¦
গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানো থেকে সরে এসেছে সরকার

মুজিব মাসুদ | প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

গণশুনানিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করে আপাতত গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে ৩ মাস পর পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বলছে, তাদের হিসাব অনুযায়ী গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। যেসব যুক্তি দেখিয়ে বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে- কোনো প্রস্তাবই যুক্তিসঙ্গত ছিল না।
উপরন্তু কারগরি মূল্যায়ন কমিটির কয়েকজন সদস্য ও গণশুনানিতে অংশ নেয়া বক্তারা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কমানোর জোর সুপারিশ করেছেন।
বিইআরসির সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ সোমবার যুগান্তরকে জানান, শুনানি শেষ হয়েছে। আপাতত বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে ৩ মাসের মধ্যে দাম বাড়ার আশংকা নেই। ৯০ দিন পর দাম বাড়বে কিনা সেটি সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
গত ২০ জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ খাতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর দেয়া দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর শুনানি করে বিইআরসি। আর ১ জানুয়ারি থেকে গ্যাস কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বিতরণ কোম্পানিগুলোর ত্র“টিপূর্ণ প্রস্তাব ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিুগামী হওয়ার পরও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির শুনানি শুরু করায় বিইআরসির তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, এখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কোনো ধরনের যৌক্তিকতা নেই। মূলত লুটপাট করার জন্যই বিতরণ কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের মতে, যেখানে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে সেখানে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এক ধরনের হঠকারিতা। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেন, পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ালে খুচরা বিদ্যুতের দামও বাড়বে। এতে সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনজীবনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম জানান, কোনোবারই ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করতে পারেনি পিডিবি অথচ দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তারা ২০ শতাংশ দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে নিয়েছে। এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। এবারও তারা প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে ১২ শতাংশ অথচ এবারও প্রবৃদ্ধি থাকবে ৯ শতাংশের মধ্যে। তিনি আরও বলেন, এরকম বহু বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে যারা বছরে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন করেনি কিন্তু তারা বিদ্যুতের বিল নিয়ে গেছে। তাদের নাম পর্যন্ত বলার সাহস নেই পিডিবির। সেই না দেয়া বিদ্যুতের কারণে পিডিবি লোকসানে পড়ছে।
লাভজনক হলেও দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে তোপের মুখে ডিপিডিসি : গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানিতে উপস্থিত হয়ে বিব্রত হয়ে পড়েন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) কর্মকর্তারা। শুনানির একপর্যায়ে দাম বাড়ানোর পরিবর্তে উল্টো কর্মকর্তাদের পিছু হটতে দেখা গেছে। ডিপিডিসির দেয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি নির্ধারণ করেছে কোম্পানিটি বর্তমানে বছরে প্রায় ৮১ কোটি টাকা লাভে আছে। আর পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী কমিশনের সুপারিশকৃত বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ও সঞ্চালন মূল্য বৃদ্ধি করা হলে ডিপিডিসি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৯১ কোটি টাকা লাভ করবে। ফলে ডিপিডিসির গ্রাহক পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই।
ডেসকো ও পল্লী বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান : গণশুনানিতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডেসকো (ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি) ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) গ্রাহক পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। কমিটি বলেছে, বিদ্যুতের প্রস্তাবিত পাইকারি মূল্য বৃদ্ধির হার গৃহীত হলেও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ডেসকো ৬৮ কোটি টাকা লাভ করবে। আর চলতি অর্থবছরে ডেসকোর লাভের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৩৮ কোটি টাকা। একইভাবে লাভে থাকবে আরইবিও। তাই তাদের খুচরা মূল্য বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। একইভাবে বিইআরসির টেকিনিক্যাল কমিটির হিসাব অনুযায়ী গত অর্থবছরে জিটিসিএল ৪২৫ কোটি টাকা লাভ করেছে। এরপর দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নেই।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নাকচ বিইআরসির : বিইআরসির কমিটি বলছে, শুনানিতে ভিত্তিহীন চিঠির ওপর নির্ভর করে গ্যাসের সম্পদমূল্য প্রতি হাজার ঘনফুট ২৫ টাকা ধরে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল তিতাস। একই সঙ্গে কমিশনে জমা দেয়া প্রস্তাবকে অস্বচ্ছ ও মনগড়া বলে অভিযোগ করেছিলেন শুনানিতে অংশ নেয়া ভোক্তা প্রতিনিধি ও কমিশনের সদস্যরা। তবে শুনানি শেষে কমিশন কোম্পানিটির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে বর্তমান মূল্যহার ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ বৃৃদ্ধির প্রস্তাব করে। তিতাসের প্রস্তাব ছিল আবাসিকে ব্যবহৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে এক চুলার মূল্য (সিঙ্গেল বার্নার) চারশ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা এবং দুই চুলার (ডাবল বার্নার) মূল্য ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার। কিন্তু শুনানি শেষে কমিশন তিতাসের এ প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close