¦
পথশিশুদের আলিফ বা পড়ানোর কেউ নেই

তানজিল আমির | প্রকাশ : ২২ মে ২০১৫

উত্তরার জমিস উদ্দিন মোড় থেকে হেঁটে সামনের দিকে এগুচ্ছি আমরা দু’জন। সামান্য হাঁটতেই নজর পড়ল কয়েকজন কিশোরের দিকে। একটি পলিথিন নাকে ও মুখে ভরে পরম তৃপ্তিতে টানছে তারা। বোঝাই যাচ্ছে তারা বেশ মজা পাচ্ছে। সঙ্গের বন্ধুটি সাহসী হওয়ায় সে ওদের তাড়িয়ে দিল। জানতে চাইলাম, কি করছিল ওরা। বন্ধুটি বলল, জুতার আঠা দিয়ে তৈরি মাদক গ্রহণ করছিল ওরা। বিস্মিত হলাম, কত ধরনের মাদকের নাম শুনেছি কিন্তু জুতার আঠা দিয়েও যে নেশা করা যায়, আমার তা জানা ছিল না। বন্ধু বলল, দামে কম ও সহজলভ্য হওয়ায় বস্তির শিশু ও টোকাইদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয়। শুনে বেশ খারাপই লাগল, আমাদের দেশের বস্তির সন্তান ও পথশিশুরা কত অমানবিকভাবে বেড়ে উঠছে, প্রতিটি মানুষের মনেই অনেক স্বপ্ন থাকে। আগামীর দিনগুলো সুন্দর ও নিরাপদে যাপনের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলি আমরা সবাই। এক কথায় স্বপ্ন নিয়েই মানুষের বেঁচে থাকে। শৈশবের উচ্ছল সেই দিনগুলো থেকে জীবনের চরম মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিনিয়তই স্বপ্ন দেখে যায় মানুষ। কিন্তু আমাদের এ দেশে, এ শহরেই এমন অনেক মানুষ বসবাস করে, যারা স্বপ্ন দেখতে জানে না। ভবিষ্যতের সুন্দর কোনো কল্পনা এদের যেমন উজ্জীবিত করে না, তেমনি স্বপ্ন ভাঙার বেদনাও স্পর্র্শ করে না তাদের অনুভূতিকে। হ্যাঁ, আমি এ শহরের এমন শিশুদের কথাই বলছি যাদের আমরা নাম দিয়েছি পথশিশু। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এদের পথকলি নামকরণ করে গান লিখেছিলেন, ‘পথের ধারে অবহেলায়, যাদের কাটে সকল সময় ..., কোরআনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সব সৃষ্টি আল্লাহর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ হলেন রাব্বুল আলামীন তথা সমগ্র জগতের প্রতিপালক এবং রাসূল (স.) হলেন রাহমাতুল্লিল আলামীন তথা সমগ্র জগতের জন্য রহমত অর্থাৎ শান্তিস্বরূপ। তাই অপরিহার্যভাবেই বিশ্বের সবাই আমরা এক পরিবারভুক্ত এবং সবার খোঁজ-খবর রাখা ও সুখে-দুঃখে, মিলে-মিশে চলা মানবজাতির একান্ত কর্তব্য। আমাদের দেশে বিশেষত রাজধানী ঢাকাতেই কয়েক লাখ পথশিশু রয়েছে, যাদের অধিকাংশ বেড়ে ওঠে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত সভ্যতাহীন অসুস্থ একটি পরিবেশে। ফলে এরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। আর কিছু শিশুকে ব্যবহার করা হয় শ্রমিক হিসেবে। যা দেশীয় ও ধর্মীয় উভয় আইনেই নিষিদ্ধ। সবচেয়ে বড় আশংকার ব্যাপর হল, শিক্ষা-দীক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকার ফলে এসব শিশুর মাঝে মানবিকতার মৌলিক গুণগুলোও দেখা যায় না। তাই আমাদের সমাজ-সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা এবং আমাদের সুস্থভাবে বাঁচার তাগিদেই এসব শিশুকে সুস্থ পথে ফিরেয়ে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। শ্রম, মেধা, অর্থ যে কোনোটির মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক এসব কাজে অংশগ্রহণ করতে পারি। এত সৃষ্টির মহাসেবা। আর সৃষ্টির সেবাই স্রষ্টার জন্য শ্রেষ্ঠ ইবাদত। এ ক্ষেত্রে আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষিতদের দায় সবচেয়ে বেশি। কারণ উম্মতের সর্বস্তরে জ্ঞানের আলো বিতরণ তাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। ব্যাপারটি তেমন কঠিনও নয়, একটি সহজ হিসাব করি। রাজধানী ঢাকার প্রতিটি মহল্লায় কয়েকটি করে মসজিদ ও মাদ্রাসা রয়েছে।
কয়েকটি ওয়ার্ড মিলে দাওরা সমমানের মাদ্রাসার সংখ্যাও কম নয়। যেগুলোতে দীনের উচ্চশিক্ষা অর্জনকারী অনেক ছাত্র রয়েছে। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি বস্তির জন্য যদি দু’জন ছাত্রকে দায়িত্ব দেয়া হয়, তারা আগামী এক সপ্তাহ বিকালের দিকে একটি বোর্ড নিয়ে বস্তির বাচ্চাগুলোর সঙ্গে কাটাবে, পথশিশুদের আধাঘণ্টা পড়াবে, তাহলে চিন্তা করা যায়, শুধু ঢাকাতেই কত হাজার শিশু জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হবে? শিক্ষার আলো থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত কচি মেধাগুলো শৈশবেই পাবে কোরআনি শিক্ষার নূরানী পরশ। এ জন্য কি অনেক টাকা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন? আলেমদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, এই ভাগ্যহারা শিশুদের সম্মন্ধে অবশ্যই আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। এ শিশুগুলোর কোমল মনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সামান্য আলোও যদি পৌঁছানো যায়, তাহলে এ বিশ্বাস আমরা রাখতে পারি, বড় কোনো অপরাধে এরা জড়াবে না। আজ হাদিস পড়ানোর জন্য মুহাদ্দিসদের কোনো অভাব নেই কিন্তু বস্তির ও পথশিশুদের কাছে গিয়ে আলিফ-বা-তা পড়ানোর মতো দরদি হৃদয়ের বড়ই অভাব।
 

ইসলাম ও জীবন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close