jugantor
বাড়তি চাঁদা না দেয়ায় মিরপুরে ৮টি বাস আটক করে ছাত্রলীগ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১২ ডিসেম্বর ২০১৪, ০০:০০:০০  | 

ছাত্রলীগের দাবি গাড়িপ্রতি ৩০০ আর মালিক দিতে চান ১০০ টাকা করে। কিন্তু মন ভরেনি নেতাদের। তাই দু’মাস ১০০ টাকা করে চাঁদা নেয়ার পর এবার ৩০০ করেই দাবি করা হয়। কিন্তু এই টাকা দিতে রাজি নন বাস মালিক।

নিয়মিত মোটা অংকের চাঁদার দাবিতে রাজধানীর গাবতলী-আবদুল্লাহপুর রুটে চলাচলকারী নিউ পল্লবী এক্সপ্রেসের আটটি বাস রাস্তা থেকে মিরপুর বাঙলা কলেজে নিয়ে আটকে রাখেন ছাত্রলীগ নেতারা। কলেজ ছাত্রলীগের নেতাদের এমন কাণ্ডের পর পুলিশ বাসগুলো ছাড়িয়ে আনে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তখন পুলিশ কর্মকর্তা তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘উপরের নির্দেশে এসেছি। কাজে বাধা দিলে গ্রেফতারের নির্দেশও আছে।’ কলেজ সূত্র জানায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে এইচএম জাহিদ মাহমুদকে সভাপতি ও মজিবুর রহমান ওরফে অনিককে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের বাঙলা কলেজের কমিটি গঠন করা হয়। তারপর নতুন কৌশলে শুরু হয় ব্যাপক চাঁদাবাজি।

নিউ পল্লবী এক্সপ্রেসের পরিচালক সিরাজুল হকের অভিযোগ, গাবতলী-আবদুল্লাহপুর রুটে গত অক্টোবর মাসে তিনি ৩০টি বাস নামান। এরপর থেকেই মিরপুর বাঙলা কলেজের ছাত্রলীগের নেতারা চাঁদার নিয়ম জানিয়ে দেয়া মালিককে। রুটে বাস চলাচলের শুরুর কয়েকদিন পরই বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাস মালিককে বলেন, এই রুটে বাস চলতে হলে প্রতি বাসের জন্য ২০০ টাকা করে দিতে হবে। ছাত্রলীগের হিসেবে ৩০টি বাস থেকে প্রতিদিন ৬ হাজার টাকা অথবা প্রতি মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিতে হবে।

অভিযোগে জানা গেছে, ছাত্রলীগের নেতাদের হুমকিতে বাসের জন্য ১০০ টাকা করে নিতে রাজি হন সিরাজুল হক। প্রতিদিন ৩০টি বাসের জন্য তিন হাজার করে মাসে ৯০ হাজার টাকা চাঁদা দেয়া শুরু হয়।

ছাত্রলীগের নেতাদের দাবি, সবাই যে নিয়মে চাঁদা দেয় নিউ পল্লবী এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে তাই করা হবে। দুই মাস চাঁদা দেয়ার পর এখন ছাত্রলীগের নেতারা প্রতি বাসের জন্য ৩০০ টাকা করে চাওয়া শুরু করেন। সিরাজুল হকের দাবি, এই টাকা দিতে রাজি না হলে কলেজ ছাত্রলীগের নেতারা হুমকি দিয়েছে রুটে নিউ পল্লবী এক্সপ্রেসের বাস চলতে দেয়া হবে না। কিন্তু এর পরও বাস চালালে বুধবার দুপুরে ছাত্রলীগের নেতারা কলেজের সামনের রাস্তা থেকে একের পর এক আটটি বাস থামিয়ে কলেজের মাঠে সেগুলো ঢুকিয়ে রাখেন।

এ ঘটনায় বাস মালিকপক্ষ মিরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বাসগুলো কলেজ থেকে বের করে আনার নির্দেশ দেন।

দারুস সালাম থানার সেকেন্ড অফিসার এমরানুল কবির জানান, নির্দেশের পর পুলিশ বাসগুলো কলেজ থেকে ছাড়িয়ে আনেন।

এদিকে, এ ঘটনায় সন্ধ্যায় থানায় জিডি করতে গেলেও পুলিশ কোনো অভিযোগ না নিয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে সমঝোতা করার নির্দেশ দেন বলে দাবি করেন সিরাজুল। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের সঙ্গে ঝামেলা করে পারবেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ।’

চাঁদার দাবির বিষয়ে মিরপুর বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ মাহমুদ বলেন, প্রশ্নই আসে না। ঘটনার সময় আমরা কেউ ক্যাম্পাসে ছিলাম না। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আমরা যাই। জাহিদ বলেন, ওই কোম্পানির একটি বাসের ধাক্কায় কলেজের এক ছাত্রের মোটরসাইকেল নষ্ট হয়েছিল। এ কারণে ছাত্ররা ওই বাসগুলো কলেজে ঢুকিয়ে রাখে। দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, কলেজের ছাত্ররা কয়েকটি বাস আটকে রেখেছিল যা ছাড়িয়ে আনা হয়। মামলা গ্রহণ না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ তো মামলা করতে আসেনি। এলে যথানিয়মে মামলা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে পুলিশের মিরপুর অঞ্চলের উপকমিশনার (ডিসি) নিশারুল আরিফ বলেন, যেই অপরাধ করুক না কেন তার ছাড় নেই। চাঁদার মামলা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।



