jugantor
কর্মক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি করে বিষণ্ণতা

   

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

অফিসে প্রায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে চাপ নিয়েই কাজ করতে হয়। নানা কাজ আর ভিন্ন চিন্তার সহকর্মী নিয়ে আমাদের নিত্য হুড়োহুড়ি। অনেক সময় হাতের কাজ রেখেও ঊর্ধ্বতনের হুকুম তামিল করতে হয়। সেই কাজে ক্ষুদ্র ভুল হলে বকাঝকা কিংবা কখনও তিরস্কার পেতে হয়। কাজের আকার আর প্রকৃতি অনুসারে হাজারো সমস্যা-দ্বিধায় অফিসে আমরা হাঁপিয়ে উঠি। সহকর্মীর কোনো আচরণ কিংবা নানা কারণে আমাদের মধ্যে বিষণ্ণতা ও হতাশা ভর করে বসে। মেজাজ হয়ে ওঠে খিটখিটে। ওই মুহূর্তে সহকর্মীর সঙ্গে অযথা তর্কে যাওয়া অযথা ফাইল ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটে। বিষণ্ণতা (ডিপ্রেসন) এভাবেই বিষিয়ে দেয় কাজের পরিবেশ। তাই মনে হতাশা ভর করলে খুব সর্তক থেকে অফিসে কাজ করতে হবে, কারণ এ সময় ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কর্পোরেট সিস্টেমে স্বল্প সংখ্যক কর্মী দিয়ে অফিসে বেশি কাজ আদায়ের প্রবণতা থাকে। তাই মাঝে মধ্যে কাজের চাপ বাড়াবাড়ি রকমের বেশি হয়ে থাকে। তখন চাপে পিস্ট হয়ে কর্মী ভুল করে বসেন। অফিস সেটা ভালোভাবে নেয় না। অফিস চায় চাপের মধ্যেও কর্মী নির্দিষ্ট ট্রাইমফ্রেমে নির্ভুলভাবে আউটপুট দিবে। কর্মীর সাফল্যকে খুব কম সংখ্যক অফিসেই সাধুবাদ জানানো হয়। তবে ভুল করলে তিরস্কার যেন অনিবার্য। আর এত কাজ করার পরও যখন একটু-আধটু ভুলের জন্য তিরস্কার জুটে তখনই মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। এসময় সঠিক সঙ্গ না পেলে আপনার মধ্যে হতাশা ভর করতে পারে। এসময় আপনি সমস্যাটা আপনার বিশ্বস্থ কারও সঙ্গে শেয়ার করুন। অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে আপনি যত বেশি কমিউকেট করতে পারবেন কর্মপরিবেশ ততটা আপনার অনুকূলে থাকবে। ভুল করার চেয়ে কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। অভিজ্ঞ সহকর্মীর সঙ্গেও কাজের সুবিধার্থে আলাপ করে নিতে পারেন যদি তিনি আপনার বিষয়ে আন্তরিক হন। তবেই হতাশার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হবে না।

