¦
নাশকতা দমনে বিদ্যমান তিন আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত

আবদুল্লাহ আল মামুন | প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

সারা দেশে সন্ত্রাস ও নাশকতা দমনে বিদ্যমান তিনটি আইন একসঙ্গে প্রয়োগ করবে সরকার। সন্ত্রাস দমন আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দ্রুত বিচার আইনের প্রয়োগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় এ তথ্য জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এর জন্য নতুন কোনো আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই।
এদিকে চলমান সহিংসতায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অবরোধে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। কারণ দেশের প্রচলিত আইনে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এতগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে খালেদা জিয়া নিরাপদে বসে থাকবেন তা হবে না। আর তার যদি ফাঁসি হয়, সে রায় কার্যকর করবে সরকার। কোনো ছাড় দেয়া হবে না। বৈঠকের একাধিক সূত্র যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছে।
চলমান নাশকতায় করণীয় নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনার সূত্রপাত করেন কয়েকজন মন্ত্রী। তারা আইন প্রয়োগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে জানতে চান। জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, এসব নাশকতা মোকাবেলায় নতুন করে আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। সন্ত্রাস দমন আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দ্রুত বিচার আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে এসব নাশকতা বন্ধ করা যাবে। প্রধানমন্ত্রীও আইনমন্ত্রীর জবাবে সম্মতি প্রকাশ করেন।
বিএনপির অবরোধ কর্মসূচির বাস্তবায়নে রাজনৈতিক কৌশলের পরিবর্তে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মিসরে আন্দোলনের নামে বোমা ও আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা হয় না। অথচ এখানে আন্দোলনের নামে আগুন দিয়ে জলজ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। হত্যার উৎসবে মেতেছে তারা। আর এভাবেই বিএনপি বাংলাদেশকে আজ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। তারপরও আমরা সবদিকে নজর রাখছি। যাতে পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনা আর না ঘটে। আমরা যদি পুরো অবস্থাকে কড়া নজরদারিতে না রাখতাম এবং আমাদের তৎপরতা যদি কম হতো তাহলে এতদিনে কয়েক হাজার মানুষ মারা যেত বলেও জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কড়া নজরদারির পরও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু ঘটনা ঘটছে। আর এতেই কতগুলো মানুষের প্রাণ চলে গেল। এতগুলো মানুষের প্রাণহানির দায়-দায়িত্ব বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে নিতে হবে। উনি এই দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না। উনাকেই এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। হতাশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে সরকার হিসেবে এর কিছু দায়-দায়িত্ব আমাদের ওপরও বর্তায়। তাই যেসব জেলা ও স্পর্শকাতর স্থানে এসব ঘটনা বেশি হচ্ছে সেসব স্থানে আরও বেশি নজরদারি বাড়ানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মনে করে যত বেশি লাশ পড়বে ক্ষমতায় যাওয়া তত সহজ হবে। এজন্যই গুলশানের কার্যালয়ে বসে খালেদা জিয়া এতসব তাণ্ডবে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। সেখানে বসে বসে তিনি বিবৃতি দিতে পারেন। অথচ আজ পর্যন্ত এই যে এতগুলো মানুষকে পুড়িয়ে মারা হল, সেজন্য একবারও তিনি সমবেদনা প্রকাশ করলেন না। আরাম-আয়েশ ও নিরাপদে খালেদা জিয়া ঘরে বসে বসে সবাইকে বোঝাতে চাচ্ছেন যে, সরকার তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। শেখ হাসিনা বলেন, তাই যদি হতো তাহলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তার সঙ্গে দেখা করেন কিভাবে? অবরুদ্ধ থাকলে তো আর তার সঙ্গে কারও দেখা হওয়ার কথা নয়।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি ড. কামাল হোসেন ও মাহমুদুর রহমান মান্না ছেলের মৃত্যুতে খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন। নিশ্চয়ই সে সময় আরও কিছু আলোচনা হয়েছে। অথচ এই যে এতগুলো মানুষ পেট্রলবোমায় মারা গেল তার জন্য একবারও তারা সমবেদনা জানালেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে বলেন বাংলাদেশের রাজনীতি নষ্ট হয়ে গেছে। আসলে রাজনীতি নয়, মানুষ নষ্ট হয়ে গেছে। বৈঠকে দেশব্যাপী পেট্রলবোমায় আহতদের সুচিকিৎসার ব্যাপারে আলোচনা হয়।
অর্থমন্ত্রীর ব্যাখা : সহিংসতার মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার ব্যাখ্যা তিনি নিজেই দিয়েছেন সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে। আন্তঃজেলা যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় সবজি, মালামালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ক্ষতি হওয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close