সাবমিট

বাড়তি চাঁদা না দেয়ায় মিরপুরে ৮টি বাস আটক করে ছাত্রলীগ

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১২ ডিসেম্বর ২০১৪, ১২:০০ এএম  | 
ছাত্রলীগের দাবি গাড়িপ্রতি ৩০০ আর মালিক দিতে চান ১০০ টাকা করে। কিন্তু মন ভরেনি নেতাদের। তাই দু’মাস ১০০ টাকা করে চাঁদা নেয়ার পর এবার ৩০০ করেই দাবি করা হয়। কিন্তু এই টাকা দিতে রাজি নন বাস মালিক।

নিয়মিত মোটা অংকের চাঁদার দাবিতে রাজধানীর গাবতলী-আবদুল্লাহপুর রুটে চলাচলকারী নিউ পল্লবী এক্সপ্রেসের আটটি বাস রাস্তা থেকে মিরপুর বাঙলা কলেজে নিয়ে আটকে রাখেন ছাত্রলীগ নেতারা। কলেজ ছাত্রলীগের নেতাদের এমন কাণ্ডের পর পুলিশ বাসগুলো ছাড়িয়ে আনে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তখন পুলিশ কর্মকর্তা তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘উপরের নির্দেশে এসেছি। কাজে বাধা দিলে গ্রেফতারের নির্দেশও আছে।’ কলেজ সূত্র জানায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে এইচএম জাহিদ মাহমুদকে সভাপতি ও মজিবুর রহমান ওরফে অনিককে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের বাঙলা কলেজের কমিটি গঠন করা হয়। তারপর নতুন কৌশলে শুরু হয় ব্যাপক চাঁদাবাজি।

নিউ পল্লবী এক্সপ্রেসের পরিচালক সিরাজুল হকের অভিযোগ, গাবতলী-আবদুল্লাহপুর রুটে গত অক্টোবর মাসে তিনি ৩০টি বাস নামান। এরপর থেকেই মিরপুর বাঙলা কলেজের ছাত্রলীগের নেতারা চাঁদার নিয়ম জানিয়ে দেয়া মালিককে। রুটে বাস চলাচলের শুরুর কয়েকদিন পরই বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাস মালিককে বলেন, এই রুটে বাস চলতে হলে প্রতি বাসের জন্য ২০০ টাকা করে দিতে হবে। ছাত্রলীগের হিসেবে ৩০টি বাস থেকে প্রতিদিন ৬ হাজার টাকা অথবা প্রতি মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিতে হবে।

অভিযোগে জানা গেছে, ছাত্রলীগের নেতাদের হুমকিতে বাসের জন্য ১০০ টাকা করে নিতে রাজি হন সিরাজুল হক। প্রতিদিন ৩০টি বাসের জন্য তিন হাজার করে মাসে ৯০ হাজার টাকা চাঁদা দেয়া শুরু হয়।

ছাত্রলীগের নেতাদের দাবি, সবাই যে নিয়মে চাঁদা দেয় নিউ পল্লবী এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে তাই করা হবে। দুই মাস চাঁদা দেয়ার পর এখন ছাত্রলীগের নেতারা প্রতি বাসের জন্য ৩০০ টাকা করে চাওয়া শুরু করেন। সিরাজুল হকের দাবি, এই টাকা দিতে রাজি না হলে কলেজ ছাত্রলীগের নেতারা হুমকি দিয়েছে রুটে নিউ পল্লবী এক্সপ্রেসের বাস চলতে দেয়া হবে না। কিন্তু এর পরও বাস চালালে বুধবার দুপুরে ছাত্রলীগের নেতারা কলেজের সামনের রাস্তা থেকে একের পর এক আটটি বাস থামিয়ে কলেজের মাঠে সেগুলো ঢুকিয়ে রাখেন।

এ ঘটনায় বাস মালিকপক্ষ মিরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বাসগুলো কলেজ থেকে বের করে আনার নির্দেশ দেন।

দারুস সালাম থানার সেকেন্ড অফিসার এমরানুল কবির জানান, নির্দেশের পর পুলিশ বাসগুলো কলেজ থেকে ছাড়িয়ে আনেন।

এদিকে, এ ঘটনায় সন্ধ্যায় থানায় জিডি করতে গেলেও পুলিশ কোনো অভিযোগ না নিয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে সমঝোতা করার নির্দেশ দেন বলে দাবি করেন সিরাজুল। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের সঙ্গে ঝামেলা করে পারবেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ।’

চাঁদার দাবির বিষয়ে মিরপুর বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ মাহমুদ বলেন, প্রশ্নই আসে না। ঘটনার সময় আমরা কেউ ক্যাম্পাসে ছিলাম না। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আমরা যাই। জাহিদ বলেন, ওই কোম্পানির একটি বাসের ধাক্কায় কলেজের এক ছাত্রের মোটরসাইকেল নষ্ট হয়েছিল। এ কারণে ছাত্ররা ওই বাসগুলো কলেজে ঢুকিয়ে রাখে। দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, কলেজের ছাত্ররা কয়েকটি বাস আটকে রেখেছিল যা ছাড়িয়ে আনা হয়। মামলা গ্রহণ না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ তো মামলা করতে আসেনি। এলে যথানিয়মে মামলা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে পুলিশের মিরপুর অঞ্চলের উপকমিশনার (ডিসি) নিশারুল আরিফ বলেন, যেই অপরাধ করুক না কেন তার ছাড় নেই। চাঁদার মামলা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র