পশ্চিমা দুনিয়ার পেশাদাররা হতাশা-বিষণ্ণতাকে কর্মশক্তির বিরুদ্ধে নেতিবাচক আচরণ হিসেবে ভেবে নেন। সেখানে কোনো কারণে হতাশা-বিষণ্ণতা মনে ভর করলে সোজা মনোচিকিৎসকের কাছে চলে যান তারা। আমাদের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মক্ষেত্রে বিষণ্ণতার সময় মনোচিকিৎসকের কাছে যাওয়ার নজির খুব একটা দেখা যায় না। কারণ হিসেবে আমি বলব, আমাদের মনের জোর তাদের চেয়ে বেশি। ঠিকই আমরা অল্প সময় পর হতাশা কাটিয়ে উঠি। এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমাদের রোবটের মতো দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এমতাবস্থায় মাঝেমধ্যে বিষণ্ণতা ও একঘেয়েমি আসাটা অস্বাভাবিক নয়। বিষণ্ণতার সময় বেশি বেশি নিজের ইতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে ভাবুন। নিজের সফলতা ও সম্ভবনার দিকগুলো চোখ বন্ধ করে মানসপটে নিয়ে আসুন। জীবনের সুখস্মৃতিগুলো নিয়ে চিন্তা করুন। দেখবেন কাজে দেবে। আর বিষণ্ণতা বেশি ভর করলে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে পরিবার নিয়ে কোথাও ঘুরে আসুন। দেখবেন মন চাঙ্গা হয়ে গেছে। মনে রাখবেন কর্মক্ষেত্রে নিজেকেই স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবেশ তৈরি করে নিতে হয়। এক্ষেত্রে সবচে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অফিসে যে কোনো পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়া। কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে নেয়া। মনে রাখবেন মনে আনন্দ থাকলে দৈনিক ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করলেও আপনি ক্লান্ত হবেন না। কাজটা আসে মস্তিষ্ক থেকে। আর মন ভালো না থাকলে মস্তিষ্ক কম্পিউটারের মতো হ্যাং হয়ে যায়। তাই মনটাকে সদা তাজা রাখতে হবে। তবেই কর্মক্ষেত্রে হতাশা ভর করবে না।

এছাড়া আপনি যদি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হন তবে আপনাকে থাকতে হবে নির্ভার, স্বতঃস্ফূর্ত। আপনার মধ্যে হতাশা ভর করলে অধস্তন বা সহকর্মী আপনার অন্যায় আচরণের শিকার হতে পারেন। হতাশা থেকে আপনি বদমেজাজি হলে অধস্তনরা ভয়ে তটস্ত থাকবে। তারা অফিসের জন্য প্রয়োজনীয় বহু বিষয়ও আপনার সঙ্গে শেয়ার করতে চাইবে না। আবার বহু প্রয়োজনীয় ফাইল আপনার টেবিলে পড়ে থাকবে। এতে অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব নিজেকে স্বাভাবিক করে ফেলুন। মন বেশি খারাপ হলে পরিবারকে নিয়ে বিকালে একটি প্রিয় জায়গা ঘুরে আসুন। খেলাধুলার অভ্যাস থাকলে তা করুন। বা জিমেও যেতে পারেন। দেখবেন মনটা চাঙ্গা হয়ে উঠছে। ধর্মে বলা আছে দুখের পরে সুখ আছে। সুখের পরে দুখ। তাই যখনই বিষণ্ণতা আসবে ভাববেন নিশ্চয়ই সামনে আপনার জন্য ভালো সময় অপেক্ষা করছে।

বিষণ্ণতায় অফিসে যা করবেন না

* হতাশায় মানুষ অনেক সময় কর্মক্ষেত্রে অভিযোগপ্রবণ হয়ে ওঠে। অযথা অন্যের বিরুদ্ধে বসের কাছে নালিশ করা ও পরচর্চা থেকে বিরত থাকুন। আপনি অন্যের প্রতি অবিচার করলে আপনার ক্ষেত্রেও তা ঘটতে পারে। কারণ প্রকৃতিরও একটা বিচার আছে।

* মানসিক বিষণ্ণতায় অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন- ফেসবুক-টুইটারে নেতিবাচক মন্তব্য করে থাকেন। সেটি অনেক সময় সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনের বিরুদ্ধেও যায়। এমন আচরণ পেশায় ক্ষতি ডেকে আনে।

* ঊর্ধ্বতন, সহকর্মী কিংবা অধস্তনের সঙ্গে রেগে কিংবা কটু কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

* কর্মক্ষেত্রে অযথা রাগারাগি, অপ্রয়োজনীয় শব্দ করা, উচ্চ স্বরে কথা বলা, ফাইল ছোড়া কিংবা অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করবেন না

হতাশা হলে যা করবেন

* যে কারণে হতাশা তার কারণ খুঁজে বের করে সমাধানের চেষ্টা করুন।

* বেতন-ভাতা কিংবা পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হতাশ হলে ঊর্ধ্বতন কর্তার সঙ্গে শেয়ার করা সর্বোচ্চ বুদ্ধিমানের কাজ। বসকে বিনয়ের সঙ্গে খোলামেলা বলুন- বর্তমান বেতনে আপনি এফোর্ট করতে পারছেন না।

