¦

এইমাত্র পাওয়া

  • হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ; নতুন ভোটার ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ জন
মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৬

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ২০১৫ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল ‘উদ্বেগজনক’। ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৫ : আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পর্যালোচনা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বেসরকারি এ সংগঠনটি। শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয় এ প্রতিবেদন।
আসকের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমাদের পর্যালোচনা বলছে, মানবাধিকার পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতি না ঘটলেও উন্নতি ঘটছে না। আর এর মূল কারণ হচ্ছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি।’ তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশায় জনগণের মনে দোদুল্যমানতা দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বিবেচনায় আনতে হয়; একটি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার এবং অপরটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার।’ জাতীয় সংবাদমাধ্যম ও আসকের তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি করা এ প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সুলতানা কামাল বলেন, ‘২০১৫ সালের মানবাধিকারের দ্বিতীয় সূচক অর্থাৎ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখা গেলেও বছরের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক।’
এ বিষয়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মানব পাচার ও অভিবাসী শ্রমিক, মুক্তমনা লেখক ও প্রকাশকদের হত্যাকাণ্ড, ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারী নির্যাতন, সীমান্ত হত্যা, শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক নির্যাতন ও আদিবাসীদের অধিকার লংঘনসহ এ ধরনের বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।
২০১৫ সালের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২০১৫ সালে সালিশ ও ফতোয়ার মাধ্যমে নারী নির্যাতনের সংখ্যা কমেছে। কমেছে এসিড নিক্ষেপের মতো ঘটনাও। তবে বেড়েছে শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা। ২০১৫ সালে সালিশ ও ফতোয়ার মাধ্যমে দেশে ১২ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৩২। আর এসিড নিক্ষেপের ঘটনা বিগত বছরের তুলনায় কমেছে। ২০১৫ সালে ১৫ জন নারী এসিড-সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। ২০১৪ সালে যে সংখ্যা ছিল ৪৮। তবে বছরের মাঝামাঝিতে শিশু নির্যাতনের মাত্রা বেড়েছিল। নির্যাতনের মাত্রা ও ধরনে ছিল চরম নিষ্ঠুরতা। ৮ জুলাই সিলেটে শিশু রাজন, ৩ আগস্ট খুলনায় শিশু রাকিব এবং ২ অক্টোবর গাইবান্ধায় সংসদ সদস্যের হাতে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র সৌরভ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দেশব্যাপী নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় ওঠে। ২০১৫ সালের প্রথম দেড় মাসে হরতাল-অবরোধে সহিংসতায় নিহত হয়েছে ১১ শিশু ও আহত হয় ১২। আসকের হিসাবে, ২০১৫ সালে হত্যা করা হয় ১৩৩ শিশুকে। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯০।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পর্যন্ত মোট ২১টি যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় প্রদান করেছেন। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে ৫টি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালে ৩টি মামলার রায় কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া একাত্তরের ৪১ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান সরকারের প্রশংসিত সিদ্ধান্ত ছিল। প্রতিবেদনে গণপিটুনির তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২০১৫ সালে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে। ২০১৪ সালে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয় ১২৩ জনকে। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৫ জন। ২৩ ফেব্র“য়ারি রাজধানীর কাজীপাড়ায় তিন তরুণ গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও আসকের অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই এলাকায় গণপিটুনির কোনো ঘটনা ঘটেনি। আসক মনে করে, জনগণের হাতে আইন তুলে নেয়ার এসব ঘটনা মানবাধিকারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরপূর্তিকে কেন্দ্র করে বিএনপির মহাসমাবেশে সরকারের বাধা এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের লাগাতার অবরোধ কর্মসূচিতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডকে প্রতিবেদনে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়। প্রতিবেদনে সহিংসতা দমনে বিরোধীপক্ষকে সরকারের ‘দমন-পীড়ন’রও সমালোচনা করা হয়েছে। আসকের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালে ৮৬৫টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে মারা গেছেন ১৫৩ জন আর আহত হয়েছেন ছয় হাজার ৩১৮ জন।
সাংবাদিক হয়রানি : ২০১৫ সালে সারা দেশে ২৪৪ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে সন্ত্রাসীর হাতে খুন হয়েছেন দু’জন। প্রকাশিত সংবাদের জন্য মামলার শিকার হয়েছেন ১০ জন। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নির্যাতন, হুমকি, হয়রানি বা মামলার শিকার হয়েছেন ১৮ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের হাতে হামলা, হুমকি, নির্যাতন, হয়রানির শিকার হয়েছেন ৪৪ জন আর বিএনপির হাতে দু’জন। সিটি ও পৌর নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ভয়ভীতি, হামলা ও বাধার শিকার হয়েছেন ৩৬ জন। প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন ২২ জন। এ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০৪টি বাসস্থান ও ছয়টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ এবং ২১৩টি প্রতিমা, পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৬০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ২০১৫ সালে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩২ জন। নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৭৩ জন। অপহরণের শিকার হয়েছেন ৫৯ জন। আর অপহরণের পর বিজিবির মধ্যস্থতায় ফিরে এসেছেন ৩১ জন।
আসকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, একটি দেশে যখন মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি গেঁড়ে বসে তখন জনগণের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এ ব্যাপারটা খুবই অ্যালার্মিং। সরকারের উচিত মানবাধিকারের একটি সর্বজনগ্রাহ্য মান বজায় রাখা। কিন্তু আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করি, ক্ষমতাসীনরা আগের সরকারের সমালোচনা করে তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। অন্যদিকে বিরোধী দলও কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন না করে শুধু সরকারের সমালোচনা করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করছে। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রবণতা কাটিয়ে ওঠে সরকার ও বিরোধী দলসহ সব পক্ষকেই মানবাধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রথম পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close