¦
ছোটমণিদের বড় সাফল্য

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৬

জেএসসিতে উত্তীর্ণ ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রীদের উল্লাস -যুগান্তর

প্রায় ৫৪ লাখ ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহণে নেয়া চারটি পাবলিক পরীক্ষার ফল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষাগুলো হচ্ছে- জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি), প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি)। মান নির্ণায়ক ১০টি দিক পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, এবার সার্বিক ফলাফল ভালো হয়েছে। মাদ্রাসার ব্যতিক্রম ছাড়া গত বছরের তুলনায় মোট পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ও পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। জেএসসিতে সাফল্যের নেপথ্যে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে গণিত বিষয়ে পাসের হার বেড়ে যাওয়া। জেএসসি-জেডিসিতে ৯টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) অধীনে নেয়া হয় ইইসি পরীক্ষা। এবার ইইসি এবং জেডিসি দুই পরীক্ষাতেই পাসের হার এবং জিপিএ-৫ কমেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার সময় এবার কোনো রাজনৈতিক বৈরী পরিবেশ ছিল না। শিক্ষার্থীরা নিরুদ্বেগে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা দিয়েছে। জেএসসিতে গত বছর পাসের হার কম ছিল। গণিতে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল পদ্ধতি প্রবর্তন করায় ওই পরিস্থিতি হয়েছিল। এরপর এ বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো হয়। এক বছরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ে এই বিষয়টি আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়েছে। গত বছর পিইসির ফলাফলও খারাপ হয়েছিল। ব্যাপকভাবে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে। যার সার্বিক প্রভাব পড়েছিল ফলাফলে। এবার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের উৎস বন্ধ করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবারের ফলাফলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ফল প্রকাশ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ফল বিশ্লেষণের জন্য যে ক’টি সূচক বিবেচনায় নেয়া যায় তার সব ক’টি এবার ইতিবাচক। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী, পাসের হার, পাস করা শিক্ষার্থী, শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান, শূন্য পাস করানো প্রতিষ্ঠানসহ সব ক’টিতেই গত বছরের তুলনায় এবার ভালো। গত বছর গণিতে সৃজনশীল পদ্ধতি প্রথমবারের মতো ছিল। তাতে শিক্ষার্থীরা খারাপ করেছিল। ওই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। শিক্ষকরা তারই আলোকে লেখাপড়া করিয়েছেন। তাছাড়া এবার শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো পরিবেশে পরীক্ষা দিয়েছে। এসবের ইতিবাচক প্রভাব যুক্ত হয়েছে ফলাফলে।’
গত বছরের তুলনায় ভালো করায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমানও খুশি। তিনি বলেছেন, গত বছরের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের বাড়তি যত্ন নেয়া হয়েছে। এই ভালো ফলের কৃতিত্ব সংশ্লিষ্ট সবার। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান খারাপ ফল করেছে, তাদের জবাবদিহি করতে হবে। না হলে শিক্ষার গুণগত মান অর্জন করা যাবে না।
১০টি সূচক : ভালো ফলের মানদণ্ড নির্ণয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মোট ১০টি সূচক নির্ধারণ করেছে। এগুলো হচ্ছে- অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, পাস করা শিক্ষাথী, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থী, পাসের হার, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী, শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান, শূন্য পাস করানো প্রতিষ্ঠান, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা, কেন্দ্র সংখ্যা এবং প্রতিষ্ঠান সংখ্যা। মন্ত্রণালয় বলছে, এসবের মধ্যে একটি সূচক ছাড়া বাকিগুলো ইতিবাচক। কেবল বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা গত বছরের চেয়ে এবার ৭ জন বেশি।
এছাড়া গত বছরের তুলনায় এবারের পরীক্ষার পরিবেশ আর গণিতে পাসের হার বৃদ্ধির বিষয়টিও ইতিবাচক। গত বছর এই দুটি বিষয় পরীক্ষার্থীদের অনুকূলে ছিল না।
বিষয়ভিত্তিক পাসের হার : জেএসসির ৮টি শিক্ষা বোর্ডের ৭টি বিষয়ের পাসের হারের চিত্র পাওয়া গেছে। গত বছরের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গণিতে পাসের হারই এবার ভালো ফলাফলের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। গত বছর এ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো করেছিল বরিশাল বোর্ড। পাসের হার ছিল ৯৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর সবচেয়ে খারাপ করেছিল চট্টগ্রাম বোর্ড। পাসের হার ছিল ৮৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। গত বছর ৮টি বোর্ডের মধ্যে ৫টিরই ফলাফল ছিল ৯৫ শতাংশের মধ্যে। এ বছর চট্টগ্রাম বোর্ড বাকি সব বোর্ডেরই পাসের হার ৯৫ শতাংশের ওপরে। বাংলা, সাধারণ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ এবং বিশ্বপরিচয়, চারু ও কারুকলা, শারীরিক শিক্ষা বিষয়েও গত বছরের তুলনায় এবার ভালো করেছে বিভিন্ন বোর্ডের শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ বলেন, এবার ফল আরও ভালো হতে পারত। কেননা চট্টগ্রাম, বরিশাল ও দিনাজপুর বোর্ডের শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে এবার গত বছরের তুলনায় খারাপ করেছে।
