¦

এইমাত্র পাওয়া

  • হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ; নতুন ভোটার ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ জন
নতুন বই, নতুন স্বপ্ন ফুল হয়ে ফোটার

মুসতাক আহমদ | প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৬

বছরের প্রথম দিনে নতুন বই পেয়ে আনন্দে আত্মহারা স্কুল শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে তোলা ছবি -শামীম নূর

‘নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকে, ফুলের মতো ফুটব/বর্ণমালার গরব নিয়ে, আকাশজুড়ে উঠব।’ -এমন স্বপ্নের রং ছড়িয়ে শুক্রবার দেশব্যাপী হয়ে গেল পাঠ্যপুস্তক উৎসব। আগামী প্রজন্মকে আকাশজোড়া খ্যাতি অর্জনকারী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বছরের প্রথম দিন সারা দেশে লাখ লাখ কোমলমতি শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যবই দেয়া হয়েছে। প্রথম থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের পাঠ্যবই দেয়ার সপ্তম বছর পূর্ণ হল এবার। শীতের পরশমাখা স্নিগ্ধ সকালে হাতে পাওয়া নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকে এসব শিশু-কিশোর আনন্দে যেন বিহঙ্গের মতো পাখনা মেলেছিল আকাশে। নতুন বইয়ের মৌ মৌ গন্ধে আলোড়িত-উজ্জীবিত হয় তারা।
দুটি মন্ত্রণালয় এবারও পালন করেছে ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব’ দিবস। দুই মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রায় ৯৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এদিন উৎসবটি উদযাপিত হয়। এতে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের সঙ্গে শিক্ষক, মা-বাবা, অভিভাবক, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বই মুদ্রণে নিয়োজিতরাও যোগ দেন এ আনন্দ-উৎসবে।
অন্যান্য বছর বই উৎসবের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি একটি হলেও এবার হয়েছে দুটি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল মাঠে একটি অনুষ্ঠান হয়। অপরটি হয় রাজধানীরই মিরপুরে অবস্থিত ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। এটি আয়োজন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। উভয় অনুষ্ঠানেই শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা এবং রঙিন বেলুন উড়ানো হয়।
সকালে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল মাঠে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী বিস্তীর্ণ মাঠে মাদুর পাতা বিছানায় বসে আছে। তাদের হাতে ছিল রঙিন বেলুন। কারও কপালে বাঁধা লাল, কমলা, হলুদসহ বিভিন্ন রঙের ফিতে। অনেকের হাতে ছিল বাঁশি। মাঠের পশ্চিম প্রান্তে স্থাপন করা হয়েছিল বিশাল মঞ্চ। চারদিকে ছিল বর্ণিল সাজ। সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটে স্কুল অঙ্গনে প্রবেশ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। গেটের মুখে এবং প্রধান ভবনের সামনে তাকে দু’দফায় সামরিক কায়দায় অভিবাদন জানায় স্কুলের বিএনসিসির কর্মীরা। এভাবে এ উৎসবের শুরু। প্রধান অতিথি ছাড়া এতে বক্তৃতা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র পাল এবং বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সভাপতি শহীদ সেরনিয়াবাত। আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জনের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেয়া হয়। মন্ত্রীর হাত থেকে বই পেয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অগ্রণী গার্লস স্কুল ও কলেজের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ঝিনুক আহমেদ যুগান্তরকে জানায়, ‘অনুভূতি সীমাহীন। এই প্রতিক্রিয়া ভাষায় প্রকাশের মতো নয়। খুবই আনন্দ লাগছে।’
মঞ্চের সামনে ঢাকার ৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪ হাজার শিক্ষার্থী বসেছিল। তাদের হাতে ছিল নতুন বই। এসব বই ছিল যেন উনুন থেকে সদ্য নামানো ভাপা পিঠার মতো। মলাটে আর পাতায় পাতায় ছিল যার উত্তাপ। গরম গরম খেয়ে ফেলতে হবে, সে রকম এক ধরনের তাড়না লক্ষ্য করা যায় শিশুদের মধ্যে। আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল ও কলেজের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী খাদিজা আক্তার সুইটি আর মাইশা আক্তার মীম একটি বই নিয়ে উল্টেপাল্টে পড়ছিল। তারা যুগান্তরকে জানায়, নতুন বই আর নতুন পাঠের আনন্দ তাদের ব্যাকুল করে তুলেছে। এভাবে অনুষ্ঠানস্থলে বসে থাকা অনেক শিশুকে দেখা গেছে, বই হাতে পেয়েই খুলে বসেছে। কেউ পড়ছে বাংলার কবিতা বা গল্প। আবার কেউ খুলে বসেছে ইংরেজি বই। বিজ্ঞান ও গণিতও মেলে দেখেছে কেউ কেউ।
