¦
দুনিয়াদারির জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা

আবদুর রফিক | প্রকাশ : ০৮ মে ২০১৫

আমরা এক বাক্যে স্বীকার করি শিক্ষা করা ভালো কাজ, নামাজ পড়া ভালো কাজ, রোজা রাখা ভালো কাজ, জাকাত দেয়া ভালো কাজ, আল্লাহর নির্দেশিত সব কাজই ভালো। কেউ এর ভিন্ন মত প্রকাশ করলে আমরা কঠোরভাবে প্রতিবাদ জানাই। এত কিছুর পরও নিজের আবশ্যিক দায়িত্বগুলোই পালন করতে অনিচ্ছা জাগে। এ অবস্থাতে আমাদের প্রথমেই নিজের মনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা উচিত। ভালো কাজ জেনে বিশ্বাস করেও কেন ভালো কাজ করি না এর রহস্য নিজেকেই বের করতে হবে। আমরা সব কাজকে ভালো কাজ মনে করি। মূলত ভালোকে ভালো বলতে কী বুঝি, বা ভালোকে কোন স্তরের মনে করি? আমরা সাধারণত ভালোকে বিকল্প স্তরের মনে করে থাকি। যেমন- কোথাও যেতে হলে প্যান্ট-শার্ট পরে যাওয়াকে ভালো মনে করি। উপস্থিত ক্ষেত্রে কোনো কারণে প্যান্ট-শার্টের ব্যবস্থা না হলেও পায়জামা-পাঞ্জাবিতে কর্মটি সম্পাদন করা হল। এ ক্ষেত্রে প্যান্ট-শার্ট পরাই ভালো ছিল, না থাকায় পায়জামা-পাঞ্জাবি ব্যবহার হল। অর্থাৎ কর্মব্যস্ততায় দুপুর সময়টা অন্য কোথাও অবস্থান করতে হচ্ছে। দুপুরের খাবার হিসেবে আমাদের জন্মগত অভ্যস্থ খাবার ভাত, মাছ বা মাংস হলে ভালো হয়। কিন্তু কোনো খাবার হোটেলে না থাকায় রুটি-কলা খেয়ে সময় অতিবাহিত করলাম। এক্ষেত্রেও ভাত খাওয়া ভালো ছিল, ব্যবস্থাপনা না থাকায় রুটি-কলা দিয়েও সমাধান হল। দরিদ্রতার কারণে একটি মাত্র লুঙ্গি আছে, আরেকটি হলে ভালো হয়। এ রকম প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রেই ভালোর বিকল্প ব্যবস্থা আছে। ধরে নিন- আমার লজ্জাস্থান ঢাকার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। এমনকি গামছা, তোয়ালে বা এক টুকরা কাপড়ও নেই। এক্ষেত্রে আমার লজ্জাস্থান ঢাকার জন্য এক টুকরা কাপড় সংগ্রহ করাকে ভালো মনে করব, না খুবই জরুরি মনে করব? এবার পার্থক্যটি সঠিকভাবে অনুভব করি- ভালো হলে কী হবে অথবা অবশ্যই প্রয়োজন হলে কী হবে। যেহেতু আমি একেবারেই উলঙ্গ সেহেতু এক টুকরা কাপড় হলে ভালো হয়। না হলেও চলবে। আমি এ অবস্থায় রাস্তায় বের হলে যারা আমার অপরিচিত তারা আমাকে পাগল ভেবে যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে চলবে আর যারা আমার পরিচিত তারা আমাকে বেয়াদব থেকে জঘন্য বেয়াদব ভেবে গালমন্দ করবে এমনকি পুলিশের হাতে সোপর্দ করতেও আপত্তি করবে না। এটা হল ভালো ভাবার ফল। যদি অবশ্যই প্রয়োজন ভাবা হতো তাহলে লজ্জাস্থান ঢেকে বের হলে মানুষ আমাকে সম্মানও করত সঙ্গে সঙ্গে আমার পূর্ণ পরিধান না থাকায় সব মানুষ দুঃখ প্রকাশ করত। আমাদের এখন মোটামুটি ধারণা হল ভালোর বিকল্প ব্যবস্থা আছে বিধায় ভালোকে শতভাগ গুরুত্ব দেয়া হয় না। অবশ্যই প্রয়োজনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শতভাগ গুরুত্বও দিয়ে থাকি। নামাজ, রোজা ও এর প্রয়োজনীয় এলেম শিক্ষা করাকে ভালো কাজ হিসেবে গণ্য করে থাকি। বিষয়টি এমন যেন ভালো কাজ করলে ভালো না থাকলে কোনো ক্ষতি নেই। প্রকৃতপক্ষে এ কাজগুলো ভালো কাজ হিসেবে গণ্য করে আমরা এক ধরনের ভুলের মাঝে ডুবে আছি। এ কাজগুলো মোটেই ভালোর স্তরে নয়, অবশ্যই করণীয় স্তরের। কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেয়া, এড়িয়ে চলা, যেনতেনভাবে পালন করা কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়।
অতএব, ধর্মীয় কাজের ব্যাপারে ভালোর গণ্ডি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বাধ্যতামূলক অবশ্য অবশ্যই শিখতে হবে এবং পালন করতে হবে এ চিন্তা-চেতনা হৃদয়ে জাগিয়ে তুলতে হবে। তা হলেই সত্যিকারের কল্যাণ লাভ করা সম্ভব। স্মরণে রাখতে হবে ধর্ম-কর্ম নির্দিষ্ট ছকে ঘেরা জীবনের নাম।
এ আলোচনা কোনো পাগলের প্রলাপ নয়। অতএব, এ আলোচনা ভালোর স্তরে স্থান না দিয়ে আবশ্যিক স্তরে স্থান দিতে কার্পণ্য করবেন না। শয়তান আমাদের হৃদয়ে প্রশ্ন জাগিয়ে তুলেছে- ছকে বাঁধা জীবন চলে নাকি? অবশ্যই চলে! নদী যত গভীর বা অগভীরই হোক- নৌকায় অবস্থান করাই নিরাপদ। পড়ে গেলেই বিপদ। ঘটনাচক্রে পড়ে গেলেও কিছুক্ষণ সাঁতরিয়ে অথবা হাবুডুবু খেয়ে আবার নৌকাকে ধরেই নিঃশ্বাস নিতে তৃপ্তি পাওয়া যায়। রাতে আমরা যে ঘরে ঘুমিয়ে থাকি সে ঘরটিও বেড়া বা দেয়ালবেষ্টিত। আমাদের নিরাপত্তার জন্যই এ ব্যবস্থা। ঘরের কোনো এক পাশে দেয়াল না থাকলেই যে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এক্ষেত্রে কি বলব দেয়ালবেষ্টিত রুমে ঘুমানো সম্ভব নয়? হয়তো প্রশ্ন জাগবে রাতের বিষয় আর জীবনের বিষয় এক নয়। এক্ষেত্রে বলব মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমানোর জন্যই যদি আমাদের এতটা নিরাপদ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় তাহলে দীর্ঘ ৬০-৭০ বছর দুনিয়াতে বেঁচে থাকার জন্য কি একটি সুন্দর নিরাপদ ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই? অবশ্যই আছে। আর তা হল কোরআনের নির্দেশনা। আর তর্কে যাব না। প্রথমেই বলেছি যারা উপদেশ গ্রহণ করতে ভালোবাসেন এ লেখা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যারা তর্কে জড়াতে চান তাদের
জন্য দোয়া- আল্লাহ সবাইকে হেদায়াত ও সঠিক জ্ঞান দান
করুন। আমিন।
 

ইসলাম ও জীবন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close