¦
ভোট আমানত কোথায় প্রয়োগ করবেন

মাহমুদ আহমদ | প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৫

ক’দিন পরেই ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোট যেহেতু একটি আমানত তাই গণতন্ত্রের নামে এ পবিত্র আমানতকে আমরা যথাযোগ্য স্থানে প্রয়োগ করছি কি না এ বিষয়ে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। দেখা যায় প্রায় সবার মন্তব্য একটাই আর তা হল ভালো এবং যোগ্য লোক কোথায় খুঁজব, যেহেতু ভোট দিতে হবে তাই দিচ্ছি। এ ছাড়া যারা যে দলের সাপোর্ট করে তারা সাধারণত তাদের দলীয় লোককেই ভোট দিয়ে থাকেন, এখন সে যোগ্য হোক বা না হোক এটা দেখেন না কেউ। এ বিষয়ে ২৭ নং ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘দেখুন অনেকেই সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং সবাই এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্র“তি দিচ্ছে অথচ আজ পর্যন্ত আমি দেখিনি কথা দিয়ে নির্বাচনের পর তাদের কথা রাখতে। ভোট যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাই দল চিন্তা না করে যোগ্য ব্যক্তিকে খুঁজছি কাকে ভোট দেয়া যায়।’ এ বিষয়ে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত মোহাম্মদ কাশেম আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমার ভোট কাকে দেব এ বিষয় নিয়ে আমি খুব চিন্তিত। বর্তমান সৎ ও যোগ্য লোকের বড়ই অভাব। ভোটের আগে সবাই খুব ভালো কথা বলে কিন্তু ভোটের পর আর কাউকে এলাকায় আসতে দেখা যায় না। এলাকার সমস্যাগুলোর সমাধানে কেউ আর এগিয়ে আসে না।’
ভোটাধিকার গণতন্ত্রের প্রাণ এবং এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার ক্ষুণ্ণ করা আইন ও সংবিধানের সুস্পষ্ট লংঘন। মহান আল্লাহতায়ালা ভোটকে আমাদের ওপর বিশেষ এক আমানত হিসেবে ন্যস্ত করেছেন। আমরা যদি আমাদের ওপর অর্পিত এ আমানতকে মর্যাদা না দিই এবং যথাস্থানে প্রয়োগ না করি তাহলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের আমানতগুলো যোগ্য ব্যক্তিদের ওপর ন্যস্ত করার আদেশ দিচ্ছেন। আর তোমরা যখন শাসন কাজ পরিচালনা কর তোমরা মানুষের মাঝে ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে শাসন করবে। নিশ্চয় আল্লাহর উপদেশ কতই চমৎকার’ (সূরা নিসা : ৫৮)। শাসন ক্ষমতা বা কর্তৃত্বকে এ আয়াতে জনগণের আমানত বলা হয়েছে। আর এ আমানতের অধিকর্তা হল জনগণ, কোনো ব্যক্তি, বাদশা বা বংশবিশেষ নয়। পবিত্র কোরআন কোনো নির্দিষ্ট বংশের মাধ্যমে দেশ শাসন বা বংশানুক্রমিক শাসন ক্ষমতা প্রয়োগ সমর্থন করে না বরং এর বিপরীত জনগণের প্রতিনিধি দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনাকেই অনুমোদন করে। রাষ্ট্রের প্রধান হবেন নির্বাচিত ব্যক্তি আর সেই পদে নির্বাচনের জন্য সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তিকে ভোটদানের নির্দেশ ইসলামে দেয়া হয়েছে। তবে ‘ইসলাম পদের আকাক্সক্ষা করতে নিষেধ করেছে’। উপরে বর্ণিত আয়াতে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধানগণকে এবং শাসন কার্যে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশই দেয়া হয়েছে, তারা যেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণতা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নিজেদের কর্তৃত্বের সদ্ব্যবহার করেন।
দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য সর্বাধিক যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচন করা খুব প্রয়োজন। এটি এমন একটি বিষয়, আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে এ বিষয়ের প্রতি মোমেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং বিস্তারিত বর্ণনা করে বলেছেন, কি ধরনের নেতা নির্বাচন করা উচিত। এ আয়াতে প্রথম দায়িত্বটি হল ভোটারদের, অর্থাৎ পদ একটি আমানতের জন্য ভোটারদের দৃষ্টিতে যে ব্যক্তি সর্বোত্তম তার পক্ষে ভোট দেয়ার শিক্ষাই ইসলাম প্রদান করে। সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেয়া যেমন অধিক পুণ্যের কাজ, তেমনি অসৎ, অনুপযুক্ত, দুষ্কৃতকারী কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেয়াও শক্ত গুনাহের কাজ। পবিত্র কোরআনে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়াকে যেমন হারাম জ্ঞান করা হয়েছে, তেমনি সত্য সাক্ষ্য দেয়াকে ওয়াজিব করেছে। ভোট একটা সত্য সাক্ষ্য। আর এ সত্য সাক্ষ্যকে গোপন করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। মোমেনদের মধ্যে যারা রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় নেতৃত্বের আমানতের বোঝা বহন করার অধিকতর যোগ্য, তাদের হাতেই এ আমানত অর্পণ করার শিক্ষা ইসলাম আমাদের দেয়।
ইসলামে আমানতের খেয়ানতকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। যেমন পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে, ‘তোমাদের কেউ যদি অন্যের কাছে আমানত রাখ তাহলে যার কাছে আমানত রাখা হয়েছিল সে যেন অবশ্যই তার আমানত চাওয়া মাত্র ফিরিয়ে দেয়’ (সূরা বাকারা : ২৮৩)। আরও বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ চুক্তিভঙ্গকারীদের পছন্দ করেন না’ (সূরা আনফাল : ৫৮)। যারা সৎ তারা কখনও তাদের আমানতের খেয়ানত করে না। যেভাবে কোরআনে উল্লেখ আছে, ‘তাদের কথা ভিন্ন যারা তাদের কাছে গচ্ছিত আমানত এবং তাদের অঙ্গীকার সম্পর্কে যত্নবান থাকে’ (সূরা মাআরিজ : ৩২)।
ভোট আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে এমন একটি আমানত যার সম্পর্কে আল্লাহপাক বলেছেন, ‘তুমি তোমার আমানত যোগ্য ব্যক্তিকে প্রদান কর’। তাই আল্লাহ প্রদত্ত এ আমানতকে যদি আমরা যথাযথ স্থানে প্রয়োগ না করি তাহলে তা হবে খেয়ানতের তুল্য আর এ জন্য আমাদের জিজ্ঞাসিত হতে হবে। রাসূলেপাক (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাবধান হও! তোমরা প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’। তাই ঈমানের সঙ্গে যোগ্য ব্যক্তির কাছে এ আমানতকে হস্তান্তর করতে হবে। আমাদের দেখতে হবে যাকে আমরা ভোট দিতে যাচ্ছি তিনি কি এর যোগ্য কি না বা এ আমানতের ভার বহন করার মতো শক্তি তার মাঝে আছে কি না। এমন যেন না হয়, এ ব্যক্তিকে আমি পছন্দ করি বা অমুক আমার প্রিয়জন তাকে ভোট দেব। আল্লাহতায়ালা শুধু শাসকদেরই জবাবদিহি করবেন না যে, তুমি সঠিক কাজ করোনি কেন? বরং ভোটারদেরও এই বলে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাকে যে ভোটাধিকার দেয়া হয়েছিল তুমি তার সঠিক প্রয়োগ কেন করোনি? হায় মানুষ! আল্লাহপাকের আমানতকে সঠিকভাবে কাজে না লাগিয়ে আমরা ধোঁকাবাজি শুরু করেছি। অর্থ বা দলের স্বার্থে অযোগ্যের হাতে আমানত ন্যস্ত করছি আর এর ফলে ভোট আসে ভোট যায় কিন্তু এলাকার কোনো উন্নতি হয় না। ভোটের পর কেউ কাউকে চিনে না। এলাকায় মাদক, সন্ত্রাসী, চুরি, ছিনতাই, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সমস্যা সব কিছুই বছরের পর বছর থেকে যায় কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা আর কারো খোঁজ নেয় না, জনগণ যে আমানত তার ওপর ন্যস্ত করেছে সে আমানতের খেয়ানত সে করে বসে। আমাদের জনপ্রতিনিধিরা যদি আমানতের বিষয়টি বুঝত তাহলে এ সমাজে থাকত না কোনো অপরাধ, থাকত না কোনো অশান্তি এবং হানাহানি।
[email protected]
 

ইসলাম ও জীবন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close