jugantor
বিসিএস পরীক্ষায় প্রস্তুতি সহায়ক
প্রতিটি মানুষের জীবনেই বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন থাকে। কেউ হতে চান ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী, কেউ ব্যারিস্টার। আবার কেউ হতে চান প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা। বিসিএস ক্যাডার হতে চাওয়া মানুষগুলো প্রথমেই স্বপ্ন দেখেন প্রশাসনের অংশ হতে। ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ও ৩৫তম’র ভাইভা পরীক্ষায় কীভাবে ভালো করা যাবে সে পরামর্শ দিয়েছেন ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডার মো. ওয়াহিদুজ্জামান নুর। পুলিশ ক্যাডারে ১৭তম স্থান অর্জন করেন তিনি।

   

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

প্রথমে বিসিএসের লিখিত প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার কঠিন বৈতরণী পাড়ি দিতে হবে। প্রিলিমিনারিসহ সব ধাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি বিষয়ে জোর দিতে হবে। কারণ এ বিষয় বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞানে খুব সহজে নাম্বার পাওয়া যায়। অপরদিকে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে ভালো নাম্বার পাওয়া অনেক পরিশ্রম সাধ্য। আপনাকে মনে রাখতে হবে বিসিএসে যে প্রশ্নগুলো আসে সেগুলো কিন্তু মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় থেকেই বেশি আসে। এ পরীক্ষায় কিন্তু অনার্স বা মাস্টার্সের পড়াশোনা খুব বেশি কাজে লাগে না। যেমন ধরুন আমি ফার্মাসি নিয়ে পড়াশোনা করেছি, এখান থেকে কিন্তু পরীক্ষায় আমি খুব বেশি সাহায্য পাইনি। আপনাকে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বই আছে সেগুলো ভালোভাবে পড়লেই পরীক্ষায় ভালো করা যাবে। কারণ এখান থেকেই বেশিরভাগ প্রশ্ন আসে। তবে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বই পড়লেও উপকার পাওয়া যাবে।

আরও জোর দিতে হবে ইংরেজিতে?

শেষ পর্যন্ত ইংরেজিতে ভালো হতেই হবে, না হলে বিসিএস ক্যাডার হওয়া দিবাস্বপ্নের মতো। ইংরেজি বিষয়ে গ্রামারের একদম প্রথম থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে। এছাড়া লেখার দক্ষতাও থাকতে হবে। কারণ বিসিএসে কে কোন ক্যাডার পাবে সেটা নির্ধারিত হয় ইংরেজি বিষয়ের ফলাফলের ওপর। কেউ পুলিশ ক্যাডার হতে হলে তাকে অবশ্যই ইংরেজিতে ভালো করতেই হবে।

টেকনিক্যালভাবে পড়াশোনা করতে হবে?

এই পরীক্ষায় একটু টেকনিক্যালভাবে পড়াশোনা করতে হবে, যেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বাছাই করে পড়া। যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন না সেগুলো বাদ দিয়ে পড়া। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে বিগত কয়েক বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে ওখান থেকে অনেক প্রশ্ন কমন পড়ে।

প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হবে?

বিসিএস পরীক্ষার জন্য কিন্তু প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে, লেগে থাকতে হবে অর্থাৎ পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। শুরু করলে একদম শেষ পরীক্ষা পর্যন্ত পড়াশোনা করতে হবে। কারণ কেউ কেউ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার মাঝপথে এসে মনোবল হারিয়ে ফেলে, পরে প্রস্তুতি নেয়া বাদ দিয়ে দেয়। কিন্তু বাদ দেয়া যাবে না একটানা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে, তবেই সফলতা পাওয়া যাবে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লেগে থাকলে আমার মনে হয় উত্তীর্ণ হওয়া খুব কঠিন হবে না।

কয়টি ধাপে পরীক্ষা হয়?

এই পরীক্ষাটি এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক মোট তিনটি ধাপে হয়। প্রথমে এমসিকিউ পদ্ধতিতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে হয়। মোট ২০০ নাম্বারের। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ৯০০ নাম্বারের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এই লিখিত পরীক্ষায় বাংলায় ২০০, ইংরেজিতে ২০০, গণিতে এবং মানসিক দক্ষতা ১০০, বাংলাদেশ বিষয়াবলী ২০০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ১০০ এবং সাধারণ বিজ্ঞানে ১০০ নাম্বারের পরীক্ষা হয়। এরপর মৌখিক পরীক্ষা ২০০ নাম্বার। এই তিনটি ধাপ পার হওয়ার পর তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

মৌখিক পরীক্ষায় কীভাবে ভালো করা যাবে?

