¦
শৈশব থেকে ধর্মীয় শিক্ষা

মাহমুদ আহমদ | প্রকাশ : ০৮ মে ২০১৫

ফজরের নামাজ শেষে জানালা খোলা মাত্রই যে দৃশ্যটি চোখে পড়ে তা হল পিতা-মাতা কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাদের আদরের সন্তানদের হাত ধরে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছেন। আর এটা সবার প্রতিদিনের রুটিন। অপরদিকে গত ছয় মাসে আমার চোখে এমনটি পড়েনি কোনো পিতা-মাতা তার আদরের সন্তানকে হাত ধরে মাথায় টুপি পরিয়ে মাদ্রাসায় বা মসজিদে দ্বীন শিক্ষার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। আসলে আমরা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। সন্তানের বয়স যখন ৩-৪ হয়ে যায় তখন থেকেই আমরা ভাবতে থাকি আমার সন্তান বড় হয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা সরকারি বড় কর্মকর্তা হবে আর লাখ লাখ টাকা উপার্জন করবে। তাই ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করে সে কী পাবে বা আমাদেরই বা কী উপকার হবে! যার ফলে শিশুদের কোরআনি শিক্ষায় শিক্ষিত না করে শুধু আধুনিক শিক্ষা দেয়ার জন্যই সবাই ব্যস্ত। আমার এ কথার এটা উদ্দেশ্য নয় যে, আমরা আমাদের সন্তানকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করব না। আমাদের সন্তানরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ সবই হবে তবে তা হবে কোরআনের আলোয় আলোকিত হয়ে। তার মাঝে ধর্মের জ্ঞানও থাকবে আবার জাগতিক জ্ঞানও থাকবে।
সে প্রত্যহ কোরআনও পড়বে, নামাজও নিষ্ঠার সঙ্গে আদায় করবে, দ্বীনি শিক্ষাও লাভ করবে আবার জাগতিক শিক্ষাও অর্জন করবে। আর সন্তানকে এসব শেখাতে হবে একেবারেই শৈশব থেকে। শৈশবে আমাদের সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেই না বলেই তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছি, কারণ যেহেতু শৈশবে তাদের উত্তম ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয়নি তাই এ সন্তানটিই হয়তো বড় হয়ে আপনার, আমার এবং দেশের জন্য অশান্তির কারণ হবে। দিনের পর দিন আমাদের সন্তানরা কেন এত খারাপ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। সমাজে যারা নানা অপকর্মে লিপ্ত তাদের সম্পর্কে যদি আমরা একটু খোঁজ নিয়ে দেখি তাহলে দেখতে পাব তাদের পিতা-মাতা তাদের সেভাবে গাইড করেননি, সন্তানরা কোথায় যায়, কাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে এসবের কোনো খেয়ালই রাখা হয় না। সন্তানদের সম্পর্কে কোনো চিন্তা নেই বলেই তাদের মাধ্যমেই আজ সংগঠিত হচ্ছে যত ধরনের ঘৃণ্য অপকর্ম। আমরা যদি আমাদের সন্তান সম্পর্কে সচেতন থাকি এবং উত্তম তরবিয়ত প্রদান করি তাহলে সেই সন্তানের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয় কারও ক্ষতি করা।
আমরা দেখতে পাই যারা ধার্মিক তাদের সন্তানদের তারা চান ধর্মের আলোয় আলোকিত করতে কিন্তু যারা ধার্মিক নন তাদের সন্তানরাই নানা পাপ কাজে বেশি জড়িয়ে পড়ে। সাধারণত কোনো এলাকায় মহামারী ছড়িয়ে পড়ছে এ খবর শুনলে আমরা নিজেদের রক্ষার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়ি কিন্তু আজ সমাজে আধ্যাত্মিক ব্যাধি মহামারীর রূপ নিচ্ছে এ থেকে রক্ষার জন্য কি আমাদের পরিকল্পনা ও যথাযথ পদক্ষেপ আবশ্যক নয়?