* দীর্ঘদিন মনের মধ্যে অস্বস্তি দানা বাঁধতে দিবেন না। তা কাজের ওপরে প্রভাব ফেলে। এমনটা হলে সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের দিকে মনোযোগ দিন।

* সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কজনিত কারণে হতাশায় ভুগলে বন্ধুত্ব আর ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে সম্পর্কোন্নয় করুন।

* অফিস শেষ করে অথবা সময় বের করে সহকর্মীর সঙ্গে কিছুক্ষণ বসুন। চা পান করুন। গল্প করুন।

* সহকর্মী আর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইতিবাচক আচরণ আর সম্পর্ক গড়ে তুললে কর্মক্ষেত্রে বিষণ্ণতা আসার মতো পরিবেশই তৈরি হবে না। সুতরাং ইতিবাচক আচরণ গড়ে তুলুন নিজের মধ্যে।

* ক্লান্তি দূর করতে চাইলে কোথাও থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

* প্রতিদিনের একই ধরেনের বাঁধা রুটিন হতে বেরিয়ে আসুন।

* অফিসের ছুটির দিনগুলো বাড়িতে কিংবা সামাজিক কোনো সংগঠনে নিজেকে যুক্ত করে নতুন নতুন বন্ধুত্ব তৈরির মাধ্যমেও হতাশা কাটানো যায়।

* বন্ধুদের সঙ্গে মাঝে মাঝে গেট-টুগেদার করতে পারেন। যেখানে জম্পেস আড্ডায় উড়িয়ে দিতে পারেন দুঃখ, কষ্ট ও হতাশা।

* দীর্ঘদিনের হতাশা-বিষণ্ণতা কাটাতে মনোচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

* প্রতিদিনের কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম আপনার হতাশা কাটাতে সাহায্য করবে। তাই যান্ত্রিক জীবন থেকে বেরিয়ে এসে নিজের জন্য কিছু সময় দিন।


 

সাবমিট

কর্মক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি করে বিষণ্ণতা

  
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

অফিসে প্রায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে চাপ নিয়েই কাজ করতে হয়। নানা কাজ আর ভিন্ন চিন্তার সহকর্মী নিয়ে আমাদের নিত্য হুড়োহুড়ি। অনেক সময় হাতের কাজ রেখেও ঊর্ধ্বতনের হুকুম তামিল করতে হয়। সেই কাজে ক্ষুদ্র ভুল হলে বকাঝকা কিংবা কখনও তিরস্কার পেতে হয়। কাজের আকার আর প্রকৃতি অনুসারে হাজারো সমস্যা-দ্বিধায় অফিসে আমরা হাঁপিয়ে উঠি। সহকর্মীর কোনো আচরণ কিংবা নানা কারণে আমাদের মধ্যে বিষণ্ণতা ও হতাশা ভর করে বসে। মেজাজ হয়ে ওঠে খিটখিটে। ওই মুহূর্তে সহকর্মীর সঙ্গে অযথা তর্কে যাওয়া অযথা ফাইল ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটে। বিষণ্ণতা (ডিপ্রেসন) এভাবেই বিষিয়ে দেয় কাজের পরিবেশ। তাই মনে হতাশা ভর করলে খুব সর্তক থেকে অফিসে কাজ করতে হবে, কারণ এ সময় ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কর্পোরেট সিস্টেমে স্বল্প সংখ্যক কর্মী দিয়ে অফিসে বেশি কাজ আদায়ের প্রবণতা থাকে। তাই মাঝে মধ্যে কাজের চাপ বাড়াবাড়ি রকমের বেশি হয়ে থাকে। তখন চাপে পিস্ট হয়ে কর্মী ভুল করে বসেন। অফিস সেটা ভালোভাবে নেয় না। অফিস চায় চাপের মধ্যেও কর্মী নির্দিষ্ট ট্রাইমফ্রেমে নির্ভুলভাবে আউটপুট দিবে। কর্মীর সাফল্যকে খুব কম সংখ্যক অফিসেই সাধুবাদ জানানো হয়। তবে ভুল করলে তিরস্কার যেন অনিবার্য। আর এত কাজ করার পরও যখন একটু-আধটু ভুলের জন্য তিরস্কার জুটে তখনই মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। এসময় সঠিক সঙ্গ না পেলে আপনার মধ্যে হতাশা ভর করতে পারে। এসময় আপনি সমস্যাটা আপনার বিশ্বস্থ কারও সঙ্গে শেয়ার করুন। অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে আপনি যত বেশি কমিউকেট করতে পারবেন কর্মপরিবেশ ততটা আপনার অনুকূলে থাকবে। ভুল করার চেয়ে কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। অভিজ্ঞ সহকর্মীর সঙ্গেও কাজের সুবিধার্থে আলাপ করে নিতে পারেন যদি তিনি আপনার বিষয়ে আন্তরিক হন। তবেই হতাশার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হবে না।