মৌখিক পরীক্ষায় আসলে কি প্রশ্ন আসবে এটা বলা যাবে না। পুরো বিসিএস পরীক্ষাটা আসলে ২ বা ৩ মাসের প্রস্তুতি না, আপনি সারা জীবন অর্থাৎ আপনি প্রথম শ্রেণী থেকে অনার্স বা মাস্টার্স পাস করা পর্যন্ত যা পড়েছেন তার ওপরেই প্রশ্ন আসতে পারে। এখানে যে কোনো ধরনের প্রশ্ন করতে পারে। আপনার পড়াশোনার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত যা শিখেছেন, যে জ্ঞান অর্জন করেছেন তার প্রতিফলনই ঘটবে এখানে। উপস্থিত বুদ্ধি, স্মার্টনেস, জ্ঞান, আচার-ব্যবহার সব কিছুই তারা দেখবেন।

কোচিং করার দরকার আছে?

আমার মনে হয় কোচিং করার কোনো দরকার নেই। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই সেখানে ভালো দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় না। এরকমও হয় যে কোচিংগুলো ভুল পথে নিয়ে গেছে। তাই ভালো বই কিনে নিজে থেকে পড়লেই হবে। আর বিগত পরীক্ষার প্রশ্নগুলো দেখলেই অনেক ধারণা পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিলেই ভালো করা যাবে।

পুলিশ ক্যাডারে শারীরিক মাপের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনা করা হয়?

অন্যান্য ক্যাডারে শারীরিক মাপের কোনো প্রয়োজন নেই, কিন্তু পুলিশ ক্যাডারে কিছু মাপ রয়েছে, যেমন ছেলেদের উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফিট ৪ ইঞ্চি হতে হবে। মেয়েদের উচ্চতা সর্বনিু ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। চোখের ৬-৬ ভিসন থাকতে হবে, কালার ব্লাইন হলে বাতিল বলে গণ্য হবে। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের শর্তসাপেক্ষে কোটাও রয়েছে। যাদের উচ্চতা কম তাদের অন্য ক্যাডার বেচে নেয়া উচিত।

নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর প্রশিক্ষণের বিষয়ে কিছু বলুন?

অন্যান্য ক্যাডারে কোনো শারীরিক প্রশিক্ষণ লাগে না। তবে পুলিশ ক্যাডারে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। এখানে স্মার্ট স্বাস্থ্যবান ছেলেমেয়েদেরই আসা উচিত। যারা শারীরিকভাবে একটু দুর্বল তাদের অন্য ক্যাডারে যাওয়াই ভালো। কারণ ১ বছরের যে প্রশিক্ষণ তা খুবই কষ্টকর। তবে আশার বাণী এই যে, রাজশাহীতে যে সারদা পুলিশ একাডেমি রয়েছে তা সবাইকে প্রস্তুত করে নেয়।

আপনি তো বেসরকারি একটি কোম্পানিতে ভালো বেতনে চাকরি করতেন, সেখান থেকে কেন পুলিশ পেশায় আসলেন?

পুলিশ পেশাটা আসলে ডায়নামিক প্রফেশন (প্রগতিশীল) পেশা। আমার কাছে পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য বিষয় ছিল, আমি আমার প্রফেশনে থেকে যা করছি, তা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। আমি সবসময় চেয়েছি যেন নিজের কার্যক্ষেত্রে থেকে কিছু পরিবর্তন আনতে পারি। যেন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কিছু দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি। আমি বেসরকারি কোম্পানিতে হয়তো ভালো বেতনের চাকরি করতাম, কিন্তু সেখানে দেশের জন্য, সমাজের জন্য সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ অনেক কম। মানুষ কখন পুলিশের কাছে আসে যখন সে চরমভাবে বিপদগ্রস্ত, ঠিক ওই মুহূর্তে তার জন্য কিছু করার মতো গৌরব আর কিছু হতে পারে না, তাই এখানে আসা। মোট কথা মানুষের উপকার করতে চাই। ‘লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’ থেকে এসএসসি পাস করে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তারপর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। বাবা-মা দুইজনই আইন পেশায় নিয়োজিত। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট। বড় ভাই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা সিএমএম কোর্টে কর্মরত আছেন।


 

