পৃথকভাবে লড়ছে। অর্থাৎ জোটে আছে, ভোটে নয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, পৌরসভায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাচ্ছে আচরণবিধি লংঘনের ঘটনা। এরই মধ্যে তিন সরকারদলীয় সংসদ সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। আচরণবিধি লংঘনের বিষয়টি দেখভালে প্রতিটি পৌরসভায় একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নেমেছেন। তারা আচরণবিধি লংঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। আচরণবিধি লংঘনের জন্য ৬ মাস পর্যন্ত জেল-জরিমানা করতে পারবেন এ মোবাইল কোর্ট।
সর্বশেষ ড. ফখরুদ্দিন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শেষবারের মতো নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের ভোটযুদ্ধ হয়েছিল। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close