¦
বিএনপির পথেই ক্ষমতাসীনরা

আবদুল্লাহ আল মামুন | প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫

পৌর নির্বাচনে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের বহিষ্কারে মৌখিকভাবে ঘোষণা দেয়া হলেও কোনো চিঠি দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। তারা মনে করছে, বহিষ্কারের হুশিয়ারি দেয়ার পর সারা দেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এখন বাকিদের বহিষ্কার করা হলে নেতাকর্মীদের মধ্যে অনৈক্যের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশংকা দলটির হাইকমান্ডের। কৌশলগত এ অবস্থানের মাধ্যমে শাসক দল আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিপক্ষ বিএনপির পথই অনুসরণ করল। বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীদের বশে আনতে চাপ দিলেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বহিষ্কার না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, কেন্দ্রে কঠোর হুশিয়ারি উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের ৯৮ জন বিদ্রোহী। অন্যদিকে বিএনপির এই সংখ্যা ৩৮। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের সাময়িক বহিষ্কারের মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে এ ঘোষণা দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি। তবে কেন্দ্রীয় নেতার মোখিক এ নির্দেশের পরও জেলা এবং মহানগর কমিটিগুলো দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কারের চিঠি দেয়নি। তারা মাহবুবউল আলম হানিফের ঘোষণা সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহী প্রার্থীদের জানিয়ে দিয়েছেন। অবশ্য দু-একটি জায়গায় বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বর্ধিত সভা ডেকে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের ভাই খাজা মঈন উদ্দিনকে বহিষ্কার করেছেন নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জানতে চাইলে মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, যারা দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি ঘোষণার মাধ্যমে জেলা কমিটিগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহী প্রার্থীদের কেন্দ্রের এ সিদ্ধান্ত অবহিত করবেন।
এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সেখান থেকে আমাদের লিখিতভাবে কোনো নির্দেশ দেয়া হয়নি। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কারের বিষয়টি জানাতে বলা হয়নি।’ তবে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২৩৪ মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সেক্ষেত্রে নৌকা প্রতীকে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন ২২৮ মেয়র প্রার্থী। অন্যদিকে বিএনপি ২২০ পৌরসভায় তাদের প্রার্থী দিয়েছে। তাদের অন্যান্য মিত্রও এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এমনকি জামায়াতে ইসলামী স্বতন্ত্র হিসেবে মেয়র প্রার্থী দিয়েছে। সোমবার প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীরা জোরেশোরে প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে পথের কাঁটা হিসেবে দুই দলেই রয়ে গেছেন বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী। আওয়ামী লীগ-বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের নাম নিচে দেয়া হল-
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী : ঠাকুরগাঁও সদরে সোলায়মান আলী সরকার, লালমনিরহাট সদরে এসএম ওয়াহেদুল হাসান, পাটগ্রামে ওয়াজেদুল ইসলাম শাহিন, কুড়িগ্রামের উলিপুরে সাজেদুল ইসলাম, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দেবাশীষ সাহা, শাহীন আহমেদ সবুজ ও এটিএম মাসুদ উল ইসলাম চঞ্চল, জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে এনায়েতুর রহমান আকন্দ স্বপন, কালাইয়ে সাজ্জাদুর রহমান কাজল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এআরএম আরাজি ও কারিবুল হক রাজিন, রাজশাহী চারঘাটে গোলাম কিবরিয়া, দুর্গাপুরে হাসানুজ্জামান সান্টু, পুঠিয়ায় জিএম হিরা বাচ্চু, নওহাটায় আফজাল হোসেন, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আবদুর রহিম, পাবনার চাটমোহরে মির্জা রেজাউল করিম ও দুলাল হোসেন, সুজানগরে তোফাজ্জল হোসেন তোপা ও আফসার আলী, ফরিদপুর সদরে জাহাঙ্গীর আলম ও আছাদুজ্জামা মিয়া, ভাঙ্গুড়ায় আজাদ খান, মেহেরপুরের গাংনীতে আশরাফুল ইসলাম ওরফে ভেন্ডার, কুষ্টিয়ার মিরপুরে আতাহার আলী, কুমারখালীতে জাকারিয়া খান ওরফে জেমস খান, খোকসায় আল মাসুদ মোর্শেদ ও আলাউদ্দিন পিন্টু, চুয়াডাঙ্গা সদরে ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, জীবননগরে জাহাঙ্গীর আলম, ঝিনাইদহের শৈলকুপায় তৈয়বুর রহমান খান, যশোর সদরে এএম কামরুজ্জামান চুন্নু, অভয়নগরে ফারুক হোসেন, মনিরামপুরে জিএম মজিদ, চৌগাছায় এসএম সাইফুর রহমান বাবুল, নড়াইল সদরে সরদার আলমগীর হোসেন আলম ও সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, কালিয়ায় শেখ লায়েক হোসেন, সোহেলী পারভীন নীরি, এমদাদুল হক টুলু ও মুশফিকুর রহমান লিটন, বাগেরহাটে মিনা হাসিবুল হাসান শিপন, খুলনার চালনায় ড. অচিন্ত কুমার মণ্ডল, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আরাফাত হোসেন, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে জহিরুল হক হেলাল, ভূঞাপুরে আহজারুল ইসলাম ও তারিকুল ইসলাম চঞ্চল, গোপালপুরে বেলায়েত হোসেন, কালিহাতীতে হুমায়ুন খালিক, জামালপুরের ইসলামপুরে সাজেদ মোশাররফ সেবক, দেওয়ানগঞ্জে শেখ নুরুন্নবী অপু, শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে আবদুল হালিম উকিল, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে সৈয়দ হোসেন হাসু ও আলকাদরী স্বপন, বাজিতপুরে শওকত আকবর, করিমগঞ্জে হাজী আবদুল কাইয়ুম, মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম পৌরসভায় মনছুর আহামেদ কামাল, নরসিংদী সদর পৌরসভায় এসএম কাইয়ুম, নারায়ণগঞ্জের তারাব পৌরসভায় হাবীবুর রহমান হাবীব, সোনারগাঁও পৌরসভায় সাদেকুর রহমান, ফরিদপুরের নগরকান্দায় মুরাদ হোসেন বিকুল, মাদারীপুরের কালকিনিতে আবুল কালাম আজাদ, মশিউর রহমান সবুজ ও লোকমান হোসেন, শিবচরে তোফাজ্জল হোসেন তোতা, শরীয়তপুর সদরে ফারুক আহম্মেদ তালুকদার, নড়িয়ায় শহিদুল ইসলাম বাবুল, মোসলেম উদ্দিন, জাজিরায় রফিকুল ইসলাম, আবুল খায়ের ফকির, খোকন তালুকদার, আলাউদ্দিন ও আনিসুর রহমান, ভেদরগঞ্জে তানিয়া আখতার, গাজীপুরের শ্রীপুরে মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ, সুনামগঞ্জের ছাতকে আবদুল ওয়াহিদ মজনু, জগন্নাথপুরে শাহ নূরুল করিম, সিলেটের জকিগঞ্জে ফারুক আহমদ, কানাইঘাটে নিজাম উদ্দিন আল-মিজান, গোপালগঞ্জে সিজারুল জব্বার চৌধুরী ও আমিনুল ইসলাম রাবেল, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জাকারিয়া হাবীব, কুলাউড়ায় সফি আলম ইউনুস, বড়লেখায় আবদুন নূর, হবিগঞ্জে মিজানুর রহমান মিজান, শায়েস্তাগঞ্জে আতাউর রহমান মাসুক, কুমিল্লার চান্দিনায় আবদুল মান্নান সরকার, চৌদ্দগ্রামে ইমাম হোসেন পাটোয়ারী এনাম, চট্টগ্রামের রাউজানে সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, সীতাকুণ্ডে মো. শফিউল আলম, সিরাজউদদৌলা, বগুড়ার ধুনটে এজিএম বাদশাহ, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় দেবাশীষ ঘোষ বাপ্পী, গৌরীপুরে শফিকুল ইসলাম হবি, ঈশ্বরগঞ্জে দেলোয়ার হোসেন রিপন, ত্রিশালে এবিএম আনিসুজ্জামান, নান্দাইলে মো. আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া উজ্জ্বল, ফুলপুরে সাবেক মেয়র মো. শাহজাহান আলী।
বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী : আক্কেলপুরে (জয়পুরহাট) আলমগীর চৌধুরী বাদশা, কালাইয়ে আনিছুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে মাওলানা আবদুল মতিন, নাচোলে মো. আমানুল্লাহ-আল-মাসুদ, আড়ানীতে (রাজশাহী) নজরুল ইসলাম, তানোরে ফিরোজ সরকার, কাটাখালীতে সিরাজুল হক, চারঘাটে কায়েম উদ্দিন, নওহাটায় রফিকুল ইসলাম, গোপালপুরে (নাটোর) মনজুরুল ইসলাম বিমল, গুরুদাসপুরে মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, সিংড়ায় আবদুল মালেক রানা, বড়াইগ্রামে শরিফুল হক মুক্তা, সিরাজগঞ্জে টিআরএম নূরে আলম হেলাল, চাটমোহরে (পাবনা) প্রফেসর আবদুল মান্নান, সুজানগরে কামাল হোসেন বিশ্বাস, মিরপুরে (কুষ্টিয়া) মিজানুর রহমান, নাসরিন ফেরদৌস, মহেশপুরে (ঝিনাইদহ) আমিরুল ইসলাম খান চুন্নু, বাঘারপাড়ায় (যশোর) আবু তাহের সিদ্দিকী, কালিয়ায় ইকরাম রেজা, সখীপুরে (টাঙ্গাইল) সানোয়ার হোসেন সচিব, শ্রীবরদীতে (শেরপুর) আবু রায়হান মো. আল বেরুণী, হোসেনপুরে (কিশোরগঞ্জ) আনোয়ার হোসেন মৃধা, মনোহরদীতে (নরসিংদী) ডা. আবদুল খালেক, তারাবতে (নারায়ণগঞ্জ) শফিকুল ইসলাম চৌধুরী, কমলগঞ্জে (মৌলভীবাজার) হাসিন আফরোজ, বড়লেখায় মতিউর রহমান ইরাজ, শায়েস্তাগঞ্জে (হবিগঞ্জ) আবদুল মজিদ, দাউদকান্দিতে (কুমিল্লা) নুরুল আলম সরকার, হোমনায় আলমগীর সরকার ও হানিফ মিয়া, ফরিদগঞ্জে (চাঁদপুর) মঞ্জিল হোসেন, নন্দীগ্রামে (বগুড়া) একেএম ফজলুল হক কাশেম, শিবগঞ্জে এসএম তাজুল ইসলাম, মুক্তাগাছায় (ময়মনসিংহ) মোর্শেদুজ্জামান খান সাইফুল, ভালুকায় মফিজ উদ্দিন সরকার, ফুলবাড়িয়ায় মো. চান মাহমুদ।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close