¦
ওহি থেকে বহি বহি থেকে বই

মুনীরুল ইসলাম | প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

বই মানুষের অবসরের সঙ্গী। কথা বলার উত্তম বন্ধু। পৃথিবীতে বই-ই একমাত্র বন্ধু যার সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলা যায়, কিন্তু কোনো ঝগড়াঝাটি কিংবা কথা কাটাকাটি হয় না। জ্ঞানার্জনের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে বই। বই মানুষের মনের খোরাক জোগায়। বই পাঠ ছাড়া মানুষ সত্যিকারার্থে সফলতার আলোয় আলোকিত হতে পারে না। বই পড়লে মস্তিষ্ক চিন্তা করার খোরাক পায়, সৃষ্টি করার যোগ্যতা বাড়ে এবং জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়। বই পড়লে মানুষ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক মনস্ক হয়ে ওঠে। পৃথিবীতে যারা জগদ্বিখ্যাত সফল মানুষ হয়েছেন, তারা বই পড়েই বড় হয়েছেন। পৃথিবীর যে কোনো বরেণ্য মনীষীর জীবনী পড়লে আমরা এমনটিই জানতে পারি।
‘বই’ দুই বর্ণের এই শব্দটি এসেছে আরবি ‘ওহি’ শব্দ থেকে। আরবি ‘ওয়াও’ হরফের বাংলা উচ্চারণ হয় ‘ব’। ওহির বাংলা উচ্চারণ হয় বহি। ধীরে ধীরে ভাষার পরিবর্তনে বহিটি বই রূপ ধারণ করেছে। এভাবে বইয়ের সঙ্গে ঐশী জ্ঞানের একটা সম্পর্ক রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন বিষয়ে মতান্তরে ৬৬৬৬ আয়াত নাজিল করেছেন। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ আয়াতই হচ্ছে পাঠ করা কিংবা জ্ঞানার্জন সম্পর্কে। সূরা আলাকের সেই আয়াতগুলোর অর্থ হচ্ছে, ‘পড়–ন আপনার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত থেকে। আর আপনার প্রভু অনেক সম্মানিত ও দানশীল। যিনি মানুষকে কলমের সাহায্যে শিক্ষা
দিয়েছেন। তিনি মানুষকে এমন সব বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না।’
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের অন্তত ৯২ জায়গায় জ্ঞানচর্চা-গবেষণার প্রসঙ্গ এনেছেন। ‘আল কোরআন’ শব্দটির একটি অর্থও হল ‘অধ্যয়ন’। পাঠের প্রতি উৎসাহ দিয়ে আল্লাহ তাআলা কোরআনের আরেক জায়গায় বলেন, ‘যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?’
বই পাঠের গুরুত্ব বোঝাতে বিভিন্ন দেশের দার্শনিক মনীষীগণ অনেক মূল্যবান উক্তি করেছেন। ওমর খৈয়াম বলেন, ‘রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে, কিন্তু একটি বই অনন্ত যৌবনা- যদি তেমন বই হয়।’ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘আমাকে মারতে চাইলে চাকু ছুরি কিংবা কোনো পিস্তলের প্রয়োজন নেই, বরং আমাকে বইয়ের জগৎ থেকে দূরে রাখ।’ নর্মান মেলর বলেন, ‘আমি চাই যে, বই পাঠরত অবস্থায় যেন আমার মৃত্যু হয়।’ টলস্টয় বলেন, ‘জীবনে তিনটি জিনিস খুবই প্রয়োজন, তা হল বই, বই এবং বই।’
কিন্তু বর্তমানে মানুষ বই পড়তে চায় না। একটা সময় ছিল উৎসবে উপহার হিসেবে বইয়ের কদর ছিল সবচেয়ে বেশি। মধ্যবিত্ত পরিবারে এক আলমারি বই ড্রয়িংরুমের শোভা বাড়াত। মা-বাবারাও কোনো উৎসবে তাদের সন্তানদের বই উপহার দিতেন। এতে করে ছোটবেলা থেকেই শিশুরা পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি অন্য বই পড়ার ব্যাপারেও আগ্রহী হয়ে উঠত। এখন আর তেমনটি চোখে পড়ে না। তার জায়গা এখন দখল করে নিয়েছে বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন, আইপ্যাড, ল্যাপটপসহ আরও অনেক কিছু। উন্নত বিশ্বে দেখা যায়- ট্রেনে, বাসে, স্টেশনে যেখানেই সময় পাচ্ছে, তারা বই পড়ছে। সেখানে বড় বড় শপিং মলে নানা ধরনের শোরুমের পাশাপাশি বইয়েরও মনকাড়া শোরুম থাকে।
শিশু-কিশোরদের পাঠাভ্যাস কমে যাওয়ার পেছনে আরেকটি কারণ হল আমরা পাঠ্য বইয়ের বাইরে কোনো বই আমাদের সন্তান কিংবা ছাত্রদের পড়তে দিতে চাই না। পড়াশোনার ক্ষতির কথা বলে তাদের বই কেনা থেকে বিরত রাখা হয়। এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে এসে ছোটবেলা থেকেই তাদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
শেষ কথা হল, পবিত্র কোরআনের প্রথম বাণী যেহেতু ইকরা বা পড়, এ আদেশের প্রাথমিক পঠিতব্য বিষয় হল আল-কোরআন। অতএব কোরআনই হবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মূল ও কেন্দ্র্রীয় পাঠ্যসূচি। বরং চরিত্র গঠনমূলক,
আলোকিত মানুষ গড়ার মতো পৃথিবীর সব বই-ই আমাদের পড়তে হবে।
 

ইসলাম ও জীবন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close