jugantor
টেন্ডার ঠিকাদারি কাজের ভাগাভাগি
বরিশালে হঠাৎ বেপরোয়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগ

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো  

২৪ এপ্রিল ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

কোটি কোটি টাকার টেন্ডার আর ঠিকাদারি কাজের ভাগাভাগি নিয়ে বরিশালে ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠতে শুরু করেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ। সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর যেন ক্রমেই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে এই দুই সংগঠনের একশ্রেণীর নেতাকর্মী। সব ধরনের ঠিকাদারি কাজ দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে এদের একটি অংশ। তাদের বাধা দেয়া নিয়ে বাধছে বিরোধ। সর্বশেষ ১০ কোটি ২০ লাখ টাকার টেন্ডার দাখিল নিয়ে বুধবার তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় বরিশালের গণপূর্ত দফতরে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় র‌্যাব ও পুলিশ। এ নিয়ে বিএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ক্যাম্পাসে ঘটে মহড়া দেয়ার ঘটনা। প্রশাসনযন্ত্রসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বদলি ও নানা ভয় দেখিয়ে ব্যবহারের মাধ্যমে চলছে তাদের দমনের চেষ্টা।

নগরীর সিঅ্যান্ডবি সড়কে অবস্থিত শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট ভবন নির্মাণে ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে গণপূর্ত অধিদফতর। বুধবার ছিল দরপত্র দাখিলের শেষ দিন। এর আগে ২-৩ দিন ধরেই নগরীতে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে নির্দিষ্ট কয়েকজন ছাড়া অন্য কাউকে এ কাজের টেন্ডার দাখিল করতে দেয়া হবে না। মঙ্গলবার কয়েকজন ঠিকাদারকে মোবাইল ফোনে নানা রকম হুমকিও দেয়া হয়। সকাল থেকে গণপূর্ত দফতরের সামনে পাহারা বসায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের এক গ্র“প। টেন্ডার দাখিলে বাধা দিতে থাকে তারা। বেলা ১১টা নাগাদ নাসির খান কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন টেন্ডার জমা দিতে গেলে বাধা দেয়া হয় তাদের। বাধ্য হয়ে তারা শরণাপন্ন হন ছাত্রলীগের অপর গ্র“পের। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে এলে দেখা দেয় উত্তেজনা। পাহারাদার গ্র“পকে হটিয়ে টেন্ডার দাখিল করে অপর গ্র“প। দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের খবরে র‌্যাব-পুলিশ এলে শান্ত হয় পরিস্থিতি। পরে মোট ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দাখিল করে দরপত্র। পাল্টাপাল্টি এই উত্তেজনার জের ধরে বেলা ১টা নাগাদ বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেল মহড়া দেয় ছাত্রলীগের দুই গ্র“প। ঠিকাদারদের একাংশ সন্দেহ প্রকাশ করে জানায়, যেহেতু শিডিউল জমা দেয়া আটকানো যায়নি তাই এখন দরপত্র থেকে জরুরি কাগজ সরিয়ে শিডিউল বাতিল করানোর ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে গণপূর্ত অধিদফতরের বরিশাল অফিসের নিবার্হী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ‘শিডিউল জমাদানে বাধা দেয়া নিয়ে কিছু জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির কারণে তা সফল হয়নি। শিডিউল থেকে কাগজ সরিয়ে এলোমেলো করার কোনো সুযোগ নেই। দরপত্র বাক্স খোলার সময় ঠিকাদার কিংবা তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।’ শুধু বুধবারই নয়, গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজের দরপত্র দাখিল নিয়ে চলছে উত্তাপ-উত্তেজনা। কয়েকজন ঠিকাদার জানান, ‘প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশের ভবন নির্মাণ কাজের টেন্ডার দাখিলের শেষ দিন ছিল গত ২০ এপ্রিল। ১৫টির বেশি শিডিউল বিক্রি হলেও প্রায় কোনো ঠিকাদারকেই তা দাখিল করতে দেয়া হয়নি। ভয়ভীতি দেখিয়ে জমা দেয়া থেকে বিরত রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত তাদের পছন্দের ৩-৪টি শিডিউল জমা হয় সেখানে। একই ঘটনা ঘটে গণপূর্তের আরও একটি টেন্ডারে। ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্পের শিডিউল জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ২২ এপ্রিল। এমন ঘটনাও ঘটছে যে, কোনো ঠিকাদার যদি তাদের (ছাত্রলীগ-যুবলীগ) ইচ্ছার বিরুদ্ধে টেন্ডার দাখিল করে তা হলে তাকে বাধ্য করা হয় তা উঠিয়ে নিতে। যেমনটা হয়েছে রূপালী কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে।’

শুধু ঠিকাদারি-ই নয়, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের আয়ে ভাগ বসানোসহ আরও নানা বিষয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ছে এখানকার বিবদমান দুই গ্র“প। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা যুগান্তরকে বলেন, ‘রাজনীতিতে হিরনের প্রতিপক্ষ থাকা নেতাকর্মীরা বর্তমানে সর্বশক্তি নিয়োগ করে চাইছেন মাঠের দখল নিতে। হিরন না থাকায় প্রশাসনও বর্তমানে ভুগছে নানা সিদ্ধান্তহীনতায়। এ অবস্থায় যেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে হিরন অনুসারীরা তাতে খুব দ্রুত যদি কেন্দ্র কোনো ব্যবস্থা না নেয় তাহলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ আরও বড় অঘটন ঘটতে পারে। বিষয়টি নিয়ে দারুণ উদ্বিগ্ন দলের সিনিয়র নেতারাসহ সর্বস্তরের মানুষ।



