¦
১৫০টিতে নৌকা-ধানের শীষের দ্বিমুখী লড়াই

আলাউদ্দিন আরিফ, হাবিবুর রহমান খান ও নজরুল ইসলাম | প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫

দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর আবারও নৌকা ও ধানের শীষের লড়াই শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ২৩৪টি পৌরসভা নির্বাচনে ২০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। তবে অধিকাংশ পৌরসভায় মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যেই মূল লড়াই হচ্ছে। নৌকা-ধানের শীষের পাশাপাশি লাঙ্গল, মশাল, কাস্তে, হাতুড়ি, হাতপাখা, আম, দেয়ালঘড়ি আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চামচ, মগ, মোবাইল ফোন, নারিকেল গাছ প্রতীক শোভা পাচ্ছে গ্রামগঞ্জের অলিগলিতে। পৌষের হিমেল হাওয়ায় গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন আবালবৃদ্ধবনিতারা। চলছে প্রার্থীদের ভালো-মন্দের পোস্টমর্টেম। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কিনা এমন আশংকাও করছেন তাদের অনেকে।
প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন অনেকটা রূপ নিয়েছে জাতীয় নির্বাচনে। প্রার্থীর চেয়ে প্রতীকই হয়ে উঠেছে মুখ্য। তাই দুই দলেই তাদের লড়াইয়ে মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে দলীয় প্রতীক। অনেক পৌরসভায় দুর্বল প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হলেও প্রতীককে পুঁজি করে জয়ের স্বপ্ন দেখছে দলগুলোর হাইকমান্ডও।
নির্বাচন কমিশনের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে ৯২৩ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের ৬ জন মেয়র প্রার্থী জয়ী হওয়ায় সারা দেশে আওয়ামী লীগের ২২৮ জন, ১০ পৌরসভায় প্রার্থী না থাকায় বিএনপির ২২২ জন, জাতীয় পার্টি ৭৩, স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী এবং জামায়াতসহ) ২৭১ এবং অন্যান্য ১২৫ জন মেয়র প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে আছেন।
যুগান্তরের ব্যুরো ও জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, প্রায় ১৫০টি পৌরসভায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যেই। আর প্রায় ৫০টি পৌরসভায় বড় দুই দলের প্রতীকের সঙ্গে লাঙ্গল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে। এছাড়া ২৫ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে তাদের দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্বতন্ত্র (জামায়াতসহ) প্রার্থীর মধ্যে হবে চতুর্মুখী লড়াই। তবে চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির পাশাপাশি জেএসএস প্রার্থীর লড়াই হতে পারে। এছাড়া বেশ কয়েকটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মূল প্রার্থীর সঙ্গে দুই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিচে সারা দেশের পৌরসভাগুলোর প্রার্থীদের প্রাথমিক অবস্থানের একটি চিত্র তুলে ধরা হল-
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : জেলার শিবগঞ্জ পৌরসভায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন সেখানকার ভোটাররা। তবে ব্যতিক্রম হচ্ছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কাবিরুল হক রাজিনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। রাজিন ২০১১ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শামীম কবির হেলিমের কাছে অল্প ভোটে হেরেছিলেন। শিবগঞ্জে জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী জাফর আলীও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত মঈন খানের সঙ্গে দলের নেতাকর্মীরা না থাকায় ব্যক্তিগত সমর্থকদের নিয়েই ভোটের মাঠে নেমেছেন। বিএনপির শফিকুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা এখনও তার পক্ষে জোরালোভাবে মাঠে নামেনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সামিউল হক লিটনের সঙ্গে বিএনপির আতাউর রহমান এবং জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলামের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। রহনপুরে আওয়ামী লীগের গোলাম রব্বানী বিশ্বাস ও বিএনপির তারিক আহমদের মধ্যে দ্বিমুখী এবং নাচোল পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবদুর রশিদ কান ঝালু ও বিএনপির মো. কামরুজ্জামান ও জামায়াতের রফিকুল ইসলামের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
রাজশাহী : জেলার তানোর পৌরসভার আওয়ামী লীগের ইমরুল হক ও বিএনপির মিজানুর রহমানের ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ফিরোজ সরকারও তানোরে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।
কাটাখালী পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, জামায়াত সমর্থিত মাজিদুর রহমান ও আওয়ামী লীগের আব্বাস আলীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
আড়ানীতে আওয়ামী লীগের মুক্তার হোসেন, বিএনপির তোজাম্মেল হক ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলামের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা।
তাহেরপুরে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদেও সঙ্গে বিএনপির শামসুর রহমান মিন্টু প্রতীকের দ্বিমুখী লড়াই হবে।
কেশরহাটে আওয়ামী লীগের শহীদুজ্জামান শহীদের সঙ্গে বিএনপির আলাউদ্দিন আলোর দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
কাকনহাটে আওয়ামী লীগের আবদুল মজিদ মাস্টারের সঙ্গে বিএনপির হাফিজুর রহমানের দ্বিমুখী লড়াই হবে।
মুন্ডুমালায় আওয়ামী লীগের গোলাম রাব্বানীর প্রতীকের সঙ্গে বিএনপির ফিরোজ কবীরের ধানের শীষের দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ভবানীগঞ্জে বিএনপির আবদুর রাজ্জাকের ধানের শীষের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আবদুল মালেকের নৌকার দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
বগুড়া : ধুনট পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে দল থেকে পদত্যাগকারী বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাহালু পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা জহুরুল ইসলাম বাদশার সঙ্গে। সারিয়াকান্দি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর শাহী সুমনের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী খোরশেদ আলম ও জালাল উদ্দিনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
বগুড়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী তিনজন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু ও বিএনপি সমর্থিত বর্তমান মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমানের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
গাবতলী পৌরসভায় চার প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি মনোনীত বর্তমান মেয়র সাইফুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের মোমিনুল হক শিলুর মধ্যে মূল লড়াই হবে।
ধুনট পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী তিনজনের মধ্যে আওয়ামী লীগের শরিফুল ইসলাম খান, বিএনপির আলীমুদ্দিন হারুন মণ্ডল এবং স্বতন্ত্র বর্তমান মেয়র এজিএম বাদশাহর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
শেরপুর পৌরসভা মেয়র প্রার্থী চারজনের মধ্যে আওয়ামী লীগের আবদুস সাত্তার ও বিএনপির বর্তমান মেয়র স্বাধীন কুমার কুণ্ডুর মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
কাহালু পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী তিনজনের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান মেয়র হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, বিএনপির আবদুল মান্নান ওরফে ভাটা মান্নান এবং স্বতন্ত্র জামায়াত নেতা জহুরুল ইসলাম বাদশার মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
শিবগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী তিনজনের মধ্যে আওয়ামী লীগের তৌহিদুর রহমান মানিক ও বিএনপির বর্তমান মেয়র মতিয়ার রহমান মতিনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
সান্তাহার পৌরসভায় আওয়ামী লীগের রাশেদুল হক রাজা ও বিএনপির তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টোর মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
নন্দীগ্রাম পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম পিংকু, বিএনপির বর্তমান মেয়র সুশান্ত কুমার শান্তর মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
সারিয়াকান্দি পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থী বর্তমান মেয়র টিপু সুলতানের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তিনি আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি। এখানে আওয়ামী লীগের আলমগীর শাহী সুমন, স্বতন্ত্র খন্দকার খোরশেদ আলম ও স্বতন্ত্র জালাল উদ্দিন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী এখানে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলে ভোটাররা জানিয়েছেন।
নাটোর : জেলার গোপালপুর পৌরসভার গত দুবারের মেয়র মঞ্জুরুল ইসলাম বিমল বিএনপির বিদ্রোহী হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করছেন। বিমল এবারও গোপালপুর পৌর নির্বাচনে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী। তার সমর্থকরা জানিয়েছেন, বিমল মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত রুখসানা মর্তুজা ও বিএনপি মনোনীত নজরুল ইসলাম মোলামও প্রতীকের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন। গোপালপুরে তাদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে মনে করছেন এখানকার ভোটাররা।
নাটোর সদরে আওয়ামী লীগের উমা চৌধুরী জলি সঙ্গে বিএনপির এমদাদুল হকের দ্বিমুখী লড়াই হবে।
নলডাঙ্গায় আওয়ামী লীগের শফির উদ্দিন মণ্ডল ও বিএনপির আব্বাস আলী নান্নু, গোপালপুরে আওয়ামী লীগের রুকসানা মুর্তজা লিলি ও বিএনপির বিদ্রোহী মঞ্জুরুল ইসলাম বিমল, গুরুদাসপুরে আওয়ামী লীগের শাহ নেওয়াজ মোল্লা ও বিএনপির মশিউর রহমান বাবলু ও বিএনপির বিদ্রোহী মো. আমজাদ হোসেনের মধ্যে মূল লড়াই হবে।
সিংড়ায় আওয়ামী লীগের জান্নাতুল ফেরদৌস ও বিএনপির শামীম আল রাজি সেহানুর রহমান ও বিদ্রোহী আবদুল মালেক রানা এবং বড়াইগ্রাম পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবদুল বারেক ও বিএনপির ইসহাক আলী এবং বিদ্রোহী শরিফুল হক মুক্তার মধ্যে লড়াই হবে।
পাবনা : জেলা সদর পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুল হাসান স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন। কামরুলের সমর্থকরা দাবি করেছেন বিএনপি পাবনায় দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে ভুল করেছে। প্রতীক পাওয়ার পর কামরুল হাসান পাবনা শহরে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিশাল শোডাউন করেছেন। এই পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত নুর মাসুম বগা ও আওয়ামী লীগের রকিব হাসান টিপু শক্তিশালী প্রার্থী। ফলে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।
পাবনার সুজানগরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আজম বিশ্বাস ও আওয়ামী লীগের আবদুল ওয়াহাবের সঙ্গে বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন তোফাও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
চাটমোহরে বিএনপির আবদুল মান্নান ও আওয়ামী লীগের সাখাওয়াত হোসেন সাখোর সঙ্গে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুর রহিমও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবেন বলে জানা গেছে।
পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের গোলাম হাসনাইন রাসেলের পাশাপাশি বিএনপির মজিবুর রহমানও শক্ত প্রার্থী।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দ্বিমুখী লড়াই হবে। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলামের, বারৈয়ারহাটে আ’লীগের নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে বিএনপির মঈন উদ্দিন লিটনের, সন্দ্বীপে বিএনপির আজমত উল্লাহ বাহাদুরের সঙ্গে আ’লীগের জাফরুল্লাহর, রাউজানে বর্তমান মেয়র বিএনপির কাজী আবদুল্লাহ আল হাসানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেবাশীষ পালিতের, রাঙ্গুনিয়ায় আ’লীগের মো. শাহজাহান শিকদারের সঙ্গে বিএনপির মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন খানের, বাঁশখালীতে বিএনপির মো. কামরুল ইসলাম হোসাইনীর সঙ্গে আ’লীগের সেলিমুল হক চৌধুরীর লড়াই হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া পটিয়ার প্রথম পৌর মেয়র দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শামসুল আলম মাস্টার শক্তিশালী প্রার্থী বলে জানা গেছে। পটিয়া পৌরসভায় আ’লীগের দলীয় প্রার্থী বর্তমান মেয়র হারুনর রশিদ এবং বিএনপির প্রার্থী তৌহিদুল আলম। সীতাকুণ্ডে জাতীয় পার্টি, আ’লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। এ পৌরসভায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুন নবী ভূঁইয়া, আ’লীগের বদিউল আলম এবং বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ আবুল মনসুর। সাতকানিয়া ত্রিমুখী লড়াইয়ে রয়েছেন জাতীয় পার্টির মো. ইউসুফ চৌধুরী, আ’লীগের মো. জোবায়ের এবং বিএনপির রফিকুল আলম।
অপরদিকে চন্দনাইশে বর্তমান মেয়র এলডিপির মোহাম্মদ আইয়ুবের সঙ্গে আ’লীগের মাহবুবুল আলমের দ্বিমুখী লড়াই হবে।
রাঙ্গামাটি : নির্বাচন ঘিরে মেয়র পদ নিয়ে ক্রমে মূল লড়াই রূপ নিচ্ছে ত্রিমুখী আওয়ামী লীগের আকর হোসেন চৌধুরী, বিএনপির সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো ও জেএসএস সমর্থিত প্রার্থী ডা. গঙ্গা মানিক চাকমার মধ্যে। তবে শক্ত অবস্থানে এগিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বিদ্রোহীরাও। শক্ত অবস্থান নিয়ে মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীও। এবার মেয়র প্রার্থীর সবার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা বেশি। ফলে উনিশ-বিশ স্বল্প ভোটের ব্যবধানে এবার নির্বাচনে রাঙ্গামাটি পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হবেন বলে সম্ভাবনা রয়েছে। এ পৌরসভার ভোটের হালচাল ও ভোটারদের হিসাব-নিকাশে এমন চিত্রই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জেলায় জাতীয় পার্টির ডা. শিব প্রসাদ মিশ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব ও অমর কুমার দে এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রবিউল আলম রবি।
সিলেট জেলা : জেলার গোলাপগঞ্জে ৭ জন মেয়র প্রার্থী থাকলেও লড়াই হবে বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাকারিয়া আহমদ পাপলু, বিএনপি মনোনীত গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর রহমান লিপনের মধ্যে।
জকিগঞ্জ পৌরসভায় ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে লড়াইয়ে আছেন বর্তমান মেয়র জাতীয় পার্টি সমর্থিত আবদুল মালেক ফারুক, আওয়ামী লীগের খলিল উদ্দিন ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। কানাইঘাট পৌরসভায় ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ সমর্থিত লুৎফুর রহমান ও গত নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমানে জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম ওলিউল্লাহর মধ্যে।
মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজার পৌরসভায় মেয়র পদে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও লড়াই হবে আওয়ামী লীগের মো. ফজলুর রহমান ও বিএনপির ওলিউর রহমানের মধ্যে।
বড়লেখা পৌরসভায় মেয়র পদে ৫ প্রার্থীর মধ্যে লড়াই আছে আওয়ামী লীগের আবুল ইমাম কামরান চৌধুরী ও বিএনপির আনোয়ারুল ইসলামের মধ্যে।
কুলাউড়া পৌরসভায় মেয়র পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও লড়াই হবে বর্তমান মেয়র ও বিএনপির কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ ও আওয়ামী লীগের সফি আহমদ সলমানের মধ্যে।
কমলগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে ৭ প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বর্তমান মেয়র বিএনপি মনোনীত আবু ইব্রাহীম জমশেদ ও আওয়ামী লীগ মনোনীত জুয়েল আহমদের সঙ্গে।
হবিগঞ্জ : জেলা সদর পৌরসভায় মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে কারাবন্দি সাময়িক বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মেয়র জিকে গউছ, আওয়ামী লীগের আতাউর রহমান সেলিম ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজানের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
শায়েস্তাগঞ্জে পৌরসভায় মেয়র পদে ৭ প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ে আছেন বর্তমান মেয়র ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরিদ আহমেদ অলি, আওয়ামী লীগের ছালেক মিয়া ও বিএনপির বিদ্রোহী আবদুল মজিদ।
নবীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে ৫ জন থাকলেও ত্রিমুখী লড়াইয়ে আছেন বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ মনোনীত অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম, বিএনপির ছাবির আহমেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম রানা।
চুনারুঘাট পৌরসভায় মেয়র পদে ভোটযুদ্ধে আছেন বর্তমান মেয়র ও বিএনপি সমর্থিত নাজিম উদ্দিন সামছু ও আওয়ামী লীগের সাইফুল ইসলাম রুবেল।
মাধবপুর পৌরসভায় মেয়র পদে লড়ছেন বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের প্রার্থী হীরেন্দ্র দত্ত ও বিএনপির হাবিবুর রহমান মানিক।
সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ সদর পৌরসভায় মেয়র পদে ৩ জন প্রার্থীই লড়াইয়ে আছেন। ত্রিমুখী লড়াইয়ে নেমেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান মেয়র আয়ূব বখত জগলুল, বিএনপির শেরগুল আহমেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন।
ছাতক পৌরসভায় মেয়র পদে ৩ জনই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। তারা হচ্ছেন বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের আবুল কালাম চৌধুরী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সাবেক মেয়র আবদুল ওয়াহিদ মজনু ও বিএনপির শামছুর রহমান শামছু।
জগন্নাথপুর পৌরসভায় মেয়র পদে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও লড়াই হবে সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাজী আবদুল মনাফ ও বিএনপির রাজু আহমেদের মধ্যে।
দিরাই পৌরসভায় মেয়র পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আওয়ামী লীগের মোশারফ মিয়া ও বিএনপির মঈনুদ্দিন চৌধুরী মাসুকের মধ্যে লড়াই হবে।
যশোর : সদর পৌরসভায় মেয়র পদে লড়ছেন প্রার্থী ৪ জন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত জহিরুল ইসলাম চাকলাদার ও বিএনপি মনোনীত বর্তমান মেয়র মারুফুল ইসলাম মূল লড়াইয়ে রয়েছেন। চৌগাছা পৌরসভায়ও মেয়র পদে মাঠে রয়েছেন ৪ জন প্রার্থী। এখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল নৌকা, বিএনপি মনোনীত সেলিম রেজা আওলিয়ার ধানের শীষ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এসএম সাইফুর রহমান বাবুনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। এছাড়া জামায়াত নেতা মাস্টার কামাল আহমেদও শক্ত অবস্থানে আছেন।
বাঘারপাড়ায় পৌরসভায় মেয়র পদে লড়ছেন ৪ জন প্রার্থী। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের কামরুজ্জামান বাচ্চু ও বিএনপির আবদুল হাই মনা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন। তবে বিএনপির বিদ্রোহী আবু তাহের সিদ্দিকী জয়-পরাজয়ে ফ্যাক্টর হতে পারেন।
মনিরামপুর পৌরসভায় মেয়র পদে টিকে রয়েছেন ৩ জন প্রার্থী। এখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত মাহামুদুল হাসান ও বিএনপি মনোনীত শহীদ ইকবাল হোসেনের মধ্যে মূল লড়াই হবে।
অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌরসভায়ও মেয়র পদে লড়ছেন ৩ জন প্রার্থী। এখানে আওয়ামী লীগের সুশান্ত কুমার দাস শান্ত, বিএনপির রবিউল হোসেন ও স্বতন্ত্র হিসেবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক হোসেনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
কেশবপুরে পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম নৌকা ও বিএনপির প্রার্থী আবদুস সামাদ বিশ্বাস ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুর। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবদুল জব্বার সোনা ভাইও শক্ত অবস্থানে আছেন। ফলে এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
আলমডাঙ্গা পৌরসভার বর্তমান মেয়র মীর মহিউদ্দিনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হাসান কাদির গনুর নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটারদের ধারণা।
দর্শনা পৌরসভার বর্তমান মেয়র বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মহিদুল ইসলামের ধানের শীষের লড়াই হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মতিয়ার রহমানের নৌকার সঙ্গে।
জীবননগর পৌরসভায়ও বর্তমান মেয়র নওয়াব আলীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের মুন্সি নাসির উদ্দিনের তুমুল প্রতিযোগিতা হবে।
খুলনা : খুলনার চালনা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত সনত কুমার বিশ্বাস ও বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ড. অচিন্ত কুমার মণ্ডলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। এখানে বিএনপির প্রার্থী শেখ আবদুল মান্নান আওয়ামী লীগের কোন্দলের সুযোগে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন।
বাগেরহাট : আওয়ামী লীগ মনোনীত খান হাবিবুর রহমান ও বিএনপি মনোনীত মো. আবুল কালাম হাই ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিনা হাসিবুল হাসান শিপনের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
মোরেলগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক তালুকদার ও বিএনপি মনোনীত আবদুল মজিদ জব্বারের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
নড়াইল : নড়াইল সদরে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস ও বিএনপির জুলফিকার আলী মণ্ডলের মধ্যে লড়াই হবে। তবে এখানে আওয়ামী লীগের সরদার আলমগীর হোসেন আলম ও সোহরাব হোসেন বিশ্বাস বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় আছেন। ফলে বাড়তি সুবিধা পাবেন বিএনপি প্রার্থী।
কালিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. ওয়াহিদুজ্জামান হীরা, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বর্তমান মেয়র এমদাদুল হক টুলু ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুসফিকুর রহমান লিটনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। লিটন স্থানীয় সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তির আশীর্বাদপুষ্ট। তবে, দলীয় সমর্থন পাওয়ার কারণে হীরার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এখানে আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থী থাকায় বিএনপির স ম ওয়াহিদুজ্জামান খান মিলু সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছেন।
কুষ্টিয়া : জেলার ভেড়ামারা পৌরসভার বর্তমান মেয়র শামীমুল ইসলাম ছানা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের সাবেক এপিএস অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম রানার ছোট ভাই। অন্যদিকে এখানে জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন আওয়ামী লীগের শরিক জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলম স্বপনও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি তার জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহিউদ্দিন বানাতকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে। ধানের শীষ প্রতীক পাওয়ায় বানাত বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
মিরপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের হাজী এনামুল হকের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন আতাহার আলী চেয়ারম্যান। এখানে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন আনসার আলী। এখানে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
কুমারখালীতে আওয়ামী লীগের সামসুজ্জামান অরুণের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন জাকারিয়া খান জেমস। বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলামের সঙ্গে অরুণের দ্বিমুখী লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
খোকসা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক তরিকুল ইসলামের সঙ্গে বিএনপির রাজু আহমেদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মেহেরপুর : গাংনী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আহাম্মদ আলীর সঙ্গে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম ভেন্ডারের মধ্যে ভোটযুদ্ধ হবে। বিএনপি প্রার্থী ইনসারুল হক মঞ্জুও আছেন শক্ত অবস্থানে।
রংপুর : জেলার বদরগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র উত্তম কুমার সাহা ও বিএনপির পরিতোষ চক্রবর্তীর মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। জাপা’র লতিফুল খবির ও স্বতন্ত্র অধ্যাপক আজিজুল ইসলামও ভালো অবস্থানে আছেন।
নীলফামারী : জেলার জলঢাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুর ও বিএনপির তাহমিদ ফয়সাল কমেট চৌধুরী, স্বতন্ত্র জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে হাজী মকবুল হোসেনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। সদ্য জাপা থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী বর্তমান মেয়র ইলিয়াছ হোসেন বাবলুও শক্ত অবস্থানে আছেন। জামায়াত এই পৌরসভার নির্বাচনকে তাদের শক্তির লড়াই হিসেবে দেখাতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে।
সৈয়দপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন খোকন ও বিএনপির আমজাদ হোসেন ভজের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এখানে আমজাদ হোসেন ভজে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
লালমনিরহাট : জেলা সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু আওয়ামী লীগের নেতা বিদোহী প্রার্থী এসএম ওয়াহেদুল হাসান সেনা ও বিএনপির আবদুল হালিমের মধে ত্রিমুখী লড়াই হবে। ওয়াহেদুল হাসান সেনা শক্ত অবস্থানে থাকায় বিপাকে আছেন আওয়ামী লীগের রিন্টু।
পাটগ্রামে আওয়ামী লীগের শমশের আলী, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ওয়াজেদুল ইসলাম শাহিন ও বিএনপির মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল ও জাতীয় পার্টির আবদুল হামিদ বেঞ্জের মধ্যে চতুর্মুখী লড়াই হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে যে কেউ নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন বলে ভোটাররা জানিয়েছেন।
কুড়িগ্রাম : জেলা সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আবদুল জলিল ও বিএনপির প্রার্থী বর্তমান মেয়র নুর ইসলাম নুরুর মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
উলিপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র আবদুল হামিদ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সাজেদুল ইসলাম ও বিএনপির তারিক আবু আলা চৌধুরী এবং জাপার শফিকুল ইসলাম দ্বারার মধ্যে চতুর্মুখী লড়াই হবে।
নাগেশ্বরী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ হোসেন ফাকু, বিএনপির মো. আদম আলী ও জাপার বর্তমান মেয়র আবদুর রহমানের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
পঞ্চগড় : সদর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে জাকিয়া খাতুন, বিএনপির প্রার্থী বর্তমান মেয়র তৌহিদুল ইসলাম ও জামায়াত নেতা আবদুল খালেকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
গাইবান্ধা : জেলা সদর মেয়র আওয়ামী লীগের জেলা যুবলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন, বিএনপির মো. শহীদুজ্জামান শহীদ ও জামায়াত নেতা একেএম ফেরদৌস আলমের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র আবদুল আল আমিন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী যথাক্রমে দেবাশীষ সাহা, শাহীন আহমেদ সবুজ, এটিএম মাসুদ উল ইসলাম চঞ্চল ও বিএনপির আজাদুল করিম প্রামাণিক নিপুর মধ্যে লড়াই হবে। এলাকাটি জামায়াতের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। দলের প্রার্থী না থাকায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।
গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান মেয়র আতাউর রহমান ও বিএনপির মো. ফারুক আহমেদ এবং জাপার আখতার হোসেনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
ঠাকুরগাঁও : সদর পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তহমিনা আকতার মোল্লা, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মেয়র এসএম সোলায়ামান আলী সরকার, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলগগীরের ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়ে ফয়সাল আমিনকে নিঃশর্ত সমর্থন দেয়ায় বেশ শক্তিশালী অবস্থানে আছেন তিনি। তাছাড়া আওয়ামী লীগের ঘরের দ্বন্দ্বও কাজে লাগাতে চায় বিএনপি।
পীরগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের কসিরুল ইসলাম ও বিএনপির রাজিউর রহমান রাজুর মধ্যে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
দিনাজপুর : জেলা সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের অনোয়ারুর ইসলাম ও বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। জাপার আবদুল মোত্তালেবও এখানে শক্ত প্রার্থী।
বীরগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মোশারফ হোসেন বাবুল ও বিএনপির আমিরুল বাহার এবং জামায়াত স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ হানিফের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
ফুলবাড়ী পৌরসভায় আওয়মী লীগ প্রার্থী শাহজাহান আলী সরকার পুটু, বিএনপির সাহাদৎ হোসেন ও জামায়াত স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল আবেদিনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এখানে খাজা মঈনুদ্দিন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ঘরের আগুন নিয়ে বেকায়দায় আছে আওয়ামী লীগ। হিলি পৌরসভা আওয়ামী লীগ প্রার্থী জামিল হোসেন চলন্ত ও বিএনপির সাখাওয়াত হোসেন শিল্পীর মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে বলে ভোটাররা জানিয়েছেন। জাপার সুরুজ আলীও ভালো অবস্থানে আছেন।
বিরামপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যাপক আক্কাস আলী, বিএনপির আজাদুল ইসলাম আজাদ ও জামায়াত স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. মহদ্দির এনামুল হকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
ফরিদপুর : জেলার নগরকান্দা পৌরসভায় বিএনপির একক প্রার্থী সাইফুল ইসলাম মুকুলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের রায়হান উদ্দিন মাস্টারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
এদিকে বোয়ালমারী পৌরসভায় আ’লীগ প্রার্থী শাহজাহান মিরদাহ পিকুলের সঙ্গে বিএনপি প্রার্থী শুকুর শেখ এবং আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোজাফফর মৃধার সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজবাড়ী : রাজবাড়ী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের নজরুল ইলাম মণ্ডলের সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী আবুল কাশেমের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
