¦
আল্লাহ যেন অসময়ে কাউকে পিতৃহারা ও বিধবা না করেন

বগুড়া ব্যুরো | প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

‘সন্তান বিলম্বে হওয়াসহ নানা কারণে ছয় বছরের দাম্পত্য জীবনে শ্বশুরবাড়ীতে সুখ পাইনি। যখন সুখের দেখা পেলাম তখন পরিবারের একমাত্র অবলম্বন ও উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারালাম। তিনমাসের একমাত্র ছেলে ইস্রাফিল বাবা ডাক থেকে বঞ্চিত হল। এখন আর কেউ তাদের দেখার নেই। আল্লাহ যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি, অসময়ে কাউকে পিতৃহারা ও বিধবা না করেন। স্বামীকে বোমা মেরে হত্যাকারীদের যেন আল্লাহ বিচার করেন।’ পেট্রলবোমায় দগ্ধ স্বামী ট্রাক শ্রমিক হাসিবুলকে হারিয়ে অধিক শোকে কান্না ভুলে যাওয়া সদ্য বিধবা ইয়াসমিন (২৪) রোববার দুপুরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গের সামনে বুকে কষ্টের পাথর চাপা দিয়ে এসব কথা বলছিলেন।
শিশু ইস্রাফিলকে কোলে নিয়ে অসহায় ইয়াসমিন জানান, হরতাল-অবরোধের কারণে ট্রাক বন্ধ থাকায় সংসারে আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। অভাবে বাধ্য হয়ে স্বামী হাসিবুল শুক্রবার রাতে ট্রাকে ডিউটি করতে যান। অসময়ে স্বামী হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ইয়াসমিন আরও জানান, বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়ীতে খুব কষ্ট করেছেন। কিছুদিন আগে স্বামী বগুড়ার শহরতলির গোদারপাড়ায় বাড়ি করার পর থেকে একটু সুখের মুখ দেখেন। কিন্তু তার সে সুখ সহ্য হল না। পিকেটারদের পেট্রলবোমার আগুন সেই সুখকে পুড়িয়ে অঙ্গার করে দিল। স্বামীর মৃত্যুতে তিনি এখন দিশেহারা। সিরাজগঞ্জে স্বামীর লাশ দাফন ও অনুষ্ঠান হওয়ার পর ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বাপের বাড়িতে ফিরে যাবেন।
গত শনিবার রাতে নাটোরের সিংড়া থেকে ট্রাক নিয়ে ফেরার পথে বগুড়ার শাজাহানপুরের রুপিহার এলাকায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে পেট্রলবোমায় হেলপার হাসিবুলসহ চারজন দগ্ধ হন। রাতে শজিমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনি মারা যান।
 

শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close