¦
বিনিয়োগ না হওয়ায় পুঁজি পাচারের আশংকা

এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম | প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৬

বিনিয়োগের জন্য সবার আগে অনুকূল পরিবেশ জরুরি। বিনিয়োগকারীদের নিশ্চয়তা দিতে হবে, পণ্য উৎপাদনের পর তা বিপণন এবং পরিবহনে কেউ বাধা সৃষ্টি করবে না। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে এগুলো বাধাগ্রস্ত হয়। আগামীতেও অসহিষ্ণু রাজনীতি থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
ফলে অকপটে বলা যায় দেশের বতর্মান পরিবেশ বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে নয়। এ কারণেই বিনিয়োগে মন্দা চলছে। একটি বিষয়ে সবাই একমত সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগের বড় সমস্যা রাজনৈতিক অস্থিরতা। এছাড়া নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কিছু সমস্যাসহ বাংলাদেশে নিয়মিত কিছু সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে বিনিয়োগ না হলেও দেশে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে সন্দেহ হচ্ছে, ওভার ইনভয়েসিং মাধ্যমে বিদেশে পুঁজি পাচার হচ্ছে। আর বিনিয়োগে গতি না এলে আগামীতে এ আশংকা আরও বাড়বে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ৩২ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ হল আগামী ৫ বছরে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে দেশে এই পরিমাণ বিনিয়োগ হবে। এ লক্ষ্যমাত্রাকে উচ্চাভিলাষী বললে উদার বিশ্লেষণ হবে। কারণ বিনিয়োগের যে পরিবেশ বিরাজ করছে, পাশাপাশি কয়েক বছরের বিনিয়োগের যে ধারা চলে আসছে, তাতে এ পরিমাণ বিনিয়োগ অসম্ভব। অন্যদিকে দাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা বেশি সুখকর নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি ইস্যুটি নিষ্পত্তি হয়নি। এতে মোটামুটি বোঝা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নয়নে তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
আগামী নির্বাচন নিয়েও বড় দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে এখনও কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে মানুষ আশংকা করছে আগামীতে বড় আন্দোলন হবে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে কেউ বিনিয়োগ করতে চাইবে না। কারণ বিনিয়োগের জন্য আগে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য নিয়মিত কিছু সমস্যা রয়েছে। এরই মধ্যে অবকাঠামো সমস্যা অন্যতম। যেমন গ্যাস বিদ্যুতের স্বল্পতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি এবং ঋণের উচ্চ সুদ রয়েছে। এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। এরপর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশংকায় পুরো পরিবেশই এখন বিনিয়োগের প্রতিকূলে।
একটি বিষয় লক্ষণীয় দেশের মোট বিনিয়োগের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। কিন্তু এ অর্থবছরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। এ ধারা বেশি দিন অব্যাহত থাকলে পুঁজি বিদেশে পাচারের আশংকা রয়েছে। অন্যদিকে বিনিয়োগে মন্দা থাকলেও আমদানি বাড়ছে। তবে এখানে অত্যন্ত চিন্তার কারণ রয়েছে। কারণ বিভিন্ন সূত্র থেকে বলা হচ্ছে, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি প্রবৃদ্ধিতে ওভার ইনভয়েসিং হচ্ছে। শিল্প বিনিয়োগে মন্দার মধ্যেও শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বেড়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির নামে দেশ থেকে টাকা পাচার করা হচ্ছে। কেননা যেভাবে শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি হয়েছে, সেভাবে শিল্পের উৎপাদন বাড়েনি। তাহলে আমদানি করা ওইসব শিল্প উপকরণ কোথায় গেল? কৃষিতে গত কয়েক বছর ধরে বাম্পার ফলন হওয়ার পরও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে চাল আমদানি বেড়েছে। সরকারিভাবে বলা হচ্ছে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, তারপরও কেন চাল আমদানি হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অর্থাৎ যন্ত্রপাতির মূল্য বেশি দেখিয়ে বিদেশে টাকা পাচার করা হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর রিপোর্টেও এসব তথ্য উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত জিএফআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর গড়ে ৫৫৮ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ থেকে পাচার হচ্ছে। ২০১০ সালে ৫৪০ কোটি ডলার অর্থ পাচার হয়েছিল। তিন বছরের ব্যবধানে এ অর্থ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬৬ কোটি ডলারে। গত দশ বছরে ৫ হাজার ৫৮৭ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে। জিএফআই এবার অর্থ পাচারের হিসাবে একটু পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে অর্থ পাচারের পরিমাণ বেড়ে গেছে বলে উঠে এসেছে। পণ্য বা সেবা আমদানিতে ওভার ইনভয়েসিং এবং রফতানিতে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে এ অর্থ পাচার হচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিষয়টি অব্যশই খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ একবার বিদেশে টাকা গেলে তা ফেরত আনা খুব কঠিন।
অন্যদিকে শেয়ারবাজারেও আস্থার সংকট চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন হচ্ছে। এটি বাজারের স্বাভাবিক ধর্ম। তবে বাংলাদেশে শেয়ারবাজারের আচরণ অস্বাভাবিক। এখানে মূল সমস্যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট। এ সংকট সহজেই কাটানো যাচ্ছে না। কারণ বড় ধরনের দুর্যোগের শেয়ারবাজারে সূচক ৫ হাজারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। একটু উত্থান হলেই আবার দ্রুতই পতন হচ্ছে। এছাড়াও রাজনৈতিক অস্থিরতায় শেয়ারবাজার প্রভাবিত হয়। বিষয়টি বিবেচনা করে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। আইন-কানুনে আরও পরিবর্তন আনতে হবে। আর বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি হলে দোষীদের চিহ্নিত করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
 

কালনিরবধি ২০১৬ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close