¦

এইমাত্র পাওয়া

  • দুদিন পর মাওয়া কাওরাকান্দি রুটে রো রো ফেরী চলাচল শুরু
ইনকিলাবের বার্তা সম্পাদক ৫ দিনের রিমান্ডে

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৪

তথ্য-প্রযুক্তি ও যোগাযোগ আইনে (আইসিটি অ্যাক্ট) পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারের পর দৈনিক ইনকিলাবের বার্তা সম্পাদক রবিউল্লাহ রবিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এদিকে বুধবার রাতে আবার ইনকিলাব অফিসে অভিযান চালিয়েছে ডিবি পুলিশ। তারা অপরাধ রিপোর্টিং বিভাগের প্রধান সাখাওয়াত হোসেনকে খোঁজ করেন ও তার ঠিকানা জানতে চান। পুলিশ অফিসের বিভিন্ন ফ্লোরে ও ডেস্কে তল্লাশি করে। যাওয়ার সময় তার কম্পিউটার ও মেকআপ বিভাগ থেকে একটি কম্পিউটার জব্দ করে নেয়। গ্রেফতার আতংকে সাংবাদিকদের অনেকে বুধবার অফিসে যাননি। তারা অফিসের বাইরে থেকে রিপোর্ট তৈরি করে পাঠান। রাত সাড়ে ৯টায় ইনকিলাব কার্যালয়ে থেকে জানানানো হয়েছে, তাদের অফিসে স্বাভাবিক কাজ হয়েছে। আজ পত্রিকার প্রকাশনা চালু থাকবে। জানা গেছে, ইনকিলাবে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য এক পুলিশ কর্মকর্তার শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের জের ধরে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার মঙ্গলবার ওয়ারী থানায় মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ। মামলাটির এজাহারে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, প্রশাসনে বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা ও আইসিটি আইন লংঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। এরপর মঙ্গলবার মধ্যরাতে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ইনকিলাব কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে রবিউল্লাহ রবিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা বিভিন্ন কম্পিউটার থেকে বেশকিছু নথিপত্র জব্ধ করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আজিজুর রহমান জানান, বুধবার দুপুরে রবিউল্লাহ রবিকে ঢাকা মহানগর হাকিম এসএম আশিকুর রহমানের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছেন।
এআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদারের নানা দুর্নীতি নিয়ে সোমবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইনকিলাব। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি পুলিশ বাহিনীতে তৈরি করেছেন অঘোষিত হিন্দু লীগ। এরপর ইনকিলাবের বার্তা সম্পাদকের পাশাপাশি প্রকাশক ও সম্পাদক, প্রধান প্রতিবেদক, নগর সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককেও আসামি করে মামলা করেন প্রলয় কুমার জোয়ারদার।
রিমান্ডের প্রতিবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, আসামিরা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে পুলিশ বিভাগে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করেছেন। আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। পাশাপাশি হিন্দু লীগ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে- এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আসামিরা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার চেষ্টা করেছেন। ইনকিলাব ওই প্রতিবেদন তৈরির জন্য কাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং কারা এর নেপথ্যে ইন্ধন দিয়েছে তা জানতে বার্তা সম্পাদক রবিকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে রবির আইনজীবী সৈয়দ আহমেদ গাজী বলেন, ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ জানানো হয়নি, তারা প্রেস কাউন্সিলেও কোনো অভিযোগ করেনি। তারা মানহানির মামলা করতে পারত। তা না করে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে, যা ঠিক হয়নি।
কয়েকজন সাংবাদিক জানান, মঙ্গলবার রাতে ইনকিলাব কার্যালয়ে অভিযানকালে পুলিশের দলটি প্রথমে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য এক পুলিশ কর্মকর্তার এবং মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ভারতবিরোধী মনোভাব বিদ্যমান শিরোনামের দুটি প্রতিবেদন কে বা কারা লিখেছে, তা জানতে চায়। এরপর কয়েকজন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে তাদের খোঁজেন। তাদের জীবন বৃত্তান্তও জানতে চায় পুলিশ। দিনে অফিস খোলার সময় জীবন বৃত্তান্ত পাওয়া যাবে বলে ডিবি কর্মকর্তাদের জানান বার্তা সম্পাদক রবিউল্লাহ রবি। এরপর পুলিশ যাওয়ার সময় তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
ইনকিলাবের সাংবাদিকরা জানান, বুধবার অফিসের পরিবেশ ছিল থমথমে। তবে বেশিরভাগ সাংবাদিক কাজে যোগ দিলেও কিছু সাংবাদিক গ্রেফতার আতংকে রয়েছেন। তারা অফিসে যাননি। বুধবার রাতে ফের অভিযান শুরু করায় সাংবাদিক ও সংবাদ কর্মীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৬ জানুয়ারি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে জড়িয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর দৈনিক ইনকিলাবের বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় আইসিটি আইনে আরেকটি মামলা হয়। এরপর গোয়েন্দা পুলিশ পত্রিকাটির কার্যালয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালায় এবং সেটি সিলগালা করে দেয়। সে সময় পত্রিকাটির অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক আহমদ আতিকের সঙ্গে রবিউল্লাহ রবিকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তারা আদালত থেকে জামিন নিয়ে মুক্তি পান। তখন পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
বিএনপি মহাসচিবের নিন্দা : ইনকিলাবের বার্তা সম্পাদককে গ্রেফতার, মানবজমিন পত্রিকার সিলেট প্রতিনিধিকে গ্রেফতার ও দৈনিক সমকালের ব্যুরো প্রধান পুলক চ্যাটার্জীকে কুপিয়ে আহত করা ও বিডি নিউজের সাংবাকি সঞ্জয় কুমার দাস এবং মাছরাঙা টেলিভিশনের পটুয়াখালী প্রতিনিধিকে মিথ্যা মামলা দেয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা বাস্তবায়নের আগেই ক্ষমতাসীনরা গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর বেপরোয়া ও হিংস্র আক্রমণ শুরু করেছে। সরকার ক্ষমতার মোহ ও দাপটে এতটাই উন্মাদ হয়েছে যে, জনসমাজের মুখপাত্র সাংবাদিকদের ওপরই নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close