¦
ভয়ে প্রচারে নামেনি বিএনপি জামায়াতের মেয়র প্রার্থীরা

যুগান্তর ডেস্ক | প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫

প্রথমবারের মতো ২৩৪ পৌরসভায় দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। পৌরসভায় যেন জাতীয় নির্বাচনের আমেজ। তবে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকির পাশাপাশি পুলিশি হয়রানিতে বিপর্যস্ত বিরোধী পক্ষের মেয়র প্রার্থীরা। অধিকাংশ পৌরসভাতেই হামলা-মামলার ভীতি মাথায় নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা। নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাতে না পারলেও সোমবার প্রচারণার শেষদিন পর্যন্ত মাঠে ছিলেন তারা। এর বাইরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদেরও নিজ দলের কর্মীদের রোষানলে পড়তে হয়েছে। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, রাজশাহীর কাটাখালী ও ময়মনসিংহের গফরগাঁও- এ চার পৌরসভায় প্রচারণাই চালাতে পারেননি মেয়র প্রার্থীরা। হবিগঞ্জ, নাটোরসহ বেশ কয়েকটি পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা কারাগারে থেকেই নির্বাচন করছেন। তাদের পক্ষে পরিবারের সদস্যরা হামলা-মামলার হুমকি মাথায় নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ক্ষমতাসীনদের চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী ইতিমধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ সুযোগে ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা। ফেনীসহ বেশ কয়েকটি পৌরসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। চট্টগ্রামের সাতকানিয়াসহ কয়েকটি পৌরসভায় শেষ মুহূর্তে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন বিরোধী পক্ষের মেয়র প্রার্থীরা। হামলা, মামলা থেকে বাঁচতে তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন।
জামালপুর পৌর নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা তার নির্বাচনী অফিস ও নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। এ অবস্থার মধ্যেও প্রচারণা চালানো হয়েছে। আলমডাঙ্গা পৌরসভার বর্তমান মেয়র মীর মহিউদ্দিন অভিযোগ করেন, তার আত্মীয়স্বজন ও নেতাকর্মীদের ওপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে প্রতিপক্ষ নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসান কাদির গনুর লোকজন। রাজবাড়ীর পাংশায় মেয়র প্রার্থী চাঁদ আলী খান আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাসুদ বিশ্বাসের সমর্থকদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের আশংকা করে বলেন, তার নির্বাচনী এজেন্টদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ হয়রানি করছে। কুমিল্লার ৬ পৌরসভাতেই হুমকি-ধমকির মুখে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। লাকসাম পৌরসভায় তাদের নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র মজির আহাম্মদকে হত্যার চেষ্টায় গুলি চালানো হয়েছে। তবুও মাঠে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা।
চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভার কোনোটিতেই বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীদের কেউই নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেননি। বিশেষ করে বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা ছিলেন সব সময় তটস্থ ও শংকিত। এর মাঝেও প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপি-জামায়াতের মেয়র প্রার্থীরা। তবে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। টাঙ্গাইলের ৮ পৌরসভাতেই কেন্দ্র দখলের আশংকা করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। তবুও তারা সোমবার শেষদিন পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়েছেন। খুলনায় হামলা-মামলার ভয়ে প্রচারণা চালাতে পারেননি বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা। তবে তারা মাঠ ছাড়েনি। সাতক্ষীরায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এখানে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা এ নিয়ে যথেষ্ট সংশয় থাকলেও প্রচারণার শেষদিন পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় ছিলেন বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা।
বরিশালের ১৭ পৌরসভাতেই হামলা-মামলার ভয় মাথায় নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপির প্রার্থীর। বরগুনার পাথরঘাটায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকি দেয়া হলেও তিনি মাঠে রয়েছেন। এছাড়া যশোরের ৬ পৌরসভা, মেহেরপুরের গাংনী, বগুড়া, রংপুর ও সিলেটে হুমকি-ধমকির মুখে নির্বিঘ্নে প্রচারণা না চালাতে পারলেও মাঠ ছাড়েনি বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা। যুগান্তরের ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close