¦
শুরুর আগেই অর্থ আত্মসাৎ : ২৮ জনের নামে মামলা

উখিয়া প্রতিনিধি | প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৪

মহেশখালী মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ২৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোং বাংলাদেশ লি.-এর পিডিসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বুধবার মাতারবাড়ির বাসিন্দা একেএম কায়সারুল ইসলাম বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জাফর আলম, সাবেক জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আরেফিন আক্তার নুর, মহেশখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোং বাংলাদেশ লি.-এর পিডি ইঞ্জিনিয়ার মো. ইলিয়াছ, জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সাবেক প্রধান সহকারী আবুল কাশেম মজুমদার, সাবেক কাননগো আবদুল কাদের, সাবেক সার্ভেয়ার ফখরুল ইসলাম ও বাদশা মিয়া, মহেশখালী মাতারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, মহিবুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ হারুন, জমির উদ্দিন, এরফান, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মো. সেলিম, জিএ ছমিউদ্দিন, নুর আহমদ, মো. নুরুল ইসলাম, আবুল বশর, আশরাফ আলী, দানু মিয়া, মির কাশেম, মো. সেলিম উদ্দিন, রিদুয়ান, আনিছুর রহমান ও ছকি আলম। বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ সাদিকুল ইসলাম তালুকদার মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রহিম।
বাদী অভিযোগ করেছেন, মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়ার নামে চলছে হরিলুট। সরকার ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে মাতারবাড়ি দ্বীপে দেশের সর্ববৃহৎ কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রকল্পটির জন্য ১ হাজার ৪১৪ একর জমি হুকুম দখল করা হয়। ওই বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। জাইকা এ প্রকল্পে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থায়ন শুরু করে। কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পটির জমি হুকুম দখলের পর মাতারবাড়ির কিছু লোক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিরোধিতা শুরু করে দেয়। পরে প্রকল্পের ক্ষতিপূরণের টাকা মূল্যায়ন করতে গিয়েই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা জোট বেঁধে জালিয়াতির কাজে নেমে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। দ্বীপের চিংড়ি প্রকল্পের মালিকদের নানাভাবে প্রলোভন দিয়ে ভুয়া কাগজ সৃজনের মাধ্যমে মৎস্য কর্মকর্তাদের দিয়ে অবাস্তব রিপোর্ট তৈরি করে হাতিয়ে নেয়া হয় কোটি কোটি টাকা। চিংড়ি প্রকল্পের প্রতি কেজি চিংড়ির মূল্য ৮০০ টাকা হিসাবে প্রতিটি চিংড়ি প্রকল্পে চিংড়ির মজুদ দেখানো হয় অস্বাভাবিক হারে। মহেশখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অবাস্তব প্রতিবেদন দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আর এরকম অবাস্তব প্রতিবেদনের ফলে একটি চিংড়ি প্রকল্পে যেখানে এক কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ হওয়ার কথা সেখানে তারও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। মাতারবাড়ির জালিয়াত চক্রটি নিজেদের কোনো জমি এবং চিংড়ি প্রকল্প না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমেই এই বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমদ চৌধুরী।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক হাজার ৪১৪ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তার মধ্যে ৪০ কোটি টাকার চেকও বিতরণ করা হয়। কিন্তু প্রাথমিক অনুসন্ধানে ২৩ কোটি টাকার জালিয়াতি ধরা পড়েছে। আর এ টাকা আদায়ে ২১ জনের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা হয়েছে।
সূত্র মতে, মহেশখালীর মাতারবাড়ির দেশের সবচেয়ে বড় এ প্রকল্প অনুমোদনের আগেও অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল পরিকল্পনা কমিশন। শুরুতে ৪০ হাজার ৩২০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও কমিশনের আপত্তির মুখে তা থেকে প্রায় ৪ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা কমানো হয়। পরে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। তা সত্ত্বেও এতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে বলে মনে করেন পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়িতে নির্মিত হচ্ছে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সঙ্গে থাকছে কয়লা খালাসের বন্দর ও অবকাঠামো। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প এটি।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close