পশ্চিমা দুনিয়ার পেশাদাররা হতাশা-বিষণ্ণতাকে কর্মশক্তির বিরুদ্ধে নেতিবাচক আচরণ হিসেবে ভেবে নেন। সেখানে কোনো কারণে হতাশা-বিষণ্ণতা মনে ভর করলে সোজা মনোচিকিৎসকের কাছে চলে যান তারা। আমাদের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মক্ষেত্রে বিষণ্ণতার সময় মনোচিকিৎসকের কাছে যাওয়ার নজির খুব একটা দেখা যায় না। কারণ হিসেবে আমি বলব, আমাদের মনের জোর তাদের চেয়ে বেশি। ঠিকই আমরা অল্প সময় পর হতাশা কাটিয়ে উঠি। এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমাদের রোবটের মতো দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এমতাবস্থায় মাঝেমধ্যে বিষণ্ণতা ও একঘেয়েমি আসাটা অস্বাভাবিক নয়। বিষণ্ণতার সময় বেশি বেশি নিজের ইতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে ভাবুন। নিজের সফলতা ও সম্ভবনার দিকগুলো চোখ বন্ধ করে মানসপটে নিয়ে আসুন। জীবনের সুখস্মৃতিগুলো নিয়ে চিন্তা করুন। দেখবেন কাজে দেবে। আর বিষণ্ণতা বেশি ভর করলে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে পরিবার নিয়ে কোথাও ঘুরে আসুন। দেখবেন মন চাঙ্গা হয়ে গেছে। মনে রাখবেন কর্মক্ষেত্রে নিজেকেই স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবেশ তৈরি করে নিতে হয়। এক্ষেত্রে সবচে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অফিসে যে কোনো পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়া। কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে নেয়া। মনে রাখবেন মনে আনন্দ থাকলে দৈনিক ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করলেও আপনি ক্লান্ত হবেন না। কাজটা আসে মস্তিষ্ক থেকে। আর মন ভালো না থাকলে মস্তিষ্ক কম্পিউটারের মতো হ্যাং হয়ে যায়। তাই মনটাকে সদা তাজা রাখতে হবে। তবেই কর্মক্ষেত্রে হতাশা ভর করবে না।

এছাড়া আপনি যদি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হন তবে আপনাকে থাকতে হবে নির্ভার, স্বতঃস্ফূর্ত। আপনার মধ্যে হতাশা ভর করলে অধস্তন বা সহকর্মী আপনার অন্যায় আচরণের শিকার হতে পারেন। হতাশা থেকে আপনি বদমেজাজি হলে অধস্তনরা ভয়ে তটস্ত থাকবে। তারা অফিসের জন্য প্রয়োজনীয় বহু বিষয়ও আপনার সঙ্গে শেয়ার করতে চাইবে না। আবার বহু প্রয়োজনীয় ফাইল আপনার টেবিলে পড়ে থাকবে। এতে অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব নিজেকে স্বাভাবিক করে ফেলুন। মন বেশি খারাপ হলে পরিবারকে নিয়ে বিকালে একটি প্রিয় জায়গা ঘুরে আসুন। খেলাধুলার অভ্যাস থাকলে তা করুন। বা জিমেও যেতে পারেন। দেখবেন মনটা চাঙ্গা হয়ে উঠছে। ধর্মে বলা আছে দুখের পরে সুখ আছে। সুখের পরে দুখ। তাই যখনই বিষণ্ণতা আসবে ভাববেন নিশ্চয়ই সামনে আপনার জন্য ভালো সময় অপেক্ষা করছে।