জমজমাট এ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা পরিবার ও জাতির জন্য আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এটা ঐতিহাসিক ঘটনা। পৃথিবীর আর কোনো দেশ এভাবে কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীকে বিনামূল্যে বই দিতে পারে না। আমি তোমাদের কথা ইউনেস্কো সম্মেলনে বলে এসেছি। আমি বলেছি, আমাদের তোমরা গরিব বলো। সেটা অর্থের। তা এখন কাটিয়ে উঠেছি। আমার দেশের ছেলেমেয়েরা মেধায় দরিদ্র নয়। তারা বিশ্বমানের। তারা এমনভাবে গড়ে উঠছে যে, তারা বিশ্ব জয় করতে সক্ষম।’ এ সময় তিনি বই মুদ্রণ, পরিবহন ও বিতরণে কত লোক জড়িত এবং কত শিক্ষার্থী কতটি বই পাচ্ছে সেই তথ্য তুলে ধরে বলেন, পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের কাজে দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োজিত ছিলেন। এবার সব বই ছাপতে মোট ৮৫ হাজার ৮০৯ মেট্রিক টন কাগজ ব্যবহৃত হয়েছে। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান ছিল ২৮৬টি।
অপরদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বেলা ১১টার দিকে মিরপুরের ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরেকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান উৎসবের উদ্বোধন করেন।
উৎসবের এই প্রাঙ্গণটিও কচিকাঁচাদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে। বর্ণিল পোশাকের শিশুদের সঙ্গে উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন শিক্ষক-অভিভাবকরাও। শিক্ষিকারা পরেছিলেন একই রঙের শাড়ি। শিশুরাও ছিল বর্ণিল সাজে। গোটা অনুষ্ঠানস্থল সাজিয়ে উৎসবময় পরিবেশের তৈরি করা হয়েছিল। উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী শিশুদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করেন। পরে চলে সঙ্গীত পর্ব।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে না পারলে জ্ঞানভিত্তিক জাতি গড়তে পারব না। এ কারণে আমাদের প্রধান লক্ষ্য শিশুদের পৃথিবীর যে কোনো স্থানে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো উপযোগী করে গড়ে তোলা। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। আমাদের সন্তানরা সেটা পারবে।
অনুষ্ঠানে মোতাহার হোসেন এমপি, কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব হুমায়ুন খালিদ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হচ্ছে। এর আগে অবশ্য পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হতো। এ বছর প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি বিদ্যালয়ের চার কোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার ৭২৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩৭৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ লাখ ৭৭ হাজার ১৫৪টি বিতরণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকের দুই কোটি ৪৫ লাখ ৭১ হাজার ৭৩১ শিক্ষার্থীর জন্য ১০ কোটি ৮৭ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৭টি ও ইবতেদায়িতে ২৭ লাখ তিন হাজার ৯৮৪ শিক্ষার্থীর জন্য এক কোটি ৯২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৫টি বই ছাপানো হয়েছে। মাধ্যমিকের এক কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১৮ শিক্ষার্থীর জন্য ১৬ কোটি ৩০ লাখ চার হাজার ৩৭৩টি, এসএসসি ভোকেশনালের এক লাখ ৮৭ হাজার ১৫৩ শিক্ষার্থীর জন্য ২২ লাখ ৭১ হাজার ৮৩৬টি এবং দাখিল ও দাখিল ভোকেশনালের ২৩ লাখ ৪৪ হাজার ৪৬৯ শিক্ষার্থীর জন্য তিন কোটি ৩৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭৯৭টি বই বিতরণ করা হচ্ছে।
এবার পর্যন্ত ৭ বছরে ২৬ কোটি দুই লাখ ২১ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৮৯ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৫টি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ছাপানো হয়। এর পেছনে মোট ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৪৮৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে ২০১৬ সালের নতুন পাঠ্যবই তুলে দিয়ে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব পাঠ্যবই এনসিটিবির ওয়েবসাইটে (www.nctb.gov.bd I www.ebook.gov.bd) ই-বুক ফর্মে দেয়া আছে। সেখান থেকে যে কেউ তা ডাউনলোড করতে পারবেন।
রাজধানীর বাইরে সারা দেশে বছরের প্রথম দিনটিতে পাঠ্যপুস্তক উৎসব হয়েছে। যুগান্তরের ব্যুরো অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে এ উৎসবকে ঘিরে শিশুদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার খবর পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম : যুগান্তরের ব্যুরো অফিস থেকে আহমেদ মুসা জানান, চট্টগ্রামে নতুন বছরের প্রথম দিনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমদ নগরীর নাসিরাবাদের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়, মিউনিসিপ্যাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মিউনিসিপ্যাল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বই তুলে দেন। জেলা প্রশাসকের হাত থেকে লাল-সবুজ ফিতায় বাধা নতুন বইয়ের সেট হাতে পেয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে শিশুরা। চারটি স্কুলেই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. দৌলতুজ্জামান খান। প্রথম দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে আরা। শেষের দুটি প্রতিষ্ঠানে ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা।
বরিশাল : ব্যুরো প্রধান আকতার ফারুক শাহিন জানান, সারা দেশের সঙ্গে বই উৎসবে মেতেছে বরিশালের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার ছুটির দিন হলেও বই উৎসবকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকাল ৯টা থেকে হাজির হতে থাকে। পরে সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন স্কুলে নতুন বই হাতে পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। নগরীর দোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআইজি হুমায়ুন কবির, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপপরিচালক মাহবুব এলাহী, পুলিশ সুপার আকতারুজ্জামান প্রমুখ। বেলা ১১টায় মুকুল স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসব উদ্বোধন করেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস। উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, সাদা মনের মানুষ বিজয় কৃষ্ণ দে প্রমুখ। হালিমা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান ও সরস্বতী বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক উৎসব উদ্বোধন করেন।
বগুড়া : ব্যুরো প্রধান নাজমুল হুদা নাসিম জানান, বগুড়ায় শুক্রবার উৎসবমুখর পরিবেশে স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে। বছরের প্রথমদিন হাতে নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বগুড়া জিলা স্কুল মিলনায়তনে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুফিয়া নাজিম, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আলী, বগুড়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক রমজান আলী আকন্দ, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে জেলা প্রশাসক ছাত্রছাত্রীদের হাতে বই তুলে দিয়ে উৎসব উদ্বোধন করেন।
এদিকে শহরতলির চাঁদমুহা সরলপুর উচ্চ বিদ্যালয়, শাজাহানপুরের গোহাইল শালিকা দাখিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণের আগে শিক্ষার্থীদের কাছে বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সিলেটে ফটোসেশন : সিলেট ব্যুরো জানায়, সারা দেশে বই উৎসব হলেও সিলেটে অধিকাংশ শিশুর আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। বছরের প্রথম দিনটিতে কোমলমতি শিশুরা নতুন বই পেতে খালি ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেয়। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকজনের হাতে বই তুলে দিয়ে ফটোসেশন করা হয়। বাকি শিশুদের বলা হয়, শনিবার থেকে বই দেয়া হবে। ফলে বই না পেয়ে খালি হাতে মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে যায় তারা।
 

প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close