সাবমিট

বিসিএস পরীক্ষায় প্রস্তুতি সহায়ক

প্রতিটি মানুষের জীবনেই বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন থাকে। কেউ হতে চান ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী, কেউ ব্যারিস্টার। আবার কেউ হতে চান প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা। বিসিএস ক্যাডার হতে চাওয়া মানুষগুলো প্রথমেই স্বপ্ন দেখেন প্রশাসনের অংশ হতে। ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ও ৩৫তম’র ভাইভা পরীক্ষায় কীভাবে ভালো করা যাবে সে পরামর্শ দিয়েছেন ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডার মো. ওয়াহিদুজ্জামান নুর। পুলিশ ক্যাডারে ১৭তম স্থান অর্জন করেন তিনি।
  
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

প্রথমে বিসিএসের লিখিত প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার কঠিন বৈতরণী পাড়ি দিতে হবে। প্রিলিমিনারিসহ সব ধাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি বিষয়ে জোর দিতে হবে। কারণ এ বিষয় বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞানে খুব সহজে নাম্বার পাওয়া যায়। অপরদিকে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে ভালো নাম্বার পাওয়া অনেক পরিশ্রম সাধ্য। আপনাকে মনে রাখতে হবে বিসিএসে যে প্রশ্নগুলো আসে সেগুলো কিন্তু মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় থেকেই বেশি আসে। এ পরীক্ষায় কিন্তু অনার্স বা মাস্টার্সের পড়াশোনা খুব বেশি কাজে লাগে না। যেমন ধরুন আমি ফার্মাসি নিয়ে পড়াশোনা করেছি, এখান থেকে কিন্তু পরীক্ষায় আমি খুব বেশি সাহায্য পাইনি। আপনাকে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বই আছে সেগুলো ভালোভাবে পড়লেই পরীক্ষায় ভালো করা যাবে। কারণ এখান থেকেই বেশিরভাগ প্রশ্ন আসে। তবে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বই পড়লেও উপকার পাওয়া যাবে।

আরও জোর দিতে হবে ইংরেজিতে?

শেষ পর্যন্ত ইংরেজিতে ভালো হতেই হবে, না হলে বিসিএস ক্যাডার হওয়া দিবাস্বপ্নের মতো। ইংরেজি বিষয়ে গ্রামারের একদম প্রথম থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে। এছাড়া লেখার দক্ষতাও থাকতে হবে। কারণ বিসিএসে কে কোন ক্যাডার পাবে সেটা নির্ধারিত হয় ইংরেজি বিষয়ের ফলাফলের ওপর। কেউ পুলিশ ক্যাডার হতে হলে তাকে অবশ্যই ইংরেজিতে ভালো করতেই হবে।

টেকনিক্যালভাবে পড়াশোনা করতে হবে?

এই পরীক্ষায় একটু টেকনিক্যালভাবে পড়াশোনা করতে হবে, যেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বাছাই করে পড়া। যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন না সেগুলো বাদ দিয়ে পড়া। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে বিগত কয়েক বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে ওখান থেকে অনেক প্রশ্ন কমন পড়ে।

প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হবে?

বিসিএস পরীক্ষার জন্য কিন্তু প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে, লেগে থাকতে হবে অর্থাৎ পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। শুরু করলে একদম শেষ পরীক্ষা পর্যন্ত পড়াশোনা করতে হবে। কারণ কেউ কেউ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার মাঝপথে এসে মনোবল হারিয়ে ফেলে, পরে প্রস্তুতি নেয়া বাদ দিয়ে দেয়। কিন্তু বাদ দেয়া যাবে না একটানা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে, তবেই সফলতা পাওয়া যাবে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লেগে থাকলে আমার মনে হয় উত্তীর্ণ হওয়া খুব কঠিন হবে না।

কয়টি ধাপে পরীক্ষা হয়?

এই পরীক্ষাটি এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক মোট তিনটি ধাপে হয়। প্রথমে এমসিকিউ পদ্ধতিতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে হয়। মোট ২০০ নাম্বারের। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ৯০০ নাম্বারের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এই লিখিত পরীক্ষায় বাংলায় ২০০, ইংরেজিতে ২০০, গণিতে এবং মানসিক দক্ষতা ১০০, বাংলাদেশ বিষয়াবলী ২০০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ১০০ এবং সাধারণ বিজ্ঞানে ১০০ নাম্বারের পরীক্ষা হয়। এরপর মৌখিক পরীক্ষা ২০০ নাম্বার। এই তিনটি ধাপ পার হওয়ার পর তারা নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

মৌখিক পরীক্ষায় কীভাবে ভালো করা যাবে?

