jugantor
পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে ইবি বন্ধ ঘোষণা
শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ

  ইবি প্রতিনিধি  

২৫ আগস্ট ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

ভিসি ও প্রোভিসির গাড়িতে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় আজ থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আজ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ছুটি কার্যকর থাকবে। এছাড়া আজ বেলা ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ৯ সেপ্টেম্বর যথারীতি ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবে। রোববার রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে জরুরি সিন্ডিকেটে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অস্থীতিশীল পরিবেশ বিরাজ করায় জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ও ছাত্রলীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রোভিসির গাড়িতে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ৫ পুলিশ, ছাত্রলীগের ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ ২০ নেতাকর্মী, ৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। আশংকাজনক অবস্থায় দশজনকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সময় প্রক্টর ও ছাত্র-উপদেষ্টার অফিসসহ প্রায় ১৫টি গাড়িতে ভাংচুর চালায় ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা গিয়ে শিবিরের কাছ থেকে ব্যানার কেড়ে নিয়ে মিছিল করতে নিষেধ করেন। পরে নিজেদের ব্যানারে মিছিল করতে ব্যর্থ হয়ে শিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে তাদের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে গাজায় ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে মিছিল করে। মিছিল শেষে তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেলে আকস্মিকভাবে ছাত্রলীগের টেন্টে অবস্থানরত ৩০-৪০ নেতাকর্মী ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবুজর গিফারী গাফফারের নেতৃত্বে লাঠিসোটা নিয়ে স্লোগান দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের দিকে ছুটে যায়। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে প্রশাসন ভবনে এসে সেখানেও ভাংচুর চালায়। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার দেয়া একটি ডাবল ডেকার বাসসহ প্রায় ১৫টি গাড়ি ভাংচুর করে। ভাংচুরের সময় গাড়িতে থাকা কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ সময় ভয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে থাকে।
ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার ও প্রোভিসি অধ্যাপক ড. শাহীনুর রহমান জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান থেকে আসার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের গাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকারের গাড়িটি মেইন গেটের দিকে এবং  প্রোভিসি অধ্যাপক ড. শাহীনুর রহমানকে বহন করা গাড়িটি বিপরীত দিকে চলে যায়। ভিসি, প্রোভিসির গাড়িতে ছাত্রলীগ হামলা চালালে পুলিশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের  হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে তারা প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টার অফিসে গিয়ে ভাংচুর চালায়। পরে ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রশাসন ভবনে গিয়ে দ্বিতীয় দফা ভাংচুর শুরু করে। এতে পুলিশ বাধা দিতে গেলে ছাত্রলীগের কর্মীরা পুলিশ কনস্টেবল তরিকুল, পুলিশ সদস্য মনির ও তুহিনকে ব্যাপক মারধর করে। এ সময় কনস্টেবল তরিকুলের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন তারা।
এতে পুলিশ উত্তেজিত হয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের লক্ষ্য করে প্রায় ৮ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের গুলিতে ছাত্রলীগ কর্মী রানু, বিপ্লব, শাহীন, মাসুদ, তন্ময়শাহ তনি, পলাশ গুলিবিদ্ধ এবং মিজু, সজীব, সোহাগ, শিমুল, আরবশাহ, আনিস, সাগর, উজ্জ্বল, আরাফাত, হানিফসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। এদিকে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ। মিছিল থেকে ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করা হয়। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় মিজু, বিপ্লব, তন্ময়শাহ তনি, আনিস, সাগর, আরাফাতকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রানু, মাসুদ, শাহীন, আরবশাহকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে ছাত্রলীগ সূত্র জানায়। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রশাসন ভবনের সামনে লাঠিচার্জ করলে কয়েকজন কর্মকর্তা ও ড্রাইভার সালাউদ্দীন, তরিকুল, জিয়াসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ভিসি, প্রোভিসি গাড়ি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসসহ ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এ সময় তারা দায়িত্বরত বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগ হঠাৎ করে কেন ক্যাম্পাসে ভাংচুর চালিয়েছে আমরা জানি না। খুব দ্রুত তদন্ত করে এর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, ‘আমি জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান শেষে অফিসের দিকে যাওয়ার সময় আমার গাড়িতে যারা হামলা করেছে অতি শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কী কারণে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করছে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা তদন্তে সিন্ডিকেটের বৈঠকে ভিসি আবদুল হাকিম সরকারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য কতজন হবে তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ভিসিকে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন সিন্ডিকেটে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
 

