¦
চাকরি পেতে করণীয়

গোলাম রাব্বী | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

১. নিজেকে যোগ্য করে তোলা
সিভি পুনর্গঠন করা
প্রতিনিয়ত আপনার সিভিকে আপডেট করুন। নতুন বা সর্বশেষ যে প্রশিক্ষণে আপনি যোগদান করেছিলেন সে অনুযায়ী নিজের তথ্য সংযোজন করুন। এমনও হতে পারে আপনি পত্র-পত্রিকায় লেখালিখি বা রিসার্চ পেপার করেন, সুতরাং সর্বশেষ বিষয় কতদিন আগের বা কত সমসাময়িক; সেটাই কিন্তু আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিবে আপনি কতটা আপডেটেড। তখন আপনার আপডেটেড সিভি আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানের এইচআর ম্যানেজারের সামনে প্রমাণ করবে সমসাময়িক জ্ঞানে ভরপুর জানাশুনাপূর্ণ একজন মানুষ হিসেবে। তার মানে সিভি বারবার দেখে ভুলগুলো ঠিক করার পাশাপাশি আপনি কেমন মানুষ আর কতটা সঠিকভাবে নিজের পরিচয় উঠে এল কারিকুলাম ভিটায় তা প্রতিনিয়ত সঠিক করে রাখুন। দেখবেন চাকরিদাতার কাছে আপনার সিভি-ই অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করবে।
ইন্টারভিউয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা
সিভি যেহেতু খুবই ভালো মানের করে রিপ্রেজেন্ট করেছেন, তার মানে আপনি কিন্তু পরবর্তী বাছাইয়ে ডাক পাবেন। সুতরাং নিজেকে পরের ধাপে উতরে নিতে কি কি বিষয় রপ্ত করতে হবে, সে বিষয়গুলোতে নজর দিন। তাহলে এ ধাপেও আপনি পার পেয়ে যাবেন সহজেই। আর সর্বদা মনে রাখতে হবে যে- সিভিতে উল্লেখিত তথ্যের সঙ্গে মানানসই করে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে কিন্তু। কেননা আপনি যখন চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাবেন, তারা কিন্তু ওই সিভিকে কেন্দ্র করেই আপনাকে প্রকাশ বা বুঝতে চাইবে।
সংশ্লিষ্ট জ্ঞান অর্জন
এবার তাহলে বলি- কোন বিষয়ে আপনাকে প্রস্তুত করতে হবে। কি বুঝতে কষ্ট হচ্ছে। তাহলে শুনুন- আপনাকে কিন্তু দুনিয়ার সববিষয় জানতে গিয়ে সময় ও শ্রম কোনোটা-ই নষ্ট করা চলবে না। তাই প্রস্তুতিটা নিতে হবে খুব কনসাইস/ সংক্ষিপ্ত; তবে তা হতে হবে যুতসই। এবার প্রশ- সেটা সম্ভব কিভাবে? তবে বলি- আপনি যে পদে ও প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য আবেদন করেছেন সে পদ সম্পর্কিত যে যে বিষয়গুলো জড়িত বা ওই পদে চাকরি করতে হলে যে সব বিষয়ের জ্ঞান থাকতে হয়; কেবল সেগুলোই জানুন। আর আপনাকে নিয়োগ দিলে ভবিষ্যতে ওই প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত কি দিবেন সেটাও বের করে আনার চেষ্টা করুন।
প্রয়োজনে একটা তালিকা করুন
কি প্রস্তুতি নিতে গিয়ে দেখছেন, সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয়ই আপনার জানা নেই। দয়া করে ঘাবরানোর কিছু নেই। সামনের দিকে তাকান। মনে রাখবেন- ‘আপনি কি পারেন না’ বা ‘আপনার তো অনেক কিছুই অজানা’ এমনটা ভাবলে কিন্তু সামনে এগুতে পারবেন না। তাই বলি- এই চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে, আপনার কি কি জানা দরকার সে বিষয়ে একটা তালিকা তৈরি করুন। এরপর তালিকা মতো সামনে এগিয়ে নিতে থাকুন নিজেকে। আর যদি মনে হয়, আপনি এও জানেন না যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কি আসতে পারে। তাহলে দ্রুত এমন পদ বা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে তাদের শরণাপন্ন হন, তাদের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী জ্ঞান অর্জনের জন্য দৌঁড় শুরু করুন। কাউকে না পেলে অথবা আরও জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিষয় লিখে অনলাইনে সার্চ করেও জেনে নিতে পারেন প্রয়োজনীয় তথ্য।
২. সঠিক উপায়ে প্রস্তুতি
মানসিক-শারীরিক অবস্থার উন্নয়ন
মনে রাখবেন, যে কোনো চাকরিদাতা আপনাকে এটা জানতে চাইবেন না যে, আপনি একাই দুনিয়ার সবকিছু জানবেন বা বুঝবেন। কিন্তু সে এটা অবশ্যই দেখতে চাইবে, আপনি শারীরিকভাবে কতটা সুস্থ বা আপনার চলন-বলন কতটা মার্জিত বা প্রফেশনাল। তার মানে প্রবাদ আছে না- ‘আগে দর্শনদারী পরে গুণ বিচারী’। এ বিষয়টিতেও কিন্তু আপনাকে মনোযোগ দিতে হবে। অর্থাৎ আপনার শরীরী ভাষা ও মানসিক শক্তি দেখে যেন চাকরিদাতা শক্তি পায় বা আপনার প্রতিনির্ভর করতে পারে, ‘হ্যাঁ; ওর জন্যই এ চাকরিটা’।
চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ান
আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চাচ্ছেন। তারা কিন্তু চাকরির বাছাই পরীক্ষা যেমনই হোক এ বিষয়টা নিশ্চিত জানতে চাইবে তা হল- ‘সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আপনি পাঁচ বছর পর কোথায় নিয়ে যাবেন’। আবার লিখিত বা ভাইভায় এমনও প্রশ্ন হতে পারে- ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানকে সামনে আরও ভালো করতে হলে আপনি কি কি পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেবেন’। এমন সব প্রশ্নের সঠিক জবাব আপনি তখনই জানতে পারবেন যখন আপনি ওই প্রতিষ্ঠানের আগের এবং বর্তমানের কর্মযজ্ঞের খোঁজ-খবর ভালোভাবে জানবেন। নতুবা উক্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা-পরামর্শ বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সঠিকভাবে উপস্থাপন অনেকটাই কষ্টকর হবে।
ওই প্রতিষ্ঠানের ওয়েব পেজ ঘাটুন
কি কারো কাছ থেকেই সঠিক পরামর্শ পাচ্ছেন না? ঘাবরানোর কিছু নেই। কাউকে লাগবে না। এমন আধুনিক দিনে দেখবেন এক ক্লিকেই আপনার কাক্সিক্ষত বিষয়টি জেনে নিতে পারবেন। ওই প্রতিষ্ঠানের নাম লিখে গুগল বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজুন; দেখবেন পেয়ে গেছেন প্রয়োজনীয় সব তথ্য। তো এবার আপনিই সর্বেসর্বা। তাই সময় অপচয় না করে নিজেকে প্রস্তুত করুন। দেখবেন খুব সহসাই নিজের জন্য কাক্সিক্ষত চাকরিটি পেয়ে গেছেন। (দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব আগামী সংখ্যায়)
 

চাকরির খোঁজ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close