¦

এইমাত্র পাওয়া

  • কা্ওরান বাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় বা্সসের সাবেক এমডি জগলুল আহমেদ মারা গেছেন
বরিশালে আলোচনা সমালোচনায় হিরনপত্নী জেবুন্নেসা এমপি

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৪

সফল নাকি ব্যর্থ- এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় হয়তো এখনও আসেনি। তবু নানা কারণে সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের পত্নী জেবুন্নেসা আফরোজ এমপিকে নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। হিরন অনুসারী হাজার হাজার মানুষের আশার প্রতীক হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া জেবুন্নেসা সেই আশার কতটুকু পূরণ করতে পারছেন তার হিসাব মেলাচ্ছেন অনেকে। দায়িত্ব নেয়ার ৬ মাসের মাথায় এ হিসাব মেলানোর যৌক্তিকতা খুব একটা না থাকলেও দলের অনেক নেতাকর্মীর মতে, সকালের সূর্য দেখেই বোঝা যায় দিনের প্রকৃতি। অতএব তিনি কি করছেন আর কি করতে পারবেন তার মোটামুটি ধারণা মিলছে এখনই।
বরিশাল নগরীর উন্নয়নের কিংবদন্তি খেতাব পাওয়ার পাশাপাশি জনপ্রিয়তার প্রশ্নেও সমসাময়িক প্রায় সব নেতাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন হিরন। এপ্রিলে তার আকস্মিক মৃত্যুর পর বিষয়টি প্রথম যথার্থভাবে উপলব্ধি করেন সবাই। জানাজায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি আর মৃত্যুর খবরে ঘরে ঘরে কান্নার রোলের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের মনে হিরনের অবস্থানটুকু স্পষ্ট হয়ে যায়। স্বামী হারানোর সমবেদনায় ভর করে খুব সহজেই রাজনীতির চৌকাঠে এসে দাঁড়ানোর সুযোগ পান হিরনের স্ত্রী জেবুন্নেসা আফরোজ। হিরনের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া বরিশাল সদর আসনের উপনির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীহীন এ নির্বাচনে খুব সহজে এমপিও হয়ে যান তিনি। প্রয়াত হিরনের অনুসারী হাজার হাজার নেতাকর্মী জেবুন্নেসার ভেতরেই খোঁজার চেষ্টা করেন তাদের প্রিয় নেতাকে।
১৫ জুন উপনির্বাচনে জেবুন্নেসা এমপি হন। রাজনীতির মাঠে নামা ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর কেটে যাওয়া এটুকু সময় কম হলেও হিরনপত্নী হিসেবে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির জায়গায় জেবুন্নেসা এখন অবধি কতটা সফল সে প্রশ্নই এখন সবার সামনে। এত তাড়াতাড়ি এ প্রশ্ন ওঠার কারণও রয়েছে। জীবদ্দশায় হিরনকে যেমন নিজ দলের ভেতরেই সামলাতে হয়েছে শক্ত প্রতিপক্ষ তেমনি জেবুন্নেসার ক্ষেত্রেও সেই পরিস্থিতির খুব একটা বদল ঘটেনি। হিরনের মতো জেবুন্নেসার সামনেও রয়েছে সংসদ সদস্য হাসানাত আবদুল্লাহ অনুসারীদের বিরোধিতা। প্রতি মুহূর্তেই যারা খুঁজে বেড়াচ্ছেন হিরনপত্নীর ক্রটি আর ব্যর্থতা। পাশাপাশি চলছে উভয়দিকে পক্ষ বদলের পালা। হাসানাত অনুসারীদের কেউ এ পর্যন্ত জেবুন্নেসার দিকে না ভিড়লেও হিরন অনুসারী অনেকেই এরই মধ্যে পাল্টে ফেলেছেন পক্ষ। জীবদ্দশায় যেসব কাজ হিরনকে দেয় আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা সেগুলোই এখন সফল করার চেষ্টা সেখানে। অথচ এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নের গুরুভার ছিল জেবুন্নেসার কাঁধে। নেতাকর্মীদের বিবেচনায় যে স্বপ্নের ধারায় এখনও পৌঁছাতে পারেননি তিনি।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বরিশালের প্রায় সব ছোট-বড় অনুষ্ঠানেই উপস্থিতি দেখা গেছে জেবুন্নেসার। কারও অসুস্থতা কিংবা মৃত্যুর খবর পেলেই ছুটে গেছেন সেখানে। শওকত হোসেন হিরন প্রতিষ্ঠিত হিরননগরে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্র“তি থেকে শুরু করে বরিশাল সদর আসনের আরও অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য দৌড়ঝাঁপও করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অনিয়মের সঙ্গেও জড়ায়নি তার নাম। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রশ্রয় কিংবা তদবির-লবিং প্রশ্নেও তাকে নিয়ে খুব একটা বিব্রত নয় প্রশাসন। এসব ইতিবাচক ভাবমূর্তি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বেশকিছু বিষয়ে সমালোচনা রয়েছে জেবুন্নেসাকে নিয়ে। শওকত হোসেন হিরন মারা যান ৯ এপ্রিল। অকাল এ মৃত্যুর দীর্ঘ ৮ মাসেও সম্পন্ন হয়নি তার চেহলাম। ১৫ অক্টোবর ছিল মৃত্যুর পর হিরনের প্রথম জন্মবার্ষিকী। বরিশালে নানা আয়োজনে দিনটি স্মরণ করে হিরন অনুসারী নেতাকর্মীরা। ঠিক ওই দিনটিতেই ভারতে ছিলেন জেবুন্নেসা। প্রতিপক্ষের প্রচারণা অনুযায়ী, তিনি নাকি ‘মাকের্টিং’ করার উদ্দেশে গিয়েছিলেন সেখানে।
ইদানীং হিরনের আলেকান্দা এলাকার বাসভবনেও খুব একটা দেখা যায় না নেতাকর্মীদের ভিড়। এমপি হওয়ার পর থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শুধু শুক্র এবং শনিবার বরিশালে আসেন জেবুন্নেসা। বাকি ৫ দিন কাটান ঢাকায়। বরিশালে অবস্থানকালীন আর ঢাকার গুলশানের বাসায় যখন-তখন নেতাকর্মীদের ভিড় নাকি খুব একটা পছন্দ করেন না জেবুন্নেসা। দেখা করার জন্য সবাইকে যেতে বলেন ন্যাম ভবনের অফিসে। বরিশালের ক্ষেত্রে অপেক্ষা করতে বলেন বাসার নিচ তলা কিংবা দোতলায়। পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়ে হিরন অনুসারী অনেক নেতাকর্মী যুগান্তরকে বলেন, হিরন ভাইয়ের কাছে ছিল আমাদের অবাধ যাতায়াত। আমাদের সুবিধা-অসুবিধাও দেখতেন তিনি। বুঝি যে একজন নারী হিসেবে ভাবীর (জেবুন্নেসা এমপি) কাছে তেমন করে যেতে পারব না। সবকিছু বুঝে উঠতেও সময় লাগবে তার। কিন্তু তবু তার কাছে হিরন ভাইয়ের ছায়া চাই আমরা। সেটা যখন না পাই তখনই কষ্ট লাগে।
আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা বলেন, ‘সবাই পিঠা খায় মিঠার লোভে। প্রয়াত হিরন সেই মিঠা দিতেন ঝাঁকা বোঝাই করে। নেতাকর্মীদের কাজ, টাকা আর আয়ের নানা পথ করে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতেন তিনি। মাঠের একটা কর্মীকে যদি আপনি কিছুই না দেন তাহলে পকেটের পয়সায় রিকশা ভাড়া কিংবা মোটরসাইকেলের তেল পুড়িয়ে সে ক’দিন আপনার পেছনে ছুটবে? এটা বুঝতে হবে সবার আগে। যিনি বুঝবেন না রাজনীতিতে তিনি পিছিয়ে পড়বেন।’
আলোচনা-সমালোচনার এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় জেবুন্নেসা আফরোজের সঙ্গে। হিরনের চেহলাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চেহলাম হয়নি এটা ঠিক নয়। ব্যাপকভাবে জানান দিয়ে এটা করা হয়নি। তবে এতিমখানা আর মাদ্রাসায় খাবার দেয়াসহ ধর্মীয় আনুষ্ঠিকতা আমরা ঠিকই সম্পন্ন করেছি। হিরনের জন্মদিনে ছেলেমেয়ে নিয়ে আমি ছিলাম ভারতের আজমীর শরিফে। সেখানে দোয়া-মোনাজাত আর মিলাদ করেছি। এটা বহু আগে থেকেই আমার পরিবারের ইচ্ছা ছিল সেখানে গিয়ে তার জন্য দোয়া করা। আমার বাসায় নেতাকর্মীদের ভিড় কমার অভিযোগ সত্য নয়। হিরন অনুসারী আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী এখনও তাদের প্রিয় নেতার বাসায় ভিড় করেন। এখানে আমি তো নিমিত্ত মাত্র। তারা সবাই হিরনের ভক্ত। তবে এটা ঠিক যে, আমি বাসার পাশাপাশি আমার রাজনৈতিক কার্যালয় এবং ব্যবসায়িক অফিসেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। শওকত হোসেন হিরনের উন্নয়নের স্বপ্ন বুকে নিয়ে আমি বরিশালের মানুষের জন্য কাজ করছি। আমার মেয়াদকালের মাত্র ৬ মাস হতে যাচ্ছে। একজন সংসদ সদস্যের জন্য এ সময় কিছুই না। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করুন। ইনশাআল্লাহ, আমি আমার স্বামীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে আপনাদের আশা পূরণ করব।’
 

শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close