বিষণ্ণতায় অফিসে যা করবেন না

* হতাশায় মানুষ অনেক সময় কর্মক্ষেত্রে অভিযোগপ্রবণ হয়ে ওঠে। অযথা অন্যের বিরুদ্ধে বসের কাছে নালিশ করা ও পরচর্চা থেকে বিরত থাকুন। আপনি অন্যের প্রতি অবিচার করলে আপনার ক্ষেত্রেও তা ঘটতে পারে। কারণ প্রকৃতিরও একটা বিচার আছে।

* মানসিক বিষণ্ণতায় অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন- ফেসবুক-টুইটারে নেতিবাচক মন্তব্য করে থাকেন। সেটি অনেক সময় সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনের বিরুদ্ধেও যায়। এমন আচরণ পেশায় ক্ষতি ডেকে আনে।

* ঊর্ধ্বতন, সহকর্মী কিংবা অধস্তনের সঙ্গে রেগে কিংবা কটু কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

* কর্মক্ষেত্রে অযথা রাগারাগি, অপ্রয়োজনীয় শব্দ করা, উচ্চ স্বরে কথা বলা, ফাইল ছোড়া কিংবা অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করবেন না

হতাশা হলে যা করবেন

* যে কারণে হতাশা তার কারণ খুঁজে বের করে সমাধানের চেষ্টা করুন।

* বেতন-ভাতা কিংবা পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হতাশ হলে ঊর্ধ্বতন কর্তার সঙ্গে শেয়ার করা সর্বোচ্চ বুদ্ধিমানের কাজ। বসকে বিনয়ের সঙ্গে খোলামেলা বলুন- বর্তমান বেতনে আপনি এফোর্ট করতে পারছেন না।

* দীর্ঘদিন মনের মধ্যে অস্বস্তি দানা বাঁধতে দিবেন না। তা কাজের ওপরে প্রভাব ফেলে। এমনটা হলে সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের দিকে মনোযোগ দিন।

* সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কজনিত কারণে হতাশায় ভুগলে বন্ধুত্ব আর ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে সম্পর্কোন্নয় করুন।

* অফিস শেষ করে অথবা সময় বের করে সহকর্মীর সঙ্গে কিছুক্ষণ বসুন। চা পান করুন। গল্প করুন।

* সহকর্মী আর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইতিবাচক আচরণ আর সম্পর্ক গড়ে তুললে কর্মক্ষেত্রে বিষণ্ণতা আসার মতো পরিবেশই তৈরি হবে না। সুতরাং ইতিবাচক আচরণ গড়ে তুলুন নিজের মধ্যে।

* ক্লান্তি দূর করতে চাইলে কোথাও থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

* প্রতিদিনের একই ধরেনের বাঁধা রুটিন হতে বেরিয়ে আসুন।

* অফিসের ছুটির দিনগুলো বাড়িতে কিংবা সামাজিক কোনো সংগঠনে নিজেকে যুক্ত করে নতুন নতুন বন্ধুত্ব তৈরির মাধ্যমেও হতাশা কাটানো যায়।

* বন্ধুদের সঙ্গে মাঝে মাঝে গেট-টুগেদার করতে পারেন। যেখানে জম্পেস আড্ডায় উড়িয়ে দিতে পারেন দুঃখ, কষ্ট ও হতাশা।

* দীর্ঘদিনের হতাশা-বিষণ্ণতা কাটাতে মনোচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

* প্রতিদিনের কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম আপনার হতাশা কাটাতে সাহায্য করবে। তাই যান্ত্রিক জীবন থেকে বেরিয়ে এসে নিজের জন্য কিছু সময় দিন।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র