jugantor
৫ মাসে এডিপির বাস্তবায়ন মাত্র ১৭ শতাংশ

  যুগান্তর রিপার্ট  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৫ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিুে নেমেছে। জুলাই থেকে নভেম্বরে মোট বরাদ্দের মাত্র ১৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২০ শতাংশ, তার আগের বছর ছিল ১৯ শতাংশ। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

বুধবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব, বিভাগের সদস্যরা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বৃষ্টির কারণে বছরের প্রথম তিন মাস কোনো কাজই করা যায়নি। কিন্তু জানুয়ারির মধ্যে কাজের অগ্রগতি হবে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের যে বরাদ্দ তা পুরোপুরি ব্যয় করা সম্ভব হবে। এটা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থবছরের ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও ৮ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিল্প ও খাদ্য মন্ত্রণালয় ৩ শতাংশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ১ শতাংশ। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ৫ শতাংশ। এছাড়া ৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের বরাদ্দে ১০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে, নির্বাচন কমিশন ৯ ভাগ, অর্থ বিভাগ ৯ ভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৬ ভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৯ ভাগ অর্থ ব্যয় করেছে।

সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোও এডিপি বাস্তবায়নে গতি কম। যদিও এর আগে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পরিকল্পনামন্ত্রী। বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি না আসার কারণ জানতে চান পরিকল্পনামন্ত্রী। পরবর্তীতে উন্নয়নে গতি আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে জোর তাগিদ দেন তিনি। কিন্তু তাতেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

তথ্য অনুসারে, সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ১৮ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে। এর পর স্থানীয় সরকার বিভাগ মোট বরাদ্দের ২৭ শতাংশ, সেতু বিভাগ ১৩ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১৪ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়গুলোর বরাদ্দের অর্থ কাক্সিক্ষত হারে ব্যয় করতে পারলে এডিপি বাস্তবায়নের গতি বেড়ে যাবে। চলতি বছর থেকে এডিপি বাস্তবায়নের গতি বাড়বে বলে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু এডিপি বাস্তবায়নে গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।

জানা গেছে, ৫ মাসে ৫৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে এডিপি বরাদ্দের মধ্যে খরচ হয়েছে ১৬ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে এডিপির মোট আকার সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নসহ প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। যার মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৬২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তার অংশে ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের পরিমাণ ৩ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা।


 

সাবমিট

৫ মাসে এডিপির বাস্তবায়ন মাত্র ১৭ শতাংশ

 যুগান্তর রিপার্ট 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৫ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার ৩ বছরের মধ্যে সর্বনিুে নেমেছে। জুলাই থেকে নভেম্বরে মোট বরাদ্দের মাত্র ১৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২০ শতাংশ, তার আগের বছর ছিল ১৯ শতাংশ। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

বুধবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব, বিভাগের সদস্যরা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বৃষ্টির কারণে বছরের প্রথম তিন মাস কোনো কাজই করা যায়নি। কিন্তু জানুয়ারির মধ্যে কাজের অগ্রগতি হবে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের যে বরাদ্দ তা পুরোপুরি ব্যয় করা সম্ভব হবে। এটা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থবছরের ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও ৮ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিল্প ও খাদ্য মন্ত্রণালয় ৩ শতাংশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ১ শতাংশ। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ৫ শতাংশ। এছাড়া ৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের বরাদ্দে ১০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে, নির্বাচন কমিশন ৯ ভাগ, অর্থ বিভাগ ৯ ভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৬ ভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৯ ভাগ অর্থ ব্যয় করেছে।

সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোও এডিপি বাস্তবায়নে গতি কম। যদিও এর আগে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পরিকল্পনামন্ত্রী। বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি না আসার কারণ জানতে চান পরিকল্পনামন্ত্রী। পরবর্তীতে উন্নয়নে গতি আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে জোর তাগিদ দেন তিনি। কিন্তু তাতেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

তথ্য অনুসারে, সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ১৮ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে। এর পর স্থানীয় সরকার বিভাগ মোট বরাদ্দের ২৭ শতাংশ, সেতু বিভাগ ১৩ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১৪ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়গুলোর বরাদ্দের অর্থ কাক্সিক্ষত হারে ব্যয় করতে পারলে এডিপি বাস্তবায়নের গতি বেড়ে যাবে। চলতি বছর থেকে এডিপি বাস্তবায়নের গতি বাড়বে বলে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু এডিপি বাস্তবায়নে গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।

জানা গেছে, ৫ মাসে ৫৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে এডিপি বরাদ্দের মধ্যে খরচ হয়েছে ১৬ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে এডিপির মোট আকার সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নসহ প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। যার মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৬২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তার অংশে ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের পরিমাণ ৩ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র