সন্তান ভালো হবে না খারাপ হবে তা নির্ভর করে পিতা-মাতার ওপর। সন্তান যে পরিবেশে বড় হবে তা-ই সে শিখবে। পিতা-মাতা যদি আদর্শবান হয় এবং ধর্মীয় নিয়ম-কানুন অনুযায়ী চলেন এবং সন্তানকে সুশিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলেন তাহলে সন্তান অবশ্যই ভালো হবে। আল্লাহতায়ালা এ পৃথিবীতে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দিয়ে থাকেন পরীক্ষা করার জন্য। অনেককে আল্লাহতায়ালা প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেন ঠিকই কিন্তু সেই ধন-সম্পত্তির সঠিক ব্যবহার না করার ফলে দেখা যায় সে ধ্বংস হয়ে যায়। আবার কাউকে সন্তান-সন্তুতি দেন ঠিকই কিন্তু তাদের সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত না করার ফলে সে সন্তান তার জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। জীবন-বিধান আল কোরআনের সূরা কাহাফের ৪৬ আয়াতে বলা হয়েছে, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দুনিয়ার সৌন্দর্য। সন্তান-সন্তুতি যদি আদর্শ চরিত্রের না হয় তাহলে তা হয় মা-বাবার জন্য পরীক্ষার কারণ-দুঃখের বোঝা। আর এজন্যই আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে মুমিনদের হুশিয়ার করে বলেছেন, আর জেনে রাখ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি পরীক্ষার কারণ (সূরা আনফাল : ২৮)। আরও বলা হয়েছে, হে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে আগুন থেকে বাঁচাও (সূরা তাহরিম : ৬)। দেখা যায় একই বীজ উন্নত মাটি না পেলে অঙ্কুরিত হলেও চারাগাছে রূপান্তরিত হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যায়। একইভাবে কোনো শিশু ভালো পরিবারে জন্ম নিলেও সমাজ ও পরিবেশ উন্নত না পেলে, পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে সেও নষ্ট হয়ে যায়।
তাই প্রত্যেকের কর্তব্য সে যেন কেবল নিজে ভালো হওয়ার চেষ্টা না করে বরং পরিবারের সবাইকে পুণ্যবান-মুত্তাকি করে গড়ে তোলে। সব ধরনের পাপ ও খারাপ থেকে বাঁচার জন্য তাদের সঠিকভাবে শিক্ষা দেয়। আমরা যদি সন্তানদের প্রকৃত ধর্মের শিক্ষায় লালিত-পালিত করি তাহলে পরিবার, সমাজ, জাতি, দেশ সর্বত্রই শান্তি বিরাজ করবে এটা নিশ্চিত। সন্তানদের যদি আমরা উত্তম শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলি তাহলে এ দেশে থাকবে না কোনো সন্ত্রাসী, থাকবে না কোনো চোর-ডাকাত, হতে পারে না কোনো মারামারি আর কাটাকাটি। এক কথায় বলা যায়, সব ধরনের অরাজকতা থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি। আর এ জন্যই ঘরকেই বলা হয়েছে শিক্ষার সূতিকাগার। আজ আমরা দেখতে পাই সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠিয়ে দিয়েই আমরা নিশ্চিন্তে বসে থাকি, খোঁজ নেই না, আমার সন্তান কি ঠিকভাবে ক্লাস করছে, নাকি বাজে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে। খেয়াল না করতে করতে এক সময় আদরের সন্তান এমন একপর্যায়ে পৌঁছে, যেখান থেকে ফিরিয়ে আনা আর সম্ভব হয় না। তাই সময় থাকতেই সন্তানের প্রতি গভীর দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। আমরা যদি নেক সন্তান রেখে যেতে পারি তাহলে দেশ ও জাতির যেমন কল্যাণ হবে তেমনই মৃত্যুর পরও এ সন্তান আমাদের জন্য সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কাজ করবে। আমাদের সব সময় খেয়াল রাখতে হবে বাড়িতে সন্তান-সন্তুতি নিয়মিত ধর্মকর্ম পালন করছে কিনা, কোরআন তেলাওয়াত করছে কিনা। বর্তমান যেহেতু বিজ্ঞানের যুগ, আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসনে বর্তমান যুগে ইন্টারনেট, টিভি, ক্যাবল সংযোগ, মোবাইল ফোন ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষ যেমন অহরহ সামাজিক অপকর্মে লিপ্ত হতে শুরু করে তেমনি নিত্যনতুন নৈতিক পদস্খলন হওয়ারও সুযোগ পাচ্ছে। তাই এসবের খারাপ জিনিসগুলো বাদ দিয়ে ভালোকে গ্রহণ করতে হবে এবং সন্তানরা যেন খারাপ কোনো কিছুর দিকে আসক্ত না হয় সে দিকে খুব খেয়াল রাখতে হবে।
[email protected]
 

ইসলাম ও জীবন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close