পাংশা পৌরসভায় আ’লীগ প্রার্থী আবদুল আল মাসুদ বিশ্বাসের সঙ্গে বিএনপি প্রার্থী চাঁদ আলী খানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
গোয়ালন্দে আ’লীগ প্রার্থী শেখ নজরুলের সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামের ছেলে অর্ণব দেওয়ান মাহমুদ হৃষিতের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কাশেম মাঠে থাকায় বেকায়দায় আছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।
শরীয়তপুর : জেলা সদরে আওয়ামী লীগের ফারুক আহম্মেদ তালুকদারের সঙ্গে বিএনপির সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালুর তুমুল লড়াই হবে।
নড়িয়ায় আওয়ামী লীগের হায়দার আলী ও বিএনপির সোহেল বেপারির মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী শহিদুল ইসলাম বাবুল ও মোসলেম উদ্দিন মাঠে থাকায় বিএনপি প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন।
ডামুড্যায় আওয়ামী লীগের হুমায়ন কবির বাচ্চু ছৈয়াল ও বিএনপির আলমগীর মাতবরের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
ভেদরগঞ্জে আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নান হাওলাদার ও বিএনপির গোলাম মোস্তফার মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। তবে এখানেও আছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তানিয়া আকতার।
জাজিরায় আওয়ামী লীগের ইউনুস বেপারির সঙ্গে বিএনপির ইকবাল হোসেনের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের ৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকায় চরম বেকায়দায় আছেন নৌকার প্রার্থী।
মাদারীপুর : জেলা সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের খালিদ হোসেন ও বিএনপির মিজানুর রহমানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও আওয়ামী লীগ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।
কালকিনি পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগের এনায়েত হোসেন মেয়র পদে জয় মোটামুটি নিশ্চিত বলে জানা গেছে। যদিও আবুল কালাম আজাদ, মশিউর রহমান সবুজ ও লোকমান হোসেন নামে তিনজন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী মাঠ গরম রেখেছেন।
কালকিনির মতো জেলার শিবচর পৌরসভায়ও বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আওলাদ হোসেন খানের জয় মোটামুটি নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
ঢাকা : জেলার ধামরাই পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলহাজ দেওয়ান নাজিমউদ্দিন মঞ্জু আত্মগোপনে থাকলেও মূল লড়াই হবে ত্রিমুখী। স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আবদুস সাত্তার শক্তিশালী ও আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ গোলাম কবির মোল্লা একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা হওয়ায় তাদের মধ্যে ভোট ভাগাভাগি হচ্ছে।
সাভারে আওয়ামী লীগের হাজী আবদুল গনি ও বিএনপির মো. বদিউজ্জামান বদির মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। বিগত সময় এ পৌরসভাটি বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়ে আসছিল। এবারও ধানের শীষ প্রতীক পাওয়ায় ফলাফল বিএনপির ঘরে উঠতে পারে বলে জানা গেছে। তবে মামলা হামলা ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে চরম চিন্তিত বিএনপি।
নারায়ণগঞ্জ : জেলার সোনারগাঁ পৌরসভায় বর্তমান মেয়র মো. সাদেকুর রহমান, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এটি ফজলে রাব্বি ও বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাদেকুর রহমান ফজলে রাব্বির বিরুধে সুবিধা নিবে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোশারফ হোসেন।
তারাব : আওয়ামী লীগের হাসিনা গাজী ও বিএনপির নাসির উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
গাজীপুর : গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের আনিছুর রহমান ও বিএনপি মনোনীত শহিদুল্লাহ শহিদের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ভিপি আহসান উল্লাহ নির্বাচন করলেও তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভোটব্যাংকে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেন না।
নরসিংদী : জেলা সদর পৌরসভায় বর্তমান মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল ও বিএনপির সাইফুল ইসলাম সোহেলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় আছে আওয়ামী লীগ। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি এসএম কাইয়ূম।
মাধবদীতে বিএনপির বর্তমান মেয়র হাজী ইলিয়াছ ও আওয়ামী লীগের মোশারফ হোসেন মানিকের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
মনোহরদী পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের আমিনুর রশীদ সুজন, বিএনপির মাহমুদুল হক ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. আবদুল খালেকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের হাজী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লবের সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী বর্তমান মেয়র একেএম ইরাদত মানুর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল ইসলাম সংগ্রাম ভালো অবস্থানে আছেন।
মিরকাদিম পৌরসভায় বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ প্রার্থী শহিদুল ইসলাম শাহীনের সঙ্গে বিএনপির মো. শামসুর রহমান ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনসুর আহমেদ কালামের ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভবনা রয়েছে। ত্রিমুখী লড়াইয়ে প্রধান ফ্যাক্টর হিসেবে থাকছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা গাজী কামরুল হুদা সেলিম। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. রমজান আলী ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ যাদু।
লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইসমাইল খোকন ও বিএনপির প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র এবিএম জিলানীর মধ্যে লড়াই হবে। রামগতি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ থেকে মেজবাহ উদ্দিন মেজু ও বিএনপির বর্তমান মেয়র শাহেদ আলী পটুর মধ্যে দ্বিমুখী নির্বাচন হবে।
রামগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবুল খায়ের ও বিএনপির রোমান হোসেন পাটোয়ারির মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
টাঙ্গাইল : আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে টাঙ্গাইলের ৮টি পৌরসভার দুটিতে আওয়ামী লীগ বনাম বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ বাকি ৬টিতে ক্ষমতাসীন দল ও বিএনপির প্রার্থীদের ভোটযুদ্ধ হবে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন ও দলের বিদ্রোহী হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র পদধারী জহিরুল হক হেলালের সঙ্গেই এ পৌরসভায় ভোটযুদ্ধ হবে। বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী এএমএ সোবহান ধানের শীষ ও জাতীয় পার্টির ফেরদৌস আহমেদ লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
ভুঞাপুর পৌরসভায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাসুদুল হক মাসুদ ও বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজহারুল ইসলামসহ উচ্চ আদালত থেকে মনোনয়নের বৈধতাপ্রাপ্ত তারিকুল ইসলাম চঞ্চলের তীব্র ভোটযুদ্ধ হবে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবদুল খালেক মণ্ডলও ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে আছেন।
টাঙ্গাইল সদর পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত জামিলুর রহমান মিরন ও বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাহমুদুল হক সানু।
মধুপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত মাসুদ পারভেজ ও বিএনপির মনোনীত সরকার শহীদুল ইসলাম; গোপালপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত রকিবুল হক ছানা ও বিএনপির মনোনীত খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল; কালিহাতী পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত আনছার আলী বিকম ও বিএনপির মনোনীত আলী আকবর জব্বার; আওয়ামী লীগ মনোনীত মির্জাপুর পৌরসভার সাহাদৎ হোসেন সুমন ও বিএনপির সমর্থিত হজরত আলী এবং সখীপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত আবু হানিফ আজাদ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দিনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
ময়মনসিংহ : জেলার গৌরীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের অপর বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র মো. শফিকুল ইসলাম হবি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় মেয়র পদে তিন প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আওয়ামী লীগের সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও বিএনপির সুজিত কুমার দাস প্রার্থী। দলে কোন্দল থাকায় বিএনপির প্রার্থী সুবিধায় আছেন।
নান্দাইল পৌরসভায় পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া এবং বিএনপির বর্তমান মেয়র এএফএম আজিজুল ইসলাম পিকুলের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
মুক্তাগাছায় পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দেবাশীষ ঘোষ বাপ্পী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় লড়াই হবে ত্রিমুখী। আওয়ামী লীগের আবদুল হাই আকন্দ ও বিএনপির শহীদুল ইসলাম শহীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
ফুলপুর পৌরসভায় চারজন প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান মেয়র মো. শাজাহান আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সশদর সেন ও বিএনপির আমিনুল হকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
ত্রিশাল পৌরসভায় চারজন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র এবিএম আনিসুজ্জামান আনিস মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে তার সঙ্গে লড়াই হবে ত্রিমুখী এবং হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আছেন আওয়ামী লীগের জায়েদুল ইসলাম ও বিএনপির আমিনুল ইসলাম।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভায় চার প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র সৈয়দ হাবিবুর রহমান হাবিব, আওয়ামী লীগগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুস সাত্তার ও বিএনপির একক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ বুলুর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
ভালুকা পৌরসভায় মেয়র পদে চার প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মফিজ উদ্দিন সরকার প্রার্থী হিসেবে অনড় থাকায় বেকায়দায় আছে বিএনপি। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মেজবাহ উদ্দিন কাইয়ুমের সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী হাতেম আলী খানের সঙ্গে।
ফুলবাড়ীয়া পৌরসভায় চারজন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী চাঁন মাহমুদ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় লড়াই হবে ত্রিমুখী। এখানেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির মো. ওমর ফারুক ও আওয়ামী লীগের গোলাম কিবরিয়ার মধ্যে।
গফরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের ইকবাল হোসেন সুমন ও বিএনপির শাহ আবদুল্লাহ আল মামুনের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
নান্দাইল পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মো. রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া ও বিএনপির এএফএম আজিজুল ইসলাম পিকলুর মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া উজ্জ্বল মাঠে থাকায় বিএনপি কিছুটা সুবিধা পাবে।
নেত্রকোনা : নেত্রকোনা পৌরসভায় মেয়র পদে তিন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম খান ও বিএনপির মনিরুজ্জামান দুদুর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
মোহনগঞ্জে তিন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় লড়াই হবে ত্রিমুখী। আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট লতিফুর রহমান রতন, বিএনপির মাহাবুন্নবী শেখ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিরুল ইসলাম স্বপনের মধ্যে এ লড়াই হবে।
মদনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের একেএম সাইফুল ইসলাম হান্নান ও বিএনপির মোশফিকুর রহমান বাচ্চুর মধ্যে মূল লড়াই হবে। তবে বর্তমান মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান মোদাচ্ছের হোসেন শফিকও শক্ত অবস্থানে আছেন।
দুর্গাপুরে আওয়ামী লীগের হাজী আবদুস সালাম ও বিএনপির হাজী জামাল উদ্দিনের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
কেন্দুয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আসাদুল হক ভূঁইয়া ও বিএনপির শফিকুল ইসলাম শফিকের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
কুমিল্লা
চৌদ্দগ্রাম পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান পৌর মেয়র মিজানুর রহমান ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটোয়ারী এনামের মধ্যে লড়াই হবে। এখানে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
দাউদকান্দি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী নাঈম ইউসুফ সেইন ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল আলম সরকারের (নাইম) মধ্যে মূল লড়াই হবে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেএমআই খলিলও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।
চান্দিনা পৌরসভায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শাহ মো. আলমগীর খাঁন ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মফিজুল ইসলাম, সাবেক মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মান্নান সরকারের মাঝে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
বরুড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রাথী বাহাদুরুজ্জামান ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র জসিম উদ্দিন পাটোয়ারীর মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এ পৌরসভায় জাতীয় পার্টির এমএ ওয়াদুদ মিয়াজীও মাঠে আছেন।
লাকসাম পৌরসভায় মেয়র পদে তিনজনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত আবুল খায়ের, বিএনপির মনোনীত শাহনাজ আক্তারের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। শাহনাজ আক্তারের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে গুম থাকায় ভোটারদের কাছে তিনি বাড়তি সহানুভূতি পেতে পারেন।
হোমনা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবদুল লতিফের মাঝে তীব্র লড়াই হবে বলে জানা গেছে। এ পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আলমগীর সরকার, মো. হানিফ মিয়া, জহিরুল হক মাঠে থাকায় বিএনপি বেকায়দায় আছে।
জামালপুর : পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুরের ৫টি পৌরসভায় প্রচারণা জমে উঠেছে। এবার জামালপুরের ৬টি পৌরসভায় নির্বাচন হচ্ছে। তার মধ্যে মাদারগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন লেমন তালুকদার তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী নির্বাচিত হচ্ছেন।
জামালপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি, বিএনপির প্রার্থী বর্তমান পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ও জাতীয় পার্টিও প্রার্থী খন্দকার হাফিজুর রহমান বাদশা। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে প্রতিদ্ববন্ধিতা হবে।
মেলান্দহ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শফিক জাহেদী রবিন এবং বিএনপির প্রার্থী বর্তমান পৌর মেয়র হাজী দিদার পাশার মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
ইসলামপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আবদুল কাদের শেখ এবং বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম ঢালী, জাতীয় পার্টির খোরশেদ আলম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজেদ মোশারফ সেবক মাঠে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে।
দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ নূরন্নবী অপু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ মো. শাহনেওয়াজ শাহানশাহ ও বিএনপির প্রার্থীর একেএম মুছার মধ্যে।
সরিষাবাড়ীতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রোককুনুজ্জামান বিএনপির প্রার্থী ফয়জুল কবীর তালুকদার শাহীনের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
ফেনী : ফেনী সদর ও পরশুরাম পৌরসভায় অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগের হাজী আলাউদ্দিন ও নিজাম উদ্দিন সাজেল নৌকা প্রতীক নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে। ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান মেয়র ওমর ফারুক খানের সঙ্গে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাইফুর রহমান ফারুকের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
নোয়াখালী : জেলার বসুরহাট পৌরসভায় বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা ও বিএনপির দলীয় মেয়র প্রার্থী কামাল উদ্দিন চৌধুরীর মধ্যে ভোটযুদ্ধে দ্বিমুখী লড়াই হবে। বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভায় বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র প্রার্থী আক্তার হোসেন ফয়সল ও বিএনপির দলীয় মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের সঙ্গে দ্বিমুখী লড়াই হবে। হাতিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র প্রার্থী একেএম ইউছুফ আলী ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহাম্মদের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে।
বরিশাল বিভাগ
বরগুনা : বরগুনা সদর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান পৌরসভা মেয়র সাহাদাত হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান। এ ছাড়া এ পৌরসভায় বিএনপির এসএম নজরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মো. আবদুল জলিল হাওলাদার ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মাহাবুবুল আলম মান্নু মেয়র প্রার্থী থাকলেও তারা ভোটারদের মনে কড়া নাড়তে পারেননি। ফলে এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
বেতাগী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত এবিএম গোলাম কবির, বিএনপির হুমায়ুন কবির বিশ্বাস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসির উদ্দিন পিযুষের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
পাথরঘাটা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আনোয়ার হোসেন আকনের সঙ্গে বিএনপির মল্লিক মো. আইয়ুবের লড়াই হবে।
পটুয়াখালী : জেলার কুয়াকাটা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনীত আবদুল বারেক মোল্লা, বিএনপির আবদুুল আজিজ মুসুল্লি­ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের মধ্যে লড়াই হবে। তবে বর্তমান মেয়র আলতাব হোসেন বিশ্বাসকে মনোনয়ন না দেয়ায় আওয়ামী লীগের একটি অংশের মনে ক্ষোভ রয়েছে।
কুয়াকাটা পৌরসভায় ইসলামী অন্দোলন বাংলাদেশের আলহাজ নূরুল ইসলাম ও বরিশাল বিভাগের একমাত্র নারী প্রার্থী ন্যাশনাল পিপলস পার্টির রাবেয়া খাতুন হানিফ লড়ছেন মেয়র পদে।
পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া পৌরসভার আওয়ামী লীগের বিপুল চন্দ্র হাওলাদারের সঙ্গে বিএনপির হুমায়ুন শিকদারের মূল লড়াই হবে।
বরিশাল : জেলার মুলাদী পৌরসভার আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিকুজ্জামান রুবেলের সঙ্গে লড়ছে বিএনপির আসাদ মাহমুদ, মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের কামাল উদ্দিন খানের সঙ্গে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন দিপেন, বানারীপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সুভাষ চন্দ্র শীলের সঙ্গে বিএনপির গোলাম মাহমুবুর রহমান, গৌরনদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের হারিছুর রহমানের সঙ্গে বিএনপির স্বপন শরীফ, বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের লোকমান হোসেন ডাকুয়ার সঙ্গে বিএনপির মতিউর রহমান মোল্লার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
উজিরপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে বিএনপির শহিদুল ইসলাম খানের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
ঝালকাঠি : জেলার নলছিটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের তসলিম উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির মজিবর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
ভোলা : জেলার সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনিরুজ্জামানের সঙ্গে বিএনপির হারুন অর রশিদ, দৌলতখান পৗরসভায় আওয়ামী লীগের জাকির হোসেন তালুকদারের সঙ্গে বিএনপির আনোয়ার হোসেন, বোরহানউদ্দিন পৌরসভায় আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলামের সঙ্গে বিএনপির মনিরুজ্জামান কবিরের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
পিরোজপুর : জেলার সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান মালেক (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত), স্বরূপকাঠী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের জিএম কবিরের সঙ্গে বিএনপির শফিকুল ইসলাম ফরিদের লড়াই হবে।
শেরপুর : শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন ও বিএনপির আবদুর রাজ্জাক আশীষের মধ্যে মূল প্রতিযোগিতা হবে। নালিতাবাড়ীতে বিএনপির প্রার্থী বর্তমান মেয়র আনোয়ার হোসেন ও আওয়ামী লীগের আবু বক্কর সিদ্দিক এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল হালিম উকিলের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
শ্রীবরদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবু সাইদ, বিএনপির প্রার্র্থী বর্তমান মেয়র আবদুল হাকিমের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বিএনপির বিদ্রোহী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল বেরুনীর অবস্থানও বেশ শক্ত বলে জানা গেছে।
নকলা পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী বর্তমান মেয়র  মোখলেছুর রহমান তারা ও আওয়ামী লীগের হাফিজুর রহমান লিটন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিকী উৎপলের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
চাঁদপুর : জেলার কচুয়া পৌরসভায় আ’লীগের প্রার্থী নাজমুল আলম স্বপন ও বিএনপির হুমায়ুন কবির প্রধানের মধ্যে, হাজীগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির আবদুল মান্নান খান বাচ্চুর সঙ্গে আ’লীগের মাহাবুবুল আলম লিপনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এছাড়া ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় বর্তমান মেয়র ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মঞ্জিল হোসেনের সঙ্গে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশিদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
এখানে বিএনপির সমর্থন অনেক বেশি। এছাড়া আ’লীগের প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী। অপরদিকে মতলবে আ’লীগের প্রার্থী আওলাদ হোসেন লিটন ও ছেঙ্গারচর পৌরসভায় বর্তমান মেয়র ও আ’লীগের প্রার্থী রফিকুল আলম জজ জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছাড়াও দু’জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের মো. শানে আলম, বিএনপির অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক, জাতীয় পার্টির মো. ইসহাক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রফিকুল আলম এবং নাগরিক সমাজের ব্যানারে কিরণ মারমার মধ্যে লড়াই হবে বলে জানা গেছে।
মাটিরাঙ্গা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মো. শামসুল হক ও বিএনপির বাদশা মিয়ার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
নওগাঁ : আওয়ামী লীগের সেকার আহাম্মেদ শিষাণ ও বিএনপির নজমুল হক সানির মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। নজিপুর আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরী বাবু ও বিএনপির আনোয়ার হোসেনের মধ্যে লড়াই হবে।
এছাড়া সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের হাকিমুল হক মিরু ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুর রহিম ও বিএনপির নজরুল ইসলামের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা পৌরসভায় জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী পার্টির জেলা শাখার সভাপতি শেখ আজহার হোসেনের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠুর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহাদত হোসেন নানা কারণে দুর্বল ও বিএনপিদলীয় প্রার্থী তাসকিন আহমেদ চিশতী খোলামেলাভাবে প্রচার-প্রচারণা করতে না পারার কারণে এ সুবিধা পাচ্ছেন তারা।
কলারোয়া পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মধ্যে।  আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আরাফাত হোসেন মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে প্রচারে পিছিয়ে পড়েছেন।  সেদিক দিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম লাল্টু  নৌকা প্রতীক নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তবে মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় দলের অনেক নেতাকর্মী তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। একইভাবে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমানে বহিষ্কৃত কলারোয়ার প্রথম মেয়র বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আক্তারুল ইসলাম।
ঝিনাইদহ : জেলার কোর্টচাঁদপুরে আওয়ামী লীগের শহীদুজ্জামান সেলিম ও বিএনপির এসকেএম সালাহ উদ্দিন ও জামায়াতের শরিফুল ইসলামের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। মহেশপুরে আওয়ামী লীগের আবদুর রশীদ খান ও বিএনপির বিদ্রোহী আমিরুল ইসলাম খান চুন্নুর মধ্যে মূল লড়াই হবে। হরিণাকুণ্ডে আওয়ামী লীগের শাহীনুর রহমান রেন্টু ও বিএনপির জিন্নাতুল হকের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। এছাড়া শৈলকুপায় আওয়ামী লীগের কাজী আশরাফুল আলমের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী তৈয়বুর রহমান খান এবং বিএনপির বিএম খলিলুর রহমানের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
কিশোরগঞ্জ : জেলা সদরে আওয়ামী লীগের পারভেজ মিয়া ও বিএনপির মাজরুল ইসলামের ও কুলিয়ারচরে আওয়ামী লীগের আবুল হাসান কাজলের সঙ্গে বিএনপির আলহাজ শফিউলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। হোসেনপুরে আওয়ামী লীগের আব্দুল কাইয়ুম খোকনের সঙ্গে বিএনপির মাহবুবুর রহমান হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করছেন। তবে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ হোসন হাসু ও আল কাদরী স্বপন সেখানে বেশ শক্ত অবস্থানে আছেন। এ অবস্থায় সুবিধায় আছেন বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান। কটিয়াদীতে আওয়ামী লীগের শওকত ওসমানের সঙ্গে বিএনপির তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। বাজিতপুরে আওয়ামী লীগের আনোয়ার হোসেন আশরাফের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছে শওকত আকবর। ফলে বিএনপির এহসান কুফিয়া সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। ভৈরব পৌরসভায় আওয়ামী লীগের ফকরুল আলম আক্কাস ও বিএনপির হাজী মোহাম্মদ শাহীন ও করিমগঞ্জে আওয়ামী লীগের কামরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিএনপির আশরাফ হোসেন পাভেলের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। করিমগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী আব্দুল কাইয়ুমের কারণে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে বিএনপি।
গোপালগঞ্জ : জেলা সদরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজি লেয়াকত আলী লেকুর সঙ্গে বিএনপির অ্যাড. তৌফিক নির্বাচন করছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মোস্তাফিজুর রহমান লিটনও শক্ত অবস্থানে আছেন।
রাজশাহী বিভাগ
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, বর্তমান মেয়র বিএনপির অ্যাড. মোকাদ্দেস আলী  ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী টিআরএম নূর-ই আলম  হেলালের ভিতর ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
রায়গঞ্জ পৌরসভায় বর্তমান মেয়র মোশারফ হোসেন আকন্দ, বিএনপির নুর সাঈদ সরকার ও আওয়ামী লীগের গাজী আব্দুল্লাহ আল পাঠানের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
কাজিপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের হাজী নিজাম উদ্দিন ও বর্তমান মেয়র বিএনপির বিদ্রোহী আব্দুস সালামের মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। উল্লাপাড়া  পৌরসভায় আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম ও বিএনরিপর প্রার্থী বেলাল হোসেনের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। বেলকুচি পৌরসভায়  আওয়ামী লীগের বেগম আশানুর বিশ্বাস ও বিএনপির আল-আমিন ভূইয়া ওরফে জামাল উদ্দিন ভূইয়া দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
জয়পুরহাট : জয়পুরহাট পৌরসভায় মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয়  প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক  ও বিএনপি দলীয়  প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. সামছুল হকের মধ্যে। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আ.স.ম মুক্তাদির তিতাস মোস্তফা মূল লড়াইয়ে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আক্কেলপুর পৌরসভায় মেয়র পদে মোট ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র ২ জন করে ৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। ফলে এখানে এবার ভোটের লড়াইয়ে কার পাল্লা ভারি  হবে আগে থেকে বলা বেশ শক্ত। তারপরও  প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেও যোগ্যতা,পরিচিতি ও প্রচার-প্রচারণার ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে, এ পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয়  প্রার্থী গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসরের সঙ্গে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী বাদশা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আহসানুল ইসলাম নান্নুর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। মেয়র পদের এ ভোটযুদ্ধে বিএনপি দলীয় প্রার্থী রেজাউল করিম ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এনায়েতুর রহমান আকন্দ স্বপনের  মূল লড়াই থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কালাই পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদেও মূল লড়াই হবে ত্রিমুখী। আক্কেলপুরের মত এখানেও রয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রাথী। ফলে এখানকার লড়াইটি আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয়  প্রার্থী হালিমুল আলম জন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাজ্জাদুল রহমান কাজল  ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আনিছুর রহমানের মধ্যে হাড্ডাহাডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close