¦
নাশকতা বন্ধ হলে সংবিধান ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে : তথ্যমন্ত্রী

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

চলমান নাশকতা বন্ধ না করলে বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, দানবের সঙ্গে মানবের সংলাপ হয় না। আগুন-সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংলাপ হতে পারে না। সংবিধান, গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে তার আগে নাশকতা বন্ধ করতে হবে।
রোববার তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধের এক মাস তিন দিন পর চলমান নাশকতা নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে এলেন তথ্যমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে ইনু বলেন, কিছু বুদ্ধিজীবী সংলাপ নিয়ে যতটা সরব, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারার বিরুদ্ধে ঠিক ততটাই নীরব। দেশ ও মানুষের জন্য ওই বুদ্ধিজীবীদের সামান্য মায়া থাকলে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে তাকে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা বন্ধ করতে বলতেন। বুদ্ধিজীবীদের সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে এমনটা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বুদ্ধিজীবীরা যুদ্ধাপরাধী ছাড়া সব রাজবন্দির মুক্তি চেয়েছেন। তাহলে নাশকতার সঙ্গে জড়িতদেরও ছাড়তে হবে কিনা, মন্ত্রী তা জানতে চান।
বুদ্ধিজীবীদের ভালো করে পড়াশোনা করে প্রস্তাব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংলাপের দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কেউ গঠনমূলক প্রস্তাব দেয়নি। সংবিধান উপেক্ষা করে কেউ কেউ এমন প্রস্তাব দিয়েছেন, যা সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করবে।
বিএনপিকে রাজনৈতিক স্পেস দেয়া হচ্ছে না বলে যে অভিযোগ উঠছে সে বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা জেনে-বুঝে এসব অভিযোগ তুলছেন তারা নিজেরাই বিএনপির সন্ত্রাসবাদী রাজনীতিকে, সন্ত্রাস-নাশকতা-অন্তর্ঘাতকে বৈধতা দিতে চাচ্ছেন।
নির্বাচন নয়, খালেদা জিয়ার গোপন এজেন্ডা রয়েছে- মন্তব্য করে ইনু বলেন, এজন্য তার রহস্যময় ভূমিকা দেখছি। তিনি দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরিতে ব্যস্ত আছেন। তিনি বলেন, মানুষ শান্তি ও স্বাভাবিকতা চায়। সরকারও শান্তি ও স্বাভাবিকতা চায়। খালেদা জিয়া সন্ত্রাস, নাশকতা ও সহিংসতা ছাড়লে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজটি সহজ হতো। যত কঠিনই হোক না কেন, সরকারকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কঠিন পথই গ্রহণ করতে হচ্ছে এবং হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৫ জানুয়ারি সারা দেশে অবরোধ ডাকার আগে গত বছরের শেষ দিন সংবাদ সম্মেলন করে সব পক্ষের সামনে সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার ওই প্রস্তাবের মূল বক্তব্য ছিল নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচন করা, যে সরকার হবে প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে। খালেদার সেই প্রস্তাবকে অসাংবিধানিক হিসেবে উল্লেখ করে তখনই সরকারের পক্ষ থেকে নাকচ করে দেয়া হয়। এরপর নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনে ঢাকায় সমাবেশ করতে না পেরে সারা দেশে লাগাতার অবরোধ ডাকেন খালেদা জিয়া। এই কর্মসূচির মধ্যেই দফায় দফায় হরতাল করছে ২০ দল, যাতে প্রতি দিনই নাশকতার ঘটনা ঘটছে।
অবরোধ-হরতালে নাশকতা-সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই মারা গেছেন বোমার আগুনে পুড়ে। এসব নাশকতার জন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে আইনের ধারা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তথ্যমন্ত্রী জানান। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে ইনু বলেন, আপনি যদি নাশকতায় জড়িত না থাকেন, ধোয়া তুলসীপাতা হোন তাহলে ঘর থেকে বের হয়ে নাশকতার বিরুদ্ধে মাঠে নামুন।
অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। প্রসঙ্গত অর্থমন্ত্রী শনিবার বলেছিলেন, ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে মারাত্মক অবস্থা।
তথ্যমন্ত্রীকে নিয়ে করা কাদের সিদ্দিকীর মন্তব্যের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, ওই মন্তব্যের কোনো জবাব তিনি দেবেন না। কাদের সিদ্দিকী বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও জামায়াতের সঙ্গে পথ চলছেন বলে দাবি করেন ইনু। এ সময় অন্যদের মধ্যে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা তছির উদ্দিন আহমদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close