¦
মূল্যস্ফীতি বাড়লে দরিদ্র মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতির যেমন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকিও রয়েছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে আর্থিক খাতের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না এলে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব হবে না। চলতি অর্থবছরে তিন কারণে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যেতে পারে। মূল্যস্ফীতির হার বাড়লে বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রতিবেদনটি এবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যান্য সময় প্রতিবেদনটি সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশ করা হলেও এবার এটি বেশ দেরিতে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে গত অর্থবছরের অর্থনীতির সার্বিক গতি-প্রকৃতির পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের বিষয়ে বেশকিছু পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরে দেশের সার্বিক অর্থনীতির বেশ সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ বছর রফতানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়বে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হওয়ায় এ বছরে বড় ধরনের বিনিয়োগ বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতিতে কিছু ঝুঁকি থাকলেও সার্বিক বিবেচনায় বছর শেষে মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ বার্ষিক প্রতিবেদনটি যখন প্রণয়ন করা হয় তখন দেশে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতার পূর্বাভাস ছিল না। ফলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়া হয়নি। তবে ২০১৪ সালের শুরুতে নির্বাচনের ফলে সৃষ্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ওই বছরের শেষ সময়ে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেশের ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমে যাওয়ায় সরকারের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ইতিবাচক হলেও বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরে দেশের অর্থনীতিতে বেশকিছু খাতে ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে তিন কারণে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যেতে পারে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যসামগ্রীর দামে অস্থিরতার কারণে খাদ্যমূল্যে প্রভাব পড়তে পারে, যে কোনো কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ শস্য উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন- ভাতা বাড়ানোর ফলে বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে বিশেষ করে দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের আর্থিক ও মুদ্রানীতিতে সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। একই সঙ্গে সরকারের ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেয়ার ওপর বাজেটের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখার সুপারিশ করেছে। সরকারের ঋণ ওই সীমার মধ্যে থাকলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে কোনো ঝুঁকির সৃষ্টি হবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যে কাজ করছে। একই সঙ্গে বড় ধরনের বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে নজর দিয়ে মুদ্রানীতির মাধ্যমে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। ঋণ বিতরণের সময় এদিকে লক্ষ্য রাখা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক খাতের তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জোরদার করবে। এসব বিষয়ে বিদায়ী অর্থবছরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ায় আর্থিক খাতের অবস্থা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় ভালো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেয়া উদ্যোগের ফলে বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে আলোচ্য অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। একইসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিপরীতে টাকার মান স্থিশিীল রয়েছে। বাজারভিত্তিক মুদ্রার মানে স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা দিয়ে আসছে।
প্রতিবেদনে বলা হয় চলতি অর্থবছর শেষে রফতানি খাতের প্রবৃদ্ধির হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশ হতে পারে। মুদ্রার বিনিময় হারেও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বল্প ও মধ্য মেয়াদি বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ভেতরের চাহিদা বাড়ছে। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়ানোর পক্ষে পরিবেশ অনুকূল হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে মূল্যস্ফীতির হার কমে আসছে। এসব কারণে চলতি অর্থবছরে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে বলে প্রতিবেদনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close