¦
ব্যাংকিং খাতে সুশাসন জরুরি

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ | প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৬

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। কমে আসছে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা। এতে আগামীতে পুঁজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্যাংকের সুশাসন জরুরি। হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক এবং বিসমিল্লাহ গ্রুপসহ বেশ কিছু কেলেংকারি হয়েছে। তবে এগুলো সবই দৃশ্যমান। এর মাধ্যমে অনুমান করা যায় অদৃশ্য কিছু কেলেংকারি রয়েছে। যা এখনও প্রকাশিত হয়নি। বেসিক ব্যাংকের কথাই ধরা যাক। ব্যাংকটিতে কেলেংকারি হল। দেশের সবচেয়ে সুশৃংখল একটি ব্যাংক লুট করা হল। এরপর জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করা হবে, এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এটি অনৈতিক। তিনি বলেন, আমি আগে থেকে বলে আসছি। সরকারি ব্যাংকের বিভিন্ন আর্থিক কেলেংকারির সঙ্গে সরকারদলীয় লোকজন জড়িত। পরিচালনা পর্ষদের নামে ব্যাংকে ডাকাত দিয়েছিল সরকার। তারা ব্যাংকে ডাকাতি করেছে। আর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব সরকারের। সরকারই এসব ব্যাংকের মালিক। তাই মূলধন ঘাটতি হলে সরকার দিতে পারে। এর বৈধতা আছে। কিন্তু একটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। কীভাবে ব্যাংকগুলোতে মূলধন ঘাটতি হল। কীভাবে জনগণের আমানতের টাকা লুট করে দেয়া হল। বিষয়টি আমানতকারীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করছে। সোনালী ব্যাংক থেকে হলমার্ক গ্রুপ ৪ হাজার কোটি, বেসিক ব্যাংক থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ৪ হাজার, বিসমিল্লাহ গ্রুপের ৫০০ কোটিসহ ১০০ কোটির মতো কয়েকটি অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। সোনালী ও বেসিক সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক। এসব ব্যাংকের চেয়ারম্যান, এমডি সরকার নিয়োগ দেয়। ফলে অনিয়মের দায় সরকার এড়াতে পারে না। তবে এসব ঘটনায় অপরাধীদের কিছুই হয়নি। এদের বিচার নিশ্চিত না হলে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন আসবে না। অন্যদিকে বেসিক ব্যাংকের এসব অনিয়মের তদন্ত করল বাংলাদেশ ব্যাংক। আবিষ্কার হল এর সঙ্গে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু জড়িত। তদন্ত করে তাকে দায়মুক্তি দিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এটি অন্যায়। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় দুদকের পুনর্গঠন করতে হবে। কারা এ তদন্ত করল। কীভাবে দায়মুক্তি দিল। এটি বের করতে না পারলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়া কঠিন।
আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক তদবিরে ঋণ অনুমোদন হয়। যারা ঋণ নেয় তারা রাজনৈতিক ক্ষমতার কারণে আর ফেরত দিতে চায় না। বর্তমানে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের বেশি নয়। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থা একেবারেই খারাপ। অডিট করলে আরও খারাপ পরিস্থিতি বেরিয়ে আসবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ জরুরি। এক্ষেত্রে কোনো মন্ত্রী বা এমপির ব্যাংকের এমডিদের কাছে কোনো ধরনের সুপারিশ করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে তারা অর্থমন্ত্রীকে বলতে পারে। ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও দক্ষতা যাচাই করা উচিত। এক্ষেত্রে সাবেক ব্যাংকার, সৎ ও সফল ব্যবসায়ী এবং বিজ্ঞ আইনজীবীদের বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষ ও যোগ্যদের অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। আমার মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম অন্তরায় ট্রেড ইউনিয়ম। কারণ তারা বিভিন্ন সময়ে নানা কাজে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে। এক্ষেত্রে কোনো ট্রেড ইউনিয়নকে রাজনৈতিক মূল দলের অঙ্গ সংগঠন করা উচিত নয়। তবে তারা একই আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের পৃথক সংগঠন হতে হবে।
ব্যাংকিং খাতের অভিভাবক বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা সব বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে পারে। তবে সরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে এ ক্ষমতা দেয়া হয়নি। আইনেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা সীমিত করে দেয়া হয়েছে। ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সবার আগে আইন পরিবর্তন জরুরি।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও অসততা ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে কয়েকটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। কিছু গ্রুপের কাছে ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ব্যাংক খাতের জন্য চিন্তার বিষয়। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোতে মালিকরা ব্যাংকারদের ওপর বিভিন্ন রকম হস্তক্ষেপ করে। তারা সিনিয়র ব্যাংকারদের বেশি সুবিধা দিচ্ছে। বিনিময়ে নানা সুবিধাও নিচ্ছে। এসব ব্যাংকার মালিকদের নির্দেশ অমান্য করলেই চাকরি হারাচ্ছেন। আবার কিছু এমডি পরের পদের চেয়ে ৩-৫ গুণ বেশি বেতনভাতা নিচ্ছেন। এটি ব্যাংকের জন্য খারাপ ইঙ্গিত। ব্যাংক পরিচালনায় ৫০ শতাংশ পরিচালক শেয়ারহোল্ডার ও ৫০ শতাংশ পরিচালক বিশেষ কমিশন বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মনোনয়ন দেয়া উচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশ থেকে টাকা পাচারের তথ্য আসছে। যদিও যেসব সংস্থার পাচারের তথ্য প্রকাশ করছে তাদের ব্যাপারে উৎস সম্পর্কে আমি জানি না। তবে দেশের অর্থনীতির স্বার্থে সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে। কারণ অপরাধীদের শাস্তি না হলে নতুন করে অপরাধ বাড়তেই থাকবে।
কালনিরবধি ২০১৬ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close