¦
জঙ্গিবাদবিরোধী সামরিক জোটে বাংলাদেশ

কূটনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশসহ ৩৪ দেশ নিয়ে ‘ইসলামী সামরিক’ জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। শক্তিশালী উপসাগরীয় দেশগুলোসহ মিসর, তুরস্ক ও আফ্রিকার কয়েকটি রাষ্ট্র নিয়ে এই জোট গঠন করা হয়েছে। তবে এ জোটে ইরানকে বাদ দেয়া হয়েছে। এ জোটে যোগ দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে টেলিফোন করেছিলেন।
সৌদি এই জোটে যোগ দেয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ‘সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে টেলিফোন করেছিলেন। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের উদ্যোগে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী জোট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। এতে বাংলাদেশকে একটি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেয়ার অনুরোধ করেছেন। আমরা এ উদ্যোগে যোগ দিতে প্রাথমিকভাবে রাজি হয়েছি। উদ্যোগটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সৌদি আরব এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত তথ্য দেবে। এ কেন্দ্রে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী তথ্য-উপাত্ত ও অভিজ্ঞতা বিনিময় হবে।’সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ’র খবরে মঙ্গলবার বলা হয়েছে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামরিক অভিযান সমন্বয় ও তাতে সহায়তা করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন এ জোট গঠন করা হয়েছে। এ জোট হবে রিয়াদভিত্তিক। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এ জোটে আছে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, বাহরাইন, বাংলাদেশ, বেনিন, তুরস্ক, চাদ, টোগো, তিউনিসিয়া, জিবুতি, সেনেগাল, সুদান, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, গ্যাবন, গিনি, ফিলিস্তিন, কমোরোস, কাতার, আইভরিকোস্ট, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মালদ্বীপ, মালি, মালয়েশিয়া, মিসর, মরক্কো, মৌরিতানিয়া, নাইজেরিয়া, নাইজার ও ইয়েমেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, ‘তথ্য ও উপাত্ত’ বিনিময়ের পাশাপাশি এ কেন্দ্র সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে প্রয়োজন হলে অন্যান্য সমর্থনও দেবে।’ তিনি বিষয়টি নিয়ে আর বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকার করেন। সন্ত্রাস দমনে অন্যান্য সমর্থনের অধীনে সামরিক সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে সৌদি কেন্দ্রটির। তবে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন নীতিনির্ধারক বলেন, ‘সৌদি আরব শুধু আইএস দমনের লক্ষ্যেই এই জোট করেনি। বরং সব ধরনের উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এই জোট কাজে লাগবে। পাশাপাশি, সামরিক সমর্থন বলতে সৈন্য প্রেরণকে বোঝানো হয়েছে এমন বলা যায় না। বরং গোয়েন্দা তথ্য ও অভিজ্ঞতার বিনিময় সামরিক সহযোগিতারই অংশ।’ এদিকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদবিরোধী পদক্ষেপের বিষয় সমন্বয়ের লক্ষ্যে সৌদি বাদশাহ ও দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ রিয়াদে একটি কেন্দ্র গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল বিন আহমেদ আল জুবায়ের এই কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর কাছে টেলিফোন করে অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে অন্য মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ এই কেন্দ্রে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই কেন্দ্রের ভূমিকা হবে সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপের সমন্বয়, অভিজ্ঞতার বিনিময় এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে সমর্থন দেয়া। এই কেন্দ্র সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ আদর্শ দমনে সরঞ্জামের মাধ্যমে সমর্থন, তথ্য ও ডাটা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা দেবে।’
এই জোটের সব সদস্যই ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সদস্য। ওআইসির সদর দফতর জেদ্দায় অবস্থিত। সৌদি প্রেস এজেন্সির এক সংবাদে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়াসহ আরও ১০টি দেশ এই জোটে যোগ দেয়া ও সমর্থন দেয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। এতে বলা হয়, বিশ্বে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানবাধিকার ও মানবের মর্যাদার চরম লংঘন হচ্ছে।
বর্তমান সিরিয়া ও ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস (দায়েস) রয়েছে। এর বাইরে আফগানিস্তানসহ অনেক দেশেই বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো এবং রাশিয়া পৃথকভাবে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এসব দেশ মাঠপর্যায়ে আইএসবিরোধী সামরিক অভিযান চালাতে অস্বীকার করছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ইসলামী দেশগুলোর জোট কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।
বাংলাদেশ জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সৈন্য পাঠিয়ে থাকে। জাতিসংঘের বাইরে কোনো কমব্যাট অভিযানে বাংলাদেশ সাধারণত সৈন্য পাঠায় না। ইতিপূর্বে ইরাক ও আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। এবার সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদবিরোধী সৌদি জোটে যেসব দেশ যোগ দিয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ছাড়া অন্য দেশগুলোর শান্তিরক্ষায় সৈন্য প্রেরণে তেমন অভিজ্ঞতা নেই।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close