মাদ্রাসায় ফল খারাপ : মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন জেডিসি পরীক্ষায় এবার পাস করেছে ৯২ দশমিক ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। গত বছর এটা ছিল ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার ১.০৪ শতাংশ কমেছে পাসের হার। গত বছর জেডিসিতে মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ছিল ১৯ হাজার ২৯০ জন। এবার পেয়েছে ৮৭৬১ জন।
মাদ্রাসার আরেকটি পরীক্ষা হচ্ছে ইইসি। গত বছর এতে মোট পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এবার ৯৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত বছর ইইসিতে মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ছিল ৬ হাজার ৫৪১ জন। এবার সেই সংখ্যা ৫ হাজার ৪৭৩ জন।
জেএসসিতে উত্তীর্ণ ৯২.৩১ শতাংশ : জেএসসি পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে। গত বছর পাস করেছিল ৮৯.৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। এ বছর তা বেড়ে ৯২.৩১ শতাংশ হয়েছে। ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অংশগ্রহণকারী ১৯ লাখ ২৯ হাজার ৯৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৭৭০ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫০২।
এ বছর জেএসসিতে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী, পাসের হার ও জিপিএ-৫ তিনটিই বেড়েছে। পাসের হার বেড়েছে ২.৪৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ বেড়েছে ৫০ হাজার ৫৫৭টি। এছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৬৮ জন এবং উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪৩ জন। অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩২৯ জন। ১ হাজার ৯০৪টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ১৯ হাজার ৪৬৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে শতভাগ উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ হাজার ৭৯৯টি প্রতিষ্ঠান এবং শতভাগ অনুত্তীর্ণ হয়েছে ২৩টি প্রতিষ্ঠান।
জেডিসিতে পাসের হার ৯২.৪৬ : জেডিসি পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে। গত বছর পাস করেছিল ৯৩.৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী। এ বছর তা ১.০৪ শতাংশ কমে ৯২.৪৬ শতাংশ হয়েছে। অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫। গত বছরের তুলনায় শতকরা পাসের হার কমলেও সংখ্যার বিচারে বেড়েছে পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বোর্ডটিতে এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪৩ হাজার ১৯০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ হাজার ৭৬১ জন।
পিইসিতে পাস ৯৮.৫২ শতাংশ : পিইসি পরীক্ষার ফলাফল গত বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। বেড়েছে পাসের হার ও জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। চলতি বছর গড় পাসের হার ৯৮ দশমিক ৫২ ভাগ। যা গত বছর ছিল ৯৭ দশমিক ৯২ ভাগ। চলতি বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮০ জন। গত বছর জিপিএ-৫ প্রার্থী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৪১১ জন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হারের দিক দিয়ে এগিয়ে আছে রাজশাহী বিভাগ। আর সবচেয়ে কম পাস করেছে সিলেট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী বিভাগে পাসের হার সর্বোচ্চ ৯৯ ভাগ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে খুলনা বিভাগ। এখানে পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯৭ ভাগ।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ জন। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৭ লাখ ৯৭ হাজার ২৭৪ জন।
ইইসিতে পাস ৯৫.১৩ ভাগ : ইইসি পরীক্ষায় পাসের হার গত বছরের তুলনায় কমেছে। কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। চলতি বছর ইবতেদায়িতে পাসের হার ৯৫ দশমিক ১৩ ভাগ।
গত বছর এই হার ছিল ৯৫ দশমিক ৯৮। চলতি বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৪৭৩ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৪৪১ জন। অপরদিকে চলতি বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৫ হাজার ৪৭৩ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৪৪১। এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৩৪ জন।