সাবমিট

পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে ইবি বন্ধ ঘোষণা

শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ
 ইবি প্রতিনিধি 
২৫ আগস্ট ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 

ভিসি ও প্রোভিসির গাড়িতে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় আজ থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আজ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ছুটি কার্যকর থাকবে। এছাড়া আজ বেলা ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ৯ সেপ্টেম্বর যথারীতি ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবে। রোববার রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে জরুরি সিন্ডিকেটে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অস্থীতিশীল পরিবেশ বিরাজ করায় জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ও ছাত্রলীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রোভিসির গাড়িতে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ৫ পুলিশ, ছাত্রলীগের ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ ২০ নেতাকর্মী, ৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। আশংকাজনক অবস্থায় দশজনকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সময় প্রক্টর ও ছাত্র-উপদেষ্টার অফিসসহ প্রায় ১৫টি গাড়িতে ভাংচুর চালায় ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা গিয়ে শিবিরের কাছ থেকে ব্যানার কেড়ে নিয়ে মিছিল করতে নিষেধ করেন। পরে নিজেদের ব্যানারে মিছিল করতে ব্যর্থ হয়ে শিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে তাদের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে গাজায় ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে মিছিল করে। মিছিল শেষে তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেলে আকস্মিকভাবে ছাত্রলীগের টেন্টে অবস্থানরত ৩০-৪০ নেতাকর্মী ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবুজর গিফারী গাফফারের নেতৃত্বে লাঠিসোটা নিয়ে স্লোগান দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের দিকে ছুটে যায়। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে প্রশাসন ভবনে এসে সেখানেও ভাংচুর চালায়। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার দেয়া একটি ডাবল ডেকার বাসসহ প্রায় ১৫টি গাড়ি ভাংচুর করে। ভাংচুরের সময় গাড়িতে থাকা কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ সময় ভয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে থাকে।
ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার ও প্রোভিসি অধ্যাপক ড. শাহীনুর রহমান জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান থেকে আসার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের গাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকারের গাড়িটি মেইন গেটের দিকে এবং  প্রোভিসি অধ্যাপক ড. শাহীনুর রহমানকে বহন করা গাড়িটি বিপরীত দিকে চলে যায়। ভিসি, প্রোভিসির গাড়িতে ছাত্রলীগ হামলা চালালে পুলিশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের  হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে তারা প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টার অফিসে গিয়ে ভাংচুর চালায়। পরে ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রশাসন ভবনে গিয়ে দ্বিতীয় দফা ভাংচুর শুরু করে। এতে পুলিশ বাধা দিতে গেলে ছাত্রলীগের কর্মীরা পুলিশ কনস্টেবল তরিকুল, পুলিশ সদস্য মনির ও তুহিনকে ব্যাপক মারধর করে। এ সময় কনস্টেবল তরিকুলের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন তারা।
এতে পুলিশ উত্তেজিত হয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের লক্ষ্য করে প্রায় ৮ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের গুলিতে ছাত্রলীগ কর্মী রানু, বিপ্লব, শাহীন, মাসুদ, তন্ময়শাহ তনি, পলাশ গুলিবিদ্ধ এবং মিজু, সজীব, সোহাগ, শিমুল, আরবশাহ, আনিস, সাগর, উজ্জ্বল, আরাফাত, হানিফসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। এদিকে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ। মিছিল থেকে ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করা হয়। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় মিজু, বিপ্লব, তন্ময়শাহ তনি, আনিস, সাগর, আরাফাতকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রানু, মাসুদ, শাহীন, আরবশাহকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে ছাত্রলীগ সূত্র জানায়। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রশাসন ভবনের সামনে লাঠিচার্জ করলে কয়েকজন কর্মকর্তা ও ড্রাইভার সালাউদ্দীন, তরিকুল, জিয়াসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ভিসি, প্রোভিসি গাড়ি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসসহ ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এ সময় তারা দায়িত্বরত বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগ হঠাৎ করে কেন ক্যাম্পাসে ভাংচুর চালিয়েছে আমরা জানি না। খুব দ্রুত তদন্ত করে এর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, ‘আমি জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান শেষে অফিসের দিকে যাওয়ার সময় আমার গাড়িতে যারা হামলা করেছে অতি শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কী কারণে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করছে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা তদন্তে সিন্ডিকেটের বৈঠকে ভিসি আবদুল হাকিম সরকারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য কতজন হবে তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ভিসিকে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন সিন্ডিকেটে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র