jugantor
ঢাবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ : আহত ১০

  বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার  

০৬ মার্চ ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সালমান প্রধান শাওন ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহের হোসেন প্রিন্সের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। বুধবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন জিয়া হল শাখা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক সাদিকুর রহমান সিফাত (সমাজবিজ্ঞান-তৃতীয় বর্ষ), শাকিল (সমাজবিজ্ঞান-প্রথম বর্ষ), রাকিব (ইসলামের ইতিহাস-প্রথম বর্ষ), আবদুল্লাহ আল মুবিন (হিসাববিজ্ঞান- প্রথম বর্ষ), রিয়াদ (হিসাববিজ্ঞান), আসাদ (ফিন্যান্স-প্রথম বর্ষ), অভি (ম্যানেজম্যান্ট-প্রথম বর্ষ), ফুয়াদ (মার্কেটিং-প্রথম বর্ষ) এবং রেজা (ফিন্যান্স-প্রথম বর্ষ)। তাদের মধ্যে সিফাত ও শাকিল গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হলের ১০৯, ১১০ ও ১১১ নম্বর রুমগুলো গণরুম (যার প্রত্যেকটিতে ২৫-৩০ জন করে থাকে)। এর মধ্যে ১০৯ নম্বর রুমটি হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শাওনের দখলে রয়েছে। যেখানে তার গ্র“পের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা থাকে। আর ১১০ ও ১১১ নম্বর রুমের দখলে আছেন সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স। যাতে তার গ্র“পের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা থাকে। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে ১০৯ নম্বর রুম থেকে শাকিল নামে শাওনের এক কর্মীর জুতা হারিয়ে যায়। যা খুঁজে পাওয়া যায় ১১০ নম্বর রুমের সামনে। পরে সে তার জুতা নিয়ে আসে এবং ১১০ রুমের উপস্থিত প্রিন্সের কর্মীদের শাসায়। এতে বিষয়টি নিয়ে উভয় গ্র“পের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় হলের উভয় পক্ষের নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় প্রত্যেকের হাতে রড, হকিস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। পরে হলের প্রাধ্যক্ষ ও সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মূলত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কথা কাটাকাটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইলেও তাদের মারামারির উস্কানি দেন ৩১৪ নম্বর রুমে থাকা হল থেকে বহিষ্কৃত ছাত্র প্রিন্স গ্র“পের ইশতিয়াক আহমেদ সোহাগ (সোনা মিয়া) ও শাওন গ্র“পের হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। তারা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বলে, ‘কোনো ছাড় দেয়া চলবে না’। পরে তাদের কথামতো প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। সংঘর্ষ বন্ধের পর হলের বিভিন্ন রুম তল্লাশি করে দেশীয় অস্ত্রগুলো নিয়ে যান হল প্রাধ্যক্ষ।

সভাপতি আবু সালমান প্রধান শাওন বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে হল প্রশাসনের পাশাপাশি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হল প্রভোস্ট আ ব ম ফারুক বলেন, এটা সম্পূর্ণ একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। আমরা ইতিমধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের লক্ষ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তারা আগামী দু’-একদিনের মধ্যেই রিপোর্ট দেবেন। রিপোর্ট পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সোহাগের হলে থাকার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।



সাবমিট

ঢাবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ : আহত ১০

 বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার 
০৬ মার্চ ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সালমান প্রধান শাওন ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহের হোসেন প্রিন্সের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। বুধবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন জিয়া হল শাখা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক সাদিকুর রহমান সিফাত (সমাজবিজ্ঞান-তৃতীয় বর্ষ), শাকিল (সমাজবিজ্ঞান-প্রথম বর্ষ), রাকিব (ইসলামের ইতিহাস-প্রথম বর্ষ), আবদুল্লাহ আল মুবিন (হিসাববিজ্ঞান- প্রথম বর্ষ), রিয়াদ (হিসাববিজ্ঞান), আসাদ (ফিন্যান্স-প্রথম বর্ষ), অভি (ম্যানেজম্যান্ট-প্রথম বর্ষ), ফুয়াদ (মার্কেটিং-প্রথম বর্ষ) এবং রেজা (ফিন্যান্স-প্রথম বর্ষ)। তাদের মধ্যে সিফাত ও শাকিল গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হলের ১০৯, ১১০ ও ১১১ নম্বর রুমগুলো গণরুম (যার প্রত্যেকটিতে ২৫-৩০ জন করে থাকে)। এর মধ্যে ১০৯ নম্বর রুমটি হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শাওনের দখলে রয়েছে। যেখানে তার গ্র“পের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা থাকে। আর ১১০ ও ১১১ নম্বর রুমের দখলে আছেন সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স। যাতে তার গ্র“পের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা থাকে। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে ১০৯ নম্বর রুম থেকে শাকিল নামে শাওনের এক কর্মীর জুতা হারিয়ে যায়। যা খুঁজে পাওয়া যায় ১১০ নম্বর রুমের সামনে। পরে সে তার জুতা নিয়ে আসে এবং ১১০ রুমের উপস্থিত প্রিন্সের কর্মীদের শাসায়। এতে বিষয়টি নিয়ে উভয় গ্র“পের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় হলের উভয় পক্ষের নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় প্রত্যেকের হাতে রড, হকিস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। পরে হলের প্রাধ্যক্ষ ও সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মূলত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কথা কাটাকাটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইলেও তাদের মারামারির উস্কানি দেন ৩১৪ নম্বর রুমে থাকা হল থেকে বহিষ্কৃত ছাত্র প্রিন্স গ্র“পের ইশতিয়াক আহমেদ সোহাগ (সোনা মিয়া) ও শাওন গ্র“পের হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। তারা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বলে, ‘কোনো ছাড় দেয়া চলবে না’। পরে তাদের কথামতো প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। সংঘর্ষ বন্ধের পর হলের বিভিন্ন রুম তল্লাশি করে দেশীয় অস্ত্রগুলো নিয়ে যান হল প্রাধ্যক্ষ।

সভাপতি আবু সালমান প্রধান শাওন বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে হল প্রশাসনের পাশাপাশি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হল প্রভোস্ট আ ব ম ফারুক বলেন, এটা সম্পূর্ণ একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। আমরা ইতিমধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের লক্ষ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তারা আগামী দু’-একদিনের মধ্যেই রিপোর্ট দেবেন। রিপোর্ট পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সোহাগের হলে থাকার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র