¦
বিনিয়োগে বাধা উচ্চ সুদ

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

দেশে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বিনিয়োগ হচ্ছে না। বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বিনিয়োগ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ২৯ শতাংশ। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় যা খুবই কম। আর বিনিয়োগ না বাড়ার পেছনে মূল বাধা ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীও বিষয়টি স্বীকার করছেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিনিয়োগ বোর্ড আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরুপাক্ষ পাল বলেন, জিডিপির অনুপাতে দেশের বিনিয়োগ ২৯ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ২২ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ৭ শতাংশ। এই বিনিয়োগ না বাড়ার পেছনে বড় কারণ ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ। বর্তমানে সুদের হার ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থমন্ত্রীও সুদের হারকে বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এতদিন তিনি বলেননি। এর কারণ হল- এর আগে অনেকগুলো বাধা ছিল। বর্তমানে সেগুলো মোটামুটি কেটে গেছে। ফলে এখন বড় বাধা হয়েছে ঋণের সুদ।
তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য আরও একটি উপাদান হল জ্বালানি তেলের দাম। তার মতে, বর্তমানে বিশ্ববাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের দামের ব্যবধান অনেক বেশি। এটি সমন্বয় করা উচিত। এতে বিনিয়োগ বাড়বে। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কমালে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমবে। আর নিত্যপণ্যের দাম কমলে মানুষের ভোগও বাড়বে। বিরুপাক্ষ পাল বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ আছে, যারা মূল্যস্ফীতি কমিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। আর মূল্যস্ফীতি কমালে সুদের হারও কমবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির তিনটি দুর্বলতা রয়েছে। এগুলো হল- রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা কম, বড় ধরনের বাজেট ঘাটতি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কম। তিনি আরও বলেন, উচ্চ সুদের পাশাপাশি বিনিয়োগের জন্য নিয়মিত কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হল- অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতা, বাণিজ্য উদারীকরণ নিয়ে ভুল ধারণা, শিক্ষাগত যোগ্যতার অভাব এবং উদ্ভাবনে দুর্বলতা। এ সময়ে বিনিয়োগ বাড়াতে বেশ কিছু সুপারিশ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে সুদের হার কমিয়ে বিনিয়োগ উপযোগী করা, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় এবং খরচ কমাতে ব্যাংকিং খাতের দক্ষতা বাড়ানো।
বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এসএ সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরুপাক্ষ পাল এবং বিনিয়োগ বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এম মোকাম্মেল হক।
এ সময়ে বক্তারা বিশ্ববাজারের সঙ্গে জ্বালানির তেলের দাম সমন্বয়ের পরামর্শ দেন। তবে উপদেষ্টা জানান, দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকবে, এই নিশ্চয়তা পেলেই দাম সমন্বয়ের ব্যাপারে চিন্তা করা হবে। তার মতে, অর্থনীতিবিদরা দেশের অর্থনীতি নিয়ে হতাশা ছড়াচ্ছেন।
ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, সুদের হার একটু বেশি। তবে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি সংগ্রহের জন্য পুঁজিবাজারে যেতে হবে। এতে ব্যাংকের ওপর থেকে চাপ কমবে। ফলে সুদের হারও কমে আসবে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কমালে জিনিসপত্রের দাম কমবে এই নিশ্চয়তা দরকার। না হলে দাম কমিয়ে ভোক্তার কাছে সুফল পৌঁছানো যাবে না।
তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। তবে সরবরাহও করছে অনেক দেশ। ফলে বিষয়টি ভাবার দরকার আছে। তার মতে, বর্তমানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম। তবে দীর্ঘ মেয়াদে যদি এই কম দাম থাকে, তাহলে নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল দাম সমন্বয়ের ব্যাপারে চিন্তা করা যাবে। এ সময়ে বিরুপাক্ষ পালকে উদ্দেশে করে তিনি বলেন, দাম কমলে সাধারণ মানুষ সুফল পাবে, এমন কোনো যুক্তি তিনি দেখাতে পারেননি। এছাড়া তেলের দাম কমলে বিনিয়োগ বাড়বে এমন কোনো দলিল নেই।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের কিছু অর্থনীতিবিদ হতাশা ছড়াচ্ছে। এটি ঠিক নয়। কারণ অর্থনীতি তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিমধ্যে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আমাদের উন্নয়ন নিজস্ব গতিতে হচ্ছে। আমরা এমন কোনো প্রবৃদ্ধি চাই না, যাতে পরিবেশ দূষণ হয়। তার মতে, চীনের উন্নয়ন হলেও দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ের বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়া যায় না। একই অবস্থা ভারতের নয়াদিল্লিতেও। এসব বিবেচনায় নিয়েই আমি মনে করি আল্লাহ যেভাবে রেখেছে, সেভাবেই দেশে সবাই মিলেমিশে থাকতে চাই।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close