সাবমিট
টেন্ডার ঠিকাদারি কাজের ভাগাভাগি

বরিশালে হঠাৎ বেপরোয়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগ

 আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো 
২৪ এপ্রিল ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 
কোটি কোটি টাকার টেন্ডার আর ঠিকাদারি কাজের ভাগাভাগি নিয়ে বরিশালে ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠতে শুরু করেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ। সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর যেন ক্রমেই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে এই দুই সংগঠনের একশ্রেণীর নেতাকর্মী। সব ধরনের ঠিকাদারি কাজ দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে এদের একটি অংশ। তাদের বাধা দেয়া নিয়ে বাধছে বিরোধ। সর্বশেষ ১০ কোটি ২০ লাখ টাকার টেন্ডার দাখিল নিয়ে বুধবার তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় বরিশালের গণপূর্ত দফতরে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় র‌্যাব ও পুলিশ। এ নিয়ে বিএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ক্যাম্পাসে ঘটে মহড়া দেয়ার ঘটনা। প্রশাসনযন্ত্রসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বদলি ও নানা ভয় দেখিয়ে ব্যবহারের মাধ্যমে চলছে তাদের দমনের চেষ্টা।

নগরীর সিঅ্যান্ডবি সড়কে অবস্থিত শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট ভবন নির্মাণে ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে গণপূর্ত অধিদফতর। বুধবার ছিল দরপত্র দাখিলের শেষ দিন। এর আগে ২-৩ দিন ধরেই নগরীতে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে নির্দিষ্ট কয়েকজন ছাড়া অন্য কাউকে এ কাজের টেন্ডার দাখিল করতে দেয়া হবে না। মঙ্গলবার কয়েকজন ঠিকাদারকে মোবাইল ফোনে নানা রকম হুমকিও দেয়া হয়। সকাল থেকে গণপূর্ত দফতরের সামনে পাহারা বসায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের এক গ্র“প। টেন্ডার দাখিলে বাধা দিতে থাকে তারা। বেলা ১১টা নাগাদ নাসির খান কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন টেন্ডার জমা দিতে গেলে বাধা দেয়া হয় তাদের। বাধ্য হয়ে তারা শরণাপন্ন হন ছাত্রলীগের অপর গ্র“পের। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে এলে দেখা দেয় উত্তেজনা। পাহারাদার গ্র“পকে হটিয়ে টেন্ডার দাখিল করে অপর গ্র“প। দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের খবরে র‌্যাব-পুলিশ এলে শান্ত হয় পরিস্থিতি। পরে মোট ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দাখিল করে দরপত্র। পাল্টাপাল্টি এই উত্তেজনার জের ধরে বেলা ১টা নাগাদ বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেল মহড়া দেয় ছাত্রলীগের দুই গ্র“প। ঠিকাদারদের একাংশ সন্দেহ প্রকাশ করে জানায়, যেহেতু শিডিউল জমা দেয়া আটকানো যায়নি তাই এখন দরপত্র থেকে জরুরি কাগজ সরিয়ে শিডিউল বাতিল করানোর ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে গণপূর্ত অধিদফতরের বরিশাল অফিসের নিবার্হী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ‘শিডিউল জমাদানে বাধা দেয়া নিয়ে কিছু জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির কারণে তা সফল হয়নি। শিডিউল থেকে কাগজ সরিয়ে এলোমেলো করার কোনো সুযোগ নেই। দরপত্র বাক্স খোলার সময় ঠিকাদার কিংবা তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।’ শুধু বুধবারই নয়, গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজের দরপত্র দাখিল নিয়ে চলছে উত্তাপ-উত্তেজনা। কয়েকজন ঠিকাদার জানান, ‘প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশের ভবন নির্মাণ কাজের টেন্ডার দাখিলের শেষ দিন ছিল গত ২০ এপ্রিল। ১৫টির বেশি শিডিউল বিক্রি হলেও প্রায় কোনো ঠিকাদারকেই তা দাখিল করতে দেয়া হয়নি। ভয়ভীতি দেখিয়ে জমা দেয়া থেকে বিরত রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত তাদের পছন্দের ৩-৪টি শিডিউল জমা হয় সেখানে। একই ঘটনা ঘটে গণপূর্তের আরও একটি টেন্ডারে। ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্পের শিডিউল জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ২২ এপ্রিল। এমন ঘটনাও ঘটছে যে, কোনো ঠিকাদার যদি তাদের (ছাত্রলীগ-যুবলীগ) ইচ্ছার বিরুদ্ধে টেন্ডার দাখিল করে তা হলে তাকে বাধ্য করা হয় তা উঠিয়ে নিতে। যেমনটা হয়েছে রূপালী কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে।’

শুধু ঠিকাদারি-ই নয়, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের আয়ে ভাগ বসানোসহ আরও নানা বিষয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ছে এখানকার বিবদমান দুই গ্র“প। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা যুগান্তরকে বলেন, ‘রাজনীতিতে হিরনের প্রতিপক্ষ থাকা নেতাকর্মীরা বর্তমানে সর্বশক্তি নিয়োগ করে চাইছেন মাঠের দখল নিতে। হিরন না থাকায় প্রশাসনও বর্তমানে ভুগছে নানা সিদ্ধান্তহীনতায়। এ অবস্থায় যেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে হিরন অনুসারীরা তাতে খুব দ্রুত যদি কেন্দ্র কোনো ব্যবস্থা না নেয় তাহলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ আরও বড় অঘটন ঘটতে পারে। বিষয়টি নিয়ে দারুণ উদ্বিগ্ন দলের সিনিয়র নেতারাসহ সর্বস্তরের মানুষ।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র