যশোর বোর্ডে পাস, জিপিএ-৫ বেড়েছে : যশোর ব্যুরো থেকে ইন্দ্রজিৎ রায় জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে জেএসসির ফল ঘোষণা করেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র। তাতে দেখা যায়, এই বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই বেড়েছে। এ বছর পাসের হার ৯৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ৮৩১ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ৯৬ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১০ হাজার ৬৮৫ জন। চলতি বছর ২ লাখ ৯ হাজার ৮৩৮ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ লাখ ২৭৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ৮৩১ জন।
এদিকে যশোর জেলায় পিইসি পরীক্ষায় ৯৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর পাসের হার ছিল ৯৮.০৩ শতাংশ। ৪৬ হাজার ৩৭৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ হাজার ১০৭ জন পাস করেছে। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৬০১ জন।
রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৪৭ : রাজশাহী ব্যুরো জানায়, সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এ বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ৪৭ ভাগে। গত বছর এই হার ছিল ৯৫ দশমিক ৩২ ভাগ। বেড়েছে জিপিএ-৫। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জেএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল কালাম আজাদ। এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৫৪ জন। পাস করেছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫ হাজার ৮৩ জন। এবার শতভাগ পাস করা স্কুলের সংখ্যা ১ হাজার ৪১৫টি।
কুমিল্লায় পিএসসিতে পাস ৯৯.২৬ ভাগ : কুমিল্লা ব্যুরো জানায়, জেলায় পিইসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার শতকরা ৯৯.২৬ ভাগ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ১৬ হাজার ১৬৮। এবার ৪ হাজার ৬৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ২০ হাজার ৮৮৭ জন এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কুমিল্লা বোর্ডে এবার জেএসসিতে পাসের হার ৯২.৫১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৭৪৭ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থী বাড়লেও কমেছে পাসের হার ও শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী বেড়েছে। এ বছর ২ লাখ ৪১ হাজার ৫৪১ জন জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পাস করেছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৫৩ জন।
চট্টগ্রাম বোর্ডে জেএসসিতে বেড়েছে পাস : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, এ বোর্ডে জেএসসিতে পাসের হার বাড়লেও প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) এ হার কমেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন পিএসসি পরীক্ষার এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সচিব ড. পীযূষ দত্ত জেএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। জেএসসি পরীক্ষায় এবার পাসের হার শতকরা ৮৫ দশমিক ৪৮ ভাগ। আর জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ হাজার ২৬৮ জন। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তির সংখ্যা দুটিই বেড়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম জেলায় পিইসিতে পাসের হার কিছুটা কমলেও বেড়েছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। অন্যদিকে ইইসি পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটোই কমেছে। গতবছর পিইসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। যা এ বছর কমে দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ৩৬ শতাংশে। গতবছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৫১১ জন। যা এ বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৩৪ জনে। অন্যদিকে গত বছর ইইসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৯৩ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৬৯ জন। এবার এই পরীক্ষায় পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯০ জন।
বরিশালে জেএসসিতে কমেছে পাসের হার : বরিশাল ব্যুরো জানায়, টানা পাঁচ বার শীর্ষে থাকলেও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এবার জেএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে। তবে বেড়েছে জিপিএ-৫। এবারে পাসের হার ৯৭ দশমিক ২৬। যা গত বারের তুলনায় দশমিক ৬৬ ভাগ কম। জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ৩ হাজার ১৭৯টি বেড়ে এবার হয়েছে ১৩ হাজার ৪৪৬। গত বছর ৯৮ হাজার ৯৮২ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৯৪ হাজার ৪৬৬। পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৯২ ভাগ। যা ছিল সারা দেশের মধ্যে সেরা ফলাফল। বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাহ মুহাম্মদ আলমগীর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ফল প্রকাশ করেন।
এই বিভাগে পিইসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩০ ভাগ। ইইসিতে এ হার ৯৭ দশমিক ৮৫ ভাগ।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close