মৌখিক পরীক্ষায় আসলে কি প্রশ্ন আসবে এটা বলা যাবে না। পুরো বিসিএস পরীক্ষাটা আসলে ২ বা ৩ মাসের প্রস্তুতি না, আপনি সারা জীবন অর্থাৎ আপনি প্রথম শ্রেণী থেকে অনার্স বা মাস্টার্স পাস করা পর্যন্ত যা পড়েছেন তার ওপরেই প্রশ্ন আসতে পারে। এখানে যে কোনো ধরনের প্রশ্ন করতে পারে। আপনার পড়াশোনার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত যা শিখেছেন, যে জ্ঞান অর্জন করেছেন তার প্রতিফলনই ঘটবে এখানে। উপস্থিত বুদ্ধি, স্মার্টনেস, জ্ঞান, আচার-ব্যবহার সব কিছুই তারা দেখবেন।

কোচিং করার দরকার আছে?

আমার মনে হয় কোচিং করার কোনো দরকার নেই। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই সেখানে ভালো দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় না। এরকমও হয় যে কোচিংগুলো ভুল পথে নিয়ে গেছে। তাই ভালো বই কিনে নিজে থেকে পড়লেই হবে। আর বিগত পরীক্ষার প্রশ্নগুলো দেখলেই অনেক ধারণা পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিলেই ভালো করা যাবে।

পুলিশ ক্যাডারে শারীরিক মাপের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনা করা হয়?

অন্যান্য ক্যাডারে শারীরিক মাপের কোনো প্রয়োজন নেই, কিন্তু পুলিশ ক্যাডারে কিছু মাপ রয়েছে, যেমন ছেলেদের উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফিট ৪ ইঞ্চি হতে হবে। মেয়েদের উচ্চতা সর্বনিু ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। চোখের ৬-৬ ভিসন থাকতে হবে, কালার ব্লাইন হলে বাতিল বলে গণ্য হবে। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের শর্তসাপেক্ষে কোটাও রয়েছে। যাদের উচ্চতা কম তাদের অন্য ক্যাডার বেচে নেয়া উচিত।

নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর প্রশিক্ষণের বিষয়ে কিছু বলুন?

অন্যান্য ক্যাডারে কোনো শারীরিক প্রশিক্ষণ লাগে না। তবে পুলিশ ক্যাডারে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। এখানে স্মার্ট স্বাস্থ্যবান ছেলেমেয়েদেরই আসা উচিত। যারা শারীরিকভাবে একটু দুর্বল তাদের অন্য ক্যাডারে যাওয়াই ভালো। কারণ ১ বছরের যে প্রশিক্ষণ তা খুবই কষ্টকর। তবে আশার বাণী এই যে, রাজশাহীতে যে সারদা পুলিশ একাডেমি রয়েছে তা সবাইকে প্রস্তুত করে নেয়।

আপনি তো বেসরকারি একটি কোম্পানিতে ভালো বেতনে চাকরি করতেন, সেখান থেকে কেন পুলিশ পেশায় আসলেন?

পুলিশ পেশাটা আসলে ডায়নামিক প্রফেশন (প্রগতিশীল) পেশা। আমার কাছে পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য বিষয় ছিল, আমি আমার প্রফেশনে থেকে যা করছি, তা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। আমি সবসময় চেয়েছি যেন নিজের কার্যক্ষেত্রে থেকে কিছু পরিবর্তন আনতে পারি। যেন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কিছু দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি। আমি বেসরকারি কোম্পানিতে হয়তো ভালো বেতনের চাকরি করতাম, কিন্তু সেখানে দেশের জন্য, সমাজের জন্য সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ অনেক কম। মানুষ কখন পুলিশের কাছে আসে যখন সে চরমভাবে বিপদগ্রস্ত, ঠিক ওই মুহূর্তে তার জন্য কিছু করার মতো গৌরব আর কিছু হতে পারে না, তাই এখানে আসা। মোট কথা মানুষের উপকার করতে চাই। ‘লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’ থেকে এসএসসি পাস করে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তারপর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। বাবা-মা দুইজনই আইন পেশায় নিয়োজিত। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট। বড় ভাই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা সিএমএম কোর্টে কর্মরত আছেন।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র