¦

এইমাত্র পাওয়া

  • হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ; নতুন ভোটার ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ জন
বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে বেকায়দায় মন্ত্রী-এমপিরা

আবদুল্লাহ আল মামুন | প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৬

পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের সমর্থন করে বেকায়দায় রয়েছেন মন্ত্রী-এমপিরা। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা ভাবছে ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ড। এদিকে তাদের আশীর্বাদেও এসব বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর ভরাডুবি রোধ হয়নি। পরাজিত হয়ে ছিটকে পড়েছেন। নির্বাচনের আগে এসব মেয়র প্রার্থী নিজেদের অধিকতর যোগ্য দাবি করলেও ভোটের ফলে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এসব পৌরসভায় বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যানের বিষয়টিকে সরাসরি মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে অনাস্থা বলে মনে করছেন শাসক দলের নেতাকর্মীরা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জনগণ তাদেরও ছুড়ে ফেলবে বলেই তারা মনে করেন।
দফায় দফায় হুশিয়ারি, কারণ দর্শাও নোটিশ ও বহিষ্কারের ঘোষণা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬৮ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী তথা স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী। এর মধ্যে মাত্র ১৫ জনের গলায় জয়ের মালা উঠেছে। বাকিরা পরাজিত হয়েছেন। পরাজিতদের রাজনৈতিক ভাগ্য বিপর্যয়ের আশংকা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এমনকি বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের মদতদাতা মন্ত্রী-এমপিদেরও ভাগ্য বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দায়িত্বশীল সূত্র।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীরা পরাজিত হবেন এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের পেছনে থেকে যেসব নেতা মদত দিয়েছেন, তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্রোহী প্রার্থী নয়, তাদের সমর্থক মন্ত্রী-এমপিদের স্থানীয় জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আসলে তা নয়, নৌকার বিপক্ষে গিয়েই বিদ্রোহীদের ভরাডুবি হয়েছে।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের মদত দেয়া নিয়ে আলোচনায় ছিলেন পাবনায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ও সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স। দিনাজপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, সিরাজগঞ্জে সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন, জামালপুরে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, নীলফামারীর সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা, গাইবান্ধার আলোচিত সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটন ও চট্টগ্রামে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। তারা আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিরোধিতা করেন। মন্ত্রী-এমপির আশীর্বাদ ছিল বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি। এসব পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পাশাপাশি বিএনপির মেয়র প্রার্থীরাও ভালো ফলাফল করেছেন।
পাবনা সদর পৌরসভায় মেয়র পদে প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান তসলিম হাসান সুমন। এক ঘণ্টার মধ্যে এ মনোনয়ন পরিবর্তন করে দেয়া হয় রাকিব হাসান টিপুকে। টিপু আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মন্ত্রীর সমর্থক বলে পরিচিত। এখানে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতা কামিল হোসেন। জনশ্রুতি রয়েছে কামিল হোসেনের প্রতি আশীর্বাদ ছিল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এবং সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্সের। তারা সরাসরি কোনো সমর্থন না জানালেও বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর প্রতি তাদের আশীর্বাদ ছিল বলে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড মনে করে। এখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত বা বিদ্রোহী স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থীই জয়ের মুখ দেখতে পারেননি। জয়ী হয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কামরুল হাসান মিন্টু।
দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছিলেন শাহজাহান আলী সরকার পুতু। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের ভাই খাজা মইনউদ্দিন। এ পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র গোলাম মর্তুজা মানিক।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান সাবেক মেয়র হালিমুল হক মিরু। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাসের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এখানে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহিম। আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড মনে করে আবদুর রহিমকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন। তবে এই পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হালিমুল হক মিরুই মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করেছে সেখানকার ভোটাররা।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন শাহনেওয়াজ শাহেনশা। এ মনোনয়ন মেনে নিতে পারেননি জামালপুর-১ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এবং সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। তিনি মেয়র হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন তার ভাতিজা নুরুন্নবী অপুকে। নিজের আত্মীয়-স্বজন ও অনুসারী দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে নামান ভাতিজার পক্ষে। কিন্তু আবুল কালাম আজাদের প্রতি আস্থা রাখতে পারেননি স্থানীয় জনগণ। দলীয় প্রার্থীকেই জয়ী করেছেন তারা। চট্টগ্রামের রাউজানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান দেবাশীষ পালিত। কিন্তু তাকে মেনে না নিয়ে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন মীর মুনসুর আলম। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সরকারি দলের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছিল মুনসুর আলমের প্রতি। কিন্তু এখানেও আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী দেবাশীষ পালিত জয়ী হয়েছেন।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। তার সঙ্গে স্থানীয় আলোচিত সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বিরোধ ছিল। এ কারণে লিটন বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেন। লিটনের অনুসারী নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর হয়ে কাজও করেন। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী দুই মেয়র প্রার্থীই ধরাশায়ী হন। জয়ের মালা গলায় পরেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী।
উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীর জলঢাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছিলেন আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুর। এই মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হন আওয়ামী লীগ নেতা ইলিয়াস হোসেন বাবলু। এ বাবলুর প্রতি সরকারদলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফার সমর্থন ছিল বলে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড মনে করে। শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এখানেও জয়ী হয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close