¦
শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগে অর্জিত বিজয়ের ৪৪ বছর

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঙ্গলবার রক্তস্নাত বিজয় উৎসবের অনুষ্ঠানে অতিথিরা -যুগান্তর

৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের ৪৪ বছর পূর্ণ হল আজ। মুক্তির আনন্দে বিভোর কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে আজ স্মরণ করছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান সেই অকুতোভয় বীরদের। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ সারা দেশে স্মৃতির মিনারগুলো আজ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। জাতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় গাইছে মুক্তির জয়গান। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান বলে আখ্যায়িত করেন। ১৬ ডিসেম্বর প্রথম প্রহর থেকেই শুরু হয় দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জনকারী মুক্তিযোদ্ধা আর সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। রাতের শীত আর কুয়াশাকে তুচ্ছজ্ঞান করে লাখো বাঙালি সুশৃংখলভাবে তাদের প্রাণের অর্ঘ্য নিবেদন করেন জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ দেশের শহীদ বেদিগুলোতে। ভোর থেকে মিছিলের শ্রোত গিয়ে মিলে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে।
জাতি আজ শ্রদ্ধাবনত হৃদয়ে স্মরণ করছে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান নায়ক বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে তার প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে নতুন করে শপথ নেন নতুন প্রজন্মের মানুষ। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার মাজারেও শ্রদ্ধা জানায় লাখো মানুষ। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করা হয় মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী বন্ধু রাষ্ট্র ভারতকে। দেশটি ওই সময় এক কোটি মানুষকে আশ্রয়, মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং আর সাহস জুগিয়েছিল। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নসহ (রাশিয়া) অন্য বন্ধু রাষ্ট্র ও ব্যক্তির অবদানের কথা স্মরণ করা হয় নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
ঘাতকদের ফাঁসির রায় কার্যকর শুরু হওয়ায় ৪৪তম বার্ষিকীতে বিজয় দিবস ভিন্ন মাত্রায়ই উদযাপিত হচ্ছে। নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দুর্ধর্ষ ঘাতক, মিরপুরের কসাই নামে পরিচিত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা, যুদ্ধাপরাধী কামারজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। ঘাতক মতিউর রহমান নিজামী ও মীর কাশেম আলী, এটিএম আজহার, মাওলানা আবদুস সোবহানসহ বেশ কয়েকজনের ফাঁসি কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সাধারণ ছুটির দিন। ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উড়ছে। ঘরে ঘরে উড়ছে লাল-সবুজ পতাকা। সূর্যোদয়ের সময় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতার শহীদদের অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নেতারা। স্মৃতিসৌধে নামবে স্বাধীনতাপ্রিয় জনতার ঢল। বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে যুগান্তরসহ জাতীয় সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। বাংলাদেশ বেতার, বিটিভি, বেসরকারি রেডিও এবং টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সবকিছুর মধ্য দিয়ে জাতি আজ আবারও শপথ নেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকরের পাশাপাশি স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য।
বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি : যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, বিজয় র‌্যালি, আলোচনা সভা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী ও দেশবরেণ্য শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ দু’দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয় ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন থেকে শুরু হবে বিজয় র‌্যালি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার রয়েছে আলোচনা সভা। ফার্মগেট খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
বিএনপির কর্মসূচি : সকাল ৮টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। সকাল ৯টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন তিনি। এর আগে ভোরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও গুলশানের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ১৮ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম, ন্যাপ, জাকের পার্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন, কৃষক লীগ, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, অগ্রণী ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন, বিজয় ’৭১ প্রভৃতি সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close