¦
গাজীপুরে নিহত ২ জঙ্গি হেলাল-মামুন!

সৈয়দ আতিক | প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫

ঢাকার অদূরে গাজীপুরের যোগিতলা এলাকায় রোববার রাতে র‌্যাবের অভিযানে নিহত দু’জন চিহ্নিত জঙ্গি হেলাল ও মামুন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন তথ্যের সূত্র ধরে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। জঙ্গি কর্মকাণ্ড নজরদারির দায়িত্বপালনকারী একটি সংস্থা নিহতদের তাদের তালিকাভুক্ত জঙ্গি হেলাল ও মামুন বলে ধারণা করছে। নিষিদ্ধ জেএমবির এই দুই নেতার বিষয়ে অনেকদিন ধরেই তারা খোঁজখবর চালিয়ে আসছিল। রোববার রাতের অভিযানে নিহত দুই জঙ্গির নাম মিনহাজুল ও মাহবুব বলে সংশ্লিষ্টরা প্রাথমিকভাবে জানালেও সোমবার র‌্যাব কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করে দিয়েছে। র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন, রোববার কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া জেএমবির দুই সদস্য মিনহাজুল ও মাহবুবকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে আটক এই দুই জঙ্গি রোববার জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর র‌্যাব তাদের আবার আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে সোমবার টেলিফোনে মিনহাজুলের সঙ্গে কথা হয় যুগান্তর প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘র‌্যাব সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেই আমাদের ছেড়ে দিয়েছেন।’ একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাহবুব। তার চাচা আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে জানান, সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে এমন মুচলেকা দিয়ে তিনি র‌্যাবের কাছ থেকে ভাতিজাকে ছাড়িয়ে এনেছেন। একই ধরনের মুচলেকা দেয় মিনহাজের পরিবারের সদস্যরাও।
জানা গেছে, গাজীপুরে জেএমবির আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানের আগে চিহ্নিত জঙ্গি হেলাল ও মামুন দেশের ভেতরে নাশকতার জন্য বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় সংঘটিত সাম্প্রতিক বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে এ দু’জনের জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ রয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। ওই সংস্থাটি হেলাল ও মামুন ছাড়াও অন্য জঙ্গিদের খুঁজতে গিয়ে কয়েকবার গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকার একাধিক এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল। সূত্র মতে, গাজীপুরে অভিযানকালে এ দু’জনই নিহত হতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, হেলাল ও মামুনকে ধরতে তারা কয়েকবার অভিযান চালায়। প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে তাদের একেক সময় একেক এলাকায় অবস্থান করার তথ্য হাতে আসে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে দু’জনের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত কোনো অপারেশনের সব পরিকল্পনা শেষে জঙ্গিরা কিছুদিন চুপচাপ থাকে। সময় হলেই তারা বিস্ফোরক নিয়ে টার্গেটস্থলে চলে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, হেলাল ও মামুনও একই ধরনের কোনো লক্ষ্যস্থির করে ফেলেছে। তাই কোনোভাবেই তাদের গতিবিধি প্রযুক্তিগত নজরদারিতে ধরা পড়ছিল না। অন্যদিকে গাজীপুরে জেএমবির আস্তানাটি বেশ কিছুদিন আগেই র‌্যাবের নজরে চলে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই আস্তানাটি ছিল হেলাল-মামুনের সর্বশেষ অবস্থান। অভিযানকালে তারাই নিহত হয়ে থাকতে পারে। নিহত দুই জঙ্গি হেলাল ও মামুন কিনা তা জানতে র‌্যাবের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে সোমবার যুগান্তর প্রতিবেদকের কথা হয়। কিন্তু কেউই বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে অভিযানে নিহতরা যে জেএমবির সদস্য ছিল সেটা নিশ্চিত। ঘটনাস্থল থেকে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। অন্যদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রের ধারণা, যোগিতলার অভিযানে হেলাল ও মামুন নিহত হয়েছে। তাদের কাছে দু’জনের চেহারার যে বর্ণনা রয়েছে নিহতদের সঙ্গে তার মিল পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে চট্টগ্রামে আটক জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান জাবেদ গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত হওয়ার পর তার আস্তানা থেকে যে ধরনের বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয় গাজীপুরের যোগিতলায় পাওয়া বোমার সঙ্গে তার মিল রয়েছে। জঙ্গি জাবেদের নেতৃত্বে জেএমবির একটি দল ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের বাংলাবাজার এলাকায় ল্যাংটা ফকির ও তার খাদেমকে খুন করে। এছাড়া সত্যগোপাল নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার পর টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায়ও তারা জড়িত ছিল। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইয়ের সূত্র ধরে হেলাল ও মামুনের বিষয়ে জানতে পারে। এ জঙ্গি চক্রটিই ঢাকায় পুলিশ হত্যা ছাড়াও বিভিন্ন নাশকতার ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল।
যোগিতলায় আতংক : যুগান্তরের গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস রোড সংলগ্ন যোগিতলা এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে দুই জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনায় জেএমবির ওই আস্তানা ঘিরে সোমবার উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। পাশাপাশি আতংকও বিরাজ করছিল ওই এলাকায়। এর আগে গাজীপুরে ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর দুটি বোমা হামলায় আইনজীবীসহ ১০ জন নিহত হন। রোববার দুই জেএমবি সদস্য র‌্যাবের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় এ এলাকার মানুষের মধ্যে আবার আতংক লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে নিহত দুই জঙ্গির ময়নাতদন্ত সোমবার বিকালে সম্পন্ন করা হয়। শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবদুস সালাম জানান, নিহতদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর। এদের একজনের কপালে ও মাথায় বাম কানের ওপরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। অপরজনের ডান ও বাম পা ভাঙা, পেটের ডান পাশ থেকে ভুঁড়ি বের হয়ে গেছে এবং ডান হাত থেঁতলানো।
যোগিতলার স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ব্যস্ততম মহাসড়কের পাশে ছোট্ট একটি ঘরে কিভাবে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে জেএমবি আস্তানা গড়ে তুলল তা তাদের বোধগম্য নয়। সরেজমিন দেখা গেছে, প্রায় এক বিঘা জমিতে অবস্থিত বাড়িটির তিন দিকে বাউন্ডারি রয়েছে। বাউন্ডারির উত্তর-পূর্ব কোণে ছোট আকারের একটি ঘরকে জেএমবি সদস্যরা ‘আস্তানা’ হিসেবে ব্যবহার করত। জমিটির মালিক মৃত হাজী মফিজ উদ্দিন বেপারির ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি টঙ্গীতে বসবাস করেন।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close