¦
চাহিদার অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন হচ্ছে

উবায়দুল্লাহ বাদল | প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

আসন্ন পৌর নির্বাচনে ভোট গ্রহণে কোনো ধরনের বিশৃংখলা বরদাশত করবে না সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্বাচন কমিশনের চাহিদার চেয়ে বেশি ফোর্স (আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য) মোতায়েন করা হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যে সংখ্যা নির্ধারণ করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এদিকে ইসির চাহিদা অনুযায়ী মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েনে পরিপত্র জারি করতে যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ অস্ত্রধারী পুলিশসহ ২০ জন এবং সাধারণ কেন্দ্রে ৫ অস্ত্রধারী পুলিশসহ ১৯ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকবেন। এ সংক্রান্ত পরিপত্রের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষে আজ-কালের মধ্যে পরিপত্র জারি হতে পারে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. এম মোজাম্মেল হক খানের সভাপতিত্বে পৌরসভা নির্বাচনের আইনশৃংখলাবিষয়ক এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেছুর রহমানসহ র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানতে চাইলে ড. মোজাম্মেল হক খান যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করে পরিপত্র জারি করা হবে। আজ (মঙ্গলবার) বৈঠক করে তা চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। দু-এক দিনের মধ্যেই পরিপত্র জারি করা হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ক’টি এবং এসব কেন্দ্রে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কোনটি তা বলা মুশকিল। কারণ যেখানে মনে করা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে সমস্যা হচ্ছে না। দেখা গেল অন্য এক জায়গায় গণ্ডগোল হচ্ছে। কাজেই আমাদের সব কেন্দ্র নিয়েই প্রস্তুতি থাকতে হবে।
চাহিদার অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের আভাস দিয়ে ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, নির্বাচন কমিশন হয়তো একটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ৩ জন ফোর্স নিয়োগ দিতে বলেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সেখানে ৩ জন মোতায়েন করা হলে আমার ফোর্স মার খাওয়ার আশংকা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী ৪-৬ জনও মোতায়েন করতে পারি। কাজেই আমাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত লোকবল নেই বলে অভিযোগ করেছে- এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘লোকবলের কোনো সমস্যা নেই।’ তিনি আরও জানান, ২০ ডিসেম্বর রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল সেভাবেই পরিপত্র জারি করা হচ্ছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পৌর নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র ভেদে ১৯-২০ জন ফোর্স মোতায়েন করা হবে। এ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র রয়েছে তিন হাজার ৫৮৫টি। ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) কেন্দ্রে থাকবেন ৬ অস্ত্রধারী পুলিশসহ ২০ জনের একটি দল। এর মধ্যে একজন পিসি (অস্ত্রধারী) অঙ্গীভূত আনসার, একজন এপিসি (অস্ত্রধারী) অঙ্গীভূত আনসার ও লাঠিসহ ১২ জন অঙ্গীভূত আনসার। এর মধ্যে মহিলা ৬ এবং পুরুষ ৬ জন। সাধারণ কেন্দ্রে থাকবেন ৫ অস্ত্রধারী পুলিশসহ ১৯ জনের একটি দল। এর মধ্যে একজন পিসি (অস্ত্রধারী) অঙ্গীভূত আনসার, একজন এপিসি (অস্ত্রধারী) অঙ্গীভূত আনসার ও লাঠিসহ ১২ জন অঙ্গীভূত আনসার। এর মধ্যে মহিলা ৬ এবং পুরুষ ৬ জন। এ ছাড়া পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে মোবাইল ফোর্স ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। ২ হাজার ১৯৩টি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে মোবাইল ফোর্স এবং প্রতি ৩টি সাধারণ ওয়ার্ডের সমন্বয়ে একটি করে ৭৩১টি ওয়ার্ডে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। ২৩৪টি পৌরসভায় একটি করে র‌্যাবের টিম, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের এক প্লাটুন করে সদস্য মোতায়েন থাকবে।
পরিপত্রের খসড়ায় বলা হয়েছে, পৌর নির্বাচন উপলক্ষে ভোট গ্রহণের দিন, তার আগে দু’দিন এবং পরে এক দিন, মোট ৪ দিন ভোট কেন্দ্রে ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃংখলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনে সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধানে সব আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োগের দায়িত্বে থাকবেন রিটার্নিং অফিসার। তবে নির্বাচনী এলাকায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োগে পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। ভোট গ্রহণের অন্তত ৩ দিন আগে নির্বাচন কমিশনকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রেরণ করবেন। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নির্বাচনের ২-৩ দিন আগে থেকে আইনশৃংখলা সমন্বয় সেল স্থাপন করা হবে। এ সেলে আইনশৃংখলা বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন।
৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে মেয়র পদে ৯২৩ ও কাউন্সিলর পদে ১১ হাজার ১২২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রায় ৭২ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। ২৪